📄 পানাহার করা
পানাহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব বা শিষ্টাচার রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হ'ল।-
ক. হালাল ও পবিত্র রূযী খাওয়া (বাক্বারাহ ২/১৬৮)।
খ. খাবার পূর্বে হাত ভালোভাবে ধোয়া। ১৫৭
গ. 'বিসমিল্লাহ' বলে খাওয়া শুরু করা। ১৫৮ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ আহার করে, তখন সে যেন বলে, بسم الله )বিস্মিল্লাহ) 'আল্লাহ্ নামে শুরু করছি'। ১৫৯
ঘ. ডান হাত দিয়ে খাওয়া ও পান করা। ১৬০
ঙ. পাত্রের মধ্যস্থল থেকে না খাওয়া বরং নিজের পার্শ্ব থেকে খাওয়া। ১৬১
চ. প্রথমে 'বিসমিল্লাহ' বলতে ভুলে গেলে স্মরণ হ'লে بسم اللهِ أَوَّلَهُ وَأَحْرَهُ )বিসমিল্লাহি আউয়ালাহু ওয়া আখেরাহ( বলা। ১৬২ অথবা এভাবে ببسم الله في أوله وأخره লা, )বিস্মিল্লা-হি ফী আওয়ালিহী ওয়া আ-খিরিহি) 'খাওয়ার শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে'। ১৬৩
ছ. প্লেট ও আঙ্গুল ভালভাবে চেটে খাওয়া। ১৬৪
জ. খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খেয়ে নেওয়া। কারণ সে জানে না কোন খাবারে বরকত আছে। ১৬৫
ঝ. একাকী না খেয়ে একত্রে খাওয়া। এতে বরকত রয়েছে। ১৬৬
ঞ. পান করার সময় পাত্রের বাইরে ৩ বার নিঃশ্বাস ফেলা। ১৬৭
ট. পানির পাত্রে বা খাবারে নিঃশ্বাস না ফেলা বা ফুঁক না দেওয়া। ১৬৮
ঠ. দাঁড়িয়ে পানাহার না করা। ১৬৯ দুধ পান করার পর বলতে হয়, اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ )আল্লাহুম্মা বা-রিক লানা ফীহি ওয়া যিদনা মিনহু)। অর্থ: 'হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এতে বরকত দান কর এবং তা বৃদ্ধি করে দাও'। ১৭০
ড. পেটের একভাগ খাদ্য দিয়ে ও একভাগ পানি দিয়ে পূর্ণ করা এবং একভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা। ১৭১
ণ. কাত হয়ে বা ঠেস দিয়ে না খাওয়া। ১৭২
ত. খাওয়ার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খাওয়া। অহেতুক গল্প- গুজব না করা। আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করা এবং শেষে 'আল- হামদুলিল্লাহ' বলা এবং অন্যান্য দো'আ পড়া। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির উপর সন্তুষ্ট হন, যে খাওয়া ও পান করার মাঝে الْحَمْدُ لله (আলহাম্দু লিল্লা-হ) বলে। ১৭৩
খাবার শেষে আরো কয়েকটি দো'আ হচ্ছে-
১. اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ (আত 'ইমনা খইরাম মিনহু)। অর্থ: 'হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এই খাদ্যে বরকত দাও এবং এর চেয়ে উত্তম খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও'। ১৭৪
২. الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنَى وَلَا قُوَّةَ (আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আত'আমানী হা-যা ওয়া রাযাক্বানীহি মিন গায়রি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা কুউওয়াহ)। অর্থ : 'সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্ জন্য, যিনি আমাকে এ পানাহার করালেন এবং এর সামর্থ্য প্রদান করলেন, যাতে ছিল না আমার কোন উপায়, ছিল না কোন শক্তি'। ১৭৫
৩. الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَ وَسَقَى وَسَوَّغَهُ وَجَعَلَ لَهُ مَخْرَجًا - (আলহাম্দু লিল্লাহিল্লাযী আত'আমা ওয়া সাক্বা ওয়া সাউওয়াগাহ্ ওয়া জা'আলা লাহু মাখরাজা)। অর্থ : 'ঐ আল্লাহ্ প্রশংসা, যিনি খাওয়ালেন, পান করালেন এবং সহজভাবে প্রবেশ করালেন ও তা বের হওয়ার ব্যবস্থা করলেন'। ১৭৬ উল্লেখ্য, সমাজে প্রচলিত الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَنَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ মর্মে বর্ণিত হাদীছ যঈফ। ১৭৭
