📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে যে সমস্ত মাসআলা জানা যায়

📄 মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে যে সমস্ত মাসআলা জানা যায়


> চুক্তিবদ্ধ কাফেররা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে তাহলে তাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করা জায়েয আছে। হামলার খবর তাদেরকে জানানো জরুরী নয়।
> চুক্তিবদ্ধদের কোন লোক চুক্তি ভঙ্গ করলে এবং বাকীরা চুক্তি ভঙ্গ না করলেও যদি তারা এতে সম্মতি দেয় তাহলে সকলেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে গণ্য হবে।
> প্রয়োজনে শত্রুদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী শান্তিচুক্তি করা যেতে পারে।
> শত্রুদের সামনে মুসলমানদের সংখ্যা, শক্তি ও শান-শওকত প্রকাশ করা মুস্তাহাব।
> কাফেরদের দূতকে হত্যা করা যাবে না।
> গোয়েন্দা মুসলিম হলেও তাঁকে হত্যা করা জায়েয আছে।
> বিশেষ প্রয়োজনে মহিলাকে উলঙ্গ করার ধমক দেওয়া জায়েয আছে।
> কেউ যদি কোন মুসলমানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দ্বীনের জন্য রসূান্বিত হয়ে কাফের বা মুনাফেক বলে দেয়, তাহলে সে গুনাহগার হবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে আরও জানা গেল যে, ইহরাম ছাড়াই যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশ করা জায়েয।
> মক্কা বিজয়ের দিন রসূল বলেছেন- আল্লাহ্ তা'আলা মক্কাকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। নাবী বলেন- উহাতে রক্তপাত করা যাবেনা। হারামের কাঁটাযুক্ত গাছও কর্তন করা যাবেনা।
> হারাম অঞ্চলের শিকারকে তাড়ানো যাবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনাতে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোন একজন মহিলা যদি একজন বা দুইজন পুরুষকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে প্রদত্ত নিরাপত্তার প্রতি সম্মান করতে হবে।
> মুরতাদের কাছে তাওবা পেশ না করেই তাকে হত্যা করা জায়েয আছে।

টিকাঃ
২৭৩. সূরা হুদ-১১:১১৪
২৭৪. সূরা বাকারা-২: ২৬৪

> চুক্তিবদ্ধ কাফেররা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে তাহলে তাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করা জায়েয আছে। হামলার খবর তাদেরকে জানানো জরুরী নয়।
> চুক্তিবদ্ধদের কোন লোক চুক্তি ভঙ্গ করলে এবং বাকীরা চুক্তি ভঙ্গ না করলেও যদি তারা এতে সম্মতি দেয় তাহলে সকলেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে গণ্য হবে।
> প্রয়োজনে শত্রুদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী শান্তিচুক্তি করা যেতে পারে।
> শত্রুদের সামনে মুসলমানদের সংখ্যা, শক্তি ও শান-শওকত প্রকাশ করা মুস্তাহাব।
> কাফেরদের দূতকে হত্যা করা যাবে না।
> গোয়েন্দা মুসলিম হলেও তাঁকে হত্যা করা জায়েয আছে।
> বিশেষ প্রয়োজনে মহিলাকে উলঙ্গ করার ধমক দেওয়া জায়েয আছে।
> কেউ যদি কোন মুসলমানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দ্বীনের জন্য রসূান্বিত হয়ে কাফের বা মুনাফেক বলে দেয়, তাহলে সে গুনাহগার হবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে আরও জানা গেল যে, ইহরাম ছাড়াই যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশ করা জায়েয।
> মক্কা বিজয়ের দিন রসূল বলেছেন- আল্লাহ্ তা'আলা মক্কাকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। নাবী বলেন- উহাতে রক্তপাত করা যাবেনা। হারামের কাঁটাযুক্ত গাছও কর্তন করা যাবেনা।
> হারাম অঞ্চলের শিকারকে তাড়ানো যাবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনাতে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোন একজন মহিলা যদি একজন বা দুইজন পুরুষকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে প্রদত্ত নিরাপত্তার প্রতি সম্মান করতে হবে।
> মুরতাদের কাছে তাওবা পেশ না করেই তাকে হত্যা করা জায়েয আছে।

