📄 মহান বিজয়ের (মক্কা বিজয়ের) ঘটনা
অষ্টম হিজরীর রমযান মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নাবী ১০ হাজার মুজাহিদের একটি বাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। মক্কা আক্রমণ ও জয় করার কারণ হচ্ছে, কুরাইশরা হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। ইসলামী বাহিনী যখন 'মারুয যাহরান' নামক স্থানে পৌঁছল তখন রাতের বেলা নাবী সাহাবীদেরকে আগুন জ্বালানোর আদেশ দিলেন। অতঃপর নাবী মুজাহিদ বাহিনীকে সাথে নিয়ে বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করলেন। প্রথমে তিনি কাবা ঘরের দিকে গেলেন। কাবায় গিয়ে তিনি আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করলেন। কাবার অভ্যন্তরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। ধনুকের মাধ্যমে এক এক করে তিনি মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেললেন। এ সময় তিনি কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করছিলেন-
وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهُقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
"বলঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল"। অতঃপর নাবী কাবার ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং সলাত পড়লেন। তিনি কুরাইশদেরকে সম্বোধন করে বললেন- হে কুরাইশ সম্প্রদায়? তোমাদের সাথে আজ আমি কেমন আচরণ করব বলে মনে কর? সকলেই উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করতে লাগল- আমরা আপনার কাছ থেকে খুব ভাল আচরণ কামনা করছি। তিনি বললেন- আজ তোমাদের উপর কোন অভিযোগ নেই। তোমরা মুক্ত-স্বাধীন।
অষ্টম হিজরীর রমযান মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নাবী ১০ হাজার মুজাহিদের একটি বাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। মক্কা আক্রমণ ও জয় করার কারণ হচ্ছে, কুরাইশরা হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। ইসলামী বাহিনী যখন 'মারুয যাহরান' নামক স্থানে পৌঁছল তখন রাতের বেলা নাবী সাহাবীদেরকে আগুন জ্বালানোর আদেশ দিলেন। অতঃপর নাবী মুজাহিদ বাহিনীকে সাথে নিয়ে বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করলেন। প্রথমে তিনি কাবা ঘরের দিকে গেলেন। কাবায় গিয়ে তিনি আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করলেন। কাবার অভ্যন্তরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। ধনুকের মাধ্যমে এক এক করে তিনি মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেললেন। এ সময় তিনি কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করছিলেন-
وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهُقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
"বলঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল"। অতঃপর নাবী কাবার ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং সলাত পড়লেন। তিনি কুরাইশদেরকে সম্বোধন করে বললেন- হে কুরাইশ সম্প্রদায়? তোমাদের সাথে আজ আমি কেমন আচরণ করব বলে মনে কর? সকলেই উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করতে লাগল- আমরা আপনার কাছ থেকে খুব ভাল আচরণ কামনা করছি। তিনি বললেন- আজ তোমাদের উপর কোন অভিযোগ নেই। তোমরা মুক্ত-স্বাধীন।
📄 মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে যে সমস্ত মাসআলা জানা যায়
> চুক্তিবদ্ধ কাফেররা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে তাহলে তাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করা জায়েয আছে। হামলার খবর তাদেরকে জানানো জরুরী নয়।
> চুক্তিবদ্ধদের কোন লোক চুক্তি ভঙ্গ করলে এবং বাকীরা চুক্তি ভঙ্গ না করলেও যদি তারা এতে সম্মতি দেয় তাহলে সকলেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে গণ্য হবে।
