📄 কাব বিন মালেক (রাঃ) এবং তাঁর সাথীদের ঘটনা
কা'ব বিন মালেক বলেন- নাবী যত যুদ্ধ করেছেন, তাবুক যুদ্ধ ব্যতীত তার সবগুলোতেই আমি শরীক ছিলাম। তাবুক যুদ্ধের সময় আমি অন্য সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও স্বচ্ছল অবস্থায় ছিলাম। কিন্তু আলস্যবশত আমি প্রস্ততি নিতে পারলাম না এবং রসূল এর সাথে বের হতে পারলাম না। রসূলুল্লাহ্ ফিরে আসার পর আমি সত্য কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি রসূলুল্লাহ্ এর কাছে গিয়ে বললাম- আল্লাহর কসম! আমার কোন ওযূহাত ছিলনা। রসূল বললেন- কাব সত্য কথা বলেছে। আল্লাহ তোমার ব্যাপারে ফয়সালা দিবেন। রসূল আমাদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ করে দিলেন। এভাবে পঞ্চাশটি রাত কাটলো। পৃথিবী আমার নিকট সংকীর্ণ মনে হচ্ছিল। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আমাদের তাওবা কবুল করার ঘোষণা দিলেন। লোকেদের আনন্দাশ্রু আর সুসংবাদের জোয়ার বয়ে গেল। আমি রসূল এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম, তখন তাঁর চেহারা খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি বললেন- হে কা’ব! আজকের দিনটি তোমার জন্মের পর থেকে সবচেয়ে ভাল দিন।
কা'ব বিন মালেক বলেন- নাবী যত যুদ্ধ করেছেন, তাবুক যুদ্ধ ব্যতীত তার সবগুলোতেই আমি শরীক ছিলাম। তাবুক যুদ্ধের সময় আমি অন্য সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও স্বচ্ছল অবস্থায় ছিলাম। কিন্তু আলস্যবশত আমি প্রস্ততি নিতে পারলাম না এবং রসূল এর সাথে বের হতে পারলাম না। রসূলুল্লাহ্ ফিরে আসার পর আমি সত্য কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি রসূলুল্লাহ্ এর কাছে গিয়ে বললাম- আল্লাহর কসম! আমার কোন ওযূহাত ছিলনা। রসূল বললেন- কাব সত্য কথা বলেছে। আল্লাহ তোমার ব্যাপারে ফয়সালা দিবেন। রসূল আমাদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ করে দিলেন। এভাবে পঞ্চাশটি রাত কাটলো। পৃথিবী আমার নিকট সংকীর্ণ মনে হচ্ছিল। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আমাদের তাওবা কবুল করার ঘোষণা দিলেন। লোকেদের আনন্দাশ্রু আর সুসংবাদের জোয়ার বয়ে গেল। আমি রসূল এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম, তখন তাঁর চেহারা খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি বললেন- হে কা’ব! আজকের দিনটি তোমার জন্মের পর থেকে সবচেয়ে ভাল দিন।
📄 কাব (রাঃ) এর ঘটনায় যে সমস্ত শিক্ষণীয় বিষয় জানা যায়
> মুসলমানের গীবত করা হলে গীবতকারীর প্রতিবাদ করা মুস্তাহাব।
> পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, সদা সত্য বলা জরুরী।
> সফর হতে আগমণ করে সর্বপ্রথম মাসজিদে গিয়ে দুই রাকআত সলাত পড়া মুস্তাহাব।
> মানুষের বাহ্যিক অবস্থার প্রতি খেয়াল করেই দুনিয়ার হুকুম-আহকাম প্রয়োগ করা হবে।
> প্রকাশ্যে পাপ কাজে লিপ্ত এবং বিদআতীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সালাম-কালাম বন্ধ করে দেয়া জায়েয আছে।
> কোন গুনাহ্-এর কাজ হয়ে গেলে অনুতপ্ত হয়ে ক্রন্দন করা উচিত।
