📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র
নাবী তাবুক থেকে মদীনায় ফেরত আসছিলেন। পথিমধ্যে কতিপয় মুনাফেক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক নীলনকশা তৈরী করল। পথ চলার সময় তাঁকে কোন এক গিরিপথ হতে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা করার ফন্দি করল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবীকে এই ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা মুখোশ পরিধান করে রসূল এর সাথে চলার ইচ্ছা পোষণ করল। নাবী হুযায়ফা বিন ইয়ামানকে আদেশ করলেন যে, তাদেরকে প্রতিহত কর। হুযায়ফা মুনাফেকদের বাহনগুলোর মুখে আঘাত করলেন। তারা বুঝতে পারল যে তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে। রসূল তখন হুযায়ফাকে ঐ মুনাফেকদের নাম বলে দিলেন।
নাবী তাবুক থেকে মদীনায় ফেরত আসছিলেন। পথিমধ্যে কতিপয় মুনাফেক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক নীলনকশা তৈরী করল। পথ চলার সময় তাঁকে কোন এক গিরিপথ হতে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা করার ফন্দি করল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবীকে এই ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা মুখোশ পরিধান করে রসূল এর সাথে চলার ইচ্ছা পোষণ করল। নাবী হুযায়ফা বিন ইয়ামানকে আদেশ করলেন যে, তাদেরকে প্রতিহত কর। হুযায়ফা মুনাফেকদের বাহনগুলোর মুখে আঘাত করলেন। তারা বুঝতে পারল যে তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে। রসূল তখন হুযায়ফাকে ঐ মুনাফেকদের নাম বলে দিলেন।
📄 মসজিদে যিরারের ঘটনা
নাবী যখন তাবুক যুদ্ধে রওয়ানা হলেন তখন মাসজিদে যিরারের নির্মাণকারীগণ তাঁর কাছে এসে অনুরোধ করলেন যেন তিনি সেখানে সলাত পড়ে মাসজিদটি উদ্বোধন করে দেন। রসূল ফেরত এসে যাওয়ার কথা দিলেন। তাবুক থেকে ফেরার পথে আকাশ থেকে মাসজিদটির প্রকৃত খবর চলে আসল। তখন তিনি মালেক বিন দুখশুম এবং মাআন বিন আদীকে ডেকে বললেন- তোমরা উভয়ে দ্রুত জালেমদের এই মাসজিদে যাও এবং এটিকে ধ্বংস করে আগুন দিয়ে জালিয়ে দাও। তারা মাসজিদটি ধ্বংস করে ফেললেন এবং তাতে আগুন জালিয়ে দিলেন।
নাবী যখন তাবুক যুদ্ধে রওয়ানা হলেন তখন মাসজিদে যিরারের নির্মাণকারীগণ তাঁর কাছে এসে অনুরোধ করলেন যেন তিনি সেখানে সলাত পড়ে মাসজিদটি উদ্বোধন করে দেন। রসূল ফেরত এসে যাওয়ার কথা দিলেন। তাবুক থেকে ফেরার পথে আকাশ থেকে মাসজিদটির প্রকৃত খবর চলে আসল। তখন তিনি মালেক বিন দুখশুম এবং মাআন বিন আদীকে ডেকে বললেন- তোমরা উভয়ে দ্রুত জালেমদের এই মাসজিদে যাও এবং এটিকে ধ্বংস করে আগুন দিয়ে জালিয়ে দাও। তারা মাসজিদটি ধ্বংস করে ফেললেন এবং তাতে আগুন জালিয়ে দিলেন।
📄 তাবুক যুদ্ধের ঘটনা থেকে যে সমস্ত বিধি-বিধান জানা যায়
> হারাম মাসে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> মুসলমানদের ইমামের কর্তব্য হল তিনি সকল মুসলিমকে ঐ বিষয়গুলো জানিয়ে দিবেন, যা গোপন রাখলে তাদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
> মুসলিমদের রাষ্ট্রপ্রধান যদি জিহাদে যাওয়ার ডাক দেন, তাহলে সকলের জন্যই জিহাদে বের হওয়া আবশ্যক।
