📄 তায়েফের যুদ্ধ হতে যে সমস্ত মাসআলা জানা যায়
> প্রয়োজন বশতঃ হারাম মাসেও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> তায়েফের যুদ্ধ থেকে এও প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী-পরিবার সাথে নিয়ে যুদ্ধে বের হওয়া জায়েয আছে।
> ভারী অস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার জন্য এবং তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তোলার জন্য তাদের গাছপালা ও সম্পদ নষ্ট করা জায়েয আছে।
> কাফেরদের ক্রীতদাসেরা পালিয়ে এসে মুসলিমদের সাথে যোগ দিলে তারা স্বাধীন বলে গণ্য হবে।
> মুসলিমদের ইমাম যদি শত্রুদের কোন ঘাটিকে অবরোধ করে, এরপর যদি দেখা যায় যে, অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তাহলে তার জন্য তা করা জায়েয আছে।
> এ থেকে জানা গেল যে, নাবী 'জিআরানা' নামক জায়গা থেকে উমরার ইহরাম বেঁধেছেন।
> ছাকীফ গোত্রের লোকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা নাবী এর দয়া ও কোমলতার প্রমাণ বহন করে।
> এই ঘটনায় নাবী এর সাথে আবু বকর এর গভীর ভালবাসা এবং যে কোন পন্থায় তাঁর নৈকট্য অর্জনের আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায়।
> তায়েফের ঘটনা থেকে প্রমাণ মিলে যে, ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে শিরক ও তাগুতের আড্ডাকে একদিনের জন্যও অবশিষ্ট রাখা জায়েয নেই।
> বর্তমানে মাজারগুলোর অধিকাংশই লাত, মানাত ও উজ্জার স্থান দখল করে আছে। ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে পৃথিবীতে এগুলোর অস্তিত্ব টিকে থাকতে দেয়া বৈধ নয়।
> তায়েফের যুদ্ধ হতে আরও জানা যায় যে, রাষ্ট্র প্রধানের জন্য জায়েয আছে যে, তিনি মাজার ও দরগাহ-এর সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত করে তা জিহাদ এবং মুসলিমদের অন্যান্য প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন।
> প্রয়োজন বশতঃ হারাম মাসেও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> তায়েফের যুদ্ধ থেকে এও প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী-পরিবার সাথে নিয়ে যুদ্ধে বের হওয়া জায়েয আছে।
> ভারী অস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার জন্য এবং তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তোলার জন্য তাদের গাছপালা ও সম্পদ নষ্ট করা জায়েয আছে।
> কাফেরদের ক্রীতদাসেরা পালিয়ে এসে মুসলিমদের সাথে যোগ দিলে তারা স্বাধীন বলে গণ্য হবে।
> মুসলিমদের ইমাম যদি শত্রুদের কোন ঘাটিকে অবরোধ করে, এরপর যদি দেখা যায় যে, অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তাহলে তার জন্য তা করা জায়েয আছে।
> এ থেকে জানা গেল যে, নাবী 'জিআরানা' নামক জায়গা থেকে উমরার ইহরাম বেঁধেছেন।
> ছাকীফ গোত্রের লোকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা নাবী এর দয়া ও কোমলতার প্রমাণ বহন করে।
> এই ঘটনায় নাবী এর সাথে আবু বকর এর গভীর ভালবাসা এবং যে কোন পন্থায় তাঁর নৈকট্য অর্জনের আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায়।
> তায়েফের ঘটনা থেকে প্রমাণ মিলে যে, ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে শিরক ও তাগুতের আড্ডাকে একদিনের জন্যও অবশিষ্ট রাখা জায়েয নেই।
> বর্তমানে মাজারগুলোর অধিকাংশই লাত, মানাত ও উজ্জার স্থান দখল করে আছে। ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে পৃথিবীতে এগুলোর অস্তিত্ব টিকে থাকতে দেয়া বৈধ নয়।
> তায়েফের যুদ্ধ হতে আরও জানা যায় যে, রাষ্ট্র প্রধানের জন্য জায়েয আছে যে, তিনি মাজার ও দরগাহ-এর সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত করে তা জিহাদ এবং মুসলিমদের অন্যান্য প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন।
📄 তাবুকের যুদ্ধ
হিজরী নবম সালের রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মদীনায় এ সময় মানুষের মধ্যে খুব অভাব বিরাজ করছিল। রসূল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের আদেশ দিলেন। ধনী সাহাবীদেরকে এই পথে খরচ করার উৎসাহ দিলেন। উছমান সাজ ও সামানসহ তিনশত উট এবং এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা আল্লাহর রাস্তায় দান করলেন। এই সময় কিছু লোক কাঁদতে কাঁদতে রসূল-এর খেদমতে হাজির হলেন এবং বাহনের আবেদন করলেন। কিন্তু বাহন না পেয়ে তারা ফিরে গেলেন।
