📄 কারও নাম বা উপনাম আবুল কাসেম রাখা
যার সন্তান ছিল এবং যার ছিল না তাদের সকলেরই কুনিয়ত তথা উপনাম রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। শুধু আবুল কাসেম ব্যতীত তিনি অন্য যে কোন উপনাম রাখতে নিষেধ করেন নি। সঠিক কথা হচ্ছে, রসূল এর কুনিয়ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তার জীবদ্দশায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এমনিভাবে নাম ও কুনিয়ত একসাথে রাখাও নিষিদ্ধ।
সালাফদের একটি দল আবু ঈসা কুনিয়ত রাখাকে অপছন্দ করেছেন। অন্য একটি দল অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন- কারাম হচ্ছে মুমিন ব্যক্তির অন্তর। রসূল বলেন- তোমাদের সলাতের নামকরণে গ্রাম্য লোকেরা যেন তোমাদের উপর বিজয়ী না হয়। দেখো সেটি হচ্ছে এশার সলাত। আর গ্রাম্য লোকেরা এটিকে আতামাহ বলে থাকে।
টিকাঃ
১৫১. আবু ঈসা অর্থ ঈসা-এর পিতা। আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এর যেহেতু পিতা ছিল না, তাই আবু ঈসা বা ঈসার বাপ হিসাবে কুনিয়াত রাখাকে একদল আলেম অপছন্দ করেছেন।
১৫২. জাহেলী যুগের আরবরা আঙ্গুর, আঙ্গুরের গাছ এবং আঙ্গুর থেকে নির্মিত মদকে কারাম বলত। ইসলাম এসে আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছে।
যার সন্তান ছিল এবং যার ছিল না তাদের সকলেরই কুনিয়ত তথা উপনাম রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। শুধু আবুল কাসেম ব্যতীত তিনি অন্য যে কোন উপনাম রাখতে নিষেধ করেন নি। সঠিক কথা হচ্ছে, রসূল এর কুনিয়ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তার জীবদ্দশায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এমনিভাবে নাম ও কুনিয়ত একসাথে রাখাও নিষিদ্ধ।
সালাফদের একটি দল আবু ঈসা কুনিয়ত রাখাকে অপছন্দ করেছেন। অন্য একটি দল অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন- কারাম হচ্ছে মুমিন ব্যক্তির অন্তর। রসূল বলেন- তোমাদের সলাতের নামকরণে গ্রাম্য লোকেরা যেন তোমাদের উপর বিজয়ী না হয়। দেখো সেটি হচ্ছে এশার সলাত। আর গ্রাম্য লোকেরা এটিকে আতামাহ বলে থাকে।
টিকাঃ
১৫১. আবু ঈসা অর্থ ঈসা-এর পিতা। আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এর যেহেতু পিতা ছিল না, তাই আবু ঈসা বা ঈসার বাপ হিসাবে কুনিয়াত রাখাকে একদল আলেম অপছন্দ করেছেন।
১৫২. জাহেলী যুগের আরবরা আঙ্গুর, আঙ্গুরের গাছ এবং আঙ্গুর থেকে নির্মিত মদকে কারাম বলত। ইসলাম এসে আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছে।
📄 কথা-বার্তায় সংযত হওয়া এবং শব্দ নির্বাচন ও তা প্রয়োগে নবী (সাঃ) এর সতর্কতা
তিনি তাঁর ভাষণে সুন্দরতম শব্দ নির্বাচন করতেন এবং তাঁর উম্মাতের জন্যও তাই নির্বাচন করেছেন। অশণ্টীল ও কঠোর শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কর্কশভাষী ছিলেন না। সম্মানী ব্যক্তি নয়- এমন ব্যক্তির জন্য তিনি উত্তম শব্দ ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন। মুনাফিক লোককে কখনই সাইয়্যেদ (নেতা) বলা যাবেনা। তিনি আবুল হাকামের নাম পরিবর্তন করে আবু শুরাইহ রেখেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন- প্রকৃত বিচারক তো একমাত্র আল্লাহ্। তিনি চাকরকে আদেশ দিয়েছেন, সে যেন তার মনিবকে রাব্বী তথা আমার প্রভু না বলে। মনিবকে বলেছেন সে যেন স্বীয় চাকরকে আবদী তথা আমার বান্দা না বলে।