টিকাঃ
২৭৩. সূরা হুদ-১১:১১৪
২৭৪. সূরা বাকারা-২: ২৬৪

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিস কুড়ানো জায়েয নয়

📄 হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিস কুড়ানো জায়েয নয়


নাবী আরও বলেন- হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিষও কুড়ানো যাবেনা। তবে ঘোষণা করে তার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য কুড়ানো জায়েয আছে। এই হাদীছের মাধ্যমে জানা গেল যে, কোন অবস্থাতেই হারাম অঞ্চলের জিনিষের মালিক হওয়া যাবে না এবং শুধু মালিকের কাছে পৌঁছেয়ে দেয়ার জন্যই তা উঠানো জায়েয আছে। সুতরাং কেউ যদি উঠায়, তাহলে প্রকৃত মালিক আসার আগ পর্যন্ত প্রচার করতে হবে।

মক্কা বিজয়ের ঘটনায় এও উল্লেখ আছে যে, কাবা ঘর থেকে মূর্তি ও দেব-দেবীর ছবিগুলো বের করার পূর্বে নাবী তাতে প্রবেশ করেন নি। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মন্দির এবং যেখানে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে সলাত আদায় করা জায়েয নেই। মূর্তির স্থানে সলাত আদায় করা পেশাব-পায়খানার স্থানে সলাত পড়ার চেয়েও অধিক দোষণীয়।

নাবী আরও বলেন- হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিষও কুড়ানো যাবেনা। তবে ঘোষণা করে তার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য কুড়ানো জায়েয আছে। এই হাদীছের মাধ্যমে জানা গেল যে, কোন অবস্থাতেই হারাম অঞ্চলের জিনিষের মালিক হওয়া যাবে না এবং শুধু মালিকের কাছে পৌঁছেয়ে দেয়ার জন্যই তা উঠানো জায়েয আছে। সুতরাং কেউ যদি উঠায়, তাহলে প্রকৃত মালিক আসার আগ পর্যন্ত প্রচার করতে হবে।

মক্কা বিজয়ের ঘটনায় এও উল্লেখ আছে যে, কাবা ঘর থেকে মূর্তি ও দেব-দেবীর ছবিগুলো বের করার পূর্বে নাবী তাতে প্রবেশ করেন নি। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মন্দির এবং যেখানে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে সলাত আদায় করা জায়েয নেই। মূর্তির স্থানে সলাত আদায় করা পেশাব-পায়খানার স্থানে সলাত পড়ার চেয়েও অধিক দোষণীয়।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 হুনাইনের যুদ্ধ

📄 হুনাইনের যুদ্ধ


হাওয়াযেন গোত্র যখন মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের সংবাদ পেল তখন মালেক বিন আওয়ফ হাওয়াযেন গোত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে একত্রিত করল। এই বার আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবী এবং তাঁর বান্দাদেরকে এমন এক বিরাট শক্তির মাধ্যমে বিজয় দান করলেন, যা মুসলিমদের নিকট ইতিপূর্বে ছিলনা। সাহায্য কেবল আল্লাহর পক্ষ হতেই আগমণ করে থাকে।

আল্লাহ্ তা'আলার হিকমতের দাবী এই ছিল যে, মুসলমানদের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধের প্রথম দিকে তাদেরকে পরাজয়ের স্বাদ ভোগ করালেন। যাতে করে তারা দম্ভ না করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রসূল এবং মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন। বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে আরবদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং হুনাইনের যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই উভয় যুদ্ধেই ফিরিস্তাগণ মুসলমানদের পক্ষে স্বশরীরে যুদ্ধ করেছেন।

হাওয়াযেন গোত্র যখন মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের সংবাদ পেল তখন মালেক বিন আওয়ফ হাওয়াযেন গোত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে একত্রিত করল। এই বার আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবী এবং তাঁর বান্দাদেরকে এমন এক বিরাট শক্তির মাধ্যমে বিজয় দান করলেন, যা মুসলিমদের নিকট ইতিপূর্বে ছিলনা। সাহায্য কেবল আল্লাহর পক্ষ হতেই আগমণ করে থাকে।

