📄 হুনাইন যুদ্ধ থেকে নিম্নলিখিত শিক্ষাগুলো গ্রহণ করা যায়
> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে জানা যায় যে, শত্রুদের নিকট থেকে যোদ্ধাস্ত্র ধার নেওয়া যায়।
> অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে যাওয়া আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী নয়।
> নাবী সাফওয়ানের নিকট থেকে যুদ্ধের হাতিয়ার ধার নেওয়ার শর্ত করেছিলেন যে, তিনি এর দায়-দায়িত্ব বহন করবেন।
> শত্রুদের ঘোড়া এবং অন্যান্য বাহনকেও আহত করা জায়েয।
> এখান থেকে আরও জানা যায় যে, নাবী ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে রসূল কে হত্যা করতে চেয়েছিল।
> যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত মালে গণীমত বণ্টন করায় তাড়াহুড়া করা যাবেনা। বরং অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, তারা এর মধ্যেই ইসলাম কবুল করে কি না?
> মুসলিমদের ইমাম যদি জনগণের কাছে মাল দাবী করেন, তাহলে তা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে এও জানা গেল যে, দাস বিক্রি করা, এমন কি পশুর বিনিময়ে পশু বাকীতে এবং কম-বেশী দেয়ার শর্তে বিক্রি করা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধে নাবী বলেছেন- কেউ যদি কোন কাফেরকে হত্যা করতে পারে, তাহলে সেই কাফেরের কাছ থেকে প্রাপ্ত মাল তারই হবে।
> হুনাইন যুদ্ধ হতে এও জানা গেল যে, মামলা-মুকাদ্দমা ও বিচার-ফয়সালায় অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একজনের সাক্ষ্যই যথেষ্ট।
> এ থেকে আরও জানা গেল যে, নিহত কাফেরের কাছ থেকে গৃহিত সম্পদে খুমুস লাগানো হবেনা।
> এই যুদ্ধে নাবী এর অনেকগুলো মু'জেযা প্রকাশিত হয়েছিল।
> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে জানা যায় যে, শত্রুদের নিকট থেকে যোদ্ধাস্ত্র ধার নেওয়া যায়।
> অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে যাওয়া আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী নয়।
> নাবী সাফওয়ানের নিকট থেকে যুদ্ধের হাতিয়ার ধার নেওয়ার শর্ত করেছিলেন যে, তিনি এর দায়-দায়িত্ব বহন করবেন।
> শত্রুদের ঘোড়া এবং অন্যান্য বাহনকেও আহত করা জায়েয।
> এখান থেকে আরও জানা যায় যে, নাবী ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে রসূল কে হত্যা করতে চেয়েছিল।
> যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত মালে গণীমত বণ্টন করায় তাড়াহুড়া করা যাবেনা। বরং অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, তারা এর মধ্যেই ইসলাম কবুল করে কি না?
> মুসলিমদের ইমাম যদি জনগণের কাছে মাল দাবী করেন, তাহলে তা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে এও জানা গেল যে, দাস বিক্রি করা, এমন কি পশুর বিনিময়ে পশু বাকীতে এবং কম-বেশী দেয়ার শর্তে বিক্রি করা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধে নাবী বলেছেন- কেউ যদি কোন কাফেরকে হত্যা করতে পারে, তাহলে সেই কাফেরের কাছ থেকে প্রাপ্ত মাল তারই হবে।
> হুনাইন যুদ্ধ হতে এও জানা গেল যে, মামলা-মুকাদ্দমা ও বিচার-ফয়সালায় অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একজনের সাক্ষ্যই যথেষ্ট।
> এ থেকে আরও জানা গেল যে, নিহত কাফেরের কাছ থেকে গৃহিত সম্পদে খুমুস লাগানো হবেনা।
> এই যুদ্ধে নাবী এর অনেকগুলো মু'জেযা প্রকাশিত হয়েছিল।
📄 তায়েফের যুদ্ধ
হুনাইনের যুদ্ধে তায়েফের ছাকীফ গোত্র পরাজিত হয়ে তাদের সুরক্ষিত দুর্গে আশ্রয় নিল। রসূল ও তাদের উদ্দেশ্যে বের হলেন। নাবী তাদেরকে ১৮ দিন মতান্তরে ২৩ দিন অবরোধ করে রাখলেন। এ সময় মুসলিমগণ তাদের বিরুদ্ধে মিনজানিক দিয়ে আক্রমণ করেন। ঐ দিকে নাবী মুসলমানদেরকে সেখানকার আঙ্গুরের বাগানগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তায়েফবাসীরা রসূল এর কাছে আল্লাহ্ ও আত্মীয়তার দোহাই দিলে তিনি তা ছেড়ে দেন।