এক ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার (চিকিৎসক) হিসাবে দাবী করলে নাবী বললেন- তুমি হলে রফীক (রোগীর প্রতি দয়াকারী)। নাবী বলেন- তোমরা এ কথা বলোনা যে, মা-শা-আল্লাহু ওয়া শা-আ ফুলানু অর্থাৎ আল্লাহ যা চান এবং অমুক যা চায়। বরং বলতে হবে যদি আল্লাহ চান অতঃপর আপনি যদি চান। 'এবং'-এর মাধ্যমে উভয়কে একই বিষয়ে একত্রিত করা হলে উভয়ই সমান ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি তাঁর ভাষণে সুন্দরতম শব্দ নির্বাচন করতেন এবং তাঁর উম্মাতের জন্যও তাই নির্বাচন করেছেন। অশণ্টীল ও কঠোর শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কর্কশভাষী ছিলেন না। সম্মানী ব্যক্তি নয়- এমন ব্যক্তির জন্য তিনি উত্তম শব্দ ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন। মুনাফিক লোককে কখনই সাইয়্যেদ (নেতা) বলা যাবেনা। তিনি আবুল হাকামের নাম পরিবর্তন করে আবু শুরাইহ রেখেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন- প্রকৃত বিচারক তো একমাত্র আল্লাহ্। তিনি চাকরকে আদেশ দিয়েছেন, সে যেন তার মনিবকে রাব্বী তথা আমার প্রভু না বলে। মনিবকে বলেছেন সে যেন স্বীয় চাকরকে আবদী তথা আমার বান্দা না বলে।
এক ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার (চিকিৎসক) হিসাবে দাবী করলে নাবী বললেন- তুমি হলে রফীক (রোগীর প্রতি দয়াকারী)। নাবী বলেন- তোমরা এ কথা বলোনা যে, মা-শা-আল্লাহু ওয়া শা-আ ফুলানু অর্থাৎ আল্লাহ যা চান এবং অমুক যা চায়। বরং বলতে হবে যদি আল্লাহ চান অতঃপর আপনি যদি চান। 'এবং'-এর মাধ্যমে উভয়কে একই বিষয়ে একত্রিত করা হলে উভয়ই সমান ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে।
📄 যদি এমন করতাম, তাহলে এমন হত, যদি এমন না করতাম, তাহলে এমন হতনা- এ ধরণের কথা বলা নিষেধ
কোন কিছু অর্জন করতে ব্যর্থ হলে তিনি এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন যে, যদি এমন করতাম তাহলে এমন হত। কেননা এরূপ ক্ষেত্রে 'যদি' কথাটি শয়তানের কাজকে সহজ করে দেয়। তিনি এর চেয়ে উত্তম কথা শিক্ষা দিয়েছেন এবং এ কথা বলার আদেশ দিয়েছেন যে, ক্বাদারুল্লাহু ওয়া মা-শা-আ ফা'আলা। এটি ছিল আল্লাহর ফয়সালা, তিনি যা চান তাই করেন। যা চলে গেছে তা পুনরায় ফেরত আসবেনা এবং 'যদি' কথাটি ব্যবহার করে ভবিষ্যতেও কোন উপকার পাওয়া যাবেনা।
আল্লাহ্ তা'আলা অপারগতা-অক্ষমতা প্রকাশ করাকে অপছন্দ করেন এবং সতর্কতা অবলম্বন ও কর্মঠ হওয়াকে ভালবাসেন। যা করলে কল্যাণের পথ খুলবে তিনি তা করার আদেশ দিয়েছেন। এই জন্যই নাবী অপারগতা-অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। এ দু’টিই সকল অকল্যাণের দ্বারকে উন্মুক্ত করে।
টিকাঃ
১৫৮. লাও (যদি) শব্দ ব্যবহারের হুকুমঃ অতীতে হাত ছাড়া হয়েছে এমন জিনিসের জন্য বিষণ্ণ, চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে কিংবা অতীতে সংঘটিত কোন দুর্ঘটনার জন্য আফসোস করে এবং তাকদীরের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে লাও শব্দটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
কোন কিছু অর্জন করতে ব্যর্থ হলে তিনি এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন যে, যদি এমন করতাম তাহলে এমন হত। কেননা এরূপ ক্ষেত্রে 'যদি' কথাটি শয়তানের কাজকে সহজ করে দেয়। তিনি এর চেয়ে উত্তম কথা শিক্ষা দিয়েছেন এবং এ কথা বলার আদেশ দিয়েছেন যে, ক্বাদারুল্লাহু ওয়া মা-শা-আ ফা'আলা। এটি ছিল আল্লাহর ফয়সালা, তিনি যা চান তাই করেন। যা চলে গেছে তা পুনরায় ফেরত আসবেনা এবং 'যদি' কথাটি ব্যবহার করে ভবিষ্যতেও কোন উপকার পাওয়া যাবেনা।
