📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে রসূল (সাঃ) এর সুন্নাত

📄 আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে রসূল (সাঃ) এর সুন্নাত


নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তারজীসহ এবং তারজী ছাড়া- এ দু'টি পদ্ধতিতেই আযান দেয়া সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। একামতের শব্দগুলো একবার করে বলা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে দুইবার করে অর্থাৎ আযানের ন্যায় বলাও জায়েয আছে। তবে قد قامت الصلاة 'কাদকামাতিস সালাহ' বাক্যটি একবার বলা মোটেও প্রমাণিত নয়। এমনিভাবে আযানের শুরুতে চারবার আল্লাহু আকবার বলা সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, দুইবার বলাকে যথেষ্ট মনে করা সহীহ নয়। তিনি উম্মাতের জন্য আযানের সময় এবং আযানের পরে পাঁচ পদ্ধতির দু'আ নির্ধারণ করেছেন। প্রথম দু'আঃ আযান শ্রবণকারী মুআযযিনের সাথে সাথে আযানের শব্দগুলোই উচ্চারণ করবে। তবে হাইয়্যা আলাসসালাহ, হাইয়্যা আলাল্ ফালাহ বলার সময় বলবে: لَاَحَوْলَ وَلَا قُوَّةَ إِلاّ بِاللهِ 'লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হইতে বিরত থাকা সম্ভব নয় এবং আল্লাহর আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায় না। শ্রোতার জন্য حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ এবং لاَحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ - এর উভয়টি একসাথে বলার বিষয়টি নাবী থেকে বর্ণিত হয়নি। তেমনি শুধু মুআযযিনের সাথে حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ বলাকেই যথেষ্ট মনে করার বিষয়টিও প্রমাণিত নয়। এটিই যুক্তি সম্মত। কারণ আযানের বাক্যগুলো হচ্ছে যিকির। حَيَّ عَلَى الصَّলَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ বাক্যদ্বয় দ্বারা সলাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। তাই শ্রোতার জন্য সুন্নাত হচ্ছে সে আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইবে অর্থাৎ لاَ حَوْলَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ বলবে, যার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং তাঁর তাওফীক ব্যতীত সৎকাজে যোগদান করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় দু'আঃ শ্রোতার জন্য এই দু'আটি পাঠ করাও সুন্নাত। নাবী বলেন- যে ব্যক্তি ইহা পাঠ করবে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। দু'আটি হচ্ছেঃ রযীতু বিল্লা-হি রব্বন ওয়া বিল ইসলা-মি দীনান ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান ওয়া রসূলা। "আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি আল্লাহকে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ কে নাবী ও রসূল হিসেবে"।
তৃতীয় দু'আঃ মুআযযিনের উত্তর দেয়ার পর নাবী -এর উপর দুরূদ ও সালাম পেশ করবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ দুরূদ হচ্ছে, যা তিনি তাঁর উম্মাতকে শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছে দুরূদে ইবরাহীম, যা আমরা সলাতে পাঠ করি।
চতুর্থ দু'আঃ রসূল -এর উপর দুরূদ পাঠ করার পর এই দু'আটি পাঠ করবে।
(اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ القَائِمَةِ آতِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ মَقَামًا মَحْمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ) উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ্ দাওয়াতিত্ তা'ম্মাতি ওয়াস্ সালাতিল কায়িমাহ। আ'তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ। ওয়াস্হু মাকামাম মাহমূদানিল্লাযি ওয়াআদ্ তাহু। “হে আল্লাহ্ এই পরিপূর্ণ আহবান এবং এই প্রতিষ্ঠিত সলাতের তুমিই প্রভূ। মুহাম্মাদ -কে দান কর সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান এবং সুমহান মর্যাদা। তাকে প্রতিষ্ঠিত কর প্রশংসিত স্থানে যার অঙ্গীকার তুমি তাঁকে দিয়েছো। তার জন্য কিয়ামত দিবসে আমার শাফাআত আবশ্যক হয়ে যাবে"।
পঞ্চম দু'আঃ তারপর নিজের জন্য দু'আ করবে। সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল বলেন- আযান ও ইকামতের মাঝখানে দু'আ ফেরত দেয়া হয় না। সাহাবীগণ বললেন- হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাতে কি বলব? তিনি বললেন- দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল বিপদ যেমনঃ রেসূ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট এবং আখিরাতের শান্তি থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। এই হাদীসটি সহীহ।

