📄 হজ্জের কুরবানী (হাদী) যবেহ করার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর আদর্শ
নাবী হজ্জের কুরবানীতে ছাগল ও উট যবেহ করেছেন। তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন। তিনি মদীনাতে থাকা অবস্থায়, হজ্জের সফরে এবং উমরার সফরে হাদী (কুরবানী) প্রেরণ করেছেন। তিনি ছাগলের গলায় কেলাদা (কুরবানীর নিদর্শন হিসেবে মালা) পরাতেন। দাগ দিয়ে নিশানা লাগাতেন না। তিনি যদি কাবায় হাদী (কুরবানীর জানোয়ার) পাঠাতেন তাহলে তিনি নিজের উপর কোন হালাল বস্তুকেই হারাম মনে করতেন না।
আর তিনি যখন কুরবানীর জন্য মক্কায় উট পাঠাতেন তখন উটের গলায় মালা পরাতেন এবং উটের গায়ে নিশানাও লাগাতেন। তিনি উটের কুঁজের ডান পাশে সামান্য চিরে রক্ত প্রবাহিত করতেন। তিনি যখন হাদী (কুরবানীর জন্তু) পাঠাতেন তখন প্রেরিত ব্যক্তিকে বলে দিতেন, জন্তুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হলে সেটিকে যেন যবেহ করে দেয়া হয়। অতঃপর স্বীয় জুতায় জন্তুটির রক্ত মাখিয়ে যেন জন্তুর পৃষ্ঠদেশে রেখে দেয়া হয়। প্রেরিত ব্যক্তিকে আদেশ দিতেন যে, সে এবং তার সাথীগণ সেখান থেকে যেন কিছু না খায়। বরং অন্যদের মাঝে যেন তা বিতরণ করে দেয়া হয়। তাকে খেতে এই জন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, যাতে পশুটির যত্ন নিতে সে যেন কোন প্রকার অলসতা না করে। অর্থাৎ এই সন্দেহ যাতে না হয় যে, অযত্ন ও অবহেলার কারণে পশুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সে যবেহ করে নিজে এবং তার সাথীগণ গোশত খেয়ে নিয়েছে।
নাবী একটি উট ও একটি গরুর মধ্যে সাতজনের অংশ গ্রহণকে বৈধ বলেছেন। কুরবানীর জন্তু মক্কার উদ্দেশ্যে চালিয়ে নেয়ার সময় চালককে তার উপর আরোহন করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে শর্ত হচ্ছে, যদি আরোহনের জন্য অন্য কোন বাহন না পাওয়া যায় এবং যাতে পশুর কষ্ট না হয়। আলী বলেন- উটনীর যদি বাচ্চা থাকে, তাহলে বাচ্চা পান করার পর অবশিষ্ট দুধ পান করা চালকের জন্য জায়েয আছে।
নাবী হজ্জের কুরবানীতে ছাগল ও উট যবেহ করেছেন। তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন। তিনি মদীনাতে থাকা অবস্থায়, হজ্জের সফরে এবং উমরার সফরে হাদী (কুরবানী) প্রেরণ করেছেন। তিনি ছাগলের গলায় কেলাদা (কুরবানীর নিদর্শন হিসেবে মালা) পরাতেন। দাগ দিয়ে নিশানা লাগাতেন না। তিনি যদি কাবায় হাদী (কুরবানীর জানোয়ার) পাঠাতেন তাহলে তিনি নিজের উপর কোন হালাল বস্তুকেই হারাম মনে করতেন না।
আর তিনি যখন কুরবানীর জন্য মক্কায় উট পাঠাতেন তখন উটের গলায় মালা পরাতেন এবং উটের গায়ে নিশানাও লাগাতেন। তিনি উটের কুঁজের ডান পাশে সামান্য চিরে রক্ত প্রবাহিত করতেন। তিনি যখন হাদী (কুরবানীর জন্তু) পাঠাতেন তখন প্রেরিত ব্যক্তিকে বলে দিতেন, জন্তুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হলে সেটিকে যেন যবেহ করে দেয়া হয়। অতঃপর স্বীয় জুতায় জন্তুটির রক্ত মাখিয়ে যেন জন্তুর পৃষ্ঠদেশে রেখে দেয়া হয়। প্রেরিত ব্যক্তিকে আদেশ দিতেন যে, সে এবং তার সাথীগণ সেখান থেকে যেন কিছু না খায়। বরং অন্যদের মাঝে যেন তা বিতরণ করে দেয়া হয়। তাকে খেতে এই জন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, যাতে পশুটির যত্ন নিতে সে যেন কোন প্রকার অলসতা না করে। অর্থাৎ এই সন্দেহ যাতে না হয় যে, অযত্ন ও অবহেলার কারণে পশুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সে যবেহ করে নিজে এবং তার সাথীগণ গোশত খেয়ে নিয়েছে।
