📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর করণীয়

📄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর করণীয়


ক. দো'আ পাঠ : ঘুম থেকে উঠে নিম্নোক্ত দো'আ পাঠ করবে- الْحَمْدُ لله ،الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ 'আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আহইয়া-না বা'দা মা আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর' (সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু দানের পর জীবিত করলেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই হবে আমাদের পুনরুত্থান)। ১

খ. পবিত্রতা অর্জন : ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দু'হাত তিনবার ধৌত করা সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاثًا فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ 'তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হ'লে সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত (পানির) পাত্রে না ঢোকায়। কেননা সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় অবস্থান করছিল'। ২ এ বিধান কেবল পাত্রস্থ পানিতে হাত প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ট্যাপে, টিউবওয়েলে বা বড় কোন হাউজ ও পুকুরের ক্ষেত্রে নয়। অতঃপর উত্তমরূপে ওযু করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ - مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ 'যে ব্যক্তি ওযু করে এবং তা উত্তমরূপে করে, তার দেহ থেকে সমস্ত পাপ ঝরে যায়, এমনকি তার নখের ভিতর থেকেও (গুনাহ) বের হয়ে যায়'। ৩

গ. তাহিয়াতুল ওযু: ওযু করার পর দু'রাক'আত ছালাত আদায় করা মুস্তাহাব। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوْءَهُ ثُمَّ يَقُوْمُ فَيُصَلِّى رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلُ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ - মুসলিম যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে দাঁড়িয়ে একাগ্রতার সাথে দুই রাক'আত ছালাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়'। ৫
এ ছালাতের ফযীলত অত্যধিক। যেমন রাসূল (ছাঃ) একদা ফজর ছালাতের পর বেলাল (রাঃ)-কে বললেন, يَا بِلالُ، حَدَّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الإِسْلامِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ دَفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَيَّ فِي الجَنَّةِ، قَالَ : مَا عَمِلْتُ عَمَلاً أَرْجَى عِنْدِي مِنْ أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ طُهُورًا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إِلَّا صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُوْرِ مَا كُتِبَ لِي أَنْ أصَلِّي -
'হে বেলাল! বল দেখি তুমি মুসলমান হওয়ার পর এমন কি আমল কর, যার নেকীর আশা তুমি অধিক পরিমাণে কর? কেননা আমি জান্নাতে তোমার জুতার শব্দ আমার সম্মুখে শুনতে পাচ্ছি। তখন বেলাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি এছাড়া কোন আমল করি না যা আমার নিকট অধিক নেকীর কারণ হ'তে পারে। আমি রাতে বা দিনে যখনই ওযু করি তখনই সে ওযু দ্বারা (দু'রাক'আত) ছালাত আদায় করি, যা আদায় করার তাওফীক আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন'। ৬
অন্য বর্ণনায় এসেছে, বুরায়দা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) সকালে উঠে বেলাল (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, يَا بِلالُ بِمَ سَبَقْتَنِي إِلَى الْجَنَّةِ، مَا دَخَلْتُ الْجَنَّةَ قَطُّ إِلَّا سَمِعْتُ خَشْخَشَتَكَ أَمَامِي قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَذَّنْتُ قَطُّ إِلَّا صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَمَا أَصَابَنِي حَدَتْ قَطُّ إِلَّا تَوَضَّأْتُ عِنْدَهَا وَرَأَيْتُ أَنَّ لِلَّهِ عَلَيَّ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِمَا -
'হে বেলাল! কি কাজের বিনিময়ে তুমি আমার পূর্বে জান্নাতে পৌঁছলে? আমি যখনই জান্নাতে প্রবেশ করি, তখনই আমার সম্মুখে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পাই। বেলাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি যখনই আযান দিয়েছি তখনই দু'রাক'আত ছালাত আদায় করেছি। আর যখনই আমার ওযূ ভেঙ্গেছে তখনই আমি ওযু করেছি এবং মনে করেছি আল্লাহ্ উদ্দেশ্যে আমাকে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, এই দুই কাজের দরুনই তুমি জান্নাতে আমার আগে আগে জুতা পায়ে দিয়ে চল'। ৭