রসূল এর পক্ষ হতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে ঘোষণা করল যে, ছাকীফ গোত্রের কোন দাস যদি দুর্গ থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে চলে আসে, তাহলে সে স্বাধীন। এই ঘোষণা শুনে দশাধিক ক্রীতদাস তাদের থেকে চলে আসল। এরপর রসূল মুসলিম বাহিনীকে ফেরত চলার আদেশ দিলেন। সফর শুরু হলে তিনি বললেন- তোমরা এই দু'আ পাঠ কর- আয়িবুনা তায়িবুনা আবিদুনা লিরব্বিনা হামিদুন 'আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, আমাদের প্রভুর ইবাদতকারী এবং তাঁর প্রশংসাকারী'।
হুনাইনের যুদ্ধে তায়েফের ছাকীফ গোত্র পরাজিত হয়ে তাদের সুরক্ষিত দুর্গে আশ্রয় নিল। রসূল ও তাদের উদ্দেশ্যে বের হলেন। নাবী তাদেরকে ১৮ দিন মতান্তরে ২৩ দিন অবরোধ করে রাখলেন। এ সময় মুসলিমগণ তাদের বিরুদ্ধে মিনজানিক দিয়ে আক্রমণ করেন। ঐ দিকে নাবী মুসলমানদেরকে সেখানকার আঙ্গুরের বাগানগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তায়েফবাসীরা রসূল এর কাছে আল্লাহ্ ও আত্মীয়তার দোহাই দিলে তিনি তা ছেড়ে দেন।
রসূল এর পক্ষ হতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে ঘোষণা করল যে, ছাকীফ গোত্রের কোন দাস যদি দুর্গ থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে চলে আসে, তাহলে সে স্বাধীন। এই ঘোষণা শুনে দশাধিক ক্রীতদাস তাদের থেকে চলে আসল। এরপর রসূল মুসলিম বাহিনীকে ফেরত চলার আদেশ দিলেন। সফর শুরু হলে তিনি বললেন- তোমরা এই দু'আ পাঠ কর- আয়িবুনা তায়িবুনা আবিদুনা লিরব্বিনা হামিদুন 'আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, আমাদের প্রভুর ইবাদতকারী এবং তাঁর প্রশংসাকারী'।
📄 তায়েফের যুদ্ধ হতে যে সমস্ত মাসআলা জানা যায়
> প্রয়োজন বশতঃ হারাম মাসেও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> তায়েফের যুদ্ধ থেকে এও প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী-পরিবার সাথে নিয়ে যুদ্ধে বের হওয়া জায়েয আছে।
> ভারী অস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার জন্য এবং তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তোলার জন্য তাদের গাছপালা ও সম্পদ নষ্ট করা জায়েয আছে।
> কাফেরদের ক্রীতদাসেরা পালিয়ে এসে মুসলিমদের সাথে যোগ দিলে তারা স্বাধীন বলে গণ্য হবে।
> মুসলিমদের ইমাম যদি শত্রুদের কোন ঘাটিকে অবরোধ করে, এরপর যদি দেখা যায় যে, অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তাহলে তার জন্য তা করা জায়েয আছে।
> এ থেকে জানা গেল যে, নাবী 'জিআরানা' নামক জায়গা থেকে উমরার ইহরাম বেঁধেছেন।
> ছাকীফ গোত্রের লোকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা নাবী এর দয়া ও কোমলতার প্রমাণ বহন করে।
> এই ঘটনায় নাবী এর সাথে আবু বকর এর গভীর ভালবাসা এবং যে কোন পন্থায় তাঁর নৈকট্য অর্জনের আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায়।
> তায়েফের ঘটনা থেকে প্রমাণ মিলে যে, ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে শিরক ও তাগুতের আড্ডাকে একদিনের জন্যও অবশিষ্ট রাখা জায়েয নেই।
> বর্তমানে মাজারগুলোর অধিকাংশই লাত, মানাত ও উজ্জার স্থান দখল করে আছে। ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে পৃথিবীতে এগুলোর অস্তিত্ব টিকে থাকতে দেয়া বৈধ নয়।
> তায়েফের যুদ্ধ হতে আরও জানা যায় যে, রাষ্ট্র প্রধানের জন্য জায়েয আছে যে, তিনি মাজার ও দরগাহ-এর সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত করে তা জিহাদ এবং মুসলিমদের অন্যান্য প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন।
> প্রয়োজন বশতঃ হারাম মাসেও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> তায়েফের যুদ্ধ থেকে এও প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী-পরিবার সাথে নিয়ে যুদ্ধে বের হওয়া জায়েয আছে।
> ভারী অস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে।
> শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার জন্য এবং তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তোলার জন্য তাদের গাছপালা ও সম্পদ নষ্ট করা জায়েয আছে।
> কাফেরদের ক্রীতদাসেরা পালিয়ে এসে মুসলিমদের সাথে যোগ দিলে তারা স্বাধীন বলে গণ্য হবে।
> মুসলিমদের ইমাম যদি শত্রুদের কোন ঘাটিকে অবরোধ করে, এরপর যদি দেখা যায় যে, অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তাহলে তার জন্য তা করা জায়েয আছে।
> এ থেকে জানা গেল যে, নাবী 'জিআরানা' নামক জায়গা থেকে উমরার ইহরাম বেঁধেছেন।
> ছাকীফ গোত্রের লোকদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা নাবী এর দয়া ও কোমলতার প্রমাণ বহন করে।
> এই ঘটনায় নাবী এর সাথে আবু বকর এর গভীর ভালবাসা এবং যে কোন পন্থায় তাঁর নৈকট্য অর্জনের আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায়।
> তায়েফের ঘটনা থেকে প্রমাণ মিলে যে, ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে শিরক ও তাগুতের আড্ডাকে একদিনের জন্যও অবশিষ্ট রাখা জায়েয নেই।
> বর্তমানে মাজারগুলোর অধিকাংশই লাত, মানাত ও উজ্জার স্থান দখল করে আছে। ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতা থাকলে পৃথিবীতে এগুলোর অস্তিত্ব টিকে থাকতে দেয়া বৈধ নয়।
> তায়েফের যুদ্ধ হতে আরও জানা যায় যে, রাষ্ট্র প্রধানের জন্য জায়েয আছে যে, তিনি মাজার ও দরগাহ-এর সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত করে তা জিহাদ এবং মুসলিমদের অন্যান্য প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন।
📄 তাবুকের যুদ্ধ
হিজরী নবম সালের রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মদীনায় এ সময় মানুষের মধ্যে খুব অভাব বিরাজ করছিল। রসূল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের আদেশ দিলেন। ধনী সাহাবীদেরকে এই পথে খরচ করার উৎসাহ দিলেন। উছমান সাজ ও সামানসহ তিনশত উট এবং এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা আল্লাহর রাস্তায় দান করলেন। এই সময় কিছু লোক কাঁদতে কাঁদতে রসূল-এর খেদমতে হাজির হলেন এবং বাহনের আবেদন করলেন। কিন্তু বাহন না পেয়ে তারা ফিরে গেলেন।
এই যুদ্ধে নাবী-এর সাথে ত্রিশ হাজার মুজাহিদের এক বিশাল বাহিনী ছিল। তাবুকে পৌঁছে তিনি বিশ দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সলাত কসর করতেন। তাবুকের পথে তিনি যখন ছামুদ জাতির ঘরবাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন- তোমরা এখানকার পানি পান করোনা এবং এর দ্বারা সলাতের ওযু করোনা। এখানকার পানি দিয়ে তোমরা যেই আটা গুলেছ, তা তোমরা উটকে খাইয়ে দাও। তিনি বললেন- জালেমদের অঞ্চলের উপর দিয়ে চলার সময় তোমরা ক্রন্দন অবস্থায় চল।
হিজরী নবম সালের রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মদীনায় এ সময় মানুষের মধ্যে খুব অভাব বিরাজ করছিল। রসূল আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের আদেশ দিলেন। ধনী সাহাবীদেরকে এই পথে খরচ করার উৎসাহ দিলেন। উছমান সাজ ও সামানসহ তিনশত উট এবং এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা আল্লাহর রাস্তায় দান করলেন। এই সময় কিছু লোক কাঁদতে কাঁদতে রসূল-এর খেদমতে হাজির হলেন এবং বাহনের আবেদন করলেন। কিন্তু বাহন না পেয়ে তারা ফিরে গেলেন।
এই যুদ্ধে নাবী-এর সাথে ত্রিশ হাজার মুজাহিদের এক বিশাল বাহিনী ছিল। তাবুকে পৌঁছে তিনি বিশ দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সলাত কসর করতেন। তাবুকের পথে তিনি যখন ছামুদ জাতির ঘরবাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন- তোমরা এখানকার পানি পান করোনা এবং এর দ্বারা সলাতের ওযু করোনা। এখানকার পানি দিয়ে তোমরা যেই আটা গুলেছ, তা তোমরা উটকে খাইয়ে দাও। তিনি বললেন- জালেমদের অঞ্চলের উপর দিয়ে চলার সময় তোমরা ক্রন্দন অবস্থায় চল।