📄 বাড়ীতে প্রবেশ ও বের হওয়া
বাড়ীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলতে হয়। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ لَا مَبِيْتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ. وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ وَالْعَشَاءَ 'কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে এবং খাবার গ্রহণকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করলে (বিসমিল্লাহ বললে) শয়তান (তার সংগীদেরকে) বলে, তোমাদের রাত্রিযাপন এবং রাতের আহারের কোন ব্যবস্থা হ'ল না। কিন্তু কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে (বিসমিল্লাহ না বললে) শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গা পেয়ে গেলে। সে আহারের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে (বিসমিল্লাহ না বললে) শয়তান বলে, তোমাদের রাতের আহার ও শয্যা গ্রহণের ব্যবস্থা হয়ে গেল'। ২১৫ আর গৃহে প্রবেশকালে সালাম দেওয়া যরূরী। ২১৬ এমনকি গৃহে কেউ বসবাস না করলেও সালাম দিতে হবে। ২১৭
**টিকাঃ**
২১৫. মুসলিম হা/২০১৮; আবুদাউদ হা/৩৭৬৫; মিশকাত হা/৪১৬১।
২১৬. নূর ২৪/৬১; ছহীহ ইবুন হিব্বান, হা/৪৯৯; আবুদাউদ হা/২৪৯৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/৩২১, সনদ ছহীহ।
২১৭. মুওয়াত্ত্বা হা/৩৫৩৫; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০৫৫, সনদ হাসান।
📄 পোষাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা
পোষাক আল্লাহ প্রদত্ত নে'মতের অন্যতম (আ'রাফ ৭/২৬), যা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয় (আ'রাফ ৭/৩১)। ২১৮ পোষাকের ক্ষেত্রে হারাম ও হালাল পোষাক বেছে পরিধান করা মুমিনের জন্য অবশ্য করণীয়। ইসলামে কতিপয় পোষাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন- ১. পুরুষের জন্য রেশমী ও স্বর্ণের কারুকার্য খচিত পোষাক। ২১৯ ২. পুরুষের জন্য মহিলাদের পোষাক ২২০ ৩. মহিলাদের জন্য পুরুষদের পোষাক ২২১ ৪. খ্যাতি ও অহংকার প্রকাশক পোষাক ২২২ ৫. অমুসলিমদের ধর্মীয় পোষাক ২২৩ ৬. আঁটসাঁট পোষাক ২২৪ প্রভৃতি।
পোষাক পরিধানের ক্ষেত্রে কিছু কর্তব্য রয়েছে। যা প্রত্যেক মুমিনের পালন করা উচিত। এতে সুন্নাত পালনও হবে এবং ছওয়াবও অর্জিত হবে। যেমন-
ক. ডান দিক থেকে পরিধান করা ও বাম দিক থেকে খোলা : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَبِسَ قَمِيصًا بَدَأَ بميامنه 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জামা পরিধান কালে ডান দিক থেকে শুরু করতেন'। ২২৫ অপরদিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, إِذَا لَبِسْتُمْ وَإِذَا تَوَضَّأْتُمْ .فَابْدَءُوا بِأَيَا مِنكُمْ 'তোমরা যখন পোশাক পরিধান করবে এবং যখন ওযু করবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে'। ২২৬
কেবল পোষাকই নয় জুতা পরিধানের ক্ষেত্রেও ডান দিক থেকে শুরু করার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَيْدَاً بِالْيَمِينِ وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأُ بِالشِّمَالِ، لِتَكُنِ الْيُمْنَى أَوَّلَهُمَا تُنْعَلُ وَآخِرَهُمَا تُنْزَعُ. 'তোমরা যখন জুতা পরিধান করবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে এবং যখন খুলবে তখন বাম দিক থেকে শুরু করবে। যাতে ডান পা প্রথমে আবৃত ও শেষে অনাবৃত হয়'। ২২৭
খ. পোষাক পরিধানকালে দো'আ : বিভিন্ন কাজের শুরুতে নির্দিষ্ট দো'আ করতে হয়। তেমনি পোষাক পরিধানকালেও দো'আ করতে হয়। যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ إِمَّا قَمِيصًا أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ.