**টিকাঃ**
১. বুখারী হা/৬৩১৫, ৬৩২৪; মিশকাত হা/২৩৮২, ২৩৮৪, 'দো'আ সমূহ' অধ্যায়।
২. মুসলিম হা/২৭৮; আবুদাউদ হা/১০৫; মিশকাত হা/৩৯১।
৩. মুসলিম হা/২৪৫; মিশকাত হা/২৮৪।
৪. নববী, আল-মাজমূ' ৩/৫৪৫; ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৩৪৫।
৫. মুসলিম হা/২৩৪; আবু দাউদ হা/৯০৬; তিরমিযী হা/১০৫৯।
৬. বুখারী হা/১১৪৯; মুসলিম হা/২৪৫৮; মিশকাত হা/১৩২২।
৭. তিরমিযী হা/৩৬৮৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/২০১; মিশকাত হা/১৩২৬।

📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 আযান ও আযানের উত্তর দেওয়া

📄 আযান ও আযানের উত্তর দেওয়া


দিনের বেলায় তিন ওয়াক্ত ছালাত রয়েছে। ছুবহে ছাদিক হ'লে ফজর, দ্বিপ্রহরের পরে সূর্য ঢলে পড়লে যোহর এবং কোন বস্তুর ছায়া একগুণ হ'লে আছরের ওয়াক্ত শুরু হয়। এ সময় আযান দেওয়া অনেক ছওয়াবের কাজ। الْمُؤَذِّنُوْنَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْنَاقًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ 'কিয়ামতের দিন মুওয়াযযিনগণ লোকেদের মাঝে সুদীর্ঘ ঘাড় বিশিষ্ট হবে'। ৮ অন্যত্র তিনি বলেন, الْمُؤَذِّنُوْنَ أُمَنَاءُ الْمُسْلِمِيْنَ عَلَى صَلَاتِهِمْ وَحَاجَتِهِمْ، 'মুওয়াযযিনরা মুসলমানদের ছালাত ও তাদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে হেফাযতকারী'। অর্থাৎ ইফতার ও সাহারীর ক্ষেত্রে হেফাযতকারী'। ৯

ক. আযানের উত্তর দেওয়া ও দো'আ পড়া : আযানের উত্তর দেওয়া অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! মুওয়াযযিন তো আমাদের উপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذَّنَ فَقُوْلُوْا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ 'যখন তোমরা আযান শুনতে পাবে, তখন মুওয়াযযিন যা বলে তোমরাও তাই বল'। ১২ তিনি আরো বলেন, قُلْ كَمَا يَقُوْلُوْنَ فَإِذَا انْتَهَيْتَ فَسَلْ تُعْطَهْ 'মুওয়াযযিনরা যেরূপ বলে থাকে তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর তুমি তা শেষ করে (আল্লাহ্র নিকট) দো'আ করবে। তখন তোমাকে তা-ই দেয়া হবে' (অর্থাৎ তোমার দে'আ কবুল হবে)। ১৩

