📄 ছিয়াম পালন করা
ছিয়াম দিনের বেলায় পালনীয় ইবাদত সমূহের মধ্যে অন্যতম ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। ছিয়াম দু'ধরনের। যথা- ১. ফরয ও ২. নফল। নিম্নে উভয় প্রকার ছিয়াম সম্পর্কে আলোচনা করা হ'ল।
ক. ফরয ছিয়াম পালন করা : ছিয়াম ইসলামের তৃতীয় বা চতুর্থ রুকন এবং ফরয ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ বিশ্বাসীগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হ'ল, যেমন তা ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হ'তে পার' (বাক্বারাহ ২/১৮৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرُ مُبَارَكَ فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ ،وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ 'তোমাদের নিকটে বরকতময় রামাযান মাস এসেছে। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপরে এ মাসের ছিয়াম ফরয করেছেন'। ৮৬
খ. নফল ছিয়াম : নফল ইবাদতের মধ্যে নফল ছিয়াম অতীব ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعْدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيْفًا- 'যে ব্যক্তি আল্লাহ্ উদ্দেশ্যে একটি দিন ছিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন হ'তে ৭০ বছরের পথ দূরে রাখবেন'। ৮৭ অন্য বর্ণনায় ১০০ বছরের পথ দূরে রাখবেন বলা হয়েছে। ৮৮ ৮৯
বছরের বিভিন্ন সময়ে নফল ছিয়াম রাখা যায়। বিভিন্ন সময়ের সাথে যুক্ত হওয়ায় এগুলির ফযীলতও ভিন্নতর। নিম্নে বিভিন্ন নফল ছিয়াম সমূহ উল্লেখ করা হ'ল।
মাসিক ছিয়াম:
১. শা'বান মাসের ছিয়াম : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযানের ফরয ছিয়ামের পর শা'বান মাসেই একটানা নফল ছিয়াম পালন করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন,
فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا - رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ 'আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে রামাযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে পুরো মাস ছিয়াম রাখতে দেখিনি। আর শা'বান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত অধিক ছিয়াম রাখতে দেখিনি'। ৯০
তিনি আরো বলেন, لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِنْ - شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُوْمُ شَعْبَانَ كُلَّهُ 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) শা'বান মাসের চেয়ে অধিক ছিয়াম কোন মাসে পালন করতেন না। তিনি পুরো শা'বান মাসই ছিয়াম পালন করতেন'। ৯১ এখানে পূর্ণমাস ছিয়াম রাখার অর্থ হচ্ছে মাসের অধিকাংশ। ৯২
উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, مَا رَأَيْتُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرَيْنِ - مُتَتَابِعَيْنِ إِلَّا شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ 'নবী করীম (ছাঃ)-কে শা'বান ও রামাযান ব্যতীত একাধারে দুই মাস ছিয়াম পালন করতে দেখিনি'। ৯৩
অনুরূপভাবে আয়েশা (রাঃ) বলেন, مَا رَأَيْتُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ كَانَ يَصُوْمُهُ إِلَّا قَلِيْلًا بَلْ كَانَ يَصُوْمُهُ كُلَّهُ 'শা'বান মাসের মত আর কোন মাসে এত অধিক নফল ছিয়াম রাখতে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে দেখিনি। এ মাসের কিছু ব্যতীত পুরো মাসই তিনি ছিয়াম রাখতেন'। ৯৪
শা'বান মাসের কয়েক দিন ব্যতীত ছিয়াম পালন করা রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য খাছ ছিল। উম্মতের জন্য তিনি প্রথম অর্ধাংশ পসন্দ করেছেন। তিনি বলেন, إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَلَاصَوْمَ حَتَّى يَجِيَّ رَمَضَانُ - ‘শা'বান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে রামাযান না আসা পর্যন্ত আর কোন ছিয়াম নেই'। ৯৫ তবে কেউ ছিয়াম রাখতে অভ্যস্ত হ'লে সে রাখতে পারে।
২. শাওয়াল মাসের ছিয়াম : রামাযানের ছিয়াম পালনের পরে শাওয়াল মাসে ৬টি ছিয়াম রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ - ‘যে ব্যক্তি রামাযানের ছিয়াম রেখেছে এবং পরে শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম রেখেছে, সে যেন সারা বছর ছিয়াম রাখল'। ৯৬ অন্য হাদীছে এসেছে, مَنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ كَانَ تَمَامَ السَّنَةِ (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا) ‘যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন ছিয়াম রাখল, তা পূর্ণ বছর ছিয়াম রাখার সমতুল্য। কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে’ (আন'আম ৬/১৬০)। ৯৭ তিনি আরো বলেন, جَعَلَ اللَّهُ الْحَسَنَةَ بِعَشَرَةٍ فَشَهْرٌ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتَّةُ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ تَمَامُ السَّنَةِ ‘আল্লাহ নেকীকে দশগুণ করেন। সুতরাং রামাযান মাস দশ মাসের সমান এবং ঈদোত্তর ছয়দিনে পূর্ণ বছরের সমান হয়'। ৯৮ অন্যত্র তিনি আরো বলেন, صِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَصِيَامُ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ بِشَهْرَيْنِ فَذَلِكَ صِيَامُ سَنَةٍ ‘রামাযান মাসের ছিয়াম দশ মাসের সমান এবং শাওয়ালের ছয়দিনের ছিয়াম দু'মাসের সমান, এ হ'ল পূর্ণ বছর ছিয়াম'। ৯৯
৩. যিলহজ্জ মাসের ছিয়াম: নফল ছিয়ামের মধ্যে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের ছিয়ামের মর্যাদা অত্যধিক। যিলহজ্জের প্রথম দশকের ছিয়ামের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي الْعَشْرَ، قَالُوا يَارَسُولَ اللهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَالِكَ بِشَيْءٍ-
