📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে সালাম দেয়ার ব্যাপারে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত

📄 ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে সালাম দেয়ার ব্যাপারে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত


নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- তোমরা ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে আগে সালাম দিওনা। আর তোমরা যখন তাদের সাথে রাস্তায় সাক্ষাত করবে তখন তাদেরকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তার দিকে যেতে বাধ্য কর। তাদের সালামের জবাব দেয়া ওয়াজিব। নাবী একদা একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সকল শ্রেণীর লোকই ছিল, তিনি তাদের সকলকে সালাম দিলেন।

টিকাঃ
১৮৯. আবু দাউদ, আধ্যায়ঃ কিতাবুল আদাব, আলএ. হা/৫২০৫

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 হাঁচি বের হওয়ার সময় নবী (সাঃ) এর সুন্নাত

📄 হাঁচি বের হওয়ার সময় নবী (সাঃ) এর সুন্নাত


সহীহ বুখারীতে নাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- «إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّتَاؤُبَ فَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ؛ فَحَقُّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يُشَمِّتَهُ، وَأَمَّا التَّتَاؤُبُ؛ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ» "নিশ্চয়ই আল্লাহ্ হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্ বলবেঃ তখন যে সকল মুসলমান তা শুনবে, তাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হচ্ছে, ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে তার জবাব দেয়া। আর হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে। তোমাদের কেউ যখন হাই তুলবে, তখন সে যেন সাধ্যানুযায়ী তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।"
তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিবে, তখন সে যেন বলে 'আলহামদু লিল্লাহ'। তার ভাই বা সাথী যেন বলে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ'। যখন হাঁচি দাতার উদ্দেশ্যে 'ইয়ারহাকামুল্লাহ্' বলবে, তখন হাঁচি দাতা যেন বলেঃ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحْ بَالَكُمْ অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের হিদায়াত করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন।

টিকাঃ
১৯৩. বুখারী, তাও. হা/৬২২৩
১৯৪. আল্লাহ্ তা'আলা হাঁচিকে পছন্দ করেন ও ভালবাসেন। এর কারণ হল হাঁচির মাধ্যমে শরীর হালকা হয় এবং তাতে কর্মদ্যোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এ জন্যই আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বলার আদেশ করা হয়েছে।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 হাঁচির উপকারিতা

📄 হাঁচির উপকারিতা


হাঁচির মাধ্যমে হাঁচি দাতার জন্য বিরাট নিয়ামাত অর্জিত হয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। কেননা এর মাধ্যমে শরীরে আটকে পড়া ধোঁয়া ও গ্যাস বের হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী। হাঁচি দেওয়ার পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত যায়।
রসূল-এর যখন হাই আসত, তখন মুখে হাত অথবা কাপড় রাখতেন এবং আওয়াজ নীচু রাখার চেষ্টা করতেন। নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁর সামনে হাঁচি দিল। তিনি 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বললেন। সে পুনরায় হাঁচি দিল। তখন তিনি বললেন- লোকটির ঠান্ডা (সর্দি) লেগেছে। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, তিনবারের বেশী হাঁচি দিলে তার জবাব না দিলেও চলবে।

টিকাঃ
১৯৫. সমকালীন ডাক্তারগণ বলেনঃ হাই তোলার সময় মুখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণ উন্মুক্ত হয় এবং বাতাসের সাথে বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু ও ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে। হাঁচি এর বিপরীত। এর মাধ্যমে শ্বাসযন্ত্র থেকে ধুলোবালি ও রোগ জীবাণু বের হয়ে যায় এবং শরীর পরিষ্কার হয়।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত সফরের আদবসমূহ

📄 নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত সফরের আদবসমূহ


হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, নাবী সফরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যানবাহনে আরোহন করে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। অতঃপর এই দু'আ পাঠ করতেনঃ
«سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى...»
ভ্রমণ থেকে ফেরত এসে তিনি এই দু'আ পাঠ করতেনঃ «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ»
নাবী যখন তার কোন সাহাবীকে সফরে যাওয়ার সময় বিদায় জানাতেন তখন বলতেন- «أَسْتَوْدِعُ الله دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَواتِيمَ عَمَلِكَ»
নাবী এবং তাঁর সাহাবীগণ সফর অবস্থায় যখন উঁচু স্থানে উঠতেন তখন 'আল্লাহু আকবার' বলতেন এবং যখন নীচু স্থানে অবতরণ করতেন তখন 'সুবহানাল্লাহ্' বলতেন। তিনি বলতেন- একা ভ্রমণকারী একটি শয়তান, দু'জন ভ্রমণকারী দু'টি শয়তান এবং তিন জন মিলে একটি কাফেলা তৈরী হয়। তিনি বলতেন- যখন তোমরা ঘাস বিশিষ্ট যমীনের উপর দিয়ে চলবে তখন তোমরা উটকে ঘাস খাওয়ার সুযোগ দাও। দীর্ঘ দিন নিজ বাসস্থানের বাইরে থাকার পর তিনি আগন্তুককে রাতের বেলায় বিনা খবরে হঠাৎ করে গৃহে প্রবেশ করতে নিষেধ করতেন। সফর থেকে ফিরে তিনি মাসজিদ থেকে কাজ শুরু করতেন। তিনি তাতে দু'রাকআত সলাত পড়তেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px