> তালাকে কিনায়া তথা নিয়ত ব্যতীত ইঙ্গিত সূচক শব্দে তালাক কার্যকর হয়না।
> মহিলার জন্য তার স্বামীর খেদমত করা বৈধ।
> কোন নিয়ামাত অর্জিত হলে সিজদায়ে শুকরিয়া আদায় করা মুস্তাহাব।
> সু-সংবাদ দানকারীকে উপহার দেয়া উত্তম চরিত্রের আলামত।
> সম্মানিত ব্যক্তির আগমণে দাঁড়িয়ে সম্মান করা মুস্তাহাব।
> মানুষ নিজেই নিজের প্রশংসা করতে পারে। তবে শর্ত হল তা যেন অহংকার বশত না হয়।
> কারো নেকীর কাজ করার সুযোগ হলে তা দ্রুত কাজে লাগানো উচিত।
> ইমামুল মুসলিমীনের উচিত পিছনে থেকে যাওয়া লোকদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া।
> সত্য কথা বলার ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ্ তা’আলা সত্যবাদীদের তাওবা কবুল করেন।
> মুসলমানের গীবত করা হলে গীবতকারীর প্রতিবাদ করা মুস্তাহাব।
> পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, সদা সত্য বলা জরুরী।
> সফর হতে আগমণ করে সর্বপ্রথম মাসজিদে গিয়ে দুই রাকআত সলাত পড়া মুস্তাহাব।
> মানুষের বাহ্যিক অবস্থার প্রতি খেয়াল করেই দুনিয়ার হুকুম-আহকাম প্রয়োগ করা হবে।
> প্রকাশ্যে পাপ কাজে লিপ্ত এবং বিদআতীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সালাম-কালাম বন্ধ করে দেয়া জায়েয আছে।
> কোন গুনাহ্-এর কাজ হয়ে গেলে অনুতপ্ত হয়ে ক্রন্দন করা উচিত।
> তালাকে কিনায়া তথা নিয়ত ব্যতীত ইঙ্গিত সূচক শব্দে তালাক কার্যকর হয়না।
> মহিলার জন্য তার স্বামীর খেদমত করা বৈধ।
> কোন নিয়ামাত অর্জিত হলে সিজদায়ে শুকরিয়া আদায় করা মুস্তাহাব।
> সু-সংবাদ দানকারীকে উপহার দেয়া উত্তম চরিত্রের আলামত।
> সম্মানিত ব্যক্তির আগমণে দাঁড়িয়ে সম্মান করা মুস্তাহাব।
> মানুষ নিজেই নিজের প্রশংসা করতে পারে। তবে শর্ত হল তা যেন অহংকার বশত না হয়।
> কারো নেকীর কাজ করার সুযোগ হলে তা দ্রুত কাজে লাগানো উচিত।
> ইমামুল মুসলিমীনের উচিত পিছনে থেকে যাওয়া লোকদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া।
> সত্য কথা বলার ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ্ তা’আলা সত্যবাদীদের তাওবা কবুল করেন।
📄 তাবুক থেকে ফেরত এসে আবু বকর (রাঃ) কে হজ্জের আমীর বানিয়ে মক্কায় প্রেরণ
রসূল তাবুক হতে ফেরত এসে নবম হিজরী সালে আবু বকর এর নেতৃত্বে মুসলিমদেরকে মক্কায় পাঠালেন যাতে তিনি হজ্জের কার্যাবলী পরিচালনা করতে পারেন। আবু বকর তিনশত লোক নিয়ে বের হয়ে পড়লেন। রওয়ানা দেওয়ার পর রসূল -এর উপর সূরা তাওবা নাযিল হয়। এতে মদীনার মুসলিম এবং মক্কার কুরাইশদের মধ্যকার চুক্তির অবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাই আলী নাবী এর উটনীর উপর আরোহন করে বের হয়ে রাস্তায় আবু বকর এর কাফেলার সাথে মিলিত হলেন। আবু বকর হজ্জ করাচ্ছিলেন। আলী তথায় রসূল এর পক্ষ হতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। (১) কোন মুশরিক কাবায় প্রবেশ করতে পারবেনা। (২) উলঙ্গ হয়ে কেউ কাবার তাওয়াফ করতে পারবেনা। (৩) যাদের চুক্তি আছে তাদের মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে, অন্যদের জন্য চার মাস অবকাশ। (৪) মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
