📄 জিহাদের ময়দানে অবতরণের পূর্বে নবী (সাঃ) এর হিদায়াত
নাবী দিবসের প্রথমভাগে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে অবতরণ করা পছন্দ করতেন। সফরে বের হওয়ার সময়ও তিনি দিবসের প্রথম ভাগেই বের হতেন। দিবসের শুরুতে জিহাদ শুরু না করতে পারলে সূর্য ঢলা, বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং মদদে ইলাহী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন।
জিহাদের শুরুতে তিনি সাহাবীদের থেকে এই মর্মে বায়আত নিতেন যে, তারা পলায়ন করবেনা। কখনও তিনি মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর রাহে জিহাদ করার এবং ইসলামের উপর অবিচল থাকার বায়আত নিতেন। মক্কা বিজয়ের পূর্বে তিনি হিজরতের বায়আতও নিয়েছেন। ঠিক তেমনি আল্লাহর তাওহীদ এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করার বায়আত নিয়েছেন।
তিনি একদল সাহাবীর সাথে এই মর্মে বায়আত নিলেন যে, তারা কারও কাছে কিছুই চাইবেনা। তাই তাদের কারও হাত থেকে ঘোড়ার চাবুক পড়ে গেলে নিজেই বাহন থেকে নেমে চাবুক উঠিয়ে নিতেন। কাউকে এ কথা বলতেন না যে, আমার চাবুকটি উঠিয়ে দাও।
জিহাদের ময়দানে নামার আগে যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করতেন এবং উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতেন। চলার পথে তিনি সবার পিছনে চলতেন এবং দুর্বলদেরকে সাথে নিয়ে চলতেন। কেউ পিছনে পড়ে গেলে তাকে স্বীয় বাহনের পিছনে উঠিয়ে নিতেন। চলার পথে সাহাবীদের সাথে তিনি সর্বাধিক নরম ব্যবহার করতেন।
তিনি কোন জিহাদে বের হওয়ার ইচ্ছা করলে তাওরীয়া করতেন (যেদিকে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, সেদিকের কথা না বলে অস্পষ্ট করে অন্যদিকে যাওয়ার কথা বলতেন)। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, তিনি হুনাইনের যুদ্ধে বের হওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করলেন নজদের রাস্তা কোন দিকে? সেখানকার অবস্থা কেমন? সেখানে কোন সম্প্রদায়ের দুশমনরা বসবাস করে? ইত্যাদি। এভাবে তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে কার্য সম্পাদন করতেন। আর তিনি বলতেন- যুদ্ধ হচ্ছে এক প্রকার ধোঁকা। তিনি গোয়েন্দা পাঠিয়ে শত্রুদের খবরা-খবর এবং তাদের গতিবিধি জানার চেষ্টা করতেন এবং অগ্রগামী সৈনিকদেরকে তা বলে দিতেন। তিনি জিহাদের সময় পাহারাদারও নিযুক্ত করতেন।
আর যখন শত্রুদের সাথে মুকাবেলা শুরু হত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করতেন, তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতেন। সে সময় তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ বেশী বেশী আল্লাহর যিকির করতেন এবং তাদের আওয়াজ খুব নীচু রাখতেন।
জিহাদের ময়দানে তিনি সৈনিকদেরকে সুন্দরভাবে সাজাতেন এবং সকল দিকেই খেয়াল রাখতেন। তাঁর আদেশ পেয়েই সৈন্যরা সামনের দিকে অগ্রসর হত। তিনি যুদ্ধের পোশাক পরিধান করতেন। কখনও তিনি দু'টি লৌহ বর্ম পরিধান করে বের হয়েছেন। যুদ্ধের সময় তিনি ছোট ও বড় আকারের পতাকা ধারণ করতেন।
তিনি যখন কোন গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদ করে জয়লাভ করতেন, তখন তিনি তাদের আঙ্গিনায় তিন দিন অবস্থান করতেন। অতঃপর সেখান থেকে ফেরত আসতেন।
তিনি যখন চূড়ান্ত আক্রমণের ইচ্ছা করতেন তখন আযানের সময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। সেখান থেকে আযানের শব্দ শুনা গেলে হামলা করা থেকে বিরত থাকতেন। আর আযানের শব্দ না শুনলে আক্রমণ করতেন। কখনও তিনি রাতে শত্রুদের উপর হামলা করতেন। কখনও তিনি দিনের বেলাতেই হঠাৎ আক্রমণ করতেন।
তিনি বৃহস্পতিবার সকাল বেলা বের হওয়া পছন্দ করতেন। রসূল এর সৈনিকরা যখন ময়দানে অবতরণ করতেন, তখন তাদের একজন অন্যজনের সাথে মিলে এবং সারিবদ্ধ হয়ে এমনভাবে দাঁড়াতেন যে, একটি চাদর তাদের উপর ফেলে দিলে তা সকলকেই আবৃত করে ফেলত।
তিনি সৈন্যদেরকে কাতারবন্দী করতেন এবং নিজ হাতে কাতার সোজা করতেন। তখন তিনি বলতেন- হে অমুক! আগে বাড়। হে অমুক পিছনে সরে এসো। তিনি পছন্দ করতেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ গোত্রের পতাকা তলে থেকেই যুদ্ধ করুক। শত্রুদের সাথে মুকাবেলা করার সময় তিনি বলতেন
«اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الكِتَابِ ومُجْرِى السَّحَابِ وهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمُهُمْ وَانصُرْنَا عَلَيْهِم “হে আল্লাহ্! কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শত্রু সৈন্যদেরকে পরাজিতকারী। তাদেরকে পরাজিত কর এবং আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর"। কখনও তিনি বলতেন-
সায়ুহযামুল জামউ ওয়ায়ুওয়াল্লুন আদ দুবুর বালিস সাআতু মাও ইদুহুম ওয়াস সাআতু আদহা ওয়া আমাররু "এ দল তো অচিরেই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর। (সূরা কমার-৫৪:৪৫-৪৬) তিনি আরও বলতেন- হে আল্লাহ্! আমাদের উপর তোমার সাহায্য নাযিল কর"। তিনি আরও বলতেন-
اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَأَنتَ نَصِيرِي وَبِكَ أُقَاتِلُ “হে আল্লাহ্! তুমি আমার বাহু (শক্তি)। তুমি আমার মদদগার। তোমার পথেই এবং তোমার জন্যেই আমি যুদ্ধ করি"।
যুদ্ধ যখন প্রকট ও কঠোর আকার ধারণ করত এবং শত্রুরা তাঁর নিকটবর্তী হত, তখন তিনি নিজের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রকাশ করে বলতেন- "আমি সত্য নাবী, মিথ্যুক নই", আমি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র”। যুদ্ধ কঠিন আকার ধারণ করলে লোকেরা রসূল এর কাছে এসে আশ্রয় নিত। যুদ্ধের সময় রসূল তাঁর সাহাবীদের জন্য এমন কিছু সংকেত নির্ধারণ করতেন, যার মাধ্যমে তাদেরকে চিনা যেত। কোন এক যুদ্ধে তাদের সংকেত ছিল, 'আমিত', 'আমিত', কোন এক যুদ্ধে ছিল 'ইয়া মানসুর আমিত' আবার অন্য এক যুদ্ধে তাদের সংকেত ছিল হা মিম লা ইউনসারূন।
টিকাঃ
২৪২. সহীহ আত-তিরমিযী, মাখ, হা/৩৫৮৪, মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১২৯৩২
📄 গণীমতের মাল বণ্টন
তিনি যখন দুশমনদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতেন, তখন একজন ঘোষককে ঘোষণা করার আদেশ দিতেন। তখন গণীমতের সমস্ত মাল একত্রিত করা হত। গণীমত বন্টনের পূর্বে নিহত কাফেরের সালাব তথা তার কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ তার হত্যাকারীকেই দিয়ে দিতেন। অতঃপর তিনি গণীমতের মাল থেকে পাঁচ ভাগের একভাগ বের করে নিতেন। আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি তা ব্যয় করতেন এবং মুসলমানদের কল্যাণমূলক কাজে খরচ করার আদেশ দিতেন। আর যা বাকী থাকত, তা থেকে ঐ সমস্ত লোকদেরকে দান করতেন, যাদের জন্য গণীমতের মাল থেকে অংশ দেয়ার বিধান রাখা হয়নি। যেমন নারী, শিশু এবং দাস-দাসীগণ। অতঃপর বাকী সম্পদ মুজাহিদদের মাঝে সমান হারে ভাগ করে দিতেন। অশ্বারোহী যোদ্ধাকে তিন অংশ প্রদান করতেন। এক অংশ অশ্বারোহী মুজাহিদের জন্য। দুই অংশ তার ঘোড়ার জন্য। পদাতিক সৈনিককে দিতেন এক অংশ। এটিই সঠিক মত। তিনি গণীমতের মূল সম্পদ থেকে প্রয়োজন অনুপাতে মুসলমানদের কাজেও ব্যয় করতেন।
কোন এক যুদ্ধে তিনি সালামা বিন আকওয়া কে পদাতিক ও অশ্বারোহীর অংশ একত্রিত করে মোট পাঁচ অংশ প্রদান করেছেন। যুদ্ধ ক্ষেত্রে তাঁর বীরত্ব এবং অন্যান্য ক্রিয়া কলাপের কারণেই তিনি এমনটি করেছিলেন। গণীমতের মাল বন্টনের ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল ও শক্তিশালীর মধ্যে কোন পার্থক্য করতেন না। সকলকেই সমান করে প্রদান করতেন। তবে তিনি কাউকে অতিরিক্ত কিছু দিলে সে কথা ভিন্ন। শত্রুদের দেশে হামলা করার সময় তিনি প্রথমে সেনাবাহিনীর ছোট একটি দল প্রেরণ করতেন। তারা যদি গণীমত সংগ্রহ করতে পারত তাহলে তা থেকে এক পঞ্চমাংশ বের করে নিয়ে বাকী চার অংশের এক অংশ নফল হিসাবে হামলাকারী সৈনিকদের মাঝে ভাগ করে দিতেন। যা বাকী থাকত তা প্রেরিত সৈনিক এবং অন্যান্য সৈনিকদের মাঝে ভাগ করে দিতেন।
📄 যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে নবী (সাঃ) এর হিদায়াত
যুদ্ধবন্দীদের কারও উপর তিনি অনুগ্রহ করতেন এবং ছেড়ে দিতেন। বনী হানীফার সরদার ছুমানা বিন উছালকে বন্দী করে তিনি মাসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রেখেছিলেন। পরে তিনি তাকে ছেড়ে দিলে সে মুসলমান হয়ে যায়। আবার কাউকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিতেন। বদরের যুদ্ধে তিনি সকল বন্দীকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। আবার কখনও মুসলিম বন্দীদের বিনিময়েও ছাড়তেন।