> প্রয়োজনে শত্রুদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী শান্তিচুক্তি করা যেতে পারে।
> শত্রুদের সামনে মুসলমানদের সংখ্যা, শক্তি ও শান-শওকত প্রকাশ করা মুস্তাহাব।
> কাফেরদের দূতকে হত্যা করা যাবে না।
> গোয়েন্দা মুসলিম হলেও তাঁকে হত্যা করা জায়েয আছে।
> বিশেষ প্রয়োজনে মহিলাকে উলঙ্গ করার ধমক দেওয়া জায়েয আছে।
> কেউ যদি কোন মুসলমানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দ্বীনের জন্য রসূান্বিত হয়ে কাফের বা মুনাফেক বলে দেয়, তাহলে সে গুনাহগার হবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে আরও জানা গেল যে, ইহরাম ছাড়াই যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশ করা জায়েয।
> মক্কা বিজয়ের দিন রসূল বলেছেন- আল্লাহ্ তা'আলা মক্কাকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। নাবী বলেন- উহাতে রক্তপাত করা যাবেনা। হারামের কাঁটাযুক্ত গাছও কর্তন করা যাবেনা।
> হারাম অঞ্চলের শিকারকে তাড়ানো যাবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনাতে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোন একজন মহিলা যদি একজন বা দুইজন পুরুষকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে প্রদত্ত নিরাপত্তার প্রতি সম্মান করতে হবে।
> মুরতাদের কাছে তাওবা পেশ না করেই তাকে হত্যা করা জায়েয আছে।
টিকাঃ
২৭৩. সূরা হুদ-১১:১১৪
২৭৪. সূরা বাকারা-২: ২৬৪
> চুক্তিবদ্ধ কাফেররা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে তাহলে তাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করা জায়েয আছে। হামলার খবর তাদেরকে জানানো জরুরী নয়।
> চুক্তিবদ্ধদের কোন লোক চুক্তি ভঙ্গ করলে এবং বাকীরা চুক্তি ভঙ্গ না করলেও যদি তারা এতে সম্মতি দেয় তাহলে সকলেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে গণ্য হবে।
> প্রয়োজনে শত্রুদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী শান্তিচুক্তি করা যেতে পারে।
> শত্রুদের সামনে মুসলমানদের সংখ্যা, শক্তি ও শান-শওকত প্রকাশ করা মুস্তাহাব।
> কাফেরদের দূতকে হত্যা করা যাবে না।
> গোয়েন্দা মুসলিম হলেও তাঁকে হত্যা করা জায়েয আছে।
> বিশেষ প্রয়োজনে মহিলাকে উলঙ্গ করার ধমক দেওয়া জায়েয আছে।
> কেউ যদি কোন মুসলমানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দ্বীনের জন্য রসূান্বিত হয়ে কাফের বা মুনাফেক বলে দেয়, তাহলে সে গুনাহগার হবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে আরও জানা গেল যে, ইহরাম ছাড়াই যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশ করা জায়েয।
> মক্কা বিজয়ের দিন রসূল বলেছেন- আল্লাহ্ তা'আলা মক্কাকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। নাবী বলেন- উহাতে রক্তপাত করা যাবেনা। হারামের কাঁটাযুক্ত গাছও কর্তন করা যাবেনা।
> হারাম অঞ্চলের শিকারকে তাড়ানো যাবেনা।
> মক্কা বিজয়ের ঘটনাতে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোন একজন মহিলা যদি একজন বা দুইজন পুরুষকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে প্রদত্ত নিরাপত্তার প্রতি সম্মান করতে হবে।
> মুরতাদের কাছে তাওবা পেশ না করেই তাকে হত্যা করা জায়েয আছে।
টিকাঃ
২৭৩. সূরা হুদ-১১:১১৪
২৭৪. সূরা বাকারা-২: ২৬৪
📄 হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিস কুড়ানো জায়েয নয়
নাবী আরও বলেন- হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিষও কুড়ানো যাবেনা। তবে ঘোষণা করে তার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য কুড়ানো জায়েয আছে। এই হাদীছের মাধ্যমে জানা গেল যে, কোন অবস্থাতেই হারাম অঞ্চলের জিনিষের মালিক হওয়া যাবে না এবং শুধু মালিকের কাছে পৌঁছেয়ে দেয়ার জন্যই তা উঠানো জায়েয আছে। সুতরাং কেউ যদি উঠায়, তাহলে প্রকৃত মালিক আসার আগ পর্যন্ত প্রচার করতে হবে।
