📄 কুরআন তেলাওয়াত করা
কুরআন তেলাওয়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর এই কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুফারিশ করবে। কুরআন তেলাওয়াতকারী ও যে তেলাওয়াত করে না তাদের সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন,
مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الأُتْرُجَّةِ، رِيْحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْو، وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ، رِيْحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ، لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مر
'কুরআন তেলাওয়াতকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত কমলার মত, যার ঘ্রাণও চমৎকার স্বাদও মজাদার। যে মুমিন কুরআন তেলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার কোন সুঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন তেলাওয়াত করে তার উদাহরণ রায়হানার মত, যার সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন তেলাওয়াত করে না তার উদাহরণ হানযালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নেই, স্বাদও তিক্ত'। ৩৫
তিনি আরো বলেন يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتَّلْ كَمَا ( ) كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا - কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কুরআন পাঠ করতে করতে উপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে-সুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার অবস্থানস্থল হবে'। ৩৬
إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ، অর্থাৎ তিনি বলেন, 'আল্লাহ তা'আলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন'। ৩৭ অর্থাৎ যারা এ কিতাবের অনুসারী ও এর উপরে আমলকারী হবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখেরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত এবং পরকালে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
কুরআন তেলাওয়াতের নেকী সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ) আরো বলেন, منْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةً وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ - যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য ছওয়াব রয়েছে। আর ছওয়াব হয় তার দশ গুণ। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ'। ৩৮
يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُوْلُ يَا رَبِّ حَلَّهِ فَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُوْلُ يَا رَبِّ زِدْهُ فَيُلْبَسُ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُوْلُ يَا رَبِّ ارْضَ عَنْهُ فَيَرْضَى عَنْهُ فَيُقَالُ لَهُ اقْرَأْ وَارْقَ وَتُرَادُ بِكُلِّ آيَةٍ حَسَنَةً -
কুরআন কিয়ামতের দিবসে হাযির হয়ে বলবে, হে আমার রব! একে (কুরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার পালনকর্তা! তার প্রতি সন্তুষ্ট হৌন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত তেলাওয়াত করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে ছওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে'। ৩৯
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ وَحَامل of ICT on الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِى فِيْهِ وَالْجَافِى عَنْهُ وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ 'বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহ্র প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত'। ৪০