নাবী বা তাঁর সাহাবীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, আরব বন্দীদেরকেও দাস বানানো জায়েয আছে। শিশু সন্তানসহ কোন মহিলা বন্দী হলে তিনি মা ও তার সন্তানের পার্থক্য করতে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন- যে ব্যক্তি কোন শিশু ও তার মাতার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তার মাঝে এবং তার প্রিয়জনের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবেন।
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একজন মুশরিক গোয়েন্দাকে হত্যা করেছেন। তবে হাতেব বিন আবী বালতাআকে হত্যা করেন নি, কারণ তিনি বদরের যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তাঁর পবিত্র সুন্নাত এটিও ছিল যে, মুশরিকদের দাসেরা মুসলমানদের দেশে চলে আসলে এবং মুসলমান হয়ে গেলে তাদেরকে আযাদ মনে করা হত।
📄 গণীমত হিসাবে প্রাপ্ত যমীনে রসূল (সাঃ) এর হিদায়াত
রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, বনী কুরায়যা, বনী নযীর এবং খায়বারের অর্ধেক ভূমি মুজাহিদদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। মদীনা বিজয় করেছিলেন কুরআনের মাধ্যমে। মদীনা বাসীগণ স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছে। সুতরাং তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে রেখে দিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের পর মক্কার যমীন মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি। কারণ স্বরূপ কেউ কেউ বলেন, এটি হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র ও ইবাদতের স্থান। তাই এটি আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াক্ফ স্বরূপ। কেউ কেউ বলেছেন- যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের যমীনের ব্যাপারে ইমামের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে এগুলো ভাগ করে দিবেন অথবা ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিবেন। কেননা নাবী খায়বারের যমীন ভাগ করে দিয়েছেন এবং মক্কার যমীন ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এতে বুঝা গেল উভয়টিই জায়েয আছে। আলেমগণ বলেন- যুদ্ধলব্ধ অন্যান্য সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা যমীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মাত ব্যতীত অন্য কোন উম্মাতের জন্য গণীমতের মাল হালাল করেন নি। আল্লাহ তাদের জন্য কাফেরদের ভূমি যমীন ও বসতবাড়ি হালাল করেছেন।
রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, বনী কুরায়যা, বনী নযীর এবং খায়বারের অর্ধেক ভূমি মুজাহিদদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। মদীনা বিজয় করেছিলেন কুরআনের মাধ্যমে। মদীনা বাসীগণ স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছে। সুতরাং তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে রেখে দিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের পর মক্কার যমীন মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি। কারণ স্বরূপ কেউ কেউ বলেন, এটি হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র ও ইবাদতের স্থান। তাই এটি আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াক্ফ স্বরূপ। কেউ কেউ বলেছেন- যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের যমীনের ব্যাপারে ইমামের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে এগুলো ভাগ করে দিবেন অথবা ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিবেন। কেননা নাবী খায়বারের যমীন ভাগ করে দিয়েছেন এবং মক্কার যমীন ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এতে বুঝা গেল উভয়টিই জায়েয আছে। আলেমগণ বলেন- যুদ্ধলব্ধ অন্যান্য সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা যমীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মাত ব্যতীত অন্য কোন উম্মাতের জন্য গণীমতের মাল হালাল করেন নি। আল্লাহ তাদের জন্য কাফেরদের ভূমি যমীন ও বসতবাড়ি হালাল করেছেন।
রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, বনী কুরায়যা, বনী নযীর এবং খায়বারের অর্ধেক ভূমি মুজাহিদদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। মদীনা বিজয় করেছিলেন কুরআনের মাধ্যমে। মদীনা বাসীগণ স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছে। সুতরাং তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে রেখে দিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের পর মক্কার যমীন মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি। কারণ স্বরূপ কেউ কেউ বলেন, এটি হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র ও ইবাদতের স্থান। তাই এটি আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াক্ফ স্বরূপ। কেউ কেউ বলেছেন- যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের যমীনের ব্যাপারে ইমামের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে এগুলো ভাগ করে দিবেন অথবা ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিবেন। কেননা নাবী খায়বারের যমীন ভাগ করে দিয়েছেন এবং মক্কার যমীন ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এতে বুঝা গেল উভয়টিই জায়েয আছে। আলেমগণ বলেন- যুদ্ধলব্ধ অন্যান্য সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা যমীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মাত ব্যতীত অন্য কোন উম্মাতের জন্য গণীমতের মাল হালাল করেন নি। আল্লাহ তাদের জন্য কাফেরদের ভূমি যমীন ও বসতবাড়ি হালাল করেছেন।
রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, বনী কুরায়যা, বনী নযীর এবং খায়বারের অর্ধেক ভূমি মুজাহিদদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। মদীনা বিজয় করেছিলেন কুরআনের মাধ্যমে। মদীনা বাসীগণ স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছে। সুতরাং তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে রেখে দিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের পর মক্কার যমীন মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি। কারণ স্বরূপ কেউ কেউ বলেন, এটি হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র ও ইবাদতের স্থান। তাই এটি আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াক্ফ স্বরূপ। কেউ কেউ বলেছেন- যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের যমীনের ব্যাপারে ইমামের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে এগুলো ভাগ করে দিবেন অথবা ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিবেন। কেননা নাবী খায়বারের যমীন ভাগ করে দিয়েছেন এবং মক্কার যমীন ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এতে বুঝা গেল উভয়টিই জায়েয আছে। আলেমগণ বলেন- যুদ্ধলব্ধ অন্যান্য সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা যমীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মাত ব্যতীত অন্য কোন উম্মাতের জন্য গণীমতের মাল হালাল করেন নি। আল্লাহ তাদের জন্য কাফেরদের ভূমি যমীন ও বসতবাড়ি হালাল করেছেন।
রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, বনী কুরায়যা, বনী নযীর এবং খায়বারের অর্ধেক ভূমি মুজাহিদদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। মদীনা বিজয় করেছিলেন কুরআনের মাধ্যমে। মদীনা বাসীগণ স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুল করেছে। সুতরাং তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে রেখে দিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের পর মক্কার যমীন মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি। কারণ স্বরূপ কেউ কেউ বলেন, এটি হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র ও ইবাদতের স্থান। তাই এটি আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াক্ফ স্বরূপ। কেউ কেউ বলেছেন- যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের যমীনের ব্যাপারে ইমামের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে এগুলো ভাগ করে দিবেন অথবা ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিবেন। কেননা নাবী খায়বারের যমীন ভাগ করে দিয়েছেন এবং মক্কার যমীন ওয়াক্ফ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এতে বুঝা গেল উভয়টিই জায়েয আছে। আলেমগণ বলেন- যুদ্ধলব্ধ অন্যান্য সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা যমীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মাত ব্যতীত অন্য কোন উম্মাতের জন্য গণীমতের মাল হালাল করেন নি। আল্লাহ তাদের জন্য কাফেরদের ভূমি যমীন ও বসতবাড়ি হালাল করেছেন।