📄 আকীকার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
মুআত্তা ইমাম মালেক গ্রন্থে এসেছে, ইমাম মালেককে আকীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন- আমি আকীকাহ শব্দটি পছন্দ করিনা। কারণ আকীকাহ শব্দটি আরবী শব্দ হতে গৃহীত। আক্কা অর্থ নাফরমানী করা অবাধ্য হওয়া। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়াকে আরবীতে উকুকুল ওয়ালিদাইন বলা হয়। তাই ইমাম মালেক সন্তান জন্ম উপলক্ষে ইবাদত হিসেবে যেই পশু যবেহ করা হয় তাকে আকীকাহ নামে নামকরণ করাকে অপছন্দ করেছেন। রসূল বলেন- (عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ) "ছেলে সন্তান হলে দু'টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগল দিয়ে আকীকাহ দিতে হবে। ১৪২ তিনি আরও বলেন- (كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُخْلَقُ وَيُسَمَّى») "আকীকাহ না করা হলে সন্তান রিহান (رهان) বন্ধক থাকে”। ১৪৩ সুতরাং সপ্তম দিনে সন্তানের আকীকাহ করা উচিত। সেই সাথে মাথা কামাবে এবং নাম রাখবে। ১৪৪ ভাষাবিদগণ বলেন- রিহান অর্থ হচ্ছে আটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ আকীকাহ না করলে সন্তান শয়তানের প্ররোচনার শিকার হওয়া থেকে মুক্ত হয়না বা পিতা-মাতা সন্তানের সদাচরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন- সে পিতা-মাতার জন্য শাফাআত করা থেকে বঞ্চিত হবে। তবে প্রকাশ্য কথা হচ্ছে সন্তান থেকে যে কল্যাণের আশা করা হয় সে নিজেই সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। আখিরাতে সে শাস্তি পাবে- এটি উদ্দেশ্য নয়। কখনও সন্তান পিতা-মাতার ত্রুটির কারণে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন স্ত্রী সহবাস করার সময় বিসমিল্লাহ্ না বলা (স্ত্রী সহবাসের সময় দু'আ পাঠ না করা)।
ইমাম আবু দাউদ তাঁর মারাসিল গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী হাসান ও হুসাইন এর আকীকাহ করার সময় বলেছেন- দুধ মাতা-এর ঘরে এর একটি ঠ্যাং (রান) পাঠিয়ে দাও, তোমরা এ থেকে খাও এবং অন্যদেরকে খেতে দাও। তবে তোমরা এর কোন হাড় ভেঙ্গোনা।
মাইমুনী বলেন- আমরা পরস্পর আলোচনা করলাম যে, জন্মের কত দিন পর বাচ্চার নাম রাখতে হবে? তখন আবু আব্দুল্লাহ্ আনাস বিন মালেক থেকে বর্ণনা করে বলেন- তৃতীয় দিনে নাম রাখতে হবে। আর সামুরা বলেন- সপ্তম দিনে রাখতে হবে। ১৪৫
টিকাঃ
১৪২. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৪, তিরমিযী মাপ, হা/১৫১৩, ও মুসনাদে আহমাদ।
১৪৩. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৮, আহমাদ, তিরমিযী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ।
১৪৪. আহমাদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।
১৪৫. এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের কথাটি সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ। তিনি বলেন, কথাটি শাফায়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেই শিশুর আকীকা দেওয়া হয়নি, সে যদি মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিন শিশুর শাফায়াত থেকে তার পিতা-মাতা বঞ্চিত হবে। আর হাদীসে একথা প্রমাণিত আছে যে, মুসলমানদের যে সমস্ত শিশু বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করবে, তারা তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে শুপারিশ করবে।