টিকাঃ
১৭৫. আযান দেয়ার সময় আশহাদু আল-লা-ইল্লাল্লাহ এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহু- এই বাক্য দু'টির প্রত্যেকটি প্রথমে ছোট আওয়াজে দুইবার করে মোট চারবার বলার পর পুনরায় আওয়াজ উঁচু করে চারবার উচ্চারণ করে আযান দেয়াকে তারজীর আযান বলা হয়।
১৭৬. আযান ও ইকামতের বাক্যসমূহের ক্ষেত্রে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত ও এর সর্বাধিক বিশুদ্ধ পদ্ধতিঃ আনাস হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ বেলালকে জুড় বাক্যে আযান এবং বেজোড় বাক্যে ইকামত দিতে আদেশ করা হয়েছে। তবে ইকামতের ক্ষেত্রে কাদ কামাতিস্ সালাহ বাক্যটি দুইবার বলার আদেশ দেয়া হয়েছে। ইবনে উমার বলেনঃ আযানের বাক্যগুলো দু'বার করে বলা হত এবং ইকামতের বাক্যগুলো একবার করে বলা হত। তবে (কাদকামাতিস্ সালাহ) বাক্যটি দুইবার বলা হত।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 পানাহার গ্রহণের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত কতিপয় আদব

📄 পানাহার গ্রহণের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত কতিপয় আদব


তিনি যখন খাবারে হাত রাখতেন তখন (بِسْمِ الله) বিসমিল্লাহ্ বলতেন। তিনি তা বলারও আদেশ দিতেন। বিসমিল্লাহ্ বলতে ভুলে গেলে »بِسْمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ أَوْ آخِرِهِ "বিসমিল্লাহ বলে শুরু করছি এবং শেষেও আল্লাহর নাম উচ্চারণ করছি"। এই হাদীসটি সহীহ। সুতরাং খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ্ বলা উচিত। যে ব্যক্তি পানাহার করার সময় বিসমিল্লাহ্ বলবেনা, শয়তান তার পানাহারে অংশীদার হবে। খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ্ ওয়াজিব হওয়ার হাদীসগুলো সহীহ এবং সুস্পষ্ট। এর বিপরীতে কোন হাদীস বা ইজমায়ে উম্মাত বর্ণিত হয়নি।

টিকাঃ
১৭৭. আবুদাউদ, মাপ, হা/ ৩৭৬৭, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/১৮৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৫৫, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০২, হাসান সহীহ, তাহক্বীক্ব: আলবানী।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 সালাম ও হাঁচির জবাব দেয়া

📄 সালাম ও হাঁচির জবাব দেয়া


সালাম ও হাঁচির জবাব দেয়া ওয়াজিব কি না সে ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তবে নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে তখন প্রত্যেক শ্রবণকারী মুসলিমের উপর আবশ্যক হল হাঁচির জবাব দেয়া। অর্থাৎ يرحمك الله 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলা আবশ্যক।
খাদ্য গ্রহণকারী খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ্ না বললে শয়তান তার সাথে শরীক হয়। সুতরাং এখানে একজনের বিসমিল্লাহ্ সকলের জন্য যথেষ্ঠ নয়। অপর পক্ষে সকলের পক্ষ হতে একজন সালামের ও হাঁচির জবাব দিলে যথেষ্ট হবে। তবে সম্মিলিত অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ করার সময় কতিপয়ের বিসমিল্লাহ বলার কারণে শয়তানের অংশগ্রহণ সীমিত হয় এবং যে বিসমিল্লাহ পাঠ করল না, তার সাথে শয়তানের অংশ গ্রহণ থেকেই যায়।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 তিন নিঃশ্বাসে পান করা