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নতুন পোষাক পরিধান করলে তার নাম উল্লেখ করতেন, জামা বা পাগড়ি যাই হোক। অতঃপর বলতেন, 'হে আল্লাহ! আপনারই সকল প্রশংসা, আপনিই আমাকে এই পোষাকটি পরিধান করিয়েছেন। আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ ও মঙ্গল প্রার্থনা করছি এবং এর উৎপাদনের মধ্যে যত কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি এর অকল্যাণ থেকে এবং এর উৎপাদনের মধ্যে যা কিছু অকল্যাণকর রয়েছে তা থেকে'। ২২৮
পোষাক পরিধানকালে নিম্নোক্ত দো'আও বর্ণিত হয়েছে الْحَمْدُ لله الذي CIRS كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلَ مِنِّي وَلَا قُوَّة، 'সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে বিনা শ্রমে ও শক্তি প্রয়োগ ব্যতীত এই পোষাক পরিধান করিয়েছেন এবং রূযী দান করেছেন'। ২২৯
অন্যকে নতুন পোষাক পরিহিত দেখলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিম্নোক্ত দো'আ করতেন, الْبَسْ جَدِيداً وَعِشْ حَمِيْداً وَمُتْ شَهِيداً وَيَرْزُقُكَ اللَّهُ قُرَّةَ عَيْنٍ فِي CO الدُّنْيَا وَالآخِرَة 'নতুন পোশাক পর, প্রশংসিতভাবে জীবন যাপন কর, শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ কর এবং আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তি ও আনন্দ দান করুন'। ২৩০
**টিকাঃ**
২১৮. মুসলিম হা/৯১; আবুদাউদ হা/৪০৯২; তিরমিযী হা/১৯৯৯; মিশকাত হা/৫১০৮।
২১৯. বুখারী হা/৫৬৩৩, ৫৮৩১; আবুদাউদ হা/৩৭২৩; তিরমিযী হা/১৮৭৩।
২২০. আবুদাউদ হা/৪০৯৮; মিশকাত হা/৪৪৬৯; ছহীহুল জামে' হা/৫০৯৫।
২২১. বুখারী হা/৫৮৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯।
২২২. ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৬; মিশকাত হা/৪৩৪৬, সনদ হাসান।
২২৩. মুসলিম হা/২০৭৭; মিশকাত হা/৪৩২৭; ছহীহুল জামে' হা/২২৭৩।
২২৪. মুসনাদ আহমাদ হা/১৯৪৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০১৮।
২২৫. তিরমিযী হা/১৭৬৬; ছহীহুল জামে' হা/৪৭৭৯; মিশকাত হা/৪৩৩০।
২২৬. আবুদাউদ হা/৪১৪১; মিশকাত হা/৪০১, সনদ ছহীহ।
২২৭. বুখারী হা/৫৮৫৫; তিরমিযী হা/১৭৭৯; মিশকাত হা/৪৪১০।
২২৮. আবুদাউদ হা/৪০২০; তিরমিযী হা/১৭৬৭; মিশকাত হা/৪৩৪২, সনদ ছহীহ।
২২৯. আবুদাউদ হা/৪০২৩; মিশকাত হা/৪৩৪৯।
২৩০. ইবনু মাজাহ হা/৩৫৫৮; ছহীহাহ হা/৩৫২।
📄 দুপুরে বিশ্রাম বা কায়লূলা করা
দুপুরে বিশ্রাম করা উত্তম। এতে কর্মক্লান্তি দূর হয়। শরীর ও মনে সতেজতা ফিরে আসে। কায়লুলা করার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ হচ্ছে- قيلوا، فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَا تَقَيْلُ 'তোমরা কায়লুলা কর, কেননা শয়তান কায়লুলা করে না'। ২৩২