মুআত্তা ইমাম মালেক গ্রন্থে এসেছে, ইমাম মালেককে আকীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন- আমি আকীকাহ শব্দটি পছন্দ করিনা। কারণ আকীকাহ শব্দটি আরবী শব্দ হতে গৃহীত। আক্কা অর্থ নাফরমানী করা অবাধ্য হওয়া। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়াকে আরবীতে উকুকুল ওয়ালিদাইন বলা হয়। তাই ইমাম মালেক সন্তান জন্ম উপলক্ষে ইবাদত হিসেবে যেই পশু যবেহ করা হয় তাকে আকীকাহ নামে নামকরণ করাকে অপছন্দ করেছেন। রসূল বলেন- (عَنِ الْغُلَامِ শَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ) "ছেলে সন্তান হলে দু'টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগল দিয়ে আকীকাহ দিতে হবে। ১৪২ তিনি আরও বলেন- (كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُخْلَقُ وَيُسَمَّى») "আকীকাহ না করা হলে সন্তান রিহান (رهان) বন্ধক থাকে”। ১৪৩ সুতরাং সপ্তম দিনে সন্তানের আকীকাহ করা উচিত। সেই সাথে মাথা কামাবে এবং নাম রাখবে। ১৪৪ ভাষাবিদগণ বলেন- রিহান অর্থ হচ্ছে আটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ আকীকাহ না করলে সন্তান শয়তানের প্ররোচনার শিকার হওয়া থেকে মুক্ত হয়না বা পিতা-মাতা সন্তানের সদাচরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন- সে পিতা-মাতার জন্য শাফাআত করা থেকে বঞ্চিত হবে। তবে প্রকাশ্য কথা হচ্ছে সন্তান থেকে যে কল্যাণের আশা করা হয় সে নিজেই সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। আখিরাতে সে শাস্তি পাবে- এটি উদ্দেশ্য নয়। কখনও সন্তান পিতা-মাতার ত্রুটির কারণে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন স্ত্রী সহবাস করার সময় বিসমিল্লাহ্ না বলা (স্ত্রী সহবাসের সময় দু'আ পাঠ না করা)।
ইমাম আবু দাউদ তাঁর মারাসিল গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী হাসান ও হুসাইন এর আকীকাহ করার সময় বলেছেন- দুধ মাতা-এর ঘরে এর একটি ঠ্যাং (রান) পাঠিয়ে দাও, তোমরা এ থেকে খাও এবং অন্যদেরকে খেতে দাও। তবে তোমরা এর কোন হাড় ভেঙ্গোনা।
মাইমুনী বলেন- আমরা পরস্পর আলোচনা করলাম যে, জন্মের কত দিন পর বাচ্চার নাম রাখতে হবে? তখন আবু আব্দুল্লাহ্ আনাস বিন মালেক থেকে বর্ণনা করে বলেন- তৃতীয় দিনে নাম রাখতে হবে। আর সামুরা বলেন- সপ্তম দিনে রাখতে হবে। ১৪৫
টিকাঃ
১৪২. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৪, তিরমিযী মাপ, হা/১৫১৩, ও মুসনাদে আহমাদ।
১৪৩. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৮, আহমাদ, তিরমিযী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ।
১৪৪. আহমাদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।
১৪৫. এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের কথাটি সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ। তিনি বলেন, কথাটি শাফায়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেই শিশুর আকীকা দেওয়া হয়নি, সে যদি মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিন শিশুর শাফায়াত থেকে তার পিতা-মাতা বঞ্চিত হবে। আর হাদীসে একথা প্রমাণিত আছে যে, মুসলমানদের যে সমস্ত শিশু বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করবে, তারা তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে শুপারিশ করবে।
📄 নাম ও কুনীয়ত (উপনাম) রাখা সম্পর্কে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ঐ ব্যক্তির নাম যে নিজের নাম মালিকুল আমলাক তথা শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ রাখল। কেননা আল্লাহই একমাত্র বাদশাহ। তিনি আরও বলেন- আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সবচেয়ে অধিক সুন্দর নাম হচ্ছে, হারিছ ও হাম্মাম এবং মন্দ নাম হচ্ছে হারব (যুদ্ধ) ও মুররা (তিক্ত)। নাবী আরও বলেন- তোমরা ছেলে সন্তানের নাম ইয়াসার, রাবাহ, নাজিহ এবং আফলাহ্ রাখবেনা।
মন্দ নামকে ভাল নামে পরিবর্তন করা তার পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আসীয়া (পাপী) নাম পরিবর্তন করে জামীলাহ নাম রেখেছেন। উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া এর পূর্বের নাম ছিল বারা (পূণ্যবান)। নাবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়া। আসরামের নাম বদল করে যারআ রেখেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব এর দাদার নাম ছিল হাম্ন (শক্ত মাটি)। তিনি তা পরিবর্তন করে রাখলেন সাহল (নরম ভূমি), যাতে চলাচল করা সহজ এবং যা চাষাবাদের জন্য উপযোগী।
টিকাঃ
