📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা

📄 আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা


অতঃপর নাবী আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা করলেন। তাদের সংখ্যা ছিল ৯০ জন। তাদের অর্ধেক ছিলেন মুহাজির ও বাকী অর্ধেক ছিলেন আনসার। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও মৃত্যুর পরে তারা একে অন্যের সম্পদের ওয়ারিছ হতেন। বদরের যুদ্ধের ঘটনা পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ ছিল। পরবর্তীতে যখন কুরআনের এই আয়াত নাযিল হল- (وَأُولُوا الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْลَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ) "বস্তুতঃ আত্মীয়দের কতক কতকের চেয়ে আল্লাহ্র বিধান মতে অধিক হকদার"। (সূরা আনফাল-৮:৭৫) তখন থেকে মৃত্যুর পর ওয়ারিছ হওয়ার বিষয়টি শুধু আত্মীয়দের মাঝেই সীমিত হয়ে গেল। কেউ কেউ বলেন- দ্বিতীয়বার তিনি শুধু মুহাজিরদের কতকের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা করেন।

এইবার তিনি আলীকে নিজের ভাই বানিয়ে নিলেন। কিন্তু প্রথম বার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনার ঘটনাটিই প্রমাণিত। দ্বিতীয়বার তিনি যদি কাউকে ভাই বানাতেন তাহলে তাঁর সর্বাধিক প্রিয় বন্ধু, হিজরতের ও গারে ছাওরের সাথী এবং সর্বোত্তম সাহাবী আবু বকরই তাঁর ভাই হওয়ার অধিক হকদার হতেন। তাঁর ব্যাপারে রসূল বলেছেন-
لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذاً مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ خَلِيلاً لا تَخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً وَلَكِنْ أَخِي وَصَاحِبِي
"আমি যদি যমীনের কাউকে বন্ধু বানাতাম তাহলে আবু বকরকেই বানাতাম। কিন্তু সে আমার ভাই ও সাথী"। এটি ইসলামের সাধারণ ভ্রাতৃত্ব হলেও আবু বকর ছিলেন এর সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। যেমন ছিলেন তিনি সাহাবীদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। রসূল বলেন- আমার আগ্রহ হয় যে আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবীগণ বললেন- হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন- তোমরা আমার সাহাবী। আমার ভাই হচ্ছে এমন ব্যক্তিগণ, যারা আমার পরে আসবে এবং আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে। তারা এখনও আমাকে দেখেনি।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 মদীনার ইহুদীদের সাথে চুক্তি

📄 মদীনার ইহুদীদের সাথে চুক্তি


নাবী মদীনার ইহুদীদের সাথে একটি সন্ধি চুক্তি রচনা করলেন। এই মর্মে নাবী ও তাদের মাঝে একটি লিখিত চুক্তিও সম্পাদিত হল। ইহুদীদের একজন বড় আলেম ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন সালাম। তিনি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিলেন। অন্যরা কুফরীর মধ্যেই রয়ে গেল। মদীনাতে ছিল তিনটি ইহুদী গোত্র। বনু কায়নুকা, বনু নযীর এবং বনু কুরায়যা। এই তিনটি ইহুদী গোত্র রসূল -এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু তিনি অনুগ্রহ করে বনু কায়নুকাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে বনু নযীরকে মদীনা হতে বহিস্কার করেছেন এবং বনু কুরায়যাকে হত্যা করেছেন। আর বনু কুরায়যার অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদেরকে দাসে পরিণত করেছেন। বনু নযীরের ব্যাপারে সূরা হাশর এবং বনু কুরায়যার ব্যাপারে সূরা আহযাব নাযিল হয়েছে।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা

📄 কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা


মদীনায় হিজরতের পর তিনি বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করেই সলাত আদায় করতেন। তিনি জিবরীল (আ) কে বলেছিলেন- আমার আশা, আল্লাহ্ তা'আলা যেন আমার চেহারা ইহুদীদের কিবলা হতে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করলেন- قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ، فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا، فَوَلَّ وَجْهَكَ شَطْرَ المَسْجِدِ الْحَرَامِ "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি তোমাকে সেই কিবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব, যাকে তুমি পছন্দ কর। এখন তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ কর এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকেই মুখ কর"। (সূরা বাকারা-২:১৪৪)
এটি ছিল হিজরতের ১৬ মাস পরের ঘটনা। কিবলা পরিবর্তনের এই ঘটনায় বড় বড় অনেকগুলো হিকমত রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের সন্ধান দেন। তিনিই তাদেরকে এই কিবলার দিকে হিদায়াত করেছেন। এটি মুসলিমদেরই কিবলা, তারাই এদিকে মুখ ফিরানোর হকদার। পরিশেষে আল্লাহ্ তা'আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, মুসলিম মিল্লাতের উপর তাঁর নিয়ামাতকে পরিপূর্ণ করার এবং তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেয়ার জন্যই কিবলাকে পরিবর্তন করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা কিবলা পরিবর্তনের সাথে সাথে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের পূর্বে আযান দেয়াও শরীয়তের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। সেই সাথে যোহর, আসর ও ইশার সলাতের রাকআত সংখ্যাও বাড়িয়ে দুইএর স্থলে চার করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px