'আল্লাহর নিকট যিলহজ্জ মাসের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক পসন্দনীয় নেক আমল আর নেই। ছাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদও নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে বের হয়ে ফিরে আসেনি (তার শাহাদত হওয়া এর চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ)'। ১০০
নবী করীম (ছাঃ)-এর কোন এক স্ত্রী বলেন, كَانَ رَسُوْلُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلَ اثنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَالْحَمِيْسَ 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যিলহজ্জ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশূরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম রাখতেন'।
৪. প্রতি মাসে তিনদিন ছিয়াম: প্রতি মাসে তিনদিন ছিয়াম পালন করা রাসূল (ছাঃ)-এর নিয়মিত ও পসন্দনীয় আমল। তিনদিন ছিয়াম রাখার বিনিময়ে পুরো মাস ছিয়াম রাখার সমান নেকী পাওয়া যায়। আবূ যার (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَامَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَذَالِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَ ذَالِكَ فِي كِتَابِهِ: مَنْ جَاءَ Rafe ao act formal بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا الْيَوْمُ بِعَشْرَةِ أَيَّامٍ ছিয়াম রাখে তা যেন সারা বছর ছিয়াম রাখার সমান। এর সমর্থনে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নাযিল করেন, 'যদি কেউ একটি ভাল কাজ করে তার প্রতিদান হ'ল এর দশগুণ' (আন'আম ৬/১৬০)। সুতরাং এক দিন দশদিনের সমান'। ১০১
চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে এই ছিয়াম রাখা সুন্নাত। যেমন- রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আবূ যার (রাঃ)-কে বলেন, হে আবূ যার! তুমি প্রতি মাসে তিন দিন ছিয়াম রাখতে চাইলে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রাখ'। ১০২ তবে কোন কারণে ঐ তিনদিন ছিয়াম রাখতে না পারলে অন্য দিনেও রাখা যাবে। ১০৩
বিশেষ দিনের ছিয়াম:
৫. আরাফার দিনের ছিয়াম: আরাফার দিনের ছিয়াম সম্পর্কে নবী করীম صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِي قَبْلَهُ 1 (18) GRE وَالسَّنَةَ اللَّتِي بَعْدَهُ. আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন'। ১০৪
উল্লেখ্য যে, আরাফায় অবস্থানকারী হাজীগণ এ দিন ছিয়াম পালন করবেন না। এছাড়া পৃথিবীর অন্যত্র অবস্থানকারী সকল মুসলমান গুরুত্বপূর্ণ এই নফল ছিয়াম পালন করে অশেষ নেকী অর্জনে সচেষ্ট হবেন।
৬. আশূরার ছিয়াম: আশূরার ছিয়াম তথা মুহাররমের ১০ তারিখের ছিয়ামও অধিক ফযীলতপূর্ণ। ইহুদীরাও এ দিন ছিয়াম পালন করত। ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শুকরিয়া স্বরূপ এ ছিয়াম রাখা হয়। কারবালার প্রান্তরে হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতকে কেন্দ্র করে এ ছিয়াম পালন করলে শুধু কষ্ট করাই সার হবে। কারণ তার অর্ধ শতাব্দী পূর্বেই ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদীনায় এসে ইহুদীদেরকে আশূরার ছিয়াম পালন করতে দেখে এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ a free fal نَجِّى اللهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى -
দিনে আল্লাহ তা'আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুদের কবল থেকে মুক্তি দান করেছিলেন, ফলে মূসা (আঃ) এ দিনে ছিয়াম পালন করেছেন'। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন,- فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوْسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ 'আমি তোমাদের চেয়ে মূসা (আঃ)-এর (আদর্শের) অধিক হক্বদার। অতঃপর তিনি এ দিনে ছিয়াম পালন করেন ও ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন'। ১০৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلَّا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ - رَمَضَانَ 'আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে আশূরার ছিয়ামের ন্যায় অন্য কোন ছিয়ামকে এবং এই মাস অর্থাৎ রামাযান মাসের ন্যায় অন্য কোন মাসকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি'। ১০৬
২য় হিজরীতে রামাযান মাসের ছিয়াম ফরয হ'লে রাসূল (ছাঃ) এই নির্দেশ শিথিল করে দেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) প্রথমে আশূরার ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। পরে যখন রামাযান মাসের ছিয়াম ফরয করা হয় তখন আশূরার ছিয়াম ছেড়ে দেয়া হ'ল। যার ইচ্ছা সে পালন করত, যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিত। ১০৭ আশূরার ছিয়াম মুহাররমের ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখে রাখা যায়। তবে ৯, ১০ তারিখে রাখাই উত্তম। ১০৮
এ ছিয়ামের ফযীলত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, وَصِيَامُ يَوْمٍ عَاشُوْرَاءِ احْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ - আল্লাহ্র নিকটে আশা রাখি যে, তা বিগত এক বছরের পাপ মোচন করে দিবে'। ১০৯
৭. দাউদ (আঃ)-এর ছিয়াম : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাউদ (আঃ)-এর ছিয়ামকে সর্বোত্তম বলেছেন। তিনি বলেন, لَأَصَوْمَ فَوْقَ صَوْمٍ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ شَطْرَ - الدَّهْرِ صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا 'দাউদ (আঃ)-এর ছিয়ামের উপরে উত্তম ছিয়াম নেই। তা হচ্ছে অর্ধেক বছর। (সুতরাং) একদিন ছিয়াম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও'। ১১০