খ. খাওয়া শেষে প্লেট বা দস্তরখান উঠানোর সময় বলবে, الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مَكْفِيٌّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنَى عَنْهُ رَبَّنَا - (আলহামদুলিল্লা-হি হামদান কাছীরান তাইয়েবাম মুবা-রাকান ফীহি গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়ালা মুওয়াদ্দায়িন ওয়ালা মুস্তাগনান আনহু রব্বানা)। অর্থ : 'পাক পবিত্র, বরকতময় আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা। তাঁর নে'মত হ'তে মুখ ফিরানো যায় না, তাঁর অন্বেষণ ত্যাগ করা যায় না এবং এর প্রয়োজন থেকেও মুক্ত থাকা যায় না'। ১৭৮
দ. মেযবানের জন্য এ দো'আ করবে, اللَّهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِى وَاسْقِ مَنْ سَقَانِي (আল্লাহুম্মা আতু 'ইম মান আতু 'আমানী ওয়াসক্কি মান সাক্বানী')। অর্থ: 'হে আল্লাহ! যে আমাকে আহার করাল তুমি তাকে আহার করাও, যে আমাকে পান করাল তুমি তাকে পান করাও'। ১৭৯ অথবা বলবে, اللَّهُمَّ بَارِك لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ (আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফীমা রাযাকতাহুম ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম)। অর্থ : 'হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে যে রিযিক প্রদান করেছ, তাতে তাদের জন্য বরকত প্রদান কর। তাদের পাপসমূহ ক্ষমা কর এবং তাদের প্রতি রহমত নাযিল কর'। ১৮০
**টিকাঃ**
১৫৭. তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/৪৮৫।
১৫৮. আবুদাউদ হা/৩৭৬৭; ইরওয়া হা/১৯৬৫।
১৫৯. আবুদাউদ হা/৩৭৬৭; ইবনু মাজাহ হা/৩২৬৪; তিরমিযী হা/১৮৫৮।
১৬০. মুসলিম হা/২০২০; মিশকাত হা/৪১৬২।
১৬১. বুখারী হা/৫৩৭৬, তিরমিযী হা/১৮০৫; মিশকাত হা/৪১৫৯, ৪২১১।
১৬২. আবুদাউদ হা/৩৭৬৭; মিশকাত হা/৪২০২ 'খাওয়া-দাওয়া' অধ্যায়; ছহীহাহ হা/৩৪৪; ছহীহুল জামে' হা/১৩২৩; ইরওয়া হা/১৯৬৫।
১৬৩. তিরমিযী হা/১৮৫৮; ইবনু মাজাহ হা/৩২৬৪; ছহীহাহ হা/১৯৮।
১৬৪. মুসলিম হা/২০৩৪; আবুদাউদ হা/৩৮৪৫।
১৬৫. মুসলিম হা/২০৩৪; তিরমিযী হা/১৮০৩।
১৬৬. আবুদাউদ হা/৩৭৬৪; মিশকাত হা/৪২৫২।
১৬৭. বুখারী হা/৫৬৩১; ছহীহাহ হা/৩৮৭।
১৬৮. বুখারী হা/১৫৩; মিশকাত হা/৪২৭৭।
১৬৯. মুসলিম হা/২০২৬; মিশকাত হা/৪২৬৭।
১৭০. আবুদাউদ হা/৩৭৩০; ইবনু মাজাহ হা/৩৩২২; মিশকাত হা/৪২৮৩ 'পান করা' অধ্যায়; ছহীহাহ হা/২৩২০।
১৭১. তিরমিযী হা/২৩৮০।
১৭২. বুখারী হা/৫৩৯৮; মিশকাত হা/৪১৬৮।
১৭৩. মুসলিম হা/২৭১৪; তিরমিযী হা/১৮১৬; মিশকাত হা/৪২০০।
১৭৪. আবুদাউদ হা/৩৭৩০; তিরমিযী হা/৩৪৫৫; ইবনু মাজাহ হা/৩৩২২।
১৭৫. আবুদাউদ হা/৪০২৩; তিরমিযী হা/৩৪৫৮; ইবনু মাজাহ হা/৩২৮৫; মিশকাত হা/৪৩৪৩, সনদ ছহীহ।
১৭৬. আবুদাউদ হা/৩৮৫১; মিশকাত হা/৪২০৭; ছহীহাহ হা/৭০৫।
১৭৭. আবুদাউদ, হা/৩৮৫০; তিরমিযী হা/৩৪৫৭; ইবনু মাজাহ হা/৩২৮৩; মিশকাত হা/৪২০৪; যঈফুল জামে' হা/৪৪৩৬।
১৭৮. বুখারী হা/৫৪৫৮; আবুদাউদ হা/৩৮৪৯; মিশকাত হা/৪১৯৯।
১৭৯. মুসলিম হা/২০৫৫; আহমাদ হা/২৩৮৬০।
১৮০. মুসলিম হা/২০৪২; আবুদাউদ হা/৩৭২৯; মিশকাত হা/২৪২৭।
📄 পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা
পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং অপবিত্রতা হ'তে দূরে থাকা আল্লাহ্র নির্দেশ। তিনি বলেন, وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ 'অপবিত্রতা হ'তে দূরে থাক' (মুদ্দাচ্ছির ৭৪/৫)।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, طَهَّرُوا أَفْنِيَتَكُمْ فَإِنَّ الْيَهُوْدَ لَا تُطَهَّرُ أَفْنِيَتَهَا তোমরা তোমাদের বাড়ীর আঙ্গিনা ও সম্মুখভাগ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখ। কেননা ইহুদীরা তা পরিস্কার রাখে না'। ১৮১
পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা দু'প্রকার। যথা- ১. পোষাক-পরিচ্ছদের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ২. দৈহিক পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা। পোষাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আল্লাহ রাসূলকে বলেন, وَتَيَابَكَ فَطَهُرْ 'তোমার পোষাক পবিত্র কর' (মুদ্দাচ্ছির ৭৪/৪)। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জনকারীদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন। আল্লাহ বলেন, إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন' (বাক্বারাহ ২/২২২)।
২. দৈহিক পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেমন-
ক. গোসল : গোসল বড় ধরনের অপবিত্রতা থেকে পাক-পবিত্র হওয়ার মাধ্যম। যদি কোন কারণে মানুষের শরীর অপবিত্র হয়ে যায় এবং গোসল ব্যতীত পবিত্র না হয়, তখন গোসল ফরয হয়। আল্লাহ বলেন, وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوْا 'আর যদি তোমরা নাপাক হয়ে যাও, তাহ'লে গোসল কর' (মায়েদাহ ৫/৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ أَنْ يَغْتَسِلَ فِي كُلِّ سَبْعَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا يَغْسِلُ فِيْهِ رَأْسَهُ وَجَسَدَهُ 'প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক্ব রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে গোসল করবে, যাতে তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে'। ১৮২
খ. ওযু: ছোট-খাট অপবিত্রতা যেমন বায়ু নির্গত হওয়া, পেশাব-পায়খানা করা ইত্যাদি কারণে ওযু করতে হয়। বিশেষ করে ছালাত আদায় ও বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ইত্যাদি ইবাদতের জন্য ওযু করতে হয়। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوْا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ - 'হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা ছালাতে দণ্ডায়মান হবে, তখন (তার পূর্বে ওযুবিহীন থাকলে ওযু করার জন্য) তোমাদের মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই সমেত ধৌত কর এবং মাথা মাসাহ কর ও পদযুগল টাখনু সমেত ধৌত কর' (মায়েদাহ ৫/৬)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضًاً 'যে ব্যক্তির হাদাছ (বায়ু নির্গত) হয় তাঁর ছালাত কবুল হবে না, যতক্ষণ না সে ওযু করে'। ১৮৩ তিনি আরো বলেন, لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ بِغَيْرِ طُهُورٍ - 'ওযু ব্যতীত ছালাত কবুল হয় না'। ১৮৪
উত্তমরূপে ওযু করার ফযীলত অত্যধিক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ تَوَضًاً لِلصَّلَاةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلاهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ - 'যে ব্যক্তি ছালাতের জন্য ওযু করে এবং পরিপূর্ণভাবে ওযু করে, অতঃপর ফরয ছালাতের উদ্দেশ্যে হেঁটে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে ছালাত আদায় করে, কিংবা তিনি বলেন, জামা'আতের সঙ্গে ছালাত আদায় করে, কিংবা তিনি বলেন, মসজিদে ছালাত আদায় করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন'। ১৮৫
গ. তায়াম্মুম: কেউ যদি পানি না পায় অথবা পানি ব্যবহার করতে না পারে তাহ'লে সে তায়াম্মুম করবে। আল্লাহ বলেন, وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ - আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা টয়লেট থেকে আস কিংবা স্ত্রী স্পর্শ করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তাহ'লে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর এবং এজন্য তোমাদের মুখমণ্ডল ও দু'হাত উক্ত মাটি দ্বারা মাসাহ কর' (মায়েদাহ ৫/৬; নিসা ৪/৪৩)।
