📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) এর দাওয়াত এবং ইসলাম গ্রহণে যারা অগ্রগামী ছিলেন

📄 নবী (সাঃ) এর দাওয়াত এবং ইসলাম গ্রহণে যারা অগ্রগামী ছিলেন


যখন তিনি আল্লাহর দিকে আহবান করলেন তখন প্রত্যেক কবীলা (গোত্র) থেকেই লোকেরা সেই দাওয়াত কবুল করল। এই উম্মাতের সিদ্দীক আবু বকর পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করলেন। আবু বকরের আহবানে উছমান, তালহা এবং সা'দ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিলেন। মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করলেন তাঁর জীবন সঙ্গীনি খাদিজা। অতঃপর কিশোরদের মধ্যে আলী ইবনে আবী তালিব সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করলেন। ক্রীতদাসদের মধ্যে যায়েদ বিন হারেছা সর্বাগ্রে ইসলাম কবুল করেন। পাদ্রী ওয়ারাকা বিন নাওফালও ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
লোকেরা একের পর এক আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকল। পরবর্তীতে যখন তিনি তাদের প্রতিমাগুলোর অসারতা বর্ণনা করতে লাগলেন তখন তারা শক্তভাবে তাঁর দাওয়াতের বিরোধীতা শুরু করল। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে তাঁর চাচা আবু তালেবের মাধ্যমে হেফাজত করলেন। আবু তালেবের কুরাইশদের ধর্মের উপর স্থির থাকাতেই ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য বিরাট উপকার ও কল্যাণ নিহিত ছিল।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নাজ্জাশীর রাজ্যে মুসলিমদের নিরাপদ বসবাস এবং কুরাইশদের ষড়যন্ত্র

📄 নাজ্জাশীর রাজ্যে মুসলিমদের নিরাপদ বসবাস এবং কুরাইশদের ষড়যন্ত্র


মুসলিমগণ নাজ্জাশীর দেশে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করছিলেন। কুরাইশরা এই খবর জানতে পেরে তাদেরকে সেখান থেকে ফেরত আনার জন্য আব্দুল্লাহ বিন আবী রাবিআ এবং আমর বিন আসকে পাঠাল। তাদের সাথে নাজ্জাশীর মন জয় করার জন্য অনেক মূল্যবান উপঢৌকনও দিয়ে দিল। কিন্তু নাজ্জাশী তাদেরকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করলেন।
কুরাইশ প্রতিনিধিরা রাজ্যের বড় বড় সেনাপতির মাধ্যমেও সুপারিশ করাল। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হলনা। অতঃপর তারা নাজ্জাশীর কাছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক নতুন ফন্দি বের করল। তারা বলল- মুসলিমরা ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে এক বিরাট কথা বলে থাকে। মুসলিমরা তাঁকে আল্লাহর পুত্র না বলে আল্লাহর বান্দা বলে। নাজ্জাশী তাদেরকে পুনরায় স্বীয় দরবারে ডেকে পাঠালেন। জা'ফর বিন আবু তালেব ছিলেন তাদের দলনেতা। তারা নাজ্জাশীর কাছে প্রবেশ করলে নাজাশী জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা ঈসার ব্যাপারে কি বল? জা'ফর সূরা মারইয়ামের প্রথমাংশ তিলাওয়াত করলেন। তিলাওয়াত শুনে নাজ্জাশী মাটি থেকে একটি কাষ্ঠখন্ড উঠিয়ে বললেন- আল্লাহর কসম! ঈসা (আঃ) এর চেয়ে একটুও বেশী বলেননি। নাজ্জাশী বললেন- তোমরা যাই বল, এটিই আমার কথা। অতঃপর তিনি মুসলিমদেরকে বললেন- তোমরা নিরাপদে আমার রাজ্যে বসবাস করতে থাক। এরপর তিনি কুরাইশদের প্রেরিত দূত দু'জনকে বললেন- তোমরা যদি আমাকে স্বর্ণের একটি পাহাড়ও দান কর তাতেও আমি মুসলিমদেরকে তোমাদের কাছে হস্তান্তর করবনা। অতঃপর তাদেরকে নাজ্জাশীর দরবার হতে তাদের উপঢৌকন ফেরত দিয়ে বের করে দেয়া হল। তারা লজ্জিত হয়ে মক্কায় ফেরত আসল।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) ও বনী হাশেমকে কুরাইশদের বয়কট