📄 তিন নিঃশ্বাসে পান করা


নাবী থেকে বর্ণনা করা হয় যে, তিনি যখন পাত্র থেকে কিছু পান করতেন তখন তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। প্রত্যেক নিঃশ্বাসের সময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তিনি পানাহারের শেষে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেন। নাবী থেকে খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আটি পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়েছেঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ
"আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে বিনা পরিশ্রমে, সহজভাবে এবং আমার পক্ষ হতে শক্তি ব্যয় করা ছাড়াই এই রিযিক প্রদান করেছেন"। অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমার নিজের জন্য কোন কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়। নাবী থেকে নিম্নের দু'আটিও বর্ণনা করা হয়ঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
"সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিম করেছেন।”
নাবী কখনও কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। বরং তিনি কোন খাদ্য অপছন্দ করলে তা বর্জন করতেন এবং চুপ থাকতেন। কখনও তিনি বলতেন- এটিের প্রতি আমার আগ্রহ নেই।

টিকাঃ
১৭৮. সহীহ আত-তিরমিযী, হা/৩৪৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৭৬, মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১৫৬৩২, মিশকাত, মাশা. হা/৪৩৪৩, হাসান সহীহ: আলবানী।
১৭৯. আবুদাউদ, আলএ. হা/ ৩৮৫০, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/৩৪৫৭, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০৪, ইমাম আলবানী এই হাদীছকে যঈফ বলেছেন।

নাবী থেকে বর্ণনা করা হয় যে, তিনি যখন পাত্র থেকে কিছু পান করতেন তখন তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। প্রত্যেক নিঃশ্বাসের সময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তিনি পানাহারের শেষে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেন। নাবী থেকে খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আটি পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়েছেঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ
"আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে বিনা পরিশ্রমে, সহজভাবে এবং আমার পক্ষ হতে শক্তি ব্যয় করা ছাড়াই এই রিযিক প্রদান করেছেন"। অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমার নিজের জন্য কোন কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়। নাবী থেকে নিম্নের দু'আটিও বর্ণনা করা হয়ঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
"সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিম করেছেন।”
নাবী কখনও কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। বরং তিনি কোন খাদ্য অপছন্দ করলে তা বর্জন করতেন এবং চুপ থাকতেন। কখনও তিনি বলতেন- এটিের প্রতি আমার আগ্রহ নেই।

টিকাঃ
১৭৮. সহীহ আত-তিরমিযী, হা/৩৪৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৭৬, মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১৫৬৩২, মিশকাত, মাশা. হা/৪৩৪৩, হাসান সহীহ: আলবানী।
১৭৯. আবুদাউদ, আলএ. হা/ ৩৮৫০, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/৩৪৫৭, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০৪, ইমাম আলবানী এই হাদীছকে যঈফ বলেছেন।

নাবী থেকে বর্ণনা করা হয় যে, তিনি যখন পাত্র থেকে কিছু পান করতেন তখন তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। প্রত্যেক নিঃশ্বাসের সময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তিনি পানাহারের শেষে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেন। নাবী থেকে খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আটি পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়েছেঃ
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ»
"আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে বিনা পরিশ্রমে, সহজভাবে এবং আমার পক্ষ হতে শক্তি ব্যয় করা ছাড়াই এই রিযিক প্রদান করেছেন"। অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমার নিজের জন্য কোন কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়। হাদীছের শেষাংশে এসেছে, যে ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আ পাঠ করবে তার জীবনের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। নাবী থেকে নিম্নের দু'আটিও বর্ণনা করা হয়ঃ
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ»
"সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিম করেছেন।”
নাবী কখনও কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। বরং তিনি কোন খাদ্য অপছন্দ করলে তা বর্জন করতেন এবং চুপ থাকতেন। কখনও তিনি বলতেন- এটির প্রতি আমার আগ্রহ নেই। তিনি কখনও কোন কোন খাদ্যের প্রশংসা করতেন। যেমন তিনি বলেছেন- সির্কা হচ্ছে সর্বোত্তম তরকারি। তিনি ঐ ব্যক্তির অন্তরকে খুশী করার জন্য কথাটি বলেছিলেন, যে নাবী এর জন্য সির্কা পেশ করে বলেছিল- আমাদের কাছে খাল্ তথা সির্কা (ফলের রস বিশেষ) ব্যতীত অন্য কোন তরকারি নেই। সকল প্রকার খাদ্যের উপর সির্কার মর্যাদা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য ছিলনা। তাঁর কাছে সিয়াম অবস্থায় খাদ্য পেশ করা হলে তিনি বলতেন- আমি সায়িম। কোন সিয়ামদারের নিকট খাদ্য পেশ করা হলে তিনি সায়িমকে আদেশ দিতেন, সে যেন খাদ্য পেশকারীর জন্য দু'আ করে। যার নিকট খাদ্য পেশ করা হবে সে যদি সায়িম না হয়ে থাকে তাহলে তার উচিত সেখান থেকে খাওয়া।

