📄 কারও বাড়ীতে দাওয়াত খেলে বাড়ী ওয়ালার জন্য দু‘আ করা
তিনি কারও বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেলে বাড়ি ওয়ালার জন্য দু'আ না করে ফেরত আসতেন না। ইমাম আবু দাউদ আবুল হাইছাম এর ঘটনায় উল্লেখ করেছেন যে, আবুল হাইছাম তাঁকে এবং তাঁর সাহাবীদেরকে দাওয়াত করলেন। খাওয়া শেষে তিনি বললেন- তোমাদের ভাইকে ছাওয়াব দান কর। তারা বললেন- কিভাবে আমরা তাকে ছাওয়াব প্রদান করব? তিনি বললেন- কাউকে যখন কোন ঘরে খাওয়ার জন্য ডাকা হবে তখন পানাহার করার পর সে যদি মেজবানের জন্য (নিমন্ত্রণকারীর জন্য) দু'আ করে তাহলে এটিই হবে ঘর ওয়ালাকে ছাওয়াব দেয়ার নামান্তর। বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একবার সাদ বিন উবাদার ঘরে দাওয়াত খেয়ে এই দু'আ করেছেনঃ «أَفْطَرَ عِنْدَكُم الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ» "রোযাদারগণ তোমাদের নিকট ইফতার করেছে, সৎ লোকেরা তোমাদের খাবার গ্রহণ করেছেন এবং ফিরিস্তাগণ তোমাদের জন্য দু'আ করেছে”।
টিকাঃ
১৮১. আবু দাউদ, আলএ. হা/৩৮৫৪
📄 সালাম ও সালামের উত্তর প্রদানে নবী (সাঃ) এর হিদায়াত
নাবী বলেন- ইসলামের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, খাদ্য প্রদান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া। তিনি সালামের প্রসার ঘটানোর আদেশ দিয়েছেন। নাবী একদা একদল বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন। একবার এক দল মহিলার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতের ইশারায় তাদেরকে সালাম দিলেন।
নাবী এর বাণী- ছোট বড়কে সালাম দিবে, পথচারী উপবিষ্ট লোককে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক লোক বেশী সংখ্যক লোককে সালাম দিবে। কোন গোত্রের কাছে গিয়ে প্রথমেই সালাম দেয়া নাবী -এর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তিনি যখন রাত্রে ঘরে প্রবেশ করতেন তখন এমনভাবে সালাম দিতেন, যাতে ঘরে ঘুমন্ত লোকদের নিদ্রার কোন ব্যঘাত না ঘটে। নাবী এর পবিত্র সুন্নাত এই ছিল যে, তিনি সালাম দেয়ার সময় ‘ওয়া বারাকাতুহু’ পর্যন্ত বলতেন। তিনবার সালাম দেয়া তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল। মুসলিমদের সালামের জবাবে তিনি ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’ বলতেন।
📄 ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে সালাম দেয়ার ব্যাপারে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- তোমরা ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে আগে সালাম দিওনা। আর তোমরা যখন তাদের সাথে রাস্তায় সাক্ষাত করবে তখন তাদেরকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তার দিকে যেতে বাধ্য কর। তাদের সালামের জবাব দেয়া ওয়াজিব। নাবী একদা একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সকল শ্রেণীর লোকই ছিল, তিনি তাদের সকলকে সালাম দিলেন।
টিকাঃ
১৮৯. আবু দাউদ, আধ্যায়ঃ কিতাবুল আদাব, আলএ. হা/৫২০৫
📄 হাঁচি বের হওয়ার সময় নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
সহীহ বুখারীতে নাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- «إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّتَاؤُبَ فَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ؛ فَحَقُّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يُشَمِّتَهُ، وَأَمَّا التَّتَاؤُبُ؛ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ» "নিশ্চয়ই আল্লাহ্ হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্ বলবেঃ তখন যে সকল মুসলমান তা শুনবে, তাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হচ্ছে, ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে তার জবাব দেয়া। আর হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে। তোমাদের কেউ যখন হাই তুলবে, তখন সে যেন সাধ্যানুযায়ী তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।"
তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিবে, তখন সে যেন বলে 'আলহামদু লিল্লাহ'। তার ভাই বা সাথী যেন বলে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ'। যখন হাঁচি দাতার উদ্দেশ্যে 'ইয়ারহাকামুল্লাহ্' বলবে, তখন হাঁচি দাতা যেন বলেঃ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحْ بَالَكُمْ অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের হিদায়াত করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন।
টিকাঃ
১৯৩. বুখারী, তাও. হা/৬২২৩
১৯৪. আল্লাহ্ তা'আলা হাঁচিকে পছন্দ করেন ও ভালবাসেন। এর কারণ হল হাঁচির মাধ্যমে শরীর হালকা হয় এবং তাতে কর্মদ্যোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এ জন্যই আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বলার আদেশ করা হয়েছে।