সাপ্তাহিক ছিয়াম : সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ছিয়ামের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হ'ল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম রাখেন। তিনি বলেন, تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي - وَأَنَا صَائِمٌ 'প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আমলনামা সমূহ আল্লাহ্র নিকটে পেশ করা হয়। আমি পসন্দ করি যে, ছিয়াম অবস্থায় আমার আমলনামা আল্লাহ্র নিকটে পেশ করা হোক'। ১১১
**টিকাঃ**
৮৬. বুখারী হা/৮, ৪৫১৪; মুসলিম হা/১৬; তিরমিযী হা/২৬০৯।
৮৭. নাসাঈ হা/২১১৮; মিশকাত হা/১৯৬২; ছহীহুল জামে' হা/৫৫।
৮৮. বুখারী হা/২৮৪০; মুসলিম হা/১১৫৩; মিশকাত হা/২০৫৩।
৮৯. নাসাঈ হা/২২৫৪; ছহীহাহ হা/২২৬৭, ২৫৬৫; ছহীহুল জামে' হা/৬৩৩০।
৯০. বুখারী হা/১৯৬৯; মুসলিম হা/১১৫৬; নাসাঈ হা/২৩৫১; মিশকাত হা/২০৩৬।
৯১. বুখারী হা/১৯৭০; নাসাঈ হা/২১৭৯।
৯২. ফাৎহুলবারী ৪/২১৪; মির'আত ৬/৪৪৩ পৃঃ।
৯৩. তিরমিযী হা/৭৩৬ ইবনু মাজাহ হা/১৬৪৮; নাসাঈ হা/২১৭৫, ২৩৫২; মিশকাত হা/১৯৭৬, সনদ ছহীহ।
৯৪. আবুদাউদ হা/২৪৩৫; তিরমিযী হা/৭৩৬; নাসাঈ হা/২১৭৮, সনদ ছহীহ।
৯৫. ইবনু মাজাহ হা/১৬৫১; তিরমিযী হা/৭৩৮; মিশকাত হা/১৯৭৬, সনদ ছহীহ।
৯৬. মুসলিম হা/১১৬৪; তিরমিযী হা/৭৫৯; ইবনু মাজাহ হা/১৭১৫; মিশকাত হা/১৯৪৯; ছহীহুল জামে' হা/৬৩২৭।
৯৭. ইবনু মাজাহ হা/১৭১৫; ছহীহুল জামে' হা/৬৩২৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০০৭।
৯৮. আহমাদ হা/২২৪৬৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০০৭; ইরওয়া ৪/১০৭, সনদ ছহীহ।
৯৯. নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/২৮৭৩; ছহীহুল জামে' হা/৩৮৫১; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০০৭।
১০০. ইবনু মাজাহ হা/১৭২৭; তিরমিযী হা/৭৫৭, সনদ ছহীহ।
১০১. তিরমিযী হা/৭৬২; ইবনু মাজাহ হা/১৭০৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০৩৫।
১০২. তিরমিযী হা/৭৬১, সনদ হাসান ছহীহ।
১০৩. মুসলিম হা/১১৬০; মিশকাত হা/২০৪৬।
১০৪. মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৪৬; তিরমিযী হা/৭৪৯; ইবনু মাজাহ হা/১৭৩০।
১০৫. বুখারী হা/২০০৪।
১০৬. বুখারী হা/২০০৬।
১০৭. বুখারী হা/১৮৯৩, ২০০১, ২০০২, ৩৮৩১, ৪৫০২, ৪৫০৪।
১০৮. আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়, পৃঃ ৩, টীকা-৮ দ্রঃ।
১০৯. মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৪৬, ৪/২৫১।
১১০. বুখারী হা/১৯৮০।
১১১. তিরমিযী হা/৭৪৭, সনদ ছহীহ।
📄 আল্লাহ্র যিকর করা
যিকর এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মাধ্যমে মুমিন হৃদয়ে প্রশান্তি অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ‘যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহকে স্মরণ করলে যাদের অন্তরে প্রশান্তি আসে। মনে রেখ, আল্লাহ্ স্মরণেই কেবল হৃদয় প্রশান্ত হয়' (রা'দ ১৩/২৮)। সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করা মুমিনের জন্য করণীয়। আল্লাহ বলেন, وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ ‘আর (সর্বাবস্থায়) আল্লাহ্ স্মরণই সবচেয়ে বড় বস্তু। আল্লাহ জানেন যা কিছু তোমরা করে থাক' (আনকাবূত ২৯/৪৫)।
আর মুমিনের বৈশিষ্ট্য হ'ল কোন কিছু তাকে আল্লাহ্র স্মরণ থেকে গাফেল রাখতে পারে না। আল্লাহ বলেন, رِجَالٌ لَا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُوْنَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوْبُ وَالْأَبْصَارُ লোকগুলি হ'ল তারাই, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্ স্মরণ থেকে এবং ছালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন তাদের হৃদয় ও চক্ষু বিপর্যস্ত হবে' (নূর ২৪/৩৭)। সুতরাং বেশী বেশী করে আল্লাহর যিকর করতে হবে। আল্লাহ বলেন, وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ) এবং আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ'তে পার' (আনফাল ৮/৪৫)।
যিকরের ফযীলত সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'আল্লাহ তা'আলার এক দল ভ্রাম্যমান বর্ধিত ফেরেশতা রয়েছে। তারা যিকরের বৈঠকসমূহ সন্ধান করে বেড়ান। তারা যখন কোন যিকরের বৈঠক পান তখন সেখানে তাদের (যিকরকারীদের) সাথে বসে যান। আর পরস্পর একে অপরকে বাহু দ্বারা ঘিরে ফেলেন। এমনকি তারা তাদের মাঝে ও নিকটতম আকাশের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে ফেলেন। আল্লাহ্র যিকরকারীগণ যখন পৃথক হয়ে যায় তখন তারা আকাশমণ্ডলীতে আরোহণ করেন। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোত্থেকে আসছ? অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবহিত। তখন তারা বলতে থাকেন, আমরা ভূমণ্ডলে অবস্থানকারী আপনার বান্দাদের নিকট হ'তে আসছি, যারা আপনার তাসবীহ পড়ে, তাকবীর পড়ে, তাহলীল বলে (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ-এর) যিকর করে, আপনার প্রশংসা করে এবং আপনার নিকট তাদের প্রত্যাশিত বিষয় প্রার্থনা করে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দারা আমার নিকট কি প্রার্থনা করে? তারা বলেন, তারা আপনার নিকট আপনার জান্নাত প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, তারা কি আমার জান্নাত প্রত্যক্ষ করেছে? তারা বলেন, না; হে আমাদের রব! তিনি বলেন, তারা যদি আমার জান্নাত প্রত্যক্ষ করত তাহ'লে তারা কী করত? তারা বলেন, তারা আপনার নিকট আশ্রয় চায়। তিনি বলেন, কি বিষয় হ'তে তারা আমার নিকট আশ্রয় চায়? তারা বলেন, হে আমাদের রব! আপনার জাহান্নাম হ'তে (মুক্তির জন্য)। তিনি বলেন, তারা কি আমার জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেছে? তারা বলেন, না; তারা প্রত্যক্ষ করেনি। তিনি বলেন, তারা যদি আমার জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করত তাহ'লে কী করত? তারা বলেন, তারা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাদের মার্জনা করে দিলাম এবং তারা যা প্রার্থনা করছিল আমি তা তাদের প্রদান করলাম। আর তারা যা হ'তে আশ্রয় চেয়েছিল আমি তা থেকে তাদের মুক্তি দিলাম। অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের রব! তাদের মাঝে তো অমুক পাপী বান্দা ছিল, যে তাদের সাথে বৈঠকের নিকট দিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে বসেছিল। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাকেও মাফ করে দিলাম। তারা তো এমন একটি কওম যাদের সঙ্গীরা দুর্ভাগা হয় না'। ১১২
أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَرْضَاهَا عِنْدَ مَلِيْكِكُمْ وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ إِعْطَاءِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَمِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ. قَالُوا وَمَا ذَاكَ يَا رَسُوْلَ اللَّهِ - قَالَ ذِكْرُ اللَّهِ 'আমি কি তোমাদের আমলসমূহের সর্বোত্তমটি সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবো না, যা তোমাদের প্রভুর নিকট সর্বাধিক প্রিয়, তোমাদের মর্যাদাকে অধিক উন্নীতকারী, তোমাদের সোনা-রূপা দান করার চেয়ে এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে তোমাদের শত্রুদের হত্যা করা এবং তোমাদের নিহত হওয়ার চেয়ে উত্তম? ছাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কী? তিনি বলেন, আল্লাহ্ যিকির'। ১১৩
أَنَا عِنْدَ ظَنَّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلا ذَكَرْتُهُ فِي مَلا خَيْرٍ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ بِشِبْرٍ تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً - বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও স্বয়ং তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে জন-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু'হাত এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই'। ১১৪
এরপর রাসূল (ছাঃ) যিকরকারী ও যে ব্যক্তি যিকর করে না তার উদাহরণ দিয়েছেন, مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لاَ يَذْكُرُ مَثَلُ الْحَقِّ وَالْمَيِّتِ - 6 তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হ'ল জীবিত ও মৃত ব্যক্তির ন্যায়'। ১১৫ অন্যত্র তিনি বলেন, مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ وَالْبَيْتِ الَّذِي لاَ يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ مَثَلُ الْحَقِّ وَالْمَيِّتِ 'যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না এরূপ দু'টি ঘরের তুলনা করা যায় জীবিত ও মৃতের সঙ্গে'। ১১৬
মানুষকে সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ যিকর করতে হবে। এমনকি ভুলে যাওয়ার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, وَاذْكُرْ رَبَّكَ إِذَا نَسِيتَ وَقُلْ عَسَى أَنْ يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَذَا رَشَدًا - 'তোমার পালনকর্তাকে স্মরণ কর যখন তুমি ভুলে যাও এবং বল নিশ্চয়ই আমার প্রভু আমাকে এর চাইতে নিকটতম সত্যের দিকে পথপ্রদর্শন করবেন' (কাহফ ১৮/২৪)। আর আল্লাহ্র স্মরণ থেকে বিস্মৃত হ'লে মানুষ ক্ষতির মধ্যে পতিত হয়। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ 'তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত' (মুনাফিকুন ৬৩/৯)।
ক. সকাল-সন্ধ্যায় যিকর করা : সকাল-সন্ধ্যা সর্বদা আল্লাহর যিকর করা মুমিনের জন্য কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, فَسُبْحَانَ اللَّهِ حَيْنَ تُمْسُوْنَ وَحَيْنَ تُصْبِحُونَ - 'অতএব তোমরা আল্লাহ্ তাসবীহ বর্ণনা কর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং সকালে উঠবে' (রূম ৩০/১৭)। তিনি আরো বলেন, وَاذْكُرْ رَبَّكَ كَثِيرًا وَسَبِّحْ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ - কর এবং সন্ধ্যায় ও সকালে তাঁর মহিমা বর্ণনা কর' (আলে ইমরান ৩/৪১)। অন্যত্র তিনি বলেন, - وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ 'আর সন্ধ্যায় ও সকালে তোমার রবের প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা কর' (মুমিন ৪০/৫৫)।
সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নোক্ত যিকর ও তাসবীহ সমূহ পাঠ করা যায়।
১. আয়াতুল কুরসী তেলাওয়াত করা। ১১৭
২. সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস তিনবার করে পাঠ করা। ১১৮
৩. এই দো'আ পাঠ করা,
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوْءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ
'আমরা এবং সমগ্র জগৎ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোন মা'বুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এ রাতের মঙ্গল চাই এবং এ রাতে যা আছে, তার মঙ্গল কামনা করি। আমি আশ্রয় চাই এ রাতের অমঙ্গল হ'তে এবং এ রাতে যে অমঙ্গল রয়েছে তা হ'তে। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্য ও বার্ধক্যের অপকারিতা, দুনিয়ার ফিৎনা ও কবরের শাস্তি হ'তে'। ১১৯