খ. আযান ও ইক্বামতের মাঝে দো'আ করা : আযান ও ইক্বামতের মধ্যে দো'আ করলে তা কবুল হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, الدُّعَاءُ لَا يُرَدُّ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالإِقَامَةِ 'আযান ও ইক্বামতের মাঝে দো'আ প্রত্যাখ্যাত হয় না'। ১৪ তিনি আরো বলেন, الدُّعَاءُ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ مُسْتَجَابُ فَادْعُوا 'আযান ও ইক্বামতের মাঝে দো'আ কবুল হয়, সুতরাং তোমরা দো'আ কর'। ১৫ তিনি আরো বলেন,
إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُوْلُوْا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوْا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللهَ لَى الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لا تنبغى إلا لعبد منْ عِبَادِ اللهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ -
'যখন তোমরা মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে তখন সে যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রূপ বলবে। অতঃপর তোমরা (আযান শেষে) আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহ্‌র নিকট আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা কর। আর ওসীলা হ'ল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান। আল্লাহ্‌র একজন বিশিষ্ট বান্দা ঐ স্থানের অধিকারী হবেন এবং আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতঃপর যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলা চাইবে তাঁর জন্য শাফা'আত করা আমার উপর ওয়াজিব হবে'। ১৬
মَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَة آت مُحَمَّدًانِ الْوَسيلَةَ وَالْفَضيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُوْدًانِ الَّذِي وَعَدْتَهُ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ 'যে ব্যক্তি আযান শুনে দো'আ করে যে, হে আল্লাহ! (তাওহীদের) এই পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত ছালাতের তুমি প্রভু। মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে তুমি দান কর 'ওসীলা' (নামক জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান) ও মর্যাদা এবং পৌঁছে দাও তাঁকে (শাফা'আতের) প্রশংসিত স্থান 'মাক্কামে মাহমুদে' যার ওয়াদা তুমি তাঁকে করেছ'। ১৭
তিনি আরো বলেন, 'যে ব্যক্তি মুওয়াযযিনকে বলতে শুনে বলে, أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا وَبِالإِسْلَامِ دِيْنَا 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত মা'বুদ নেই এবং তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহকে রব, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে রাসূল ও ইসলামকে দ্বীন মেনে নিয়েছি', তার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে'। ১৮

গ. আযান ও ইক্বামতের মাঝে ছালাত আদায় করা : আযান ও ইক্বামতের মাঝে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করা সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ، بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ، ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ، আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ে ছালাত রয়েছে। প্রত্যেক আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ে ছালাত রয়েছে। তৃতীয়বারে বললেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে'। ১৯

**টিকাঃ**
৮. মুসলিম হা/৩৮৭; ইবনু মাজাহ হা/৭২৫; মিশকাত হা/৬৫৪।
৯. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/২০৩১; ছহীহুল জামে' হা/৬৬৪৬।
১০. তাবারাণী, আল-মু'জামুল কাবীর; ছহীহুল জামে' হা/৬৬৪৭।
১১. (এই টিকানম্বরটি টেক্সটের মধ্যে পাওয়া যায়নি, কিন্তু ধারাবাহিকতার জন্য রাখা হলো)
১২. মুসলিম হা/৩৮৪; আবুদাউদ হা/৫২৩; মিশকাত হা/৬৫৭।
১৩. আবুদাউদ হা/৫২৪; মিশকাত হা/৬৭৩; ছহীহুল জামে' হা/৪৪০৩।
১৪. আবুদাউদ হা/৫৩৪; তিরমিযী হা/২১২; মিশকাত হা/৬৭১; ইরওয়া হা/২৪৪।
১৫. মুসনাদ আবু ইয়া'লা, ছহীহুল জামে' হা/৩৪০৫।
১৬. মুসলিম হা/৩৮৪; তিরমিযী হা/৩৬১৪; মিশকাত হা/৫৫৭।
১৭. বুখারী হা/৬১৪; আবুদাউদ হা/৫২৯; মিশকাত হা/৬৫৯, 'কিয়ামতের অবস্থা' অধ্যায়, 'হাউয ও শাফা'আত' অনুচ্ছেদ।
১৮. মুসলিম হা/৩৮৪; আবুদাউদ হা/৫২৫; ইবনু মাজাহ হা/৫২১।
১৯. বুখারী হা/৬২৭; মুসলিম হা/৮৩৮; আবুদাউদ হা/১২৮৩; মিশকাত হা/৬৬২।

📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 মসজিদে গমন

📄 মসজিদে গমন


উত্তমরূপে ওযু করে মসজিদ অভিমুখে গমন করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ لِيَقْضِيَ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ كَانَتْ خُطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً .وَالْأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً 'যে ব্যক্তি বাড়ী থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযু করে) কোন ফরয ছালাত আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহ্ কোন ঘরে (কোন মসজিদে) যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়'। ২০