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِيْنَ مِنَ النَّاسِ، قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللَّهِ مَنْ هُمْ، قَالَ هُمْ أَهْلُ الْقُرْآنِ أَهْلُ اللَّهُ وَخَاصَّتُهُ 'কতক লোক আল্লাহ্র পরিজন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! তারা কারা? তিনি বলেন, কুরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহ্র পরিজন ও তাঁর বিশেষ বান্দা'। ৪১
**টিকাঃ**
৩৫. বুখারী হা/৫৪২৭, ৭৫৬০; মুসলিম হা/৭৯৭; আবুদাউদ হা/৪৮২৯; মিশকাত হা/২ ১১৪।
৩৬. আবুদাউদ হা/১৪৬৪; মিশকাত হা/২ ১৩৪, সনদ হাসান।
৩৭. মুসলিম হা/৭১৮; ইবনু মাজাহ হা/২১৮; মিশকাত হা/২ ১১৫।
৩৮. তিরমিযী ২/২৯১০; মিশকাত হা/২১৩৭; ছহীহাহ হা/৩৩২৭; ছহীহুল জামে' হা/৬৪৬৯।
৩৯. তিরমিযী হা/২৯১৫; ছহীহুল জামে' হা/৮০৩০; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪২৫।
৪০. আবুদাউদ হা/৪৮৪৩; মিশকাত হা/৪৯৭২; ছহীহুল জামে' হা/২১৯৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৮।
৪১. ইবনু মাজাহ হা/২১৫; ছহীহুল জামে' হা/২১৬৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪৩২।
📄 ইশরাক্বের ছালাত আদায় করা
ইশরাক, চাশত ও আওয়াবীন একই ছালাত, যা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। ‘ইশরাকু’ অর্থ চমকিত হওয়া। ‘যুহা’ অর্থ সূর্য গরম হওয়া। এই ছালাত সূর্যোদয়ের পরপরই পড়লে একে ‘ছালাতুল ইশরাকু’ বলা হয় এবং দ্বিপ্রহরের পূর্বে পড়লে তাকে ‘ছালাতুয যোহা’ বা চাশতের ছালাত বলা হয়। ৪২ আর দুপুরের পূর্বের এই ছালাতকেই ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলে। ৪৩
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ فَعَدَ يَذْكُرُ الله حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ - ‘যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতে আদায় করে, অতঃপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহ্র যিকরে বসে থাকে, তারপর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে, তার জন্য পূর্ণ একটি হজ্জ ও ওমরাহ্ নেকী রয়েছে’। ৪৪
অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, فِي الإِنْسَانِ ثَلاثُمِائَةٍ وَسِتُّوْنَ مَفْصِلاً فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ عَنْ كُلِّ مَفْصِلٍ مِنْهُ بِصَدَقَةِ. قَالُوْا وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ النُّخَاعَةُ فِي الْمَسْجِدِ تَدْفِنُهَا وَالشَّيْءُ تُنَجِّيْهِ عَنِ الطَّرِيقِ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَرَكْعَنَا الضُّحَى تُجْزِئُكَ -
‘মানুষের শরীরে তিনশত ষাটটি জোড়া আছে। প্রত্যেক লোকের উচিত প্রত্যেকটি জোড়ার জন্যে ছাদাক্বাহ করা। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কার সাধ্য আছে এ কাজ করার? তিনি বললেন, মসজিদে পড়ে থাকা থুথু মুছে ফেলাও একটি ছাদাক্বাহ। পথ থেকে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়াও একটি ছাদাক্বাহ। তিনশত ষাট জোড়ার ছাদাক্বাহ দেবার মতো কোন জিনিস না পেলে যুহার দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নেয়া তোমার জন্যে যথেষ্ট’। ৪৫
**টিকাঃ**
৪২. মির‘আত শরহ মিশকাত ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ, ৪/৩৪৪-৫৮।
৪৩. মুসলিম, মিশকাত হা/১৩১২; মির‘আত ৪/৩৫১।
৪৪. তিরমিযী হা/৫৮৬, মিশকাত হা/৯৭১ ‘ছালাতের পরে যিকর’ অনুচ্ছেদ।
৪৫. আবুদাউদ, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩১৫, ১৩১১ ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ।
