📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 ফজরের ছালাত আদায় করা

📄 ফজরের ছালাত আদায় করা


ক. ফজরের সুন্নাত : ফজরের সুন্নাত ছালাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফজরের ফরযের পূর্বে এ ছালাত আদায় করতে হয়। ফরযের পূর্বে সময় না পেলে ফরযের পরেও তা আদায় করা যাবে। ২৭ এ ছালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, - رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا ফজরের দু'রাক'আত সুন্নাত ছালাত দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যকার সবকিছু থেকে উত্তম'। ২৬ (টীকায় ২৯)

খ. ফরয ছালাত: ফজরের ফরয ছালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। আল্লাহ বলেন, أقم الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا - ‘সূর্য অপরাহ্নে ঢলে পড়ার পর থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত তুমি ছালাত কায়েম কর এবং ফজরের ছালাত আদায় কর। নিশ্চয়ই ফজরের ছালাত (রাত্রি ও দিবসের ফেরেশতাগণের মাধ্যমে) সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়' (ইসরা ১৭/৭৮)। তিনি আরো বলেন, وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا - ‘এবং তোমার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে' (ত্ব-হা ২০/১৩০)।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلَا يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ مِنْ ذمته بشَيْء 'যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত আদায় করল, সে আল্লাহ্র যিম্মাদারী লাভ করল। অতএব হে আদম সন্তান! লক্ষ্য রাখ, আল্লাহ যেন অবশ্যই তোমাদের কাছে তাঁর যিম্মাদারীর কিছু দাবী না করেন'। ২৭ তিনি আরো বলেন, - مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ 'যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা ছালাত আদায় করল, সে জান্নাত প্রবেশ করবে'। ৩০ তিনি আরো বলেন, لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا - ‘ঐ ব্যক্তি কখনো জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বের এবং সূর্যাস্তের পূর্বের ছালাত অর্থাৎ ফজর ও আছরের ছালাত আদায় করে'। ৩১
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমাদের নিকট দিনেরাতে ফেরেশতাগণ পালাক্রমে যাতায়াত করতে থাকেন। আর ফজর ও আছরের ছালাতে তাঁরা একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বে (আকাশে) চলে যান। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে ভালভাবে অবগত, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? তাঁরা বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে এসেছি, তখন তারা ছালাতরত ছিল। আর যখন আমরা তাদের নিকট গিয়েছিলাম, তখনও তারা ছালাতরত ছিল'। ৩২
অন্য বর্ণনায় আছে, 'ফজর ও আছরের ছালাতে রাত্রি ও দিনের ফেরেশতা একত্রিত হন। ফজরের সময় একত্রিত হয়ে রাতের ফেরেশতা উঠে যান এবং দিনের ফেরেশতা থেকে যান। অনুরূপ আছরের ছালাতে একত্রিত হয়ে দিনের ফেরেশতা উঠে যান এবং রাতের ফেরেশতা থেকে যান। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এলে? তাঁরা বলেন, আমরা তাদের কাছে গেলাম, তখন তারা ছালাত পড়ছিল এবং তাদের কাছ থেকে এলাম, তখনও তারা ছালাত পড়ছিল, সুতরাং ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে মাফ করে দিন'। ৩৩
জারীর বিন আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ) বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট পূর্ণিমার রাতে বসেছিলাম। তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, নিঃসন্দেহে তোমরা (পরকালে) তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক এইভাবে দেখতে পাবে, যেভাবে তোমরা এই পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (নিয়মিত) ছালাত আদায়ে পরাহত না হ'তে সক্ষম হও (অর্থাৎ এ ছালাত ছুটে না যায়), তাহ'লে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন কর'। ৩৪

**টিকাঃ**
২৭. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/১০৪৩; আবুদাউদ হা/১২৬৫-৬৭; মিশকাত হা/১০৪৪ 'ছালাতের নিষিদ্ধ সময় সমূহ' অনুচ্ছেদ।
২৬ (২৯). মুসলিম হা/৭২৫; তিরমিযী হা/৪১৬; মিশকাত হা/১১৬৪।
২৭ (পুনরাবৃত্ত). মুসলিম হা/৬৫৭; তিরমিযী হা/২২২; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৪৫।
৩০. বুখারী হা/৫৭৪, মুসলিম হা/৬৩৫ 'ফজর ও আছর ছালাতের ফযীলত' অনুচ্ছেদ।
৩১. মুসলিম হা/৬৩৪; আবুদাউদ হা/৪২৭; মিশকাত হা/৬২৪।
৩২. বুখারী হা/৫৫৫; মুসলিম হা/১৪৬৪; নাসাঈ হা/৪৮৫।
৩৩. আহমাদ হা/৯১৪০; ইবনে খুযাইমা ১/১৬৫।
৩৪. বুখারী হা/৫৫৪; মুসলিম হা/১৪৬৬।

📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 কুরআন তেলাওয়াত করা

📄 কুরআন তেলাওয়াত করা


কুরআন তেলাওয়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর এই কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুফারিশ করবে। কুরআন তেলাওয়াতকারী ও যে তেলাওয়াত করে না তাদের সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন,
مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الأُتْرُجَّةِ، رِيْحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ لَا رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْو، وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ، رِيْحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ، لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مر
'কুরআন তেলাওয়াতকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত কমলার মত, যার ঘ্রাণও চমৎকার স্বাদও মজাদার। যে মুমিন কুরআন তেলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার কোন সুঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন তেলাওয়াত করে তার উদাহরণ রায়হানার মত, যার সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন তেলাওয়াত করে না তার উদাহরণ হানযালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নেই, স্বাদও তিক্ত'। ৩৫
তিনি আরো বলেন يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتَّلْ كَمَا ( ) كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا - কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কুরআন পাঠ করতে করতে উপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে-সুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার অবস্থানস্থল হবে'। ৩৬
إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ، অর্থাৎ তিনি বলেন, 'আল্লাহ তা'আলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন'। ৩৭ অর্থাৎ যারা এ কিতাবের অনুসারী ও এর উপরে আমলকারী হবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখেরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত এবং পরকালে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
কুরআন তেলাওয়াতের নেকী সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ) আরো বলেন, منْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةً وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ - যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য ছওয়াব রয়েছে। আর ছওয়াব হয় তার দশ গুণ। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ'। ৩৮
يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُوْلُ يَا رَبِّ حَلَّهِ فَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُوْلُ يَا رَبِّ زِدْهُ فَيُلْبَسُ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُوْلُ يَا رَبِّ ارْضَ عَنْهُ فَيَرْضَى عَنْهُ فَيُقَالُ لَهُ اقْرَأْ وَارْقَ وَتُرَادُ بِكُلِّ آيَةٍ حَسَنَةً -
কুরআন কিয়ামতের দিবসে হাযির হয়ে বলবে, হে আমার রব! একে (কুরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার পালনকর্তা! তার প্রতি সন্তুষ্ট হৌন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত তেলাওয়াত করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে ছওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে'। ৩৯
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ وَحَامل of ICT on الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِى فِيْهِ وَالْجَافِى عَنْهُ وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ 'বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহ্র প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত'। ৪০
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِيْنَ مِنَ النَّاسِ، قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللَّهِ مَنْ هُمْ، قَالَ هُمْ أَهْلُ الْقُرْآنِ أَهْلُ اللَّهُ وَخَاصَّتُهُ 'কতক লোক আল্লাহ্র পরিজন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! তারা কারা? তিনি বলেন, কুরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহ্র পরিজন ও তাঁর বিশেষ বান্দা'। ৪১

**টিকাঃ**
৩৫. বুখারী হা/৫৪২৭, ৭৫৬০; মুসলিম হা/৭৯৭; আবুদাউদ হা/৪৮২৯; মিশকাত হা/২ ১১৪।
৩৬. আবুদাউদ হা/১৪৬৪; মিশকাত হা/২ ১৩৪, সনদ হাসান।
৩৭. মুসলিম হা/৭১৮; ইবনু মাজাহ হা/২১৮; মিশকাত হা/২ ১১৫।
৩৮. তিরমিযী ২/২৯১০; মিশকাত হা/২১৩৭; ছহীহাহ হা/৩৩২৭; ছহীহুল জামে' হা/৬৪৬৯।
৩৯. তিরমিযী হা/২৯১৫; ছহীহুল জামে' হা/৮০৩০; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪২৫।
৪০. আবুদাউদ হা/৪৮৪৩; মিশকাত হা/৪৯৭২; ছহীহুল জামে' হা/২১৯৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৮।
৪১. ইবনু মাজাহ হা/২১৫; ছহীহুল জামে' হা/২১৬৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৪৩২।

📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 ইশরাক্বের ছালাত আদায় করা

📄 ইশরাক্বের ছালাত আদায় করা


ইশরাক, চাশত ও আওয়াবীন একই ছালাত, যা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। ‘ইশরাকু’ অর্থ চমকিত হওয়া। ‘যুহা’ অর্থ সূর্য গরম হওয়া। এই ছালাত সূর্যোদয়ের পরপরই পড়লে একে ‘ছালাতুল ইশরাকু’ বলা হয় এবং দ্বিপ্রহরের পূর্বে পড়লে তাকে ‘ছালাতুয যোহা’ বা চাশতের ছালাত বলা হয়। ৪২ আর দুপুরের পূর্বের এই ছালাতকেই ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলে। ৪৩
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ فَعَدَ يَذْكُرُ الله حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ - ‘যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতে আদায় করে, অতঃপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহ্র যিকরে বসে থাকে, তারপর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে, তার জন্য পূর্ণ একটি হজ্জ ও ওমরাহ্ নেকী রয়েছে’। ৪৪
অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, فِي الإِنْسَانِ ثَلاثُمِائَةٍ وَسِتُّوْنَ مَفْصِلاً فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ عَنْ كُلِّ مَفْصِلٍ مِنْهُ بِصَدَقَةِ. قَالُوْا وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ النُّخَاعَةُ فِي الْمَسْجِدِ تَدْفِنُهَا وَالشَّيْءُ تُنَجِّيْهِ عَنِ الطَّرِيقِ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَرَكْعَنَا الضُّحَى تُجْزِئُكَ -
‘মানুষের শরীরে তিনশত ষাটটি জোড়া আছে। প্রত্যেক লোকের উচিত প্রত্যেকটি জোড়ার জন্যে ছাদাক্বাহ করা। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কার সাধ্য আছে এ কাজ করার? তিনি বললেন, মসজিদে পড়ে থাকা থুথু মুছে ফেলাও একটি ছাদাক্বাহ। পথ থেকে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়াও একটি ছাদাক্বাহ। তিনশত ষাট জোড়ার ছাদাক্বাহ দেবার মতো কোন জিনিস না পেলে যুহার দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নেয়া তোমার জন্যে যথেষ্ট’। ৪৫

**টিকাঃ**
৪২. মির‘আত শরহ মিশকাত ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ, ৪/৩৪৪-৫৮।
৪৩. মুসলিম, মিশকাত হা/১৩১২; মির‘আত ৪/৩৫১।
৪৪. তিরমিযী হা/৫৮৬, মিশকাত হা/৯৭১ ‘ছালাতের পরে যিকর’ অনুচ্ছেদ।
৪৫. আবুদাউদ, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩১৫, ১৩১১ ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ।

📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 যোহর ছালাত আদায় করা

📄 যোহর ছালাত আদায় করা


সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেই যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং বস্তুর নিজস্ব ছায়ার এক গুণ হ'লে শেষ হয়। ৪৬
ক. ফরযের পূর্বের ও পরের সুন্নাত ছালাত আদায় করা: যোহরের ফরযের পূর্বে দু'রাক'আত ৪৭ বা চার রাক'আত সুন্নাত ছালাত আদায় করা যায়। ৪৮ রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعًا بَعْدَهَا لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ 'যে ব্যক্তি যোহরের ফরয ছালাতের পূর্বে চার রাক'আত এবং ফরযের পরে চার রাক'আত ছালাত আদায় করবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না'। ৪৯ অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعِ بَعْدَهَا حُرُمَ عَلَى النَّارِ 'যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে যোহরের পূর্বে চার রাক'আত এবং পরে চার রাক'আত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হবে'। ৫০
খ. যোহরের ফরয : যোহর ছালাত আদায়ের ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ নির্দেশ, أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا - 'সূর্য অপরাহ্নে ঢলে পড়ার পর থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত তুমি ছালাত কায়েম কর এবং ফজরের ছালাত আদায় কর। নিশ্চয়ই ফজরের ছালাত (রাত্রি ও দিবসের ফেরেশতাগণের মাধ্যমে) সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়' (বানী ইসরাঈল ১৭/৭৮)। তিনি আরো বলেন, وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ 'এবং অপরাহ্নে ও যোহরে। বস্তুতঃ তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে' (রূম ৩০/১৮)।

**টিকাঃ**
৪৬. বুখারী হা/৫৪১; মুসলিম হা/৬১২; মিশকাত হা/৫৮১, 'ছালাতের ওয়াক্তসমূহ' অনুচ্ছেদ; আবুদাউদ হা/৩৯৮; তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৮৩।
৪৭. বুখারী হা/১১৬৫, ১১৮০; তিরমিযী হা/৪২৫, ৪৩৩; মিশকাত হা/১১৬০।
৪৮. তিরমিযী হা/৪১৪; ইবনু মাজাহ হা/১১৪০, সনদ ছহীহ।
৪৯. মুসনাদ আহমাদ হা/২৬৮০৭; নাসাঈ হা/১৮১৭, সনদ ছহীহ।
৫০. আবুদাউদ হা/১২৬৯; ইবনু মাজাহ হা/৪২৮; নাসাঈ হা/১৮১৬; মিশকাত হা/১১৬৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00