আল্লাহ্ তা'আলার হিকমতের দাবী এই ছিল যে, মুসলমানদের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধের প্রথম দিকে তাদেরকে পরাজয়ের স্বাদ ভোগ করালেন। যাতে করে তারা দম্ভ না করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রসূল এবং মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন। বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে আরবদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং হুনাইনের যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই উভয় যুদ্ধেই ফিরিস্তাগণ মুসলমানদের পক্ষে স্বশরীরে যুদ্ধ করেছেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 হুনাইন যুদ্ধ থেকে নিম্নলিখিত শিক্ষাগুলো গ্রহণ করা যায়

📄 হুনাইন যুদ্ধ থেকে নিম্নলিখিত শিক্ষাগুলো গ্রহণ করা যায়


> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে জানা যায় যে, শত্রুদের নিকট থেকে যোদ্ধাস্ত্র ধার নেওয়া যায়।
> অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে যাওয়া আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী নয়।
> নাবী সাফওয়ানের নিকট থেকে যুদ্ধের হাতিয়ার ধার নেওয়ার শর্ত করেছিলেন যে, তিনি এর দায়-দায়িত্ব বহন করবেন।
> শত্রুদের ঘোড়া এবং অন্যান্য বাহনকেও আহত করা জায়েয।
> এখান থেকে আরও জানা যায় যে, নাবী ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে রসূল কে হত্যা করতে চেয়েছিল।
> যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত মালে গণীমত বণ্টন করায় তাড়াহুড়া করা যাবেনা। বরং অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, তারা এর মধ্যেই ইসলাম কবুল করে কি না?
> মুসলিমদের ইমাম যদি জনগণের কাছে মাল দাবী করেন, তাহলে তা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে এও জানা গেল যে, দাস বিক্রি করা, এমন কি পশুর বিনিময়ে পশু বাকীতে এবং কম-বেশী দেয়ার শর্তে বিক্রি করা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধে নাবী বলেছেন- কেউ যদি কোন কাফেরকে হত্যা করতে পারে, তাহলে সেই কাফেরের কাছ থেকে প্রাপ্ত মাল তারই হবে।
> হুনাইন যুদ্ধ হতে এও জানা গেল যে, মামলা-মুকাদ্দমা ও বিচার-ফয়সালায় অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একজনের সাক্ষ্যই যথেষ্ট।
> এ থেকে আরও জানা গেল যে, নিহত কাফেরের কাছ থেকে গৃহিত সম্পদে খুমুস লাগানো হবেনা।
> এই যুদ্ধে নাবী এর অনেকগুলো মু'জেযা প্রকাশিত হয়েছিল।

> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে জানা যায় যে, শত্রুদের নিকট থেকে যোদ্ধাস্ত্র ধার নেওয়া যায়।
> অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে যাওয়া আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী নয়।
> নাবী সাফওয়ানের নিকট থেকে যুদ্ধের হাতিয়ার ধার নেওয়ার শর্ত করেছিলেন যে, তিনি এর দায়-দায়িত্ব বহন করবেন।
> শত্রুদের ঘোড়া এবং অন্যান্য বাহনকেও আহত করা জায়েয।
> এখান থেকে আরও জানা যায় যে, নাবী ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে রসূল কে হত্যা করতে চেয়েছিল।
> যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত মালে গণীমত বণ্টন করায় তাড়াহুড়া করা যাবেনা। বরং অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, তারা এর মধ্যেই ইসলাম কবুল করে কি না?
> মুসলিমদের ইমাম যদি জনগণের কাছে মাল দাবী করেন, তাহলে তা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধের মাধ্যমে এও জানা গেল যে, দাস বিক্রি করা, এমন কি পশুর বিনিময়ে পশু বাকীতে এবং কম-বেশী দেয়ার শর্তে বিক্রি করা জায়েয আছে।
> হুনাইন যুদ্ধে নাবী বলেছেন- কেউ যদি কোন কাফেরকে হত্যা করতে পারে, তাহলে সেই কাফেরের কাছ থেকে প্রাপ্ত মাল তারই হবে।
> হুনাইন যুদ্ধ হতে এও জানা গেল যে, মামলা-মুকাদ্দমা ও বিচার-ফয়সালায় অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একজনের সাক্ষ্যই যথেষ্ট।
> এ থেকে আরও জানা গেল যে, নিহত কাফেরের কাছ থেকে গৃহিত সম্পদে খুমুস লাগানো হবেনা।
> এই যুদ্ধে নাবী এর অনেকগুলো মু'জেযা প্রকাশিত হয়েছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px