> জান দ্বারা যেমন আল্লাহর পথে জিহাদ করা আবশ্যক তেমনি মাল দ্বারাও জিহাদ করা আবশ্যক।
> যারা সম্পদ না থাকার কারণে জিহাদে যেতে অক্ষম, তাদের ওযর তখনই গৃহীত হবে যখন তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করার পর ব্যর্থ হবে।
> শাসক যখন জিহাদের সফরে বের হবেন, তখন অনুসারীদের কাউকে নায়েব নির্ধারণ করলে সেই নায়েবকেও মুজাহিদদের মধ্যে গণ্য করা হবে।
> ছামুদ জাতির অঞ্চলের কূপের পানি পান করা জায়েয নেই।
> গাছের কাঁচা ফল অনুমান করে পরিমাণ নির্ধারণ করা এবং ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে।
> সফর অবস্থায় নাবী দুই সলাত একত্রিত করে আদায় করতেন।
> বালি দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়েয।
> স্থায়ীভাবে বসবাস করার নিয়ত না করলে মুসাফির যত দিন ইচ্ছা সলাত কসর করতে পারবে।
> কোন বিষয়ে শপথকারী যদি দেখে যে, শপথ পূর্ণ করার চেয়ে ভঙ্গ করার মধ্যেই অধিক কল্যাণ রয়েছে, তাহলে শপথ ভঙ্গ করা মুস্তাহাব।
> রসূল এর বাণী- 'আমি তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করি নি; বরং আল্লাহ্ তা'আলাই তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করেছেন'।
> যিম্মীরা যদি চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
> প্রয়োজনে মৃত ব্যক্তিকে রাতেই দাফন করা জায়েয।
> পাপ কাজের আড্ডা ও স্থানসমূহ জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন নাবী মাসজিদে যিরারকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছেন।
> ইবাদত ও নৈকট্যের কাজ ব্যতীত অন্য কোন কাজে ওয়াক্ফ করা সহীহ নয়।
> আনন্দ প্রকাশের জন্য সম্মানী ব্যক্তিদের আগমণে কবিতা আবৃত্তি করা জায়েয আছে।
> হারাম মাসে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> মুসলমানদের ইমামের কর্তব্য হল তিনি সকল মুসলিমকে ঐ বিষয়গুলো জানিয়ে দিবেন, যা গোপন রাখলে তাদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
> মুসলিমদের রাষ্ট্রপ্রধান যদি জিহাদে যাওয়ার ডাক দেন, তাহলে সকলের জন্যই জিহাদে বের হওয়া আবশ্যক।
> জান দ্বারা যেমন আল্লাহর পথে জিহাদ করা আবশ্যক তেমনি মাল দ্বারাও জিহাদ করা আবশ্যক।
> যারা সম্পদ না থাকার কারণে জিহাদে যেতে অক্ষম, তাদের ওযর তখনই গৃহীত হবে যখন তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করার পর ব্যর্থ হবে।
> শাসক যখন জিহাদের সফরে বের হবেন, তখন অনুসারীদের কাউকে নায়েব নির্ধারণ করলে সেই নায়েবকেও মুজাহিদদের মধ্যে গণ্য করা হবে।
> ছামুদ জাতির অঞ্চলের কূপের পানি পান করা জায়েয নেই।
> গাছের কাঁচা ফল অনুমান করে পরিমাণ নির্ধারণ করা এবং ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে।
> সফর অবস্থায় নাবী দুই সলাত একত্রিত করে আদায় করতেন।
> বালি দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়েয।
> স্থায়ীভাবে বসবাস করার নিয়ত না করলে মুসাফির যত দিন ইচ্ছা সলাত কসর করতে পারবে।
> কোন বিষয়ে শপথকারী যদি দেখে যে, শপথ পূর্ণ করার চেয়ে ভঙ্গ করার মধ্যেই অধিক কল্যাণ রয়েছে, তাহলে শপথ ভঙ্গ করা মুস্তাহাব।