৪. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সকালে বলতেন, اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبَكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ 'হে আল্লাহ! তোমার সাহায্যে আমরা সকালে উঠি আবার তোমার সাহায্যেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার নামে আমরা বেঁচে থাকি এবং তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি। তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন'। সন্ধ্যায় বলতেন, اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ 'হে আল্লাহ! তোমার সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই আবার তোমার সাহায্যে সকালে উঠি। তোমার নামে আমরা বেঁচে থাকি, তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নিকট রয়েছে আমাদের পুনরুত্থান'। ১২০
৬. সাইয়েদুল ইস্তেগফার পাঠ করা: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'যে ব্যক্তি নিবিষ্ট মনে উক্ত দো'আ দিবসে পাঠ করবে এবং সন্ধ্যার পূর্বে মারা যাবে সে ব্যক্তি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি ইয়াক্বীনের সাথে উক্ত দো'আ রাতে পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সেও জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে'। ১২১
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
'হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ'তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই'।
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
৬. সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহাম্ম্ম্মম্দহী, সুবহা-নাল্লা-হিল 'আযীম। অথবা সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে 'সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী' পড়বে। 'মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। মহাপবিত্র আল্লাহ, যিনি মহান'। এই দো'আ পাঠের ফলে তার সকল গোনাহ ঝরে যাবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়'। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এই দো'আ সম্পর্কে বলেন যে, দু'টি কালেমা রয়েছে, যা রহমানের নিকটে খুবই প্রিয়, যবানে বলতে খুবই হালকা এবং মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী। তাহ'ল সুবহা-নাল্লা-হি....। ১২২
সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করার আরো অনেক দো'আ, যিকর ও তাসবীহ-তাহলীল রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হ'ল।
খ. সর্বাবস্থায় যিকর করা : সর্বদা সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র যিকর করা মুমিনের জন্য অবশ্য করণীয়। আল্লাহ বলেন, الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى - جُنُوبِهِمْ 'যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে' (আলে ইমরান ৩/১৯১)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সর্বদা আল্লাহ্র যিকর করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللهَ عَلَى كُلِّ .أحيانه 'নবী করীম (ছাঃ) সর্বক্ষণ (সর্বাবস্থায়) আল্লাহ্র যিকির করতেন'। ১২৩
যিকর কিভাবে করবে : 'যিকর' হ'ল ইবাদত, যা অবশ্যই সুন্নাতী তরীকায় করতে হবে। এটা নীরবে চুপে চুপে করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً، 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাক বিনীতভাবে ও চুপে চুপে' (আ'রাফ ৭/৫৫)। তিনি আরো বলেন, وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ - 'তোমার প্রতিপালককে স্মরণ কর মনে মনে কাকুতি-মিনতি ও ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে সকালে ও সন্ধ্যায়। আর তুমি উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না' (আ'রাফ ৭/২০৫)।
কুরআন ও হাদীছে উল্লিখিত বাক্য দ্বারা যিকর করতে হবে। শুধু 'আল্লাহ' 'আল্লাহ' যিক্র করা বিদ'আত ও শরী'আত বিরোধী কাজ। আর সর্বোত্তম যিক্র হচ্ছে, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ 'লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু' বলা। ১২৪
উল্লেখ্জ যে, বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত অধিকাংশ যিকরই নিজেদের রচিত। কুরআন হাদীছে যার কোন ভিত্তি নেই। অথচ এগুলির মাধ্যমেই মজলিসকে সরগরম রাখা হচ্ছে। ভক্তরা আবেগতাড়িত হয়ে এ সমস্ত যিকিরে বেশামাল হয়ে পড়ে। এসবই বিদ'আত। এগুলি পরিহার করা যরূরী। তাছাড়া উচ্চৈঃস্বরে সম্মিলিত যিকির জঘন্য বিদ'আত। আল্লাহ তা'আলা এ ধরনের যিকির থেকে নিষেধ করেছেন' (আ'রাফ ৭/২০৫)।
গ. দরূদ পাঠ করা: রাসূল (ছাঃ)-এর উপরে দরূদ পাঠ করা দো'আ কবুল হওয়া ও আল্লাহ্র রহমত লাভের মাধ্যম। নবীর উপরে দরূদ পাঠের জন্য স্বয়ং আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا -ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন। (অতএব) হে মুমিনগণ! তোমরা তার প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ কর' (আহযাব ৩৩/৫৬)। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এখানে আল্লাহ্র দরূদ অর্থ রহমত বর্ষণ করা এবং ফেরেশতাদের দরূদ অর্থ মাগফিরাত কামনা করা। ১২৫ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ দরূদ অর্থ ফেরেশতাগণের নিকটে তার প্রশংসা করা এবং ফেরেশতাদের দরূদ অর্থ তার জন্য দো'আ করা। ১২৬
দরূদ পাঠের ফযীলত সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةَ وَاحِدَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرَ صَلَوَاتِ وَحُطَّتْ عَنْهُ عَشْرُ خَطِيئَاتٍ وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتِ - 'যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা'আলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তার জন্য দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে'। ১২৭