তায়াম্মুম সম্পর্কে হাদীছে এসেছে, আম্মার (রাঃ) বলেন, بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ فَأَجْنَبْتُ، فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ، فَتَمَرَّغْتُ فِي الصَّعِيدِ كَمَا تَمَرَّغُ الدَّابَّةُ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَصْنَعَ هَكَذَا، فَضَرَبَ بِكَفِّهِ ضَرْبَةً عَلَى الْأَرْضِ ثُمَّ نَفَضَهَا ، ثُمَّ مَسَحَ بِهَا ظَهْرَ كَفِّهِ بِشِمَالِهِ، أَوْ ظَهْرَ شِمَالِهِ بِكَفِّهِ، ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ -
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে কোন এক প্রয়োজনে পাঠালেন। (পথিমধ্যে) আমি অপবিত্র হয়ে গেলাম এবং পানি পেলাম না। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম চতুষ্পদ জন্তু যেভাবে মাটিতে গড়াগড়ি দেয়। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললাম। তিনি বললেন, তোমার জন্য হাত দিয়ে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল, এই বলে তিনি স্বীয় দু'হাত একবার মাটিতে মারলেন। অতঃপর তা ঝেড়ে ফেললেন। তারপর বাম হাত দিয়ে ডান হাত মাসাহ করলেন এবং উভয় হাতের কব্জির উপরিভাগ ও মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন'। ১৮৬
ঠাণ্ডা লাগার ভয়ে তায়াম্মুম করা যায়। আমর ইবনুল আছ (রাঃ) বলেন, যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সময় খুব শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়। আমার ভয় হ'ল, আমি গোসল করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তাই আমি তায়াম্মুম করে লোকদের ছালাত আদায় করালাম। পরে তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জানালো। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হে আমর! তুমি নাকি জুনুবী অবস্থায় তোমার সাথীদের সঙ্গে ছালাত আদায় করেছ? তখন আমি গোসল না করার কারণ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম এবং বললাম, আমি আল্লাহর এই বাণীও শুনেছি, 'তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড়ই দয়াবান' (নিসা ৪/২৯)। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হেসে দিলেন এবং কিছুই বললেন না'। ১৮৭
ঘ. প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটানো : মানুষ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে পেশাব-পায়খানা করে। এক্ষেত্রে কিছু করণীয় রয়েছে।
(১) পায়খানায় প্রবেশকালে ( اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ ) (আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ'উযুবিকা মিনাল খুবুছে ওয়াল খাবা-ইছ) 'হে আল্লাহ! আমি পুরুষ ও মহিলা জিন (-এর অনিষ্টকারিতা) হ'তে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি'। ১৮৮ অন্য বর্ণনায় শুরুতে بسم الله 'বিসমিল্লা-হ' বলার কথা এসেছে। ১৮৯
অতঃপর বের হওয়ার সময় বলবে, غُفْرَانَكَ (গুফরা-নাকা) 'হে আল্লাহ! আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি'। ১৯০
উল্লেখ্য যে, পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় 'আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আযহাবা 'আনিল আযা ওয়া 'আ-ফা-নী' বলার হাদীছটি যঈফ। ১৯১
(২) উন্মুক্ত জায়গা হ'লে দূরে গিয়ে আড়ালে পেশাব-পায়খানা করবে। ১৯২ এ সময় ক্বিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ ফিরিয়ে পেশাব-পায়খানা করা নিষেধ। ১৯৩ তবে কিবলার দিকে আড়াল থাকলে বা চারিদিকে ঘেরা স্থানে হ'লে জায়েয আছে। ১৯৪