এই যুদ্ধে নাবী-এর সাথে ত্রিশ হাজার মুজাহিদের এক বিশাল বাহিনী ছিল। তাবুকে পৌঁছে তিনি বিশ দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সলাত কসর করতেন। তাবুকের পথে তিনি যখন ছামুদ জাতির ঘরবাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন- তোমরা এখানকার পানি পান করোনা এবং এর দ্বারা সলাতের ওযু করোনা। এখানকার পানি দিয়ে তোমরা যেই আটা গুলেছ, তা তোমরা উটকে খাইয়ে দাও। তিনি বললেন- জালেমদের অঞ্চলের উপর দিয়ে চলার সময় তোমরা ক্রন্দন অবস্থায় চল।
হিজরী নবম সালের রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মদীনায় এ সময় মানুষের মধ্যে খুব অভাব বিরাজ করছিল। রসূল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের আদেশ দিলেন। ধনী সাহাবীদেরকে এই পথে খরচ করার উৎসাহ দিলেন। উছমান সাজ ও সামানসহ তিনশত উট এবং এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা আল্লাহর রাস্তায় দান করলেন। এই সময় কিছু লোক কাঁদতে কাঁদতে রসূল-এর খেদমতে হাজির হলেন এবং বাহনের আবেদন করলেন। কিন্তু বাহন না পেয়ে তারা ফিরে গেলেন।
এই যুদ্ধে নাবী-এর সাথে ত্রিশ হাজার মুজাহিদের এক বিশাল বাহিনী ছিল। তাবুকে পৌঁছে তিনি বিশ দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সলাত কসর করতেন। তাবুকের পথে তিনি যখন ছামুদ জাতির ঘরবাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন- তোমরা এখানকার পানি পান করোনা এবং এর দ্বারা সলাতের ওযু করোনা। এখানকার পানি দিয়ে তোমরা যেই আটা গুলেছ, তা তোমরা উটকে খাইয়ে দাও। তিনি বললেন- জালেমদের অঞ্চলের উপর দিয়ে চলার সময় তোমরা ক্রন্দন অবস্থায় চল।
📄 খালিদ বিন ওয়ালীদকে দাওমাতুল জান্দালে প্রেরণ
তাবুকে অবস্থানকালে নাবী দাওমাতুল জান্দালের শাসক উকাইদারের কাছে খালিদ বিন ওয়ালীদ কে পাঠালেন। খালেদ উট চালতে লাগলেন। তিনি উকাইদারকে পাকড়াও করে রসূল এর দরবারে নিয়ে আসলেন। নাবী উকাইদারকে হত্যা থেকে বাঁচিয়ে দিলেন এবং জিযিয়া কর প্রদানের বিনিময়ে তার সাথে চুক্তি করলেন।
ঐতিহাসিক ইবনে সা'দ বলেন- দাওমাতুল জান্দাল জয় করার জন্য নাবী চারশত বিশজন অশ্বারোহীসহ খালেদকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা জয় করে উকাইদারের সাথে এই শর্তে চুক্তি করলেন যে, তারা দুই হাজার উট, সাতশত ছাগল, চারশত লৌহ বর্ম এবং চারশত বর্শা প্রদান করবে। এই মালে গনীমত হতে নাবী তাঁর অংশ আলাদা করে নিলেন।
তাবুকে অবস্থানকালে নাবী দাওমাতুল জান্দালের শাসক উকাইদারের কাছে খালিদ বিন ওয়ালীদ কে পাঠালেন। খালেদ উট চালতে লাগলেন। তিনি উকাইদারকে পাকড়াও করে রসূল এর দরবারে নিয়ে আসলেন। নাবী উকাইদারকে হত্যা থেকে বাঁচিয়ে দিলেন এবং জিযিয়া কর প্রদানের বিনিময়ে তার সাথে চুক্তি করলেন।
ঐতিহাসিক ইবনে সা'দ বলেন- দাওমাতুল জান্দাল জয় করার জন্য নাবী চারশত বিশজন অশ্বারোহীসহ খালেদকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা জয় করে উকাইদারের সাথে এই শর্তে চুক্তি করলেন যে, তারা দুই হাজার উট, সাতশত ছাগল, চারশত লৌহ বর্ম এবং চারশত বর্শা প্রদান করবে। এই মালে গনীমত হতে নাবী তাঁর অংশ আলাদা করে নিলেন।
📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র
নাবী তাবুক থেকে মদীনায় ফেরত আসছিলেন। পথিমধ্যে কতিপয় মুনাফেক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক নীলনকশা তৈরী করল। পথ চলার সময় তাঁকে কোন এক গিরিপথ হতে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা করার ফন্দি করল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবীকে এই ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা মুখোশ পরিধান করে রসূল এর সাথে চলার ইচ্ছা পোষণ করল। নাবী হুযায়ফা বিন ইয়ামানকে আদেশ করলেন যে, তাদেরকে প্রতিহত কর। হুযায়ফা মুনাফেকদের বাহনগুলোর মুখে আঘাত করলেন। তারা বুঝতে পারল যে তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে। রসূল তখন হুযায়ফাকে ঐ মুনাফেকদের নাম বলে দিলেন।
নাবী তাবুক থেকে মদীনায় ফেরত আসছিলেন। পথিমধ্যে কতিপয় মুনাফেক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক নীলনকশা তৈরী করল। পথ চলার সময় তাঁকে কোন এক গিরিপথ হতে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা করার ফন্দি করল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবীকে এই ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা মুখোশ পরিধান করে রসূল এর সাথে চলার ইচ্ছা পোষণ করল। নাবী হুযায়ফা বিন ইয়ামানকে আদেশ করলেন যে, তাদেরকে প্রতিহত কর। হুযায়ফা মুনাফেকদের বাহনগুলোর মুখে আঘাত করলেন। তারা বুঝতে পারল যে তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে। রসূল তখন হুযায়ফাকে ঐ মুনাফেকদের নাম বলে দিলেন।