কায়লুলা করার সময় হচ্ছে দুপুরের পর। আনাস (রাঃ) বলেন, كُنَّا تُبَكِّرُ بِالْجُمُعَةِ، وَنَقَيْلُ بَعْدَ الْجُمُعَةِ 'আমরা জুম'আর দিনে আগেভাগে মসজিদে গমন করতাম এবং জুম'আর পরে কায়লুলা করতাম'। ২৩৩ সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) বলেন, مَا كُنَّا نَقِيلُ وَلَا تَتَغَدَّى إِلَّا بَعْدَ الْجُمُعَةِ 'আমরা জুম'আর পরে ব্যতীত দুপুরের খাবার গ্রহণ করতাম না এবং কায়লুলাও করতাম না'। ২৩৪
**টিকাঃ**
২৩১. (এই টীকাটি শিরোনামের সাথে সম্পর্কিত, "কায়লুলা" শব্দের ব্যাখ্যায়) দ্বিপ্রহরে ঘুমানোকে কায়লুলা বলে। দ্রঃ ফহুল বারী ১/৫৩৬; আদ-দীবাজ আলা ছহীহ মুসলিম ৪/১২০।
২৩২. ছহীহুল জামে' হা/৪৪৩১; ছহীহাহ হা/১৬৪৭।
২৩৩. বুখারী হা/৯০৫; মুসলিম হা/৮৫৯; মিশকাত হা/১৪০২।
২৩৪. বুখারী হা/৯৩৯; মুসলিম হা/৮৫৯; মিশকাত হা/১৪০২।
📄 হালাল উপার্জন করা
হালাল জীবিকা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ 'হে মানব জাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু' (বাক্বারাহ ২/১৬৮)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ 'হে বিশ্বাসীগণ! আমরা তোমাদের যে রুযী দান করেছি, সেখান থেকে পবিত্র বস্তু সমূহ ভক্ষণ কর। আর আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা কেবল তাঁরই দাসত্ব করে থাক' (বাক্বারাহ ২/১৭২)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًاً طَيِّبًا وَاشْكُرُوا لله 3 نِعْمَتَ اللَّهِ إِنْ كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ - দিয়েছেন তার মধ্যে বৈধ ও পবিত্র খাদ্য তোমরা ভক্ষণ কর এবং আল্লাহ্র নে'মতের শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাক' (নাহল ১৬/১১৪)।
আর হালাল জীবিকা উপার্জনের জন্য মুমিন সাধারণত দিনের বেলায় চেষ্টা করবে। আল্লাহ বলেন, فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়, আল্লাহ্র অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ'তে পার' (জুম'আ ৬২/১০)।
হালাল উপায়ে জীবিকা উপার্জনের জন্য হাদীছে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, لَنْ تَمُوْتَ نَفْسٌ حَتَّى تَسْتَوْفِيَ رِزْقَهَا، فَاتَّقُوا اللهَ وَأَحْمِلُوْا فِي الطَّلَبِ، وَلَا يَحْمِلَنَّكُمُ اسْتِبْطَاءُ الرِّزْقِ أَنْ تَطْلُبُوهُ بِمَعَاصِي اللَّهِ، فَإِنَّهُ لَا يُدْرَكُ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلَّا بِطَاعَتِهِ -
না সে তার রূযী পূর্ণভাবে প্রাপ্ত হবে। অতএব সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সম্পদ উপার্জনে উত্তম (অর্থাৎ বৈধ) পন্থা অবলম্বন কর। প্রাপ্য রিযিক পৌঁছতে দেরী হওয়া যেন তোমাদেরকে তা অন্বেষণে অন্যায় পথ অবলম্বনে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর নিকটে যা রয়েছে, সেটা তাঁর আনুগত্য ব্যতীত লাভ করা যায় না'। ২৩৫
**টিকাঃ**
২৩৫. বায়হাক্বী শু'আবুল ঈমান হা/১০৩৭৬; মিশকাত হা/৫৩০০; ছহীহুল জামে' হা/২০৮৫; ছহীহাহ হা/২৮৬৬।