উল্লেখ্য, দরূদ বলতে 'দরূদে ইবরাহীম' উদ্দেশ্য, যা ছালাতের শেষ বৈঠকে পড়া হয়। বর্তমানে দরূদের নামে নিজেদের বানানো দরূদ যেমন 'আল্লাহুম্মা ছাল্লি 'আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ..., 'ইয়া নবী সালা-মু আলাইকা'... ইত্যাদি পাঠ করা হয়, যা বিদ'আত ও শরী'আত বিরোধী কাজ। এগুলি সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য।
ঘ. ছালাত পরবর্তী দো'আ ও যিকর সমূহ: ছালাতের সালাম ফিরানোর পরে তাসবীহ-তাহলীল ও দো'আ করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। নিম্নে কিছু দো'আ ও যিকর উল্লেখ করা হ'ল।-
١. اللَّهُ أَكْبَرُ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ اسْتَغْفِرُ اللَّهُ، اسْتَغْفِرُ اللَّهُ - 'আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। আমি আল্লাহ্র নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ১২৮
٢. اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ. 'হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার থেকেই আসে শান্তি। বরকতময় আপনি, হে মর্যাদা ও সম্মানের মালিক'। ১২৯
٣. لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَاحَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ - اَللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ، اَللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدَّ مِنْكَ الْجَدُّ - 'নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, যিনি একক ও শরীকবিহীন। তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি, আল্লাহ ব্যতীত'। ১৩০ 'হে আল্লাহ! আপনাকে স্মরণ করার জন্য, আপনার শুকরিয়া আদায় করার জন্য এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য করুন'। ১৩১ 'হে আল্লাহ! আপনি যা দিতে চান, তা রোধ করার কেউ নেই এবং আপনি যা রোধ করেন, তা দেওয়ার কেউ নেই। কোন সম্পদশালী ব্যক্তির সম্পদ কোন উপকার করতে পারে না আপনার রহমত ব্যতীত'। ১৩২
৪. সুবহা-নাল্লা-হ 'পবিত্রতাময় আল্লাহ' (৩৩ বার)। আলহাম্দুলিল্লা-হ 'যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ জন্য' (৩৩ বার)। আল্লাহু আকবার 'আল্লাহ সবার চেয়ে বড়' (৩৩ বার) এবং একবার - لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - আল্লাহ ব্যতীত; তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। অথবা আল্লা-হু আকবার (৩৪ বার)। ১৩৩ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর উক্ত দো'আ পাঠ করবে, তার সকল গোনাহ মাফ করা হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়'। ১৩৪
৫. আয়াতুল কুরসী পাঠ করা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোন বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতীত'। ১৩৫ শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ'তে না পারে'। ১৩৬
٦. سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كلماته - 'মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার পরিমাণ, তাঁর সত্তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ এবং তাঁর আরশের ওযন ও মহিমাময় বাক্য সমূহের ব্যাপ্তি সমপরিমাণ'। ১৩৭
. اللَّهُمَّ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ وَأَجِرْنِي مِنَ النَّارِ - 'হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও'! ১৩৮
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتَّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى - .8 'হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সুপথের নির্দেশনা, পরহেযগারিতা, পবিত্রতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি'। ১৩৯
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ - .9 'হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হারাম ছাড়া হালাল দ্বারা যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন করুন! রাসূল (ছাঃ) বলেন, এই দো'আর ফলে পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন'। ১৪০
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ - .১০ 'আমি আল্লাহ্র নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তওবা করছি'। এই দো'আ পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক হয়'। ১৪১ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দৈনিক ১০০ বার করে তওবা করতেন'। ১৪২
১১. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রত্যেক ছালাতের শেষে সূরা 'ফালাকু' ও 'নাস' পড়ার নির্দেশ দিতেন। ১৪৩ তিনি প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পড়ে দু'হাতে ফুঁক দিয়ে মাথা ও চেহারাসহ সাধ্যপক্ষে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। তিনি এটি তিনবার করতেন। ১৪৪
**টিকাঃ**
১১২. মুসলিম হা/২৬৮৯; মিশকাত হা/২২৬৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৫০২।
১১৩. তিরমিযী হা/৩৩৭৭; ইবনু মাজাহ হা/৩৭৯০; মিশকাত হা/২২৬৯।
১১৪. বুখারী হা/৭৪০৫; মিশকাত হা/২২৬৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪৮৭।
১১৫. বুখারী হা/৬৪০৭; মিশকাত হা/২২৬৩; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৫০২।
১১৬. মুসলিম হা/৭৭৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/৪৩৮।
১১৭. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩১৬২; ছহীহ আত-তারগীব হা/৬১০।
১১৮. আবুদাউদ হা/৫০৮২; তিরমিযী হা/৩৫৭৫; নাসাঈ হা/৫৪২৮, সনদ হাসান।
১১৯. মুসলিম হা/২৭২৩; মিশকাত হা/২৩৮১, 'সকাল-সন্ধ্যায় ও নিদ্রা যাওয়ার সময় কি বলবে' অনুচ্ছেদ।
১২০. আবুদাউদ হা/৫০৬৮; তিরমিযী হা/৩৩৯১; ইবনু মাজাহ হা/৩৮৬৮; মিশকাত হা/২৩৮৯, সনদ ছহীহ।
১২১. বুখারী হা/৬৩০৬; আবুদাউদ হা/৫০৭০; মিশকাত হা/২৩৩৫, 'তওবা ও ইস্তিগফার' অনুচ্ছেদ।