📄 যোহর ছালাত আদায় করা
সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেই যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং বস্তুর নিজস্ব ছায়ার এক গুণ হ'লে শেষ হয়। ৪৬
ক. ফরযের পূর্বের ও পরের সুন্নাত ছালাত আদায় করা: যোহরের ফরযের পূর্বে দু'রাক'আত ৪৭ বা চার রাক'আত সুন্নাত ছালাত আদায় করা যায়। ৪৮ রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعًا بَعْدَهَا لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ 'যে ব্যক্তি যোহরের ফরয ছালাতের পূর্বে চার রাক'আত এবং ফরযের পরে চার রাক'আত ছালাত আদায় করবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না'। ৪৯ অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعِ بَعْدَهَا حُرُمَ عَلَى النَّارِ 'যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে যোহরের পূর্বে চার রাক'আত এবং পরে চার রাক'আত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হবে'। ৫০
খ. যোহরের ফরয : যোহর ছালাত আদায়ের ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ নির্দেশ, أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا - 'সূর্য অপরাহ্নে ঢলে পড়ার পর থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত তুমি ছালাত কায়েম কর এবং ফজরের ছালাত আদায় কর। নিশ্চয়ই ফজরের ছালাত (রাত্রি ও দিবসের ফেরেশতাগণের মাধ্যমে) সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়' (বানী ইসরাঈল ১৭/৭৮)। তিনি আরো বলেন, وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ 'এবং অপরাহ্নে ও যোহরে। বস্তুতঃ তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে' (রূম ৩০/১৮)।
**টিকাঃ**
৪৬. বুখারী হা/৫৪১; মুসলিম হা/৬১২; মিশকাত হা/৫৮১, 'ছালাতের ওয়াক্তসমূহ' অনুচ্ছেদ; আবুদাউদ হা/৩৯৮; তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৮৩।
৪৭. বুখারী হা/১১৬৫, ১১৮০; তিরমিযী হা/৪২৫, ৪৩৩; মিশকাত হা/১১৬০।
৪৮. তিরমিযী হা/৪১৪; ইবনু মাজাহ হা/১১৪০, সনদ ছহীহ।
৪৯. মুসনাদ আহমাদ হা/২৬৮০৭; নাসাঈ হা/১৮১৭, সনদ ছহীহ।
৫০. আবুদাউদ হা/১২৬৯; ইবনু মাজাহ হা/৪২৮; নাসাঈ হা/১৮১৬; মিশকাত হা/১১৬৭।
📄 আছর ছালাত আদায় করা
বস্তুর মূল ছায়ার এক গুণ হওয়ার পর হ'তে আছরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং দু'গুণ হ'লে শেষ হয়। তবে সূর্যাস্তের প্রাক্কালের রক্তিম সময় পর্যন্ত আছর পড়া জায়েয আছে। ৫১
ক. ফরযের পূর্বে সুন্নাত ছালাত আদায় করা : আছরের পূর্বে দুই বা চার রাক'আত সুন্নাত ছালাত আদায় করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, يُصَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعَ رَكَعَاتِ, ‘নবী করীম (ছাঃ) আছরের (ফরয ছালাতের) পূর্বে চার রাক'আত ছালাত আদায় করতেন’। ৫২ অন্য হাদীছে এসেছে, كان - يُصَلِّى قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ - ‘তিনি আছরের (ফরয ছালাতের) পূর্বে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতেন’। ৫৩
খ. আছরের ফরয ছালাত : আছরের ছালাত আদায়ের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى وَقُوْمُوا لِلَّهِ قَانِتِين 'তোমরা ছালাত সমূহ ও মধ্যবর্তী ছালাতের ব্যাপারে যত্নবান হও এবং আল্লাহ্ উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও' (বাক্বারাহ ২/২৩৮)। মধ্যবর্তী ছালাত বলতে আছর ছালাতকে বুঝানো হয়েছে। ৫৪
আছর ছালাত ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গোনাহের কাজ, যার ফলে আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, - مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ ‘যে ব্যক্তি আছরের ছালাত ছেড়ে দেয়, তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়'। ৫৫ অন্য বর্ণনায় আছে, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আছর ছালাত পরিত্যাগ করে তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়’। ৫৬ অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا
'যে ব্যক্তির আছরের ছালাত ছুটে গেল, তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ যেন ছিনতাই হয়ে গেল'। ৫৭
যোহর-আছর জমা করা: সফরে থাকা অবস্থায় যোহর-আছর ৪ রাক'আত ও মাগরিব-এশা ৫ রাক'আত পৃথক এক্বামতের মাধ্যমে সুন্নাত ও নফল ছাড়াই জমা ও কুছর করে তাক্বদীম ও তাখীর দু'ভাবে পড়ার নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ শেষের ওয়াক্তের ছালাত আগের ওয়াক্তের সাথে 'তাক্বদীম' করে অথবা আগের ওয়াক্তের ছালাত শেষের ওয়াক্তের সাথে 'তাখীর' করে একত্রে পড়বে। ৫৮
ভীতি ও ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াও অন্য কোন বিশেষ শারঈ ওযর বশতঃ মুক্বীম অবস্থায়ও দু'ওয়াক্তের ছালাত কুছর ও সুন্নাত ছাড়াই একত্রে জমা করে পড়া যায়। ৫৯ যেমন যোহর ও আছর পৃথক এক্বামতের মাধ্যমে ৮ এবং মাগরিব ও এশা অনুরূপভাবে ৭ রাক'আত। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ'ল, এটা কেন? তিনি বললেন, যাতে উম্মতের কষ্ট না হয়'। ৬০
ইস্তেহাযা বা প্রদর রোগগ্রস্ত মহিলা ও বহুমূত্রের রোগী বা অন্যান্য কঠিন রোগী, বাবুর্চী এবং কর্মব্যস্ত ভাই-বোনেরা মাঝে-মধ্যে বিশেষ ওযর বশতঃ সাময়িকভাবে এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। ৬১
হজ্জের সফরে আরাফাতের ময়দানে কোনরূপ সুন্নাত-নফল ছাড়াই যোহর ও আছর একত্রে যোহরের আউয়াল ওয়াক্তে পৃথক এক্বামতে কুছর ও 'জমা তাক্বদীম' করে এবং মুযদালিফায় মাগরিব ও এশা একত্রে এশার সময় পৃথক এক্বামতে 'জমা তাখীর' করে জামা'আতের সাথে অথবা একাকী পড়তে হয়। ৬২ সফরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সুন্নাত সমূহ পড়তেন না। ৬৩ অবশ্য বিতর, তাহাজ্জুদ ও ফজরের দু'রাক'আত সুন্নাত ছাড়তেন না। ৬৪
**টিকাঃ**
৫১. আবুদাউদ হা/৩৯৩; তিরমিযী হা/১৪৯; মিশকাত হা/৫৮৩; ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ হা/৩২৫ ‘পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের সময়’ অনুচ্ছেদ; ছহীহুল জামে' হা/১৪০২।
৫২. তিরমিযী হা/৪২৯, ১১৬১; মিশকাত হা/১১৭১-৭২, সনদ হাসান।
৫৩. আবু দাউদ হা/১২৭২; মিশকাত হা/১১৭২, সনদ হাসান।
৫৪. বুখারী হা/২৯৩১, ৪৫৩৩; মুসলিম হা/৬২৯; আবুদাউদ হা/৪১০-১১; তিরমিযী হা/২৯৮২।
৫৫. বুখারী হা/৫৫৩, ৫৯৪; নাসাঈ হা/৪৭৪; মিশকাত হা/৫৯৫।
৫৬. ছহীহ আত-তারগীব হা/৪৭৯।
৫৭. নাসাঈ হা/৪৭৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/৪৮১।
৫৮. বুখারী, মিশকাত হা/১৩৩৯; আবুদাউদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৪৪।
৫৯. ফিকহুস সুন্নাহ ১/২১৫।
৬০. (أَرَادَ أَنْ لَا يُخْرِجَ أَمَّنَهُ) বুখারী হা/১১৭৪ 'তাহাজ্জুদ' অধ্যায়-১৯, অনুচ্ছেদ-৩০; মুসলিম হা/১৬৩৩-৩৪; নায়লুল আওত্বার ৪/১৩৬; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২১৮।
৬১. নায়লুল আওতার ৪/১৩৬-৪০; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২১৭-১৮।
৬২. বুখারী, মিশকাত হা/২৬১৭, ২৬০৭ 'হজ্জ' অধ্যায়, 'আরাফা ও মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন' অনুচ্ছেদ-৫; আহমাদ, মুসলিম, নাসাঈ, নায়ল ৪/১৪০।
৬৩. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৩৮ 'সফরের ছালাত' অনুচ্ছেদ-৪১; ফিকহুস সুন্নাহ ১/২১৬।
৬৪. ইবনুল ক্বাইয়িম, যা-দুল মা'আদ ৩/৪৫৭ পৃঃ।