নাবী একটি উট ও একটি গরুর মধ্যে সাতজনের অংশ গ্রহণকে বৈধ বলেছেন। কুরবানীর জন্তু মক্কার উদ্দেশ্যে চালিয়ে নেয়ার সময় চালককে তার উপর আরোহন করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে শর্ত হচ্ছে, যদি আরোহনের জন্য অন্য কোন বাহন না পাওয়া যায় এবং যাতে পশুর কষ্ট না হয়। আলী বলেন- উটনীর যদি বাচ্চা থাকে, তাহলে বাচ্চা পান করার পর অবশিষ্ট দুধ পান করা চালকের জন্য জায়েয আছে।
📄 ঈদের কুরবানীর ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
কুরবানীর ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত হল, তিনি কখনও এই সুন্নাতটি ছাড়েন নি। তিনি ঈদের দিন ঈদের সলাতের পর দু'টি করে মেষ কুরবানী করতেন। তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পূর্বে জবাই করবে তার কুরবানী ইবাদত হিসেবে গণ্য হবেনা। এটি হবে গোশত খাওয়ার যবেহ, যা সে তার পরিবারের লোকদেরকে খাওয়াতে চেয়েছে। এটিই হচ্ছে নাবী-এর পবিত্র সুন্নাত। সলাতের সময় হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং আগে সলাত পড়তে হবে, তারপর কুরবানীর জন্তু যবেহ করতে হবে। ছয় মাস বয়সের ভেড়া কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। অন্যান্য পশুর ক্ষেত্রে দাঁত ওয়ালা হওয়া জরুরী। অর্থাৎ ছাগল এক বছর, গরু দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হওয়া জরুরী। নাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, আইয়্যামে তাশরীকের সকল দিনই পশু যবেহ করার সময়। তবে এই হাদীছের সনদ মুনকাতে (বিচ্ছিন্ন)। এটিই ইমাম আতা, হাসান বসরী এবং ইমাম শাফেঈ এর অভিমত। ইবনুল মুনযির এর মতও তাই।
কুরবানীর জন্য সবচেয়ে উত্তম এবং সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত পশু নির্বাচন নাবী এর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তিনি ভাঙ্গা শিং এবং কাটা কান বিশিষ্ট পশু দিয়ে কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। কান যদি অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশী কাটা থাকে এবং শিং যদি অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশী ভাঙ্গা থাকে তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা নিষিদ্ধ। ইমাম আবু দাউদ স্বীয় সুনানে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। নাবী কুরবানীর পশু সংগ্রহ করার সময় চোখ ও কান ভাল করে দেখে নিতে বলেছেন। সুতরাং কানের অগ্রভাগ কাটা বা গোড়ার দিক কাটা এবং লম্বাভাবে চিরা-ছেড়া-ফাটা কান ওয়ালা পশু দ্বারা কুরবানী করা জয়েয নয়।
ঈদগাহে কুরবানী করা তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল। ইমাম আবু দাউদ জাবের হতে উল্লেখ করেছেন যে, নাবী কুরবানীর দিন শিং ওয়ালা এবং খুব সুন্দর রং বিশিষ্ট দু'টি খাসী যবেহ করেছেন। খাসী দু'টিকে শায়িত করে তিনি এই দু'আ পাঠ করেছেনঃ (إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ) “হে আল্লাহ্! আমি একমুখী হয়ে স্বীয় মুখমন্ডল ঐ সত্তার দিকে ফিরাচ্ছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কোরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ্রই জন্যে। তার কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। হে আল্লাহ্! এটি তোমার পক্ষ হতে প্রাপ্ত এবং এই কুরবানী তোমার জন্যই। অর্থাৎ তোমার নৈকট্য লাভের জন্যই। এটি মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের পক্ষ হতে। তুমি এটিকে কবুল কর। অতঃপর বিসমিল্লাহ্ আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করেছেন। তিনি পশু যবেহ করার সময় মানুষকে পশুর উপর ইহসান করতে বলেছেন। অর্থাৎ ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে এবং এক আঘাতে যবেহ করবে। এতে পশুর কষ্ট কম অনুভব হবে। এমনিভাবে কাউকে কেসাস স্বরূপ হত্যা করলে উত্তমভাবে হত্যা করতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুর উপর রহম (দয়া) করা ফরয করেছেন। আর কুরবানীতে একজন কিংবা একটি পরিবারের পক্ষ হতে একটি ছাগল যথেষ্ট।