📄 নবী (সাঃ) ও বনী হাশেমকে কুরাইশদের বয়কট


অতঃপর হামজাহ এবং অপর একটি দল ইসলাম গ্রহণ করল। কুরাইশরা যখন দেখল রসূল (সঃ) এর দাওয়াত উন্নত হচ্ছে তখন তারা বনী হাশেম এবং বনী আব্দুল মুত্তালিবের বিরুদ্ধে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হল যে, মুহাম্মাদকে হত্যা করার জন্য তাদের হাতে সোপর্দ না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ বলবৎ থাকবে। এই চুক্তিপত্র লিখে তারা কাবা ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখে।
আবু লাহাব ব্যতীত বনী হাশেম এবং বনী আব্দুল মোত্তালেব গোত্রের সকল মুসলিম-কাফের শিআবে আবু তালেব তথা দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি স্থানে আশ্রয় নিল। তারা সেখানে অবরুদ্ধ কোণঠাসা অবস্থায় তিন বছর যাবৎ বসবাস করতে থাকলেন। তারা প্রচন্ড অভাবের সম্মুখীন হলেন। পরিশেষে কতিপয় ব্যক্তির উদ্যোগে চুক্তিপত্রটি ছিঁড়ে ফেলার পর রসূল ঘাটি থেকে বের হলেন। এর ছয় মাস পর আবু তালেব মৃত্যু বরণ করেন। তার তিন দিন পর রসূল এর স্ত্রী খাদীজা মৃত্যু বরণ করেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) এর তায়েফ গমন

📄 নবী (সাঃ) এর তায়েফ গমন


খাদীজা ও আবু তালেবের মৃত্যুর পর কুরাইশরা রসূল এর উপর প্রকাশ্যে নির্যাতন শুরু করল। তাই তিনি এই আশায় তায়েফ গমণ করলেন যে, তায়েফবাসী হয়ত তাঁকে আশ্রয় দিবে। কিন্তু তিনি সেখানে কোন সাহায্যকারী পেলেন না। বরং তারা তাঁকে আরও বেশী কষ্ট দিল। তায়েফের দুষ্টরা তাঁর পিছন দিয়ে গালিগালাজ করছিল এবং পাথর নিক্ষেপ করছিল। পাথরের আঘাতে তাঁর শরীর থেকে রক্ত ঝরে পায়ের জুতা দু'টি লাল হয়ে গেল।
নাবী তায়েফ থেকে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে মক্কায় ফেরত আসলেন। ফেরার পথে তিনি আল্লাহর দরবারে এই প্রসিদ্ধ দু'আটি করলেন- «اللَّهُمَّ إِلَيْكَ أَشْكُو ضَعْفَ قُوَّتِي...»
ফেরার পথে আল্লাহ তা'আলা তাঁর কাছে পাহাড়ের ফিরিস্তা প্রেরণ করলেন। ফিরিস্তা তাঁদের ধ্বংস করে দেওয়ার অনুমতি চাইলেন। উত্তরে নাবী বললেন- বরং আমি চাই আল্লাহ তাদের বংশধর হতে এমন মানুষ সৃষ্টি করবেন যারা আল্লাহর ইবাদত করবে। মক্কার নিকটবর্তী হয়ে তিনি মুতইম বিন আদীর আশ্রয়ে কাবায় প্রবেশ করলেন।

টিকাঃ
২২০. সীরাতে ইবনে হিশাম, ইমাম আলবানী এই বর্ণনাটিকে যঈফ বলেছেন।
২২১. সূরা জিন-৭২:১
২২২. বদর যুদ্ধের দিন বন্দীদের ব্যাপারে আলোচনা চলার সময় নাবী মুতইম বিন আদীর অবদানের কথা স্মরণ করেছিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px