📄 হুদায়বিয়ার ঘটনায় যে সমস্ত ফিকহী মাসায়েল জানা যায়
হুদায়বিয়ার ঘটনায় দলীল পাওয়া যায় যে, হজ্জের মাস সমূহেও উমরাহ করা জায়েয। হজ্জের ন্যায় উমরাহ্এর ক্ষেত্রেও মীকাত হতে ইহরাম বাঁধা উত্তম। এতে আরও দলীল পাওয়া যায় যে, উমরাতে কোরবানীর জানোয়ার সাথে নেয়া সুন্নাত। কোরবানীর জন্তুতে দাগ লাগানোও সুন্নাত; এটি মুছলা বা অঙ্গহানীর শামিল হবেনা। আল্লাহর দুশমনদের মধ্যে ক্রোধের জ্বালা প্রবেশ করানো জায়েয। সেনাপতির উচিত শত্রুদের দেশে গোয়েন্দা প্রেরণ করা। প্রয়োজন বশত যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রাপ্ত ও চুক্তিবদ্ধ মুশরিকদের সহায়তা নেওয়া জায়েয। সেনাপতির উচিত সঠিক মতামত খুঁজে বের করার জন্য সাধারণ সৈনিক ও জনগণের সাথে পরামর্শ করা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই মুশরিকদের শিশু সন্তানদেরকে বন্দী করা জায়েয আছে। অন্যায় কথার প্রতিবাদ করা জরুরী। যদিও সেই কথাটি অবুঝ মানুষ কিংবা কোন পশুকে লক্ষ্য করে বলা হয়। কেননা হুদায়বিয়ার দিন রসূল এর উটনী কাসওয়া যখন বসে পড়ল, তখন লোকেরা বলল যে, রসূল এর উটনী কাসওয়ার অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে। রসূল তাদের কথার প্রতিবাদ করে বললেন- কাসওয়ার অভ্যাস খারাপ হয়নি। পূর্বেও তার অভ্যাস খারাপ ছিলনা। বরং একে সেই আল্লাহ্ তা'আলাই রুখে দিয়েছেন, যিনি আবরাহার হস্তিবাহিনীকে রুখে দিয়েছিলেন।²⁶⁷ দ্বীনি বিষয়কে জোরালোভাবে উপস্থাপন করার জন্য শপথ করা জায়েয আছে।
মুশরিক এবং পাপী লোকেরাও যদি আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতি আহবান জানায়, তাহলে আল্লাহর নিদর্শনের সম্মান রক্ষার্থে তাদের সাথে সহযোগিতা করা জায়েয আছে। হুদায়বিয়ার দিন কতিপয় সাহাবীর হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। উমার তো সেই দিন উমরাহ না করেই হুদায়বিয়া থেকে ফেরত আসাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক সেই দিন রসূল এর ন্যায় জবাব প্রদান করেছিলেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, আবু বকর সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম, সর্বাধিক জ্ঞানী এবং আল্লাহ্ রসূল ও আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন।
এতে আরও জানা গেল যে, নাবী হুদায়বিয়ার ডান দিক থেকে বের হয়েছিলেন। এতে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, হারামের সীমানার মধ্যে এবং এর যেকোন স্থানে সলাত পড়লেই বাড়তি ছাওয়াব পাওয়া যাবে। নাবী এর বাণী- "মাসজিদুল হারামের এক সলাত অন্যন্য মাসজিদের এক লাখ সলাত থেকেও উত্তম"।²⁶⁸ এখানে শুধু মাসজিদকে খাস করা হয়নি। যে ব্যক্তি মক্কার নিকটবর্তী কোন স্থানে অবতরণ করবে, তার উচিৎ হবে হারামের সীমানার বাইরে অবস্থান করা এবং সলাতের সময় হলে হারামের সীমানার মধ্যে সলাত আদায় করা। মুসলমানদের স্বার্থে ইমাম নিজেই শত্রুদের সাথে সন্ধির প্রস্তাব করতে পারেন। মুগীরা বিন শুবা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সাথে বসবাস করত। অতঃপর সে তাদের সাথে গাদ্দারী করে তাদের সম্পদ হস্তগত করে নিয়েছিল। তাই নাবী সেই মালের প্রতি কোন প্রকার দৃষ্টিপাত করেন নি।
সেই দিন আবু বকর উরওয়া বিন মাসউদকে লক্ষ্য করে কড়া কথা বলেছিলেন। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, প্রয়োজনে কঠোর শব্দ ব্যবহার করা জায়েয আছে। বহিরসূত লোক কিংবা কাফেরদের দূতরা বেআদবী করলে বিশেষ স্বার্থে তাতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। হুদায়বিয়ার ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে, নেকফাল (শুভ লক্ষণ) গ্রহণ করা মুস্তাহাব। হুদায়বিয়ার সন্ধিতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মুসলমানদের বিশেষ স্বার্থ অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে মুশরিকদের সাথে চুক্তি করা জায়েয আছে। মাথা কামানো হাজ্জ ও উমরার অনুষ্ঠানের অন্তর্ভূক্ত এবং চুল ছোট করার চেয়ে কামানো উত্তম। হাজ্জ বা উমরাহ সম্পাদনের ইচ্ছায় সফররত ব্যক্তি যেই স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হবে সেখানেই কোরবানীর জন্তু যবেহ করবে। হুদায়বিয়ার সন্ধির এই অংশ অর্থাৎ নারীদেরকে ফেরত দেয়ার বিষয়টি কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত দ্বারা মানসুখ হয়ে গেছে। চুক্তি মোতাবেক কোন মুসলমানকে কাফেরদের দূতের হাতে ফেরত দিলে সেই মুসলিম যদি রাস্তায় সেই দূতদেরকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে কিসাস স্বরূপ ঐ মুসলমানকে হত্যা করা আবশ্যক নয়। মুরতাদের কাছে তাওবা পেশ না করেই তাকে হত্যা করা জায়েয আছে। বিশেষ করে যেই মুরতাদের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য হয়। নাবী মক্কা বিজয়ের দিন মুরতাদ আব্দুল্লাহ্ বিন আবী সারহকে হত্যা করেছিলেন। তাকে তাওবা করার আহবান জানাননি।
টিকাঃ
২৬৭. পবিত্র কাবা ঘর ও মক্কা নগরীর রয়েছে সুমহান মর্যাদা। আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবীর সকল স্থানের উপর মক্কা নগরীকে শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দিয়েছেন। সুতরাং সৃষ্টির লগ্ন থেকেই মানব জাতি কাবা ঘর ও মক্কা নগরীকে সম্মান দিয়ে আসছে। কাবা ঘর ও মক্কা নগরীর প্রতি এই সম্মান শুধু জিন-ইনসানের মধ্যেই সীমিত নয়; বরং পশুপাখির হৃদয়েও আল্লাহ্ তা'আলা কাবা ঘরের প্রতি সম্মান ঢেলে দিয়েছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উটনী বুঝতে সক্ষম হয়েছিল যে, সামনে অগ্রসর হলে এবং মক্কায় প্রবেশ করলে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হতে পারে এবং কাবার সম্মান নষ্ট হতে পারে। তাই উটনী বসে গিয়েছিল। এর আগে আবরাহার হস্তিবাহিনীও একই কারণে কাবায় প্রবেশ করা হতে বিরত ছিল।
২৬৮. ইবনে মাজাহ, তাও. হা/১৪০৬
📄 হুদায়বিয়ার সন্ধিতে কি কি হিকমত রয়েছে?
হুদায়বিয়ার ঘটনায় এমনি অনেক হিকমত রয়েছে, যার সঠিক সংখ্যা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম নিম্নে কয়েকটি হিকমত উল্লেখ করেছেন-
১) মূলতঃ এটি ছিল মহান বিজয় তথা মক্কা বিজয়ের ভূমিকা স্বরূপ। পৃথিবীর বড় বড় ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার চিরাচরিত নিয়ম হচ্ছে, যে কোন বড় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগে তিনি একটি ভূমিকা পেশ করে থাকেন।
২) হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের জন্য একটি বিরাট বিজয় ছিল। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষ পরস্পরকে নিরাপত্তা দিয়েছিল। ফলে লোকেরা পরস্পর মিলে-মিশে বসবাস করার সুযোগ পায়। সেই সুযোগে মুসলিমগণ কাফেরদেরকে কুরআন ও ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পরিবেশ পেলেন।
৩) এই সন্ধিকে আল্লাহ্ তা'আলা মুসলিমদের ঈমান ও ইয়াকীন বৃদ্ধির কারণে পরিণত করেছেন। এর মাধ্যমে পছন্দনীয়-অপছন্দনীয় সকল বিষয়ে রসূল এর সিদ্বান্ত মেনে নেওয়া, তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর ওয়াদা পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় থাকার গুণাবলী অর্জিত হল।
৪) হুদায়বিয়ার সন্ধিকে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রসূলের পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা, তাঁর প্রতি আল্লাহর নেয়ামত পূর্ণ করা এবং তাঁর প্রতি সাহায্য প্রেরণ করে তাঁকে বিজয়ী করার মাধ্যম বানিয়েছেন।
অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের উপর কাফেরদের হাত উঠানোকে (আক্রমণকে) প্রতিহত করার কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- "আল্লাহ্ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের থেকে শত্রুদের স্তব্ধ করে দিয়েছেন- যাতে এটা মুমিনদের জন্যে এক নিদর্শন হয় এবং তোমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন”। মুসলিমদের সংখ্যা অল্প হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে বরাবরই বিজয় দান করেছেন। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা কাফেরদের অন্তরের মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করার কথা আলোচনা করেছেন। সেই জেদ ও হিংসার মুকাবেলায় আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বন্ধুদের অন্তরে প্রশান্তি ও স্বস্তি অবতরণ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- "তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। যদিও এতে মুশরিকরা অসন্তুষ্ট হয়"।²⁶⁹
আল্লাহ্ তা'আলা এই চার মাস মেয়াদের কথা উল্লেখ করেছেন যার শুরু হচ্ছে যুল-হাজ্জ মাসের ১০ তারিখ আর শেষ হচ্ছে রবীউল আওয়াল মাসের ১০ তারিখ। এখানে যে চার মাসের কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা তাদেরকে ভূপৃষ্ঠে পরিভ্রমণ করতে বলা হয়নি। কারণ হারাম সমূহের সবগুলো একসাথে না আসার কারণে তাতে পরিভ্রমণ করা সম্ভবও নয়। চারমাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং চুক্তি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করেছেন, যাদের সাথে কোন অঙ্গিকার ছিলনা, তাদেরকে চারমাস সময় দিয়েছেন। আর যারা অঙ্গিকার পূর্ণ করবেন, তাদের সাথে কৃত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করার আদেশ দিয়েছেন। পরিশেষে সকল কাফের মুসলমান হয়ে গেল। কোন কাফেরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত কুফরীর উপর অবিচল রইল না। যিম্মীদের উপর তিনি জিযিয়া নির্ধারণ করে দিলেন। সুতরাং লোকেরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। (১) নাবী এর সাথে যুদ্ধরত কাফের সম্প্রদায়। (২) নাবী এর সাথে চুক্তিবদ্ধ কাফের সম্প্রদায়। (৩) জিযিয়া প্রদানকারী। অতঃপর চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমরা মুসলমান হয়ে গেল। এখন দুই প্রকারের লোক বাকী থাকল। যুদ্ধকারী ও যিম্মী। পরিশেষে তৎকালে ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী সকল মানুষ তিনভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। মুসলিম, যিম্মী (কর প্রদানকারী) এবং যুদ্ধরত কাফের, যারা নাবী এর পক্ষ হতে ভীত-সন্ত্রস্ত ছিল।
টিকাঃ
২৬৯. সূরা ফাতাহ-৪৮:২৮
📄 খায়বারের যুদ্ধের ঘটনা
মুসা বিন উকবা বলেন- হুদায়বিয়া থেকে ফেরত এসে নাবী ২০ দিন বা এর চেয়ে কম সময় মদীনায় অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি খায়বারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। বের হওয়ার সময় তিনি সিবা বিন উরফুযাকে মদীনায় তাঁর স্থলাভিস্থিক্ত করলেন। নাবী খায়বারে গিয়ে ফজরের সলাত পড়লেন। নাবী এর আক্রমণের খবর যেহেতু তাদের জানা ছিল না, তাই তারা সকাল বেলা তাদের চাষাবাদের জমির দিকে বের হচ্ছিল। তারা মুসলিম বাহিনীকে দেখে বলল- আল্লাহর শপথ! এই তো মুহাম্মাদ এবং তাঁর বাহিনী এসে গেছে। এই বলে তারা নিজেদের দূর্গের মধ্যে আশ্রয় নিল। নাবী তখন বললেন- আল্লাহু আকবার! খায়বার বরবাদ হয়ে গিয়েছে। আমরা যখন সকাল বেলা কোন সম্প্রদায়ের আঙ্গিনায় অবতরণ করি, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সকাল বেলাটি হবে খুবই মন্দ।