কুরবানীর ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত হল, তিনি কখনও এই সুন্নাতটি ছাড়েন নি। তিনি ঈদের দিন ঈদের সলাতের পর দু'টি করে মেষ কুরবানী করতেন। তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পূর্বে জবাই করবে তার কুরবানী ইবাদত হিসেবে গণ্য হবেনা। এটি হবে গোশত খাওয়ার যবেহ, যা সে তার পরিবারের লোকদেরকে খাওয়াতে চেয়েছে। এটিই হচ্ছে নাবী-এর পবিত্র সুন্নাত। সলাতের সময় হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং আগে সলাত পড়তে হবে, তারপর কুরবানীর জন্তু যবেহ করতে হবে। ছয় মাস বয়সের ভেড়া কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। অন্যান্য পশুর ক্ষেত্রে দাঁত ওয়ালা হওয়া জরুরী। অর্থাৎ ছাগল এক বছর, গরু দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হওয়া জরুরী। নাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, আইয়্যামে তাশরীকের সকল দিনই পশু যবেহ করার সময়। তবে এই হাদীছের সনদ মুনকাতে (বিচ্ছিন্ন)। এটিই ইমাম আতা, হাসান বসরী এবং ইমাম শাফেঈ এর অভিমত। ইবনুল মুনযির এর মতও তাই।
কুরবানীর জন্য সবচেয়ে উত্তম এবং সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত পশু নির্বাচন নাবী এর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তিনি ভাঙ্গা শিং এবং কাটা কান বিশিষ্ট পশু দিয়ে কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। কান যদি অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশী কাটা থাকে এবং শিং যদি অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশী ভাঙ্গা থাকে তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা নিষিদ্ধ। ইমাম আবু দাউদ স্বীয় সুনানে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। নাবী কুরবানীর পশু সংগ্রহ করার সময় চোখ ও কান ভাল করে দেখে নিতে বলেছেন। সুতরাং কানের অগ্রভাগ কাটা বা গোড়ার দিক কাটা এবং লম্বাভাবে চিরা-ছেড়া-ফাটা কান ওয়ালা পশু দ্বারা কুরবানী করা জয়েয নয়।
ঈদগাহে কুরবানী করা তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল। ইমাম আবু দাউদ জাবের হতে উল্লেখ করেছেন যে, নাবী কুরবানীর দিন শিং ওয়ালা এবং খুব সুন্দর রং বিশিষ্ট দু'টি খাসী যবেহ করেছেন। খাসী দু'টিকে শায়িত করে তিনি এই দু'আ পাঠ করেছেনঃ (إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّমَوَاتِ وَالأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُসُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُসْلِمِينَ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ) “হে আল্লাহ্! আমি একমুখী হয়ে স্বীয় মুখমন্ডল ঐ সত্তার দিকে ফিরাচ্ছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কোরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ্রই জন্যে। তার কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। হে আল্লাহ্! এটি তোমার পক্ষ হতে প্রাপ্ত এবং এই কুরবানী তোমার জন্যই। অর্থাৎ তোমার নৈকট্য লাভের জন্যই। এটি মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের পক্ষ হতে। তুমি এটিকে কবুল কর। অতঃপর বিসমিল্লাহ্ আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করেছেন। তিনি পশু যবেহ করার সময় মানুষকে পশুর উপর ইহসান করতে বলেছেন। অর্থাৎ ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে এবং এক আঘাতে যবেহ করবে। এতে পশুর কষ্ট কম অনুভব হবে। এমনিভাবে কাউকে কেসাস স্বরূপ হত্যা করলে উত্তমভাবে হত্যা করতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুর উপর রহম (দয়া) করা ফরয করেছেন। আর কুরবানীতে একজন কিংবা একটি পরিবারের পক্ষ হতে একটি ছাগল যথেষ্ট।
📄 আকীকার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
মুআত্তা ইমাম মালেক গ্রন্থে এসেছে, ইমাম মালেককে আকীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন- আমি আকীকাহ শব্দটি পছন্দ করিনা। কারণ আকীকাহ শব্দটি আরবী শব্দ হতে গৃহীত। আক্কা অর্থ নাফরমানী করা অবাধ্য হওয়া। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়াকে আরবীতে উকুকুল ওয়ালিদাইন বলা হয়। তাই ইমাম মালেক সন্তান জন্ম উপলক্ষে ইবাদত হিসেবে যেই পশু যবেহ করা হয় তাকে আকীকাহ নামে নামকরণ করাকে অপছন্দ করেছেন। রসূল বলেন- (عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ) "ছেলে সন্তান হলে দু'টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগল দিয়ে আকীকাহ দিতে হবে। ১৪২ তিনি আরও বলেন- (كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُخْلَقُ وَيُسَمَّى») "আকীকাহ না করা হলে সন্তান রিহান (رهان) বন্ধক থাকে”। ১৪৩ সুতরাং সপ্তম দিনে সন্তানের আকীকাহ করা উচিত। সেই সাথে মাথা কামাবে এবং নাম রাখবে। ১৪৪ ভাষাবিদগণ বলেন- রিহান অর্থ হচ্ছে আটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ আকীকাহ না করলে সন্তান শয়তানের প্ররোচনার শিকার হওয়া থেকে মুক্ত হয়না বা পিতা-মাতা সন্তানের সদাচরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন- সে পিতা-মাতার জন্য শাফাআত করা থেকে বঞ্চিত হবে। তবে প্রকাশ্য কথা হচ্ছে সন্তান থেকে যে কল্যাণের আশা করা হয় সে নিজেই সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। আখিরাতে সে শাস্তি পাবে- এটি উদ্দেশ্য নয়। কখনও সন্তান পিতা-মাতার ত্রুটির কারণে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন স্ত্রী সহবাস করার সময় বিসমিল্লাহ্ না বলা (স্ত্রী সহবাসের সময় দু'আ পাঠ না করা)।
ইমাম আবু দাউদ তাঁর মারাসিল গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী হাসান ও হুসাইন এর আকীকাহ করার সময় বলেছেন- দুধ মাতা-এর ঘরে এর একটি ঠ্যাং (রান) পাঠিয়ে দাও, তোমরা এ থেকে খাও এবং অন্যদেরকে খেতে দাও। তবে তোমরা এর কোন হাড় ভেঙ্গোনা।
মাইমুনী বলেন- আমরা পরস্পর আলোচনা করলাম যে, জন্মের কত দিন পর বাচ্চার নাম রাখতে হবে? তখন আবু আব্দুল্লাহ্ আনাস বিন মালেক থেকে বর্ণনা করে বলেন- তৃতীয় দিনে নাম রাখতে হবে। আর সামুরা বলেন- সপ্তম দিনে রাখতে হবে। ১৪৫
টিকাঃ
১৪২. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৪, তিরমিযী মাপ, হা/১৫১৩, ও মুসনাদে আহমাদ।
১৪৩. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৮, আহমাদ, তিরমিযী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ।
১৪৪. আহমাদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।