ক. মসজিদে গমনপথে দো'আ : রাসূল (ছাঃ) মসজিদে যাওয়ার পথে দো'আ পড়তেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, فَخَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِي نُورًا وَمِنْ أَمَامِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، اللَّهُمَّ أَعْطِنِي نُورًا- 'অতঃপর তিনি ছালাতের জন্য বের হ'লেন। তখন তিনি এ দো'আ করছিলেন, 'হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার যবানে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার শ্রবণশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ! আমাকে নূর বা আলো দান করো'। ২১

খ. মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দো'আ : মসজিদে প্রবেশ কালে দো'আ পড়া সুন্নাত। মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রথমে ডান পা রেখে বলবে, اللَّهُمَّ اِفْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ )আল্লা-হুম্মাফ তাহলী আবওয়া-বা রহমাতিকা) 'হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও'। ২২
অন্য বর্ণনায় শুরুতে দরূদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। যেমন, اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَسَلَّمْ )আল্লা-হুম্মা ছাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া সাল্লিম) 'হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর'। ২৩
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রথমে বাম পা রেখে বলবে, اللَّهُمَّ إِنِّي - أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ )আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাযলিকা) 'হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি'। ২৪ অন্য বর্ণনায় শুরুতে দরূদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। যেমন, اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَسَلَّمْ )আল্লা-হুম্মা ছাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া সাল্লিম) 'হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর'। ২৫

খ. তাহিইয়াতুল মাসজিদ : মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করা সুন্নাত, যাকে তাহিইয়াতুল মাসজিদ বলে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسُ حَتَّى يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ. وفي رواية فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ. 'তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করার পূর্বে বসবে না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, 'সে যেন বসার পূর্বে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করে নেয়'। ২৬

**টিকাঃ**
২০. মুসলিম হা/৬৬৬ [১৫৫৩]।
২১. মুসলিম হা/৭৬৩।
২২. মুসলিম হা/৭১৩; আবুদাউদ হা/৪৬৫; মিশকাত হা/৭০৩, 'মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ' অনুচ্ছেদ।
২৩. আবুদাউদ হা/৪৬৫; ইবনু মাজাহ হা/৭৭২-৭৩; ছহীহাহ হা/২৪৭৮।
২৪. মুসলিম হা/৭১৩; মিশকাত হা/৭০৩ 'মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ' অনুচ্ছেদ।
২৫. আবুদাউদ হা/৪৬৫; ইবনু মাজাহ হা/৭৭৩; ছহীহাহ হা/২৪৭৮।
২৬. বুখারী হা/১১৬৩; মুসলিম হা/১৬৮৭।

📘 মুমিন কিভাবে দিন রাত অতিবাহিত করবে > 📄 ফজরের ছালাত আদায় করা

📄 ফজরের ছালাত আদায় করা


ক. ফজরের সুন্নাত : ফজরের সুন্নাত ছালাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফজরের ফরযের পূর্বে এ ছালাত আদায় করতে হয়। ফরযের পূর্বে সময় না পেলে ফরযের পরেও তা আদায় করা যাবে। ২৭ এ ছালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, - رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا ফজরের দু'রাক'আত সুন্নাত ছালাত দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যকার সবকিছু থেকে উত্তম'। ২৬ (টীকায় ২৯)