মক্কা বিজয়ের ঘটনায় এও উল্লেখ আছে যে, কাবা ঘর থেকে মূর্তি ও দেব-দেবীর ছবিগুলো বের করার পূর্বে নাবী তাতে প্রবেশ করেন নি। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মন্দির এবং যেখানে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে সলাত আদায় করা জায়েয নেই। মূর্তির স্থানে সলাত আদায় করা পেশাব-পায়খানার স্থানে সলাত পড়ার চেয়েও অধিক দোষণীয়।
নাবী আরও বলেন- হারাম অঞ্চলে পড়ে থাকা জিনিষও কুড়ানো যাবেনা। তবে ঘোষণা করে তার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য কুড়ানো জায়েয আছে। এই হাদীছের মাধ্যমে জানা গেল যে, কোন অবস্থাতেই হারাম অঞ্চলের জিনিষের মালিক হওয়া যাবে না এবং শুধু মালিকের কাছে পৌঁছেয়ে দেয়ার জন্যই তা উঠানো জায়েয আছে। সুতরাং কেউ যদি উঠায়, তাহলে প্রকৃত মালিক আসার আগ পর্যন্ত প্রচার করতে হবে।
মক্কা বিজয়ের ঘটনায় এও উল্লেখ আছে যে, কাবা ঘর থেকে মূর্তি ও দেব-দেবীর ছবিগুলো বের করার পূর্বে নাবী তাতে প্রবেশ করেন নি। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মন্দির এবং যেখানে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে সলাত আদায় করা জায়েয নেই। মূর্তির স্থানে সলাত আদায় করা পেশাব-পায়খানার স্থানে সলাত পড়ার চেয়েও অধিক দোষণীয়।
📄 হুনাইনের যুদ্ধ
হাওয়াযেন গোত্র যখন মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের সংবাদ পেল তখন মালেক বিন আওয়ফ হাওয়াযেন গোত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে একত্রিত করল। এই বার আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবী এবং তাঁর বান্দাদেরকে এমন এক বিরাট শক্তির মাধ্যমে বিজয় দান করলেন, যা মুসলিমদের নিকট ইতিপূর্বে ছিলনা। সাহায্য কেবল আল্লাহর পক্ষ হতেই আগমণ করে থাকে।
আল্লাহ্ তা'আলার হিকমতের দাবী এই ছিল যে, মুসলমানদের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধের প্রথম দিকে তাদেরকে পরাজয়ের স্বাদ ভোগ করালেন। যাতে করে তারা দম্ভ না করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রসূল এবং মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন। বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে আরবদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং হুনাইনের যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই উভয় যুদ্ধেই ফিরিস্তাগণ মুসলমানদের পক্ষে স্বশরীরে যুদ্ধ করেছেন।
হাওয়াযেন গোত্র যখন মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের সংবাদ পেল তখন মালেক বিন আওয়ফ হাওয়াযেন গোত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে একত্রিত করল। এই বার আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবী এবং তাঁর বান্দাদেরকে এমন এক বিরাট শক্তির মাধ্যমে বিজয় দান করলেন, যা মুসলিমদের নিকট ইতিপূর্বে ছিলনা। সাহায্য কেবল আল্লাহর পক্ষ হতেই আগমণ করে থাকে।
আল্লাহ্ তা'আলার হিকমতের দাবী এই ছিল যে, মুসলমানদের সংখ্যা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধের প্রথম দিকে তাদেরকে পরাজয়ের স্বাদ ভোগ করালেন। যাতে করে তারা দম্ভ না করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রসূল এবং মুমিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেন। বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে আরবদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং হুনাইনের যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই উভয় যুদ্ধেই ফিরিস্তাগণ মুসলমানদের পক্ষে স্বশরীরে যুদ্ধ করেছেন।