১৪৬. ইয়াসার অর্থ সহজ, রাবাহ, নাজিহ ও আফলাহ-এই তিনটি নামের অর্থ হচ্ছে সফল, সফলতা ইত্যাদি ভাল অর্থ। এই শব্দগুলোর দ্বারা কোন ছেলে সন্তানের নাম রাখতে নিষেধ করার কারণ হল, উপরোক্ত নামে যদি কারও নাম রাখা হয় তাহলে সম্ভাবনা আছে যে, অচিরেই তাকে উক্ত নাম ধরে ডাকা হবে। বলা হবে এখানে আফলাহ (সফলতা) নাজিহ (সফলকাম) রাবাহ (লাভবান) আছে কি? সে যদি ঐ স্থানে উপস্থিত না থাকে তাহলে অবশ্যই উত্তর আসবে এখানে সে নাই।
১৪৭. বাব্রা বা এ জাতীয় যে সমস্ত নামের মধ্যে নামকরণকৃত ব্যক্তির পবিত্রতা ও প্রশংসার আভাস রয়েছে সে সমস্ত নাম রাখা ঠিক নয়। তিনি এমন নামে সন্তানের নাম করণ করতে বলেছেন, যাতে বিনয়-নম্রতা ও আল্লাহর আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। যেমন আব্দুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহর দাস-বান্দা।
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ঐ ব্যক্তির নাম যে নিজের নাম মালিকুল আমলাক তথা শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ রাখল। কেননা আল্লাহই একমাত্র বাদশাহ। তিনি আরও বলেন- আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সবচেয়ে অধিক সুন্দর নাম হচ্ছে, হারিছ ও হাম্মাম এবং মন্দ নাম হচ্ছে হারব (যুদ্ধ) ও মুররা (তিক্ত)। নাবী আরও বলেন- তোমরা ছেলে সন্তানের নাম ইয়াসার, রাবাহ, নাজিহ এবং আফলাহ্ রাখবেনা।
মন্দ নামকে ভাল নামে পরিবর্তন করা তার পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আসীয়া (পাপী) নাম পরিবর্তন করে জামীলাহ নাম রেখেছেন। উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া এর পূর্বের নাম ছিল বারা (পূণ্যবান)। নাবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়া। আসরামের নাম বদল করে যারআ রেখেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব এর দাদার নাম ছিল হাম্ন (শক্ত মাটি)। তিনি তা পরিবর্তন করে রাখলেন সাহল (নরম ভূমি), যাতে চলাচল করা সহজ এবং যা চাষাবাদের জন্য উপযোগী।
টিকাঃ
১৪৬. ইয়াসার অর্থ সহজ, রাবাহ, নাজিহ ও আফলাহ-এই তিনটি নামের অর্থ হচ্ছে সফল, সফলতা ইত্যাদি ভাল অর্থ। এই শব্দগুলোর দ্বারা কোন ছেলে সন্তানের নাম রাখতে নিষেধ করার কারণ হল, উপরোক্ত নামে যদি কারও নাম রাখা হয় তাহলে সম্ভাবনা আছে যে, অচিরেই তাকে উক্ত নাম ধরে ডাকা হবে। বলা হবে এখানে আফলাহ (সফলতা) নাজিহ (সফলকাম) রাবাহ (লাভবান) আছে কি? সে যদি ঐ স্থানে উপস্থিত না থাকে তাহলে অবশ্যই উত্তর আসবে এখানে সে নাই।
১৪৭. বাব্রা বা এ জাতীয় যে সমস্ত নামের মধ্যে নামকরণকৃত ব্যক্তির পবিত্রতা ও প্রশংসার আভাস রয়েছে সে সমস্ত নাম রাখা ঠিক নয়। তিনি এমন নামে সন্তানের নাম করণ করতে বলেছেন, যাতে বিনয়-নম্রতা ও আল্লাহর আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। যেমন আব্দুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহর দাস-বান্দা।
📄 কারও নাম বা উপনাম আবুল কাসেম রাখা
যার সন্তান ছিল এবং যার ছিল না তাদের সকলেরই কুনিয়ত তথা উপনাম রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। শুধু আবুল কাসেম ব্যতীত তিনি অন্য যে কোন উপনাম রাখতে নিষেধ করেন নি। সঠিক কথা হচ্ছে, রসূল এর কুনিয়ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তার জীবদ্দশায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এমনিভাবে নাম ও কুনিয়ত একসাথে রাখাও নিষিদ্ধ।
সালাফদের একটি দল আবু ঈসা কুনিয়ত রাখাকে অপছন্দ করেছেন। অন্য একটি দল অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন- কারাম হচ্ছে মুমিন ব্যক্তির অন্তর। রসূল বলেন- তোমাদের সলাতের নামকরণে গ্রাম্য লোকেরা যেন তোমাদের উপর বিজয়ী না হয়। দেখো সেটি হচ্ছে এশার সলাত। আর গ্রাম্য লোকেরা এটিকে আতামাহ বলে থাকে।
টিকাঃ
১৫১. আবু ঈসা অর্থ ঈসা-এর পিতা। আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এর যেহেতু পিতা ছিল না, তাই আবু ঈসা বা ঈসার বাপ হিসাবে কুনিয়াত রাখাকে একদল আলেম অপছন্দ করেছেন।