টিকাঃ
১৭৭. আবুদাউদ, মাপ, হা/ ৩৭৬৭, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/১৮৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৫৫, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০২, হাসান সহীহ, তাহক্বীক্ব: আলবানী।
১৭৮. সহীহ আত-তিরমিযী, হা/৩৪৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৭৬, মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১৫৬৩২, মিশকাত, মাশা. হা/৪৩৪৩, হাসান সহীহ: আলবানী।
১৭৯. আবুদাউদ, আলএ. হা/ ৩৮৫০, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/৩৪৫৭, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০৪, ইমাম আলবানী এই হাদীছকে যঈফ বলেছেন।

নাবী থেকে বর্ণনা করা হয় যে, তিনি যখন পাত্র থেকে কিছু পান করতেন তখন তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। প্রত্যেক নিঃশ্বাসের সময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তিনি পানাহারের শেষে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেন। নাবী থেকে খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আটি পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়েছেঃ
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي হ্যদা وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ»
"আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে বিনা পরিশ্রমে, সহজভাবে এবং আমার পক্ষ হতে শক্তি ব্যয় করা ছাড়াই এই রিযিক প্রদান করেছেন"। অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমার নিজের জন্য কোন কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়। হাদীছের শেষাংশে এসেছে, যে ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আ পাঠ করবে তার জীবনের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। নাবী থেকে নিম্নের দু'আটিও বর্ণনা করা হয়ঃ
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ»
"সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিম করেছেন।”
নাবী কখনও কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। বরং তিনি কোন খাদ্য অপছন্দ করলে তা বর্জন করতেন এবং চুপ থাকতেন। কখনও তিনি বলতেন- এটিির প্রতি আমার আগ্রহ নেই। তিনি কখনও কোন কোন খাদ্যের প্রশংসা করতেন। যেমন তিনি বলেছেন- সির্কা হচ্ছে সর্বোত্তম তরকারি।

নাবী থেকে বর্ণনা করা হয় যে, তিনি যখন পাত্র থেকে কিছু পান করতেন তখন তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। প্রত্যেক নিঃশ্বাসের সময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তিনি পানাহারের শেষে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেন। নাবী থেকে খাদ্য গ্রহণ শেষে এই দু'আটি পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়েছেঃ
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي হ্যদা وَرَজَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّى وَلَا قُوَّةٍ»
"আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে বিনা পরিশ্রমে, সহজভাবে এবং আমার পক্ষ হতে শক্তি ব্যয় করা ছাড়াই এই রিযিক প্রদান করেছেন"। অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমার নিজের জন্য কোন কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়। নাবী থেকে নিম্নের দু'আটিও বর্ণনা করা হয়ঃ
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ»
"সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিম করেছেন।”
নাবী কখনও কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না। বরং তিনি কোন খাদ্য অপছন্দ করলে তা বর্জন করতেন এবং চুপ থাকতেন। কখনও তিনি বলতেন- এটিির প্রতি আমার আগ্রহ নেই।

টিকাঃ
১৭৭. আবুদাউদ, মাপ, হা/ ৩৭৬৭, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/১৮৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৫৫, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০২, হাসান সহীহ, তাহক্বীক্ব: আলবানী।
১৭৮. সহীহ আত-তিরমিযী, হা/৩৪৫৮, সহীহ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৭৬, মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১৫৬৩২, মিশকাত, মাশা. হা/৪৩৪৩, হাসান সহীহ: আলবানী।
১৭৯. আবুদাউদ, আলএ. হা/ ৩৮৫০, সহীহ আত- তিরমিযী, হা/৩৪৫৭, মিশকাত, মাশা. হা/৪২০৪, ইমাম আলবানী এই হাদীছকে যঈফ বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px