> রসূল এর বাণী- 'আমি তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করি নি; বরং আল্লাহ্ তা'আলাই তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করেছেন'।
> যিম্মীরা যদি চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
> প্রয়োজনে মৃত ব্যক্তিকে রাতেই দাফন করা জায়েয।
> পাপ কাজের আড্ডা ও স্থানসমূহ জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন নাবী মাসজিদে যিরারকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছেন।
> ইবাদত ও নৈকট্যের কাজ ব্যতীত অন্য কোন কাজে ওয়াক্ফ করা সহীহ নয়।
> আনন্দ প্রকাশের জন্য সম্মানী ব্যক্তিদের আগমণে কবিতা আবৃত্তি করা জায়েয আছে।
📄 কাব বিন মালেক (রাঃ) এবং তাঁর সাথীদের ঘটনা
কা'ব বিন মালেক বলেন- নাবী যত যুদ্ধ করেছেন, তাবুক যুদ্ধ ব্যতীত তার সবগুলোতেই আমি শরীক ছিলাম। তাবুক যুদ্ধের সময় আমি অন্য সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও স্বচ্ছল অবস্থায় ছিলাম। কিন্তু আলস্যবশত আমি প্রস্ততি নিতে পারলাম না এবং রসূল এর সাথে বের হতে পারলাম না। রসূলুল্লাহ্ ফিরে আসার পর আমি সত্য কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি রসূলুল্লাহ্ এর কাছে গিয়ে বললাম- আল্লাহর কসম! আমার কোন ওযূহাত ছিলনা। রসূল বললেন- কাব সত্য কথা বলেছে। আল্লাহ তোমার ব্যাপারে ফয়সালা দিবেন। রসূল আমাদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ করে দিলেন। এভাবে পঞ্চাশটি রাত কাটলো। পৃথিবী আমার নিকট সংকীর্ণ মনে হচ্ছিল। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আমাদের তাওবা কবুল করার ঘোষণা দিলেন। লোকেদের আনন্দাশ্রু আর সুসংবাদের জোয়ার বয়ে গেল। আমি রসূল এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম, তখন তাঁর চেহারা খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি বললেন- হে কা’ব! আজকের দিনটি তোমার জন্মের পর থেকে সবচেয়ে ভাল দিন।
কা'ব বিন মালেক বলেন- নাবী যত যুদ্ধ করেছেন, তাবুক যুদ্ধ ব্যতীত তার সবগুলোতেই আমি শরীক ছিলাম। তাবুক যুদ্ধের সময় আমি অন্য সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও স্বচ্ছল অবস্থায় ছিলাম। কিন্তু আলস্যবশত আমি প্রস্ততি নিতে পারলাম না এবং রসূল এর সাথে বের হতে পারলাম না। রসূলুল্লাহ্ ফিরে আসার পর আমি সত্য কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি রসূলুল্লাহ্ এর কাছে গিয়ে বললাম- আল্লাহর কসম! আমার কোন ওযূহাত ছিলনা। রসূল বললেন- কাব সত্য কথা বলেছে। আল্লাহ তোমার ব্যাপারে ফয়সালা দিবেন। রসূল আমাদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ করে দিলেন। এভাবে পঞ্চাশটি রাত কাটলো। পৃথিবী আমার নিকট সংকীর্ণ মনে হচ্ছিল। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আমাদের তাওবা কবুল করার ঘোষণা দিলেন। লোকেদের আনন্দাশ্রু আর সুসংবাদের জোয়ার বয়ে গেল। আমি রসূল এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম, তখন তাঁর চেহারা খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি বললেন- হে কা’ব! আজকের দিনটি তোমার জন্মের পর থেকে সবচেয়ে ভাল দিন।