খ. ফরয ছালাত: ফজরের ফরয ছালাতের গুরুত্ব অত্যধিক। আল্লাহ বলেন, أقم الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا - ‘সূর্য অপরাহ্নে ঢলে পড়ার পর থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত তুমি ছালাত কায়েম কর এবং ফজরের ছালাত আদায় কর। নিশ্চয়ই ফজরের ছালাত (রাত্রি ও দিবসের ফেরেশতাগণের মাধ্যমে) সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়' (ইসরা ১৭/৭৮)। তিনি আরো বলেন, وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا - ‘এবং তোমার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে' (ত্ব-হা ২০/১৩০)।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلَا يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ مِنْ ذمته بشَيْء 'যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত আদায় করল, সে আল্লাহ্র যিম্মাদারী লাভ করল। অতএব হে আদম সন্তান! লক্ষ্য রাখ, আল্লাহ যেন অবশ্যই তোমাদের কাছে তাঁর যিম্মাদারীর কিছু দাবী না করেন'। ২৭ তিনি আরো বলেন, - مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ 'যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা ছালাত আদায় করল, সে জান্নাত প্রবেশ করবে'। ৩০ তিনি আরো বলেন, لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا - ‘ঐ ব্যক্তি কখনো জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বের এবং সূর্যাস্তের পূর্বের ছালাত অর্থাৎ ফজর ও আছরের ছালাত আদায় করে'। ৩১
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমাদের নিকট দিনেরাতে ফেরেশতাগণ পালাক্রমে যাতায়াত করতে থাকেন। আর ফজর ও আছরের ছালাতে তাঁরা একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বে (আকাশে) চলে যান। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে ভালভাবে অবগত, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? তাঁরা বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে এসেছি, তখন তারা ছালাতরত ছিল। আর যখন আমরা তাদের নিকট গিয়েছিলাম, তখনও তারা ছালাতরত ছিল'। ৩২
অন্য বর্ণনায় আছে, 'ফজর ও আছরের ছালাতে রাত্রি ও দিনের ফেরেশতা একত্রিত হন। ফজরের সময় একত্রিত হয়ে রাতের ফেরেশতা উঠে যান এবং দিনের ফেরেশতা থেকে যান। অনুরূপ আছরের ছালাতে একত্রিত হয়ে দিনের ফেরেশতা উঠে যান এবং রাতের ফেরেশতা থেকে যান। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এলে? তাঁরা বলেন, আমরা তাদের কাছে গেলাম, তখন তারা ছালাত পড়ছিল এবং তাদের কাছ থেকে এলাম, তখনও তারা ছালাত পড়ছিল, সুতরাং ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে মাফ করে দিন'। ৩৩
জারীর বিন আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ) বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট পূর্ণিমার রাতে বসেছিলাম। তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, নিঃসন্দেহে তোমরা (পরকালে) তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক এইভাবে দেখতে পাবে, যেভাবে তোমরা এই পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (নিয়মিত) ছালাত আদায়ে পরাহত না হ'তে সক্ষম হও (অর্থাৎ এ ছালাত ছুটে না যায়), তাহ'লে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন কর'। ৩৪

**টিকাঃ**
২৭. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত হা/১০৪৩; আবুদাউদ হা/১২৬৫-৬৭; মিশকাত হা/১০৪৪ 'ছালাতের নিষিদ্ধ সময় সমূহ' অনুচ্ছেদ।
২৬ (২৯). মুসলিম হা/৭২৫; তিরমিযী হা/৪১৬; মিশকাত হা/১১৬৪।
২৭ (পুনরাবৃত্ত). মুসলিম হা/৬৫৭; তিরমিযী হা/২২২; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৪৫।
৩০. বুখারী হা/৫৭৪, মুসলিম হা/৬৩৫ 'ফজর ও আছর ছালাতের ফযীলত' অনুচ্ছেদ।
৩১. মুসলিম হা/৬৩৪; আবুদাউদ হা/৪২৭; মিশকাত হা/৬২৪।
৩২. বুখারী হা/৫৫৫; মুসলিম হা/১৪৬৪; নাসাঈ হা/৪৮৫।
৩৩. আহমাদ হা/৯১৪০; ইবনে খুযাইমা ১/১৬৫।
৩৪. বুখারী হা/৫৫৪; মুসলিম হা/১৪৬৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00