রসূল তাবুক হতে ফেরত এসে নবম হিজরী সালে আবু বকর এর নেতৃত্বে মুসলিমদেরকে মক্কায় পাঠালেন যাতে তিনি হজ্জের কার্যাবলী পরিচালনা করতে পারেন। আবু বকর তিনশত লোক নিয়ে বের হয়ে পড়লেন। রওয়ানা দেওয়ার পর রসূল -এর উপর সূরা তাওবা নাযিল হয়। এতে মদীনার মুসলিম এবং মক্কার কুরাইশদের মধ্যকার চুক্তির অবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাই আলী নাবী এর উটনীর উপর আরোহন করে বের হয়ে রাস্তায় আবু বকর এর কাফেলার সাথে মিলিত হলেন। আবু বকর হজ্জ করাচ্ছিলেন। আলী তথায় রসূল এর পক্ষ হতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। (১) কোন মুশরিক কাবায় প্রবেশ করতে পারবেনা। (২) উলঙ্গ হয়ে কেউ কাবার তাওয়াফ করতে পারবেনা। (৩) যাদের চুক্তি আছে তাদের মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে, অন্যদের জন্য চার মাস অবকাশ। (৪) মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
📄 তিব্বে নববী বা শারীরিক চিকিৎসায় নবী (সাঃ) এর হিদায়াত
তিব্বে নববী হচ্ছে নাবী এর মুজেযার অংশ। নাবী বদ নযর, বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছুর কামড় এবং ফোঁড়ার চিকিৎসায় ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন। নাবী বলেছেন- বদ নযর (বদ নযরের প্রভাব) সত্য। বদনযর প্রয়োগকারীকে আদেশ করা হবে, সে যেন একটি পাত্রে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে এবং সেই পানি বদনযরে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ঢেলে দেয়া হবে।
বদনযর দুই প্রকার: মানুষের বদনযর এবং জিনদের বদনযর। নাবী জিন এবং মানুষের বদনযর হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। হিংসুকের বদনযর দ্বারা মাহসুদের (যাকে হিংসা করা হয়েছে) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। হিংসুক (হাসেদ) যেহেতু আম অর্থাৎ বদনযর প্রয়োগকারীর চেয়ে অধিকতর ব্যাপক হয়, তাই বদনযর প্রয়োগকারীর পরিবর্তে হিংসুক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিব্বে নববী হচ্ছে নাবী এর মুজেযার অংশ। নাবী বদ নযর, বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছুর কামড় এবং ফোঁড়ার চিকিৎসায় ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন। নাবী বলেছেন- বদ নযর (বদ নযরের প্রভাব) সত্য। বদনযর প্রয়োগকারীকে আদেশ করা হবে, সে যেন একটি পাত্রে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে এবং সেই পানি বদনযরে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ঢেলে দেয়া হবে।
বদনযর দুই প্রকার: মানুষের বদনযর এবং জিনদের বদনযর। নাবী জিন এবং মানুষের বদনযর হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। হিংসুকের বদনযর দ্বারা মাহসুদের (যাকে হিংসা করা হয়েছে) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। হিংসুক (হাসেদ) যেহেতু আম অর্থাৎ বদনযর প্রয়োগকারীর চেয়ে অধিকতর ব্যাপক হয়, তাই বদনযর প্রয়োগকারীর পরিবর্তে হিংসুক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।