আল্লাহ্ তা'আলা অপারগতা-অক্ষমতা প্রকাশ করাকে অপছন্দ করেন এবং সতর্কতা অবলম্বন ও কর্মঠ হওয়াকে ভালবাসেন। যা করলে কল্যাণের পথ খুলবে তিনি তা করার আদেশ দিয়েছেন। এই জন্যই নাবী অপারগতা-অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। এ দু’টিই সকল অকল্যাণের দ্বারকে উন্মুক্ত করে।
টিকাঃ
১৫৮. লাও (যদি) শব্দ ব্যবহারের হুকুমঃ অতীতে হাত ছাড়া হয়েছে এমন জিনিসের জন্য বিষণ্ণ, চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে কিংবা অতীতে সংঘটিত কোন দুর্ঘটনার জন্য আফসোস করে এবং তাকদীরের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে লাও শব্দটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
📄 যিকির তথা আল্লাহর স্মরণের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর যিকির তিনিই সবচেয়ে বেশী করতেন। মূলতঃ তার সকল কথাই আল্লাহর যিকিরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। উম্মাতের জন্য তাঁর আদেশ, নিষেধ, শরীয়ততের বিভিন্ন বিধান নির্ধারণ করা, আল্লাহর নাম ও সিফাত সম্পর্কে সংবাদ দেয়া, আল্লাহর হুকুম-আহকাম, আল্লাহর কর্মসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেয়াও রসূল এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যখন চুপ থাকতেন তখনও অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করতেন। দাঁড়ানো, বসা, শায়িত, চলন্ত, আরোহন, ভ্রমণ এবং নিজ দেশে অবস্থানসহ সকল অবস্থাতেই তিনি আল্লাহর যিকির করতেন।
ঘুম থেকে জেগে তিনি পাঠ করতেনঃ আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন্ নুশুর "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর (ঘুমের) পর জাগ্রত করেছেন। তাঁর দিকেই সকলকে একত্রিত হতে হবে"।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলতেন- «بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ» "বিসমিল্লাহ্। আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হইতে বিরত থাকা যায়না এবং আল্লাহর তাওফীক ছাড়া আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায়না"।
টিকাঃ
১৬৫. বুখারী, তাও. হা/৬৩১৪
১৬৬. আবু দাউদ, আলএ, হা/৫০৯৫
সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর যিকির তিনিই সবচেয়ে বেশী করতেন। মূলতঃ তার সকল কথাই আল্লাহর যিকিরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। উম্মাতের জন্য তাঁর আদেশ, নিষেধ, শরীয়ততের বিভিন্ন বিধান নির্ধারণ করা, আল্লাহর নাম ও সিফাত সম্পর্কে সংবাদ দেয়া, আল্লাহর হুকুম-আহকাম, আল্লাহর কর্মসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেয়াও রসূল এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যখন চুপ থাকতেন তখনও অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করতেন। দাঁড়ানো, বসা, শায়িত, চলন্ত, আরোহন, ভ্রমণ এবং নিজ দেশে অবস্থানসহ সকল অবস্থাতেই তিনি আল্লাহর যিকির করতেন।
ঘুম থেকে জেগে তিনি পাঠ করতেনঃ আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন্ নুশুর "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর (ঘুমের) পর জাগ্রত করেছেন। তাঁর দিকেই সকলকে একত্রিত হতে হবে"।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলতেন- «بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ» "বিসমিল্লাহ্। আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হইতে বিরত থাকা যায়না এবং আল্লাহর তাওফীক ছাড়া আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায়না"।
টিকাঃ
১৬৫. বুখারী, তাও. হা/৬৩১৪
১৬৬. আবু দাউদ, আলএ, হা/৫০৯৫