অতঃপর নাবী আলীকে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। মুসলিম বাহিনী যখন গাধার গোশত খেতে চাইল তখন রসূল তাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করলেন। পরিশেষে তাদের সাথে এই শর্তে মীমাংসার চুক্তি করলেন যে, তারা খায়বার ছেড়ে চলে যাবে এবং যুদ্ধের হাতিয়ার ব্যতীত যত ইচ্ছা সম্পদ নিয়ে যেতে পারবে। তবে স্বর্ণ ও রৌপ্য রসূল এর জন্য রেখে যেতে হবে। আর শর্ত করা হল যে, তারা কোন কিছু গোপন করতে পারবেনা। তারা যখন হুআই বিন আখতাবের সম্পদ লুকিয়ে ফেলল, নাবী অনুসন্ধানের মাধ্যমে তা বের করলেন এবং আবুল হুকাইকের দুই পুত্রকে হত্যা করলেন। রসূল সাফিয়া বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাবকে বন্দনী করলেন এবং পরে তাঁকে মুক্ত করে দিয়ে বিয়ে করলেন।
নাবী খায়বারের ভূমিকে ৩৬ ভাগে বিভক্ত করলেন। এই যুদ্ধের সময় নাবী এর চাচাতো ভাই জা'ফর বিন আবী তালেব এবং তাঁর সাথীগণ ও আবু মুসা আশআরী স্বগোত্রীয় লোকদেরকে নিয়ে উপস্থিত হলেন। এ যুদ্ধেই একজন ইহুদী মহিলা নাবী এর জন্য বিষ মিশ্রিত ছাগলের গোশত হাদীয়া (উপহার) দিল। তিনি এবং তাঁর কয়েকজন সাহাবী সেটি খেলেন। বিশর বিন বারা মৃত্যু বরণ করলে নাবী সেই মহিলাকে হত্যা করেছিলেন। মক্কায় যখন খায়বারের যুদ্ধের খবর পৌঁছল, তখন কুরাইশরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেল এবং তারা পরস্পর বাজি ধরল। হাজ্জাজ বিন ইলাত খায়বার বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং বিশেষ কৌশলে মক্কা থেকে তার সমস্ত সম্পদ নিয়ে আসলেন। উমার এর খেলাফতকালেও তারা সেখানে অবস্থান করেছিল। কেননা তায়মা এবং ওয়াদীউল কুরা সেই সময় শামের (সিরিয়ার) অঞ্চল হিসেবেই গণ্য হত।
📄 খায়বারের যুদ্ধ থেকে যে সমস্ত মাসআলা জানা যায়
> প্রয়োজন বশতঃ হারাম মাসেও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে। কেননা রসূল মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।
> গণীমতের মাল বন্টনের সময় অশ্বারোহী যোদ্ধাকে দিতে হবে তিন অংশ এবং পদাতিক সৈন্যকে দিতে হবে এক অংশ।
> যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোন সৈনিক যদি খাদ্যদ্রব্য পায়, তাহলে সে ঐ খাদ্যদ্রব্য থেকে খেতে পারবে। তা মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করার প্রয়োজন নেই। কেননা আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল রসূল এর উপস্থিতিতে এক থলে চর্বি একাই নিয়েছিলেন।
> যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে কেউ যদি উপস্থিত হয়, তাহলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের অনুমতি ব্যতীত তাকে গণীমতের অংশ দেয়া যাবেনা।
> খায়বারের যুদ্ধে গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম ঘোষণা করা হয়।
> ইমামের জন্য যুদ্ধ বিরতির চুক্তি করা জায়েয আছে। তিনি ইচ্ছা করলে যে কোন সময় সেই চুক্তির পরিসমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারেন।
> চুক্তি করার সময় শর্ত করা জায়েয আছে।
> অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার পরও আটকিয়ে রাখা জায়েয আছে। এটি ন্যায়পরায়ণ শরীয়তের অন্তর্ভূক্ত, কোন ক্রমেই তা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত নয়।
> সুষ্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া গেলেও আলামত দ্বারা বিচার করা জায়েয আছে।
> যিম্মীরা যদি চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তার কোন গ্যারান্টি থাকেনা। তখন তাদের জান-মাল হালাল হয়ে যাবে।
> গণীমতের মাল ভাগ হওয়ার পূর্বে কেউ যদি তা থেকে কিছু নিয়ে নেয়, তাহলে সে ঐ বস্তুর মালিক হয়ে যায়না।
> নেকফাল (শুভ লক্ষণ) গ্রহণ করা মুস্তাহাব। খায়বারবাসীদেরকে কোদাল নিয়ে বের হতে দেখে নাবী বলেছিলেন- খায়বার ধ্বংস হবে।
> মুসলিমদের সাথে চুক্তি করার পর অমুসলিমরা যদি সেই চুক্তি ভঙ্গ করে এবং ভঙ্গকারী সম্প্রদায় যদি প্রভাবশালী হয়, তাহলে তাদের মহিলাদের ক্ষেত্রেও চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
> নিজের দাসীকে মুক্ত করে বিবাহ করা এবং মুক্ত করাকেই বিবাহের মোহরানা নির্ধারণ করা জায়েয আছে।