(৩) সামনে আড়াল বা পর্দা রেখে বসে পেশাব করবে। ১৯৫ বাধ্যগত কারণ ব্যতীত দাঁড়িয়ে পেশাব করা যাবে না। ১৯৬
(৪) রাস্তায় বা কোন ছায়াদার বৃক্ষের নীচে (যেখানে মানুষ বিশ্রাম নেয়) পেশাব-পায়খানা করা যাবে না। ১৯৭ বদ্ধ পানি, যাতে গোসল বা ওযু করা হয়, তাতে পেশাব করা যাবে না। ১৯৮
(৫) নরম মাটিতে পেশাব করবে। যেন পেশাবের ছিটা কাপড়ে না লাগে। পেশাব হ'তে ভালভাবে পবিত্রতা হাছিল করা যরূরী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, تَنَزَّهُوا مِنَ الْبَوْلِ فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنْهُ 'তোমরা পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন কর। কেননা অধিকাংশ কবরের আযাব একারণেই হয়ে থাকে'। ১৯৯
(৬) পায়খানার পর পানি দিয়ে বাম হাতে ইস্তেঞ্জা বা সৌচকার্য সম্পন্ন করবে। ২০০ অতঃপর মাটিতে (অথবা সাবান দিয়ে) ভালভাবে ঘষে পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে। ২০১
(৭) পানি পেলে কুলুখ (মাটির ঢেলা) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ২০২ পানি না পেলে কুলুখ ব্যবহার করবে। এজন্য তিনবার বা বেজোড় সংখ্যক ঢেলা ব্যবহার করবে। ২০৩ ডান হাত দিয়ে ইস্তেঞ্জা করা যাবে না এবং শুকনা গোবর, হাড় ও কয়লা একাজে ব্যবহার করা যাবে না। ২০৪
(৮) কুলুখ ব্যবহার করার পর পুনরায় পানির প্রয়োজন নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ 'তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে যেন তিনটি পাথর সাথে নিয়ে যায় এবং ওগুলো দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে। কারণ তার জন্য তাই যথেষ্ট'। ২০৫ কুলূখের পরে পানি ব্যবহার করার প্রচলিত বর্ণনা ভিত্তিহীন। ২০৬
(৯) পেশাবে সন্দেহ দূর করার জন্য কাপড়ের উপর থেকে বাম হাতে লজ্জাস্থান বরাবর সামান্য পানি ছিটিয়ে দিবে। ২০৭
উল্লেখ্য, ভালভাবে ইস্তেঞ্জা করার নামে ও সন্দেহ দূর করার জন্য কুলুখ ধরে ৪০ কদম হাঁটা ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে পেশাব বের করার চেষ্টা করা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনি জঘণ্য বেহায়াপনার শামিল। এসব করা বাড়াবাড়ি ও বিদ'আতের পর্যায়ভুক্ত। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
(১০) হাজতরত অবস্থায় (যরূরী প্রয়োজন ব্যতীত) কথা বলা যাবে না। ২০৮
ঙ. মেসওয়াক করা : মেসওয়াক করা দশটি স্বভাবগত আচরণের অন্যতম। ২০৯ এর ফযীলত ও উপকারিতা অনেক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, السَّوَاكَ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ - 'মেসওয়াক করা মুখ পবিত্র রাখার ও প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়'। ২১০ অন্যত্র তিনি বলেন,
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا تَسَوَّكَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي قَامَ الْمَلَكُ خَلْفَهُ، فَتَسَمَّعَ لِقِرَاءَتِهِ فَيَدْنُو مِنْهُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا حَتَّى يَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ فَمَا يَخْرُجُ مِنْ فِيْهِ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ، إِلَّا صَارَ فِي جَوْفِ الْمَلَكِ، فَطَهِّرُوا أَفْوَاهَكُمْ لِلْقُرْآنِ 'বান্দা যখন ছালাতে দণ্ডায়মান হয় তখন ফেরেশতা তার পিছনে দণ্ডায়মান হয়ে তার ক্বিরাআত শুনতে থাকেন। ফেরেশতা তার নিকটবর্তী হন। পরিশেষে তিনি নিজ মুখ তার (বান্দার) মুখে মিলিয়ে দেন। ফলে তার মুখ হ'তে কুরআনের যেটুকু অংশ বের হয় সেটুকু অংশই ফেরেশতার পেটে ঢুকে যায়। সুতরাং কুরআনের জন্য তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র কর'। ২১১ তিনি বলেন, طَيِّبُوا أَفْوَاهَكُمْ بِالسَّوَاكَ، فَإِنَّهَا طُرُقُ الْقُرْآنِ - 'মেসওয়াক করে তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র কর। কারণ মুখ হ'ল কুরআনের পথ'। ২১২ তিনি আরো বলেন, أُمِرْتُ بِالسَّوَاكِ حَتَّى خِفْتُ عَلَى أَسْنَانِي - 'আমাকে (এত বেশী) মেসওয়াক করতে আদেশ করা হয়েছে যে, তাতে আমি আমার দাঁত ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা করছি'। ২১৩
রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, ،أُمِرْتُ بِالسَّوَاكِ حَتَّى حَشِيْتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَى 'আমাকে মেসওয়াক করতে আদেশ করা হয়েছে, এতে আমার ভয় হয় যে, হয়তো মেসওয়াক করা আমার উপর ফরয করে দেওয়া হবে'। ২১৪
**টিকাঃ**
১৮১. তাবারাণী, মু'জামুল আওসাত্ব; ছহীহাহ হা/২৩৬; ছহীহুল জামে' হা/৩৯৩৫।
১৮২. বুখারী হা/৮৯৭; মিশকাত হা/৫৩৯।
১৮৩. বুখারী হা/১৩৫।
১৮৪. মুসলিম হা/২২৪; মিশকাত হা/৩০১; ছহীহুল জামে' হা/৭৩৮৪।
১৮৫. মুসলিম হা/২৩২; নাসাঈ হা/৮৫৬; ছহীহুল জামে হা/৬১৭৩।
১৮৬. বুখারী হা/৩৭৪; মুসলিম হা/৩৬৮; আবুদাউদ হা/৩২১।
১৮৭. আহমাদ হা/১৭৮৪৫; আবুদাউদ হা/৩৩৪; ইরওয়া হা/১৫৪, সনদ ছহীহ।
১৮৮. বুখারী হা/১৪২; মুসলিম হা/৩৭৫; মিশকাত হা/৩৩৭।
১৮৯. ইবনু মাজাহ হা/২৯৭; ছহীহুল জামে' হা/৪৭১৪।
১৯০. আবুদাউদ হা/৩০; তিরমিযী হা/৭; ইবনু মাজাহ হা/৩০০; মিশকাত হা/৩৫৯ 'পবিত্রতা' অধ্যায়, 'পেশাব-পায়খানার আদব' অনুচ্ছেদ।
১৯১. ইবনু মাজাহ হা/৩০১; মিশকাত হা/৩৭৪; যঈফুল জামে' হা/৪৩৭৮।
১৯২. তিরমিযী হা/২০; ইবনু মাজাহ হা/৩৩০১, সনদ ছহীহ।
১৯৩. মুসলিম হা/২৬৪; আবুদাউদ হা/৯; মিশকাত হা/৩৩৪।
১৯৪. বুখারী হা/১৪৮; মিশকাত হা/৩৩৫।
১৯৫. আবুদাউদ হা/২২; নাসাঈ হা/৩০; ইবনু মাজাহ হা/৩৪৬; মিশকাত হা/৩৭১, সনদ ছহীহ।
১৯৬. বুখারী হা/২২৪-২৬; মুসলিম হা/২৭৩; মিশকাত হা/৩৬৪।
১৯৭. আবুদাউদ হা/২৬; ইবনু মাজাহ হা/৩২৮; মিশকাত হা/৩৫৫, সনদ হাসান।
১৯৮. বুখারী হা/২৩৯; মুসলিম হা/২৮২; তিরমিযী হা/৬৮; নাসাঈ হা/৫৭-৫৮; মিশকাত হা/৩৫৩।
১৯৯. দারাকুৎনী হা/৪৬৯; ছহীহুল জামে' হা/৩০০২; ইরওয়া হা/২৮০।
২০০. আবুদাউদ হা/৩৩; মিশকাত হা/৩৪8, সনদ ছহীহ।
২০১. আবুদাউদ হা/৪৫; মিশকাত হা/৩৬০, সনদ হাসান।
২০২. তিরমিযী হা/১৯; নাসাঈ হা/৪৬; ইরওয়া হা/৪২; ছহীহ ইবনে হিব্বান হা/১৪৪৩।
২০৩. মুসলিম হা/২৬২; আবুদাউদ হা/৭; তিরমিযী হা/১৬; মিশকাত হা/৩৩৬; ছহীহাহ হা/৩৩১৬।
২০৪. মুসলিম হা/২৬২; নাসাঈ হা/৪০; ইবনু মাজাহ হা/৩১৩; মিশকাত হা/৩৩৬, ৩৪৭, ৩৭৫।
২০৫. আবুদাউদ হা/৪০; নাসাঈ হা/৪৪, 'পবিত্রতা' অধ্যায়; মিশকাত হা/৩৪৯; ছহীহুল জামে' হা/৫৪৭।
২০৬. ইরওয়াউল গালীল হা/৪২-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
২০৭. আবুদাউদ হা/১৬৬-৬৮; নাসাঈ হা/১৩৪-৩৫; ইবনু মাজাহ হা/৪৬১; মিশকাত হা/৩৬১, 'পবিত্রতা' অধ্যায়, 'পেশাব-পায়খানার আদব' অনুচ্ছেদ।
২০৮. আবুদাউদ হা/১৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৫৫; ছহীহাহ হা/৩১২০।
২০৯. মুসলিম হা/৬২৭।
২১০. আহমাদ হা/২৪২০৩; নাসাঈ হা/৫; ইরওয়া হা/৬৫; মিশকাত হা/৩৮১; ছহীহুল জামে' হা/৩৬৯৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/২০২।
২১১. বায়হাক্বী হা/১৬১, বাযযার হা/৬০৩; ছহীহ তারগীব হা/২১৫।
২১২. বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান হা/২১১৯, ছহীহুল জামে' হা/৩৯৩৯।
২১৩. মুসনাদ বাযযার হা/৬৯৫২; সিলসিলাহ ছহীহাহ হা/১৫৫৬।
২১৪. আহমাদ হা/১৬০০৭; ছহীহুল জামে' হা/১৩৭৬।
📄 বাড়ীতে প্রবেশ ও বের হওয়া
বাড়ীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলতে হয়। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ لَا مَبِيْتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ. وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ وَالْعَشَاءَ 'কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে এবং খাবার গ্রহণকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করলে (বিসমিল্লাহ বললে) শয়তান (তার সংগীদেরকে) বলে, তোমাদের রাত্রিযাপন এবং রাতের আহারের কোন ব্যবস্থা হ'ল না। কিন্তু কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে (বিসমিল্লাহ না বললে) শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গা পেয়ে গেলে। সে আহারের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে (বিসমিল্লাহ না বললে) শয়তান বলে, তোমাদের রাতের আহার ও শয্যা গ্রহণের ব্যবস্থা হয়ে গেল'। ২১৫ আর গৃহে প্রবেশকালে সালাম দেওয়া যরূরী। ২১৬ এমনকি গৃহে কেউ বসবাস না করলেও সালাম দিতে হবে। ২১৭
**টিকাঃ**
২১৫. মুসলিম হা/২০১৮; আবুদাউদ হা/৩৭৬৫; মিশকাত হা/৪১৬১।
২১৬. নূর ২৪/৬১; ছহীহ ইবুন হিব্বান, হা/৪৯৯; আবুদাউদ হা/২৪৯৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/৩২১, সনদ ছহীহ।
২১৭. মুওয়াত্ত্বা হা/৩৫৩৫; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০৫৫, সনদ হাসান।
📄 পোষাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা
পোষাক আল্লাহ প্রদত্ত নে'মতের অন্যতম (আ'রাফ ৭/২৬), যা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয় (আ'রাফ ৭/৩১)। ২১৮ পোষাকের ক্ষেত্রে হারাম ও হালাল পোষাক বেছে পরিধান করা মুমিনের জন্য অবশ্য করণীয়। ইসলামে কতিপয় পোষাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন- ১. পুরুষের জন্য রেশমী ও স্বর্ণের কারুকার্য খচিত পোষাক। ২১৯ ২. পুরুষের জন্য মহিলাদের পোষাক ২২০ ৩. মহিলাদের জন্য পুরুষদের পোষাক ২২১ ৪. খ্যাতি ও অহংকার প্রকাশক পোষাক ২২২ ৫. অমুসলিমদের ধর্মীয় পোষাক ২২৩ ৬. আঁটসাঁট পোষাক ২২৪ প্রভৃতি।
পোষাক পরিধানের ক্ষেত্রে কিছু কর্তব্য রয়েছে। যা প্রত্যেক মুমিনের পালন করা উচিত। এতে সুন্নাত পালনও হবে এবং ছওয়াবও অর্জিত হবে। যেমন-
ক. ডান দিক থেকে পরিধান করা ও বাম দিক থেকে খোলা : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَبِسَ قَمِيصًا بَدَأَ بميامنه 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জামা পরিধান কালে ডান দিক থেকে শুরু করতেন'। ২২৫ অপরদিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, إِذَا لَبِسْتُمْ وَإِذَا تَوَضَّأْتُمْ .فَابْدَءُوا بِأَيَا مِنكُمْ 'তোমরা যখন পোশাক পরিধান করবে এবং যখন ওযু করবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে'। ২২৬
কেবল পোষাকই নয় জুতা পরিধানের ক্ষেত্রেও ডান দিক থেকে শুরু করার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَيْدَاً بِالْيَمِينِ وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأُ بِالشِّمَالِ، لِتَكُنِ الْيُمْنَى أَوَّلَهُمَا تُنْعَلُ وَآخِرَهُمَا تُنْزَعُ. 'তোমরা যখন জুতা পরিধান করবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে এবং যখন খুলবে তখন বাম দিক থেকে শুরু করবে। যাতে ডান পা প্রথমে আবৃত ও শেষে অনাবৃত হয়'। ২২৭
খ. পোষাক পরিধানকালে দো'আ : বিভিন্ন কাজের শুরুতে নির্দিষ্ট দো'আ করতে হয়। তেমনি পোষাক পরিধানকালেও দো'আ করতে হয়। যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ إِمَّا قَمِيصًا أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ.
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নতুন পোষাক পরিধান করলে তার নাম উল্লেখ করতেন, জামা বা পাগড়ি যাই হোক। অতঃপর বলতেন, 'হে আল্লাহ! আপনারই সকল প্রশংসা, আপনিই আমাকে এই পোষাকটি পরিধান করিয়েছেন। আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ ও মঙ্গল প্রার্থনা করছি এবং এর উৎপাদনের মধ্যে যত কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি এর অকল্যাণ থেকে এবং এর উৎপাদনের মধ্যে যা কিছু অকল্যাণকর রয়েছে তা থেকে'। ২২৮
পোষাক পরিধানকালে নিম্নোক্ত দো'আও বর্ণিত হয়েছে الْحَمْدُ لله الذي CIRS كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلَ مِنِّي وَلَا قُوَّة، 'সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে বিনা শ্রমে ও শক্তি প্রয়োগ ব্যতীত এই পোষাক পরিধান করিয়েছেন এবং রূযী দান করেছেন'। ২২৯
অন্যকে নতুন পোষাক পরিহিত দেখলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিম্নোক্ত দো'আ করতেন, الْبَسْ جَدِيداً وَعِشْ حَمِيْداً وَمُتْ شَهِيداً وَيَرْزُقُكَ اللَّهُ قُرَّةَ عَيْنٍ فِي CO الدُّنْيَا وَالآخِرَة 'নতুন পোশাক পর, প্রশংসিতভাবে জীবন যাপন কর, শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ কর এবং আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তি ও আনন্দ দান করুন'। ২৩০
**টিকাঃ**
২১৮. মুসলিম হা/৯১; আবুদাউদ হা/৪০৯২; তিরমিযী হা/১৯৯৯; মিশকাত হা/৫১০৮।
২১৯. বুখারী হা/৫৬৩৩, ৫৮৩১; আবুদাউদ হা/৩৭২৩; তিরমিযী হা/১৮৭৩।
২২০. আবুদাউদ হা/৪০৯৮; মিশকাত হা/৪৪৬৯; ছহীহুল জামে' হা/৫০৯৫।
২২১. বুখারী হা/৫৮৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯।
২২২. ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৬; মিশকাত হা/৪৩৪৬, সনদ হাসান।
২২৩. মুসলিম হা/২০৭৭; মিশকাত হা/৪৩২৭; ছহীহুল জামে' হা/২২৭৩।
২২৪. মুসনাদ আহমাদ হা/১৯৪৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০১৮।
২২৫. তিরমিযী হা/১৭৬৬; ছহীহুল জামে' হা/৪৭৭৯; মিশকাত হা/৪৩৩০।
২২৬. আবুদাউদ হা/৪১৪১; মিশকাত হা/৪০১, সনদ ছহীহ।
২২৭. বুখারী হা/৫৮৫৫; তিরমিযী হা/১৭৭৯; মিশকাত হা/৪৪১০।
২২৮. আবুদাউদ হা/৪০২০; তিরমিযী হা/১৭৬৭; মিশকাত হা/৪৩৪২, সনদ ছহীহ।
২২৯. আবুদাউদ হা/৪০২৩; মিশকাত হা/৪৩৪৯।
২৩০. ইবনু মাজাহ হা/৩৫৫৮; ছহীহাহ হা/৩৫২।