১৪৫. এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের কথাটি সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ। তিনি বলেন, কথাটি শাফায়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেই শিশুর আকীকা দেওয়া হয়নি, সে যদি মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিন শিশুর শাফায়াত থেকে তার পিতা-মাতা বঞ্চিত হবে। আর হাদীসে একথা প্রমাণিত আছে যে, মুসলমানদের যে সমস্ত শিশু বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করবে, তারা তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে শুপারিশ করবে।
মুআত্তা ইমাম মালেক গ্রন্থে এসেছে, ইমাম মালেককে আকীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন- আমি আকীকাহ শব্দটি পছন্দ করিনা। কারণ আকীকাহ শব্দটি আরবী শব্দ হতে গৃহীত। আক্কা অর্থ নাফরমানী করা অবাধ্য হওয়া। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়াকে আরবীতে উকুকুল ওয়ালিদাইন বলা হয়। তাই ইমাম মালেক সন্তান জন্ম উপলক্ষে ইবাদত হিসেবে যেই পশু যবেহ করা হয় তাকে আকীকাহ নামে নামকরণ করাকে অপছন্দ করেছেন। রসূল বলেন- (عَنِ الْغُلَامِ শَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ) "ছেলে সন্তান হলে দু'টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগল দিয়ে আকীকাহ দিতে হবে। ১৪২ তিনি আরও বলেন- (كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُخْلَقُ وَيُسَمَّى») "আকীকাহ না করা হলে সন্তান রিহান (رهان) বন্ধক থাকে”। ১৪৩ সুতরাং সপ্তম দিনে সন্তানের আকীকাহ করা উচিত। সেই সাথে মাথা কামাবে এবং নাম রাখবে। ১৪৪ ভাষাবিদগণ বলেন- রিহান অর্থ হচ্ছে আটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ আকীকাহ না করলে সন্তান শয়তানের প্ররোচনার শিকার হওয়া থেকে মুক্ত হয়না বা পিতা-মাতা সন্তানের সদাচরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন- সে পিতা-মাতার জন্য শাফাআত করা থেকে বঞ্চিত হবে। তবে প্রকাশ্য কথা হচ্ছে সন্তান থেকে যে কল্যাণের আশা করা হয় সে নিজেই সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। আখিরাতে সে শাস্তি পাবে- এটি উদ্দেশ্য নয়। কখনও সন্তান পিতা-মাতার ত্রুটির কারণে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন স্ত্রী সহবাস করার সময় বিসমিল্লাহ্ না বলা (স্ত্রী সহবাসের সময় দু'আ পাঠ না করা)।
ইমাম আবু দাউদ তাঁর মারাসিল গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী হাসান ও হুসাইন এর আকীকাহ করার সময় বলেছেন- দুধ মাতা-এর ঘরে এর একটি ঠ্যাং (রান) পাঠিয়ে দাও, তোমরা এ থেকে খাও এবং অন্যদেরকে খেতে দাও। তবে তোমরা এর কোন হাড় ভেঙ্গোনা।
মাইমুনী বলেন- আমরা পরস্পর আলোচনা করলাম যে, জন্মের কত দিন পর বাচ্চার নাম রাখতে হবে? তখন আবু আব্দুল্লাহ্ আনাস বিন মালেক থেকে বর্ণনা করে বলেন- তৃতীয় দিনে নাম রাখতে হবে। আর সামুরা বলেন- সপ্তম দিনে রাখতে হবে। ১৪৫
টিকাঃ
১৪২. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৪, তিরমিযী মাপ, হা/১৫১৩, ও মুসনাদে আহমাদ।
১৪৩. আবু দাউদ, আলএ. হা/২৮৩৮, আহমাদ, তিরমিযী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ।
১৪৪. আহমাদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।
১৪৫. এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের কথাটি সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধ। তিনি বলেন, কথাটি শাফায়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেই শিশুর আকীকা দেওয়া হয়নি, সে যদি মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামতের দিন শিশুর শাফায়াত থেকে তার পিতা-মাতা বঞ্চিত হবে। আর হাদীসে একথা প্রমাণিত আছে যে, মুসলমানদের যে সমস্ত শিশু বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করবে, তারা তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে শুপারিশ করবে।
📄 নাম ও কুনীয়ত (উপনাম) রাখা সম্পর্কে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ঐ ব্যক্তির নাম যে নিজের নাম মালিকুল আমলাক তথা শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ রাখল। কেননা আল্লাহই একমাত্র বাদশাহ। তিনি আরও বলেন- আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সবচেয়ে অধিক সুন্দর নাম হচ্ছে, হারিছ ও হাম্মাম এবং মন্দ নাম হচ্ছে হারব (যুদ্ধ) ও মুররা (তিক্ত)। নাবী আরও বলেন- তোমরা ছেলে সন্তানের নাম ইয়াসার, রাবাহ, নাজিহ এবং আফলাহ্ রাখবেনা।
মন্দ নামকে ভাল নামে পরিবর্তন করা তার পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আসীয়া (পাপী) নাম পরিবর্তন করে জামীলাহ নাম রেখেছেন। উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া এর পূর্বের নাম ছিল বারা (পূণ্যবান)। নাবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়া। আসরামের নাম বদল করে যারআ রেখেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব এর দাদার নাম ছিল হাম্ন (শক্ত মাটি)। তিনি তা পরিবর্তন করে রাখলেন সাহল (নরম ভূমি), যাতে চলাচল করা সহজ এবং যা চাষাবাদের জন্য উপযোগী।
টিকাঃ
১৪৬. ইয়াসার অর্থ সহজ, রাবাহ, নাজিহ ও আফলাহ-এই তিনটি নামের অর্থ হচ্ছে সফল, সফলতা ইত্যাদি ভাল অর্থ। এই শব্দগুলোর দ্বারা কোন ছেলে সন্তানের নাম রাখতে নিষেধ করার কারণ হল, উপরোক্ত নামে যদি কারও নাম রাখা হয় তাহলে সম্ভাবনা আছে যে, অচিরেই তাকে উক্ত নাম ধরে ডাকা হবে। বলা হবে এখানে আফলাহ (সফলতা) নাজিহ (সফলকাম) রাবাহ (লাভবান) আছে কি? সে যদি ঐ স্থানে উপস্থিত না থাকে তাহলে অবশ্যই উত্তর আসবে এখানে সে নাই।
১৪৭. বাব্রা বা এ জাতীয় যে সমস্ত নামের মধ্যে নামকরণকৃত ব্যক্তির পবিত্রতা ও প্রশংসার আভাস রয়েছে সে সমস্ত নাম রাখা ঠিক নয়। তিনি এমন নামে সন্তানের নাম করণ করতে বলেছেন, যাতে বিনয়-নম্রতা ও আল্লাহর আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। যেমন আব্দুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহর দাস-বান্দা।
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ঐ ব্যক্তির নাম যে নিজের নাম মালিকুল আমলাক তথা শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ রাখল। কেননা আল্লাহই একমাত্র বাদশাহ। তিনি আরও বলেন- আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সবচেয়ে অধিক সুন্দর নাম হচ্ছে, হারিছ ও হাম্মাম এবং মন্দ নাম হচ্ছে হারব (যুদ্ধ) ও মুররা (তিক্ত)। নাবী আরও বলেন- তোমরা ছেলে সন্তানের নাম ইয়াসার, রাবাহ, নাজিহ এবং আফলাহ্ রাখবেনা।
মন্দ নামকে ভাল নামে পরিবর্তন করা তার পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আসীয়া (পাপী) নাম পরিবর্তন করে জামীলাহ নাম রেখেছেন। উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়া এর পূর্বের নাম ছিল বারা (পূণ্যবান)। নাবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়া। আসরামের নাম বদল করে যারআ রেখেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব এর দাদার নাম ছিল হাম্ন (শক্ত মাটি)। তিনি তা পরিবর্তন করে রাখলেন সাহল (নরম ভূমি), যাতে চলাচল করা সহজ এবং যা চাষাবাদের জন্য উপযোগী।
টিকাঃ
১৪৬. ইয়াসার অর্থ সহজ, রাবাহ, নাজিহ ও আফলাহ-এই তিনটি নামের অর্থ হচ্ছে সফল, সফলতা ইত্যাদি ভাল