> নিজের হক আদায় করতে গিয়ে নিজের ব্যাপারে বা অন্যের ব্যাপারে মিথ্যা বলা জায়েয আছে। তবে শর্ত হল, যাতে এ রূপ মিথ্যা বলায় অন্যের কোন ক্ষতি না হয় এবং সেই সাথে তার উদ্দেশ্যও হাসিল হয়।
> অমুসলিমদের হাদীয়া (উপহার) গ্রহণ করা জায়েয আছে।
> সফর অবস্থায় বিয়ে করা ও নব বধুর সাথে বাসর করাও জায়েয।
> কেউ যদি কোন মুসলিমকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করে, তাহলে হত্যাকারীকেও কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে।
> আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও খৃষ্টানদের যবেহ কৃত পশুর গোশত এবং তাদের খাদ্য মুসলিমদের জন্য হালাল।
> প্রয়োজন বশতঃ হারাম মাসেও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে। কেননা রসূল মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।
> গণীমতের মাল বন্টনের সময় অশ্বারোহী যোদ্ধাকে দিতে হবে তিন অংশ এবং পদাতিক সৈন্যকে দিতে হবে এক অংশ।
> যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোন সৈনিক যদি খাদ্যদ্রব্য পায়, তাহলে সে ঐ খাদ্যদ্রব্য থেকে খেতে পারবে। তা মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করার প্রয়োজন নেই। কেননা আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল রসূল এর উপস্থিতিতে এক থলে চর্বি একাই নিয়েছিলেন।
> যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে কেউ যদি উপস্থিত হয়, তাহলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের অনুমতি ব্যতীত তাকে গণীমতের অংশ দেয়া যাবেনা।
> খায়বারের যুদ্ধে গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম ঘোষণা করা হয়।
> ইমামের জন্য যুদ্ধ বিরতির চুক্তি করা জায়েয আছে। তিনি ইচ্ছা করলে যে কোন সময় সেই চুক্তির পরিসমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারেন।
> চুক্তি করার সময় শর্ত করা জায়েয আছে।
> অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার পরও আটকিয়ে রাখা জায়েয আছে। এটি ন্যায়পরায়ণ শরীয়তের অন্তর্ভূক্ত, কোন ক্রমেই তা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত নয়।
> সুষ্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া গেলেও আলামত দ্বারা বিচার করা জায়েয আছে।
> যিম্মীরা যদি চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তার কোন গ্যারান্টি থাকেনা। তখন তাদের জান-মাল হালাল হয়ে যাবে।
> গণীমতের মাল ভাগ হওয়ার পূর্বে কেউ যদি তা থেকে কিছু নিয়ে নেয়, তাহলে সে ঐ বস্তুর মালিক হয়ে যায়না।
> নেকফাল (শুভ লক্ষণ) গ্রহণ করা মুস্তাহাব। খায়বারবাসীদেরকে কোদাল নিয়ে বের হতে দেখে নাবী বলেছিলেন- খায়বার ধ্বংস হবে।
> মুসলিমদের সাথে চুক্তি করার পর অমুসলিমরা যদি সেই চুক্তি ভঙ্গ করে এবং ভঙ্গকারী সম্প্রদায় যদি প্রভাবশালী হয়, তাহলে তাদের মহিলাদের ক্ষেত্রেও চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
> নিজের দাসীকে মুক্ত করে বিবাহ করা এবং মুক্ত করাকেই বিবাহের মোহরানা নির্ধারণ করা জায়েয আছে।
> নিজের হক আদায় করতে গিয়ে নিজের ব্যাপারে বা অন্যের ব্যাপারে মিথ্যা বলা জায়েয আছে। তবে শর্ত হল, যাতে এ রূপ মিথ্যা বলায় অন্যের কোন ক্ষতি না হয় এবং সেই সাথে তার উদ্দেশ্যও হাসিল হয়।
> অমুসলিমদের হাদীয়া (উপহার) গ্রহণ করা জায়েয আছে।
> সফর অবস্থায় বিয়ে করা ও নব বধুর সাথে বাসর করাও জায়েয।
> কেউ যদি কোন মুসলিমকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করে, তাহলে হত্যাকারীকেও কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে।
> আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও খৃষ্টানদের যবেহ কৃত পশুর গোশত এবং তাদের খাদ্য মুসলিমদের জন্য হালাল।