১২২. বুখারী হা/৭৫৬৩ 'তাওহীদ' অধ্যায়; মিশকাত হা/২২৯৬-৯৮, 'দো'আ সমূহ' অধ্যায়, 'তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠের ছওয়াব' অনুচ্ছেদ।
১২৩. মুসলিম হা/৩৭৩; আবুদাউদ হা/১৮; তিরমিযী হা/৩৩৮৪; ইবনু মাজাহ হা/৩০২; মিশকাত হা/৪৫৬।
১২৪. তিরমিযী, মিশকাত হা/২৩০৬।
১২৫. তিরমিযী হা/৪৮৫-এর আলোচনা দ্রঃ।
১২৬. বুখারী তরজমাতুল বাব-১০; ফতহুল বারী ৮/৫৩৩; ইবনে কাছীর ৬/৪৫৭, সূরা আহযাব ৫৬ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ।
১২৭. নাসাঈ হা/১২৯৭; মিশকাত হা/৯২২; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৬৫৭-৫৮।
১২৮. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/৯৫৯, ৯৬১ 'ছালাত পরবর্তী যিকর' অনুচ্ছেদ।
১২৯. মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬০।
১৩০. মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৩, 'ছালাত' অধ্যায়, 'ছালাতের পর যিকর' অনুচ্ছেদ।
১৩১. আহমাদ, আবুদাউদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৯৪৯।
১৩২. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/৯৬২।
১৩৩. মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৬-৬৭, 'ছালাত' অধ্যায়, 'ছালাত পরবর্তী যিকর' অনুচ্ছেদ।
১৩৪. মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৭।
১৩৫. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৯৭২।
১৩৬. বুখারী হা/২৩১১, ৩২৭৫, ৫০১০; মিশকাত হা/৯৭৪, 'ছালাত' অধ্যায়; মিশকাত হা/২১২২-২৩ 'কুরআনের ফাযায়েল' অধ্যায়।
১৩৭. মুসলিম, মিশকাত হা/২৩০১ 'দো'আ সমূহ' অধ্যায়, 'তাসবীহ ও হামদ পাঠের ছওয়াব' অনুচ্ছেদ; আবুদাউদ হা/১৫০৩।
১৩৮. তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৭৮ 'দো'আ সমূহ' অধ্যায়, 'আশ্রয় প্রার্থনা' অনুচ্ছেদ।
১৩৯. মুসলিম, মিশকাত হা/২৪৮৪ অধ্যায়-ঐ, 'সারগর্ভ দো'আ' অনুচ্ছেদ।
১৪০. তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৪৯, 'দো'আ সমূহ' অধ্যায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দো'আ' অনুচ্ছেদ; ছহীহাহ হা/২৬৬।
১৪১. তিরমিযী, আবুদাউদ, মিশকাত হা/২৩৫৩ 'দো'আসমূহ' অধ্যায়, 'ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করা' অনুচ্ছেদ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭২৭।
১৪২. মুসলিম, মিশকাত হা/২৩২৫ 'ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করা' অনুচ্ছেদ।
১৪৩. আবুদাউদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৯৬৯, 'ছালাত' অধ্যায়, 'ছালাত পরবর্তী যিকর' অনুচ্ছেদ।
১৪৪. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/২১৩২ 'কুরআনের ফাযায়েল' অধ্যায়।
📄 তওবা ও ইস্তেগফার করা
মানুষ জেনে, না জেনে, বুঝে না বুঝে অনেক সময় পাপ কাজ করে ফেলে। তাই এই পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের উপায় হচ্ছে তওবা করা এবং আল্লাহ্ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ বলেন, - وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُوْرٌ رَحِيمٌ 'এবং আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান' (বাক্বারাহ ২/১৯৯; মুয্যাম্মিল ৭৩/২০)। তিনি আরো বলেন, وَأَن اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُؤْبُوْا إِلَيْهِ 'এবং এ মর্মে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে ফিরে যাও' (হুদ ১১/২)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, وَاللَّهِ إِنِّي لَاسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ -سَبْعِينَ مَرَّةً 'আল্লাহ্র কসম! আমি প্রতিদিন ৭০ বারেরও অধিক তওবা করি এবং আল্লাহ্র নিকট গুনাহের জন্য ক্ষমা চাই'। ১৪৫ অন্য হাদীছে ১০০ বারের কথা এসেছে। ১৪৬ এখানে ৭০ বা ১০০ বার দ্বারা সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়; বরং উদ্দেশ্য হ'ল বেশী বেশী তওবা করা।
পাপ করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ 'এরা কি জানে না যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং ছাদাক্বা গ্রহণ করে থাকেন। আর আল্লাহই একমাত্র সেই মহান সত্তা যিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান' (তওবা ৯/১০৪)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُوْ عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ 'তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং অপরাধ ক্ষমা করে দেন। তোমরা যা কিছুই করো সবই তিনি অবহিত' (শূরা ৪২/২৫)।
পাপ করার পর তওবা না করলে তাকে যালেম বলে আল্লাহ অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, وَمَنْ لَّمْ يَتُبْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ 'যারা তওবা করবে না তারা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত' (হুজুরাত ৪৯/১১)। পক্ষান্তরে আল্লাহ বান্দার তওবায় অত্যন্ত খুশী হন। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
لِلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ فِي أَرْضِ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَنَامَ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ فَطَلَبَهَا حَتَّى أَدْرَكَهُ الْعَطَشِ ثُمَّ قَالَ أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي الَّذِي كُنْتُ فِيْهِ فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوْتَ. فَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوْتَ فَاسْتَيْقَظَ وَعِنْدَهُ رَاحِلَتُهُ وَعَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَاللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ
'আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দার তওবার কারণে ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সাথে থাকে খাদ্য-পানীয় সহ একটি সওয়ারী। এরপর ঘুম হ'তে জেগে দেখে যে, সওয়ারী কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহার সামগ্রী বহনকারী সওয়ারীটি তার কাছে। (সওয়ারী এবং পানাহার সামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মুমিন বান্দার তওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশী আনন্দিত হন'। ১৪৭ সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের উচিত প্রতিদিন বেশী বেশী তওবা ও ইস্তেগফার করা, যাতে আল্লাহ খুশী হয়ে তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন।
**টিকাঃ**
১৪৫. বুখারী, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৩; মিশকাত হা/২৩২৩।
১৪৬. মুসলিম; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪।
১৪৭. মুসলিম হা/২৭৪৪; মিশকাত হা/২৩৫৮; ছহীহুল জামে' হা/৫০৩৩।
📄 ইলম অর্জন করা
নেক আমল করার জন্য ইলমের কোন বিকল্প নেই। কোন কাজ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে যেমন তা সুচারুরূপে করা যায় না তেমনি ইবাদত সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে সে ইবাদত যথার্থরূপে আদায় করা যায় না। সেজন্য আল্লাহ্র নির্দেশ - فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الله অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই' (মুহাম্মাদ ৪৭/১৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ 'প্রত্যেক মুসলিমের উপরে জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরয'। ১৪৮
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُوْنَ وَالَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ 'বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?' (যুমার ৩৯/৯)।
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّوْرُ 'বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হ'তে পারে? আলো ও অন্ধকার কি এক হ'তে পারে?' (রা'দ ১৩/১৬)।
ইলম না থাকলে জাহান্নামে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন আল্লাহ পবিত্র কুরআনে জাহান্নামীদের উক্তি উল্লেখ করেছেন এভাবে- وَقَالُوْا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ 'তারা আরও বলবে, যদি আমরা সেদিন (নবীদের কথা) শুনতাম এবং তা অনুধাবন করতাম, তাহ'লে আজ জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হ'তাম না' (মুলক ৬৭/১০)। সুতরাং আমল সম্পর্কে জানা ও তা না করার পরিণতি অবহিত হওয়ার জন্য ইলম অর্জন করা যরূরী। জ্ঞানার্জনের গুরুত্বের উপরে ভিত্তি করে ইমাম বুখারী (রহঃ) অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন- بَاب الْعِلْمُ قَبْلَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ 'কথা ও কর্মের পূর্বে জ্ঞানার্জন করা' অনুচ্ছেদ। ১৪৯
জ্ঞানার্জনের ফযীলত অত্যধিক। জ্ঞানের কারণেই আল্লাহ মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ বলেন, يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِيْنَ آمَنُوْا مِنْكُمْ وَالَّذِيْنَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ - 'তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহ যাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন তাদেরকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত' (মুজাদালাহ ৫৮/১১)।
ইলম অর্জনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ 'যে ব্যক্তি ইলম হাছিল করার উদ্দেশ্যে পথ চলবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দিবেন'। ১৫০ অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالْحِيْتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ 'যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করার উদ্দেশ্যে কোন পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তা'আলা তা দ্বারা তাকে জান্নাতের কোন একটি পথে পৌঁছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইলম অন্বেষণকারীর উপর খুশি হয়ে নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। এছাড়া আলেমদের জন্য আসমান ও যমীনের সকল অধিবাসী আল্লাহ্র নিকট দো'আ ও প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মধ্যে বসবাসকারী মাছও (তাদের জন্য দো'আ করে)'। ১৫১
অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, يَقُوْلُ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنَّهُ مَنْ سَلَكَ مَسْلَكًا فِي طَلَبِ الْعِلْمِ سَهَّلْتُ لَهُ طَرِيقَ الْجَنَّةِ وَمَنْ سَلَبْتُ كَرِيمَتَيْهِ أَثَبْتُهُ عَلَيْهِمَا الْجَنَّةَ وَقَصْدٌ فِي عِلْمٍ خَيْرٌ مِنْ فَضْلٍ فِي عِبَادَةٍ. আমার নিকট অহী প্রেরণ করেছেন এই মর্মে, যে ব্যক্তি ইলম হাছিলের লক্ষ্যে কোন পথ গ্রহণ করবে, তার জন্য আমি জান্নাতের পথ সহজ করে দেব এবং যার দু'টি সম্মানিত বস্তু (দু'চক্ষু) আমি ছিনিয়ে নিয়েছি (অন্ধ করেছি) তার বদলে তাকে আমি জান্নাত দান করব। আর ইবাদত অধিক করার তুলনায় অধিক ইলম অর্জন করা উত্তম'। ১৫২
অতএব প্রতিদিন অন্ততঃ ২-৫টি হাদীছ ও কুরআনের আয়াত অর্থসহ অধ্যয়ন করা এবং অন্যান্য ইসলামী বই অন্ততঃ ১০ পৃষ্ঠা পাঠ করার মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করা প্রত্যেকের জন্য যরূরী।
**টিকাঃ**
১৪৮. ইবনু মাজাহ হা/২২৪; মিশকাত হা/২১৮, সনদ হাসান।
১৪৯. বুখারী তরজমাতুল বাব নং-১০।
১৫০. তিরমিযী হা/২৬৪৬; ইবনু মাজাহ হা/২২৩; ছহীহুল জামে' হা/৬২৯৮।
১৫১. আবুদাউদ হা/৩৬৪১; মিশকাত হা/২১২; ছহীহুল জামে' হা/৬২৯৭।
১৫২. বায়হাক্বী, শু'আবুল ঈমান; মিশকাত হা/২৫৫; ছহীহুল জামে' হা/১৭২৭।