১৫২. জাহেলী যুগের আরবরা আঙ্গুর, আঙ্গুরের গাছ এবং আঙ্গুর থেকে নির্মিত মদকে কারাম বলত। ইসলাম এসে আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছে।
যার সন্তান ছিল এবং যার ছিল না তাদের সকলেরই কুনিয়ত তথা উপনাম রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। শুধু আবুল কাসেম ব্যতীত তিনি অন্য যে কোন উপনাম রাখতে নিষেধ করেন নি। সঠিক কথা হচ্ছে, রসূল এর কুনিয়ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। তার জীবদ্দশায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এমনিভাবে নাম ও কুনিয়ত একসাথে রাখাও নিষিদ্ধ।
সালাফদের একটি দল আবু ঈসা কুনিয়ত রাখাকে অপছন্দ করেছেন। অন্য একটি দল অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন- কারাম হচ্ছে মুমিন ব্যক্তির অন্তর। রসূল বলেন- তোমাদের সলাতের নামকরণে গ্রাম্য লোকেরা যেন তোমাদের উপর বিজয়ী না হয়। দেখো সেটি হচ্ছে এশার সলাত। আর গ্রাম্য লোকেরা এটিকে আতামাহ বলে থাকে।
টিকাঃ
১৫১. আবু ঈসা অর্থ ঈসা-এর পিতা। আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এর যেহেতু পিতা ছিল না, তাই আবু ঈসা বা ঈসার বাপ হিসাবে কুনিয়াত রাখাকে একদল আলেম অপছন্দ করেছেন।
১৫২. জাহেলী যুগের আরবরা আঙ্গুর, আঙ্গুরের গাছ এবং আঙ্গুর থেকে নির্মিত মদকে কারাম বলত। ইসলাম এসে আঙ্গুরকে কারাম বলতে নিষেধ করেছে।
📄 কথা-বার্তায় সংযত হওয়া এবং শব্দ নির্বাচন ও তা প্রয়োগে নবী (সাঃ) এর সতর্কতা
তিনি তাঁর ভাষণে সুন্দরতম শব্দ নির্বাচন করতেন এবং তাঁর উম্মাতের জন্যও তাই নির্বাচন করেছেন। অশণ্টীল ও কঠোর শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কর্কশভাষী ছিলেন না। সম্মানী ব্যক্তি নয়- এমন ব্যক্তির জন্য তিনি উত্তম শব্দ ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন। মুনাফিক লোককে কখনই সাইয়্যেদ (নেতা) বলা যাবেনা। তিনি আবুল হাকামের নাম পরিবর্তন করে আবু শুরাইহ রেখেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন- প্রকৃত বিচারক তো একমাত্র আল্লাহ্। তিনি চাকরকে আদেশ দিয়েছেন, সে যেন তার মনিবকে রাব্বী তথা আমার প্রভু না বলে। মনিবকে বলেছেন সে যেন স্বীয় চাকরকে আবদী তথা আমার বান্দা না বলে।
এক ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার (চিকিৎসক) হিসাবে দাবী করলে নাবী বললেন- তুমি হলে রফীক (রোগীর প্রতি দয়াকারী)। নাবী বলেন- তোমরা এ কথা বলোনা যে, মা-শা-আল্লাহু ওয়া শা-আ ফুলানু অর্থাৎ আল্লাহ যা চান এবং অমুক যা চায়। বরং বলতে হবে যদি আল্লাহ চান অতঃপর আপনি যদি চান। 'এবং'-এর মাধ্যমে উভয়কে একই বিষয়ে একত্রিত করা হলে উভয়ই সমান ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি তাঁর ভাষণে সুন্দরতম শব্দ নির্বাচন করতেন এবং তাঁর উম্মাতের জন্যও তাই নির্বাচন করেছেন। অশণ্টীল ও কঠোর শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কর্কশভাষী ছিলেন না। সম্মানী ব্যক্তি নয়- এমন ব্যক্তির জন্য তিনি উত্তম শব্দ ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন। মুনাফিক লোককে কখনই সাইয়্যেদ (নেতা) বলা যাবেনা। তিনি আবুল হাকামের নাম পরিবর্তন করে আবু শুরাইহ রেখেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন- প্রকৃত বিচারক তো একমাত্র আল্লাহ্। তিনি চাকরকে আদেশ দিয়েছেন, সে যেন তার মনিবকে রাব্বী তথা আমার প্রভু না বলে। মনিবকে বলেছেন সে যেন স্বীয় চাকরকে আবদী তথা আমার বান্দা না বলে।
এক ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার (চিকিৎসক) হিসাবে দাবী করলে নাবী বললেন- তুমি হলে রফীক (রোগীর প্রতি দয়াকারী)। নাবী বলেন- তোমরা এ কথা বলোনা যে, মা-শা-আল্লাহু ওয়া শা-আ ফুলানু অর্থাৎ আল্লাহ যা চান এবং অমুক যা চায়। বরং বলতে হবে যদি আল্লাহ চান অতঃপর আপনি যদি চান। 'এবং'-এর মাধ্যমে উভয়কে একই বিষয়ে একত্রিত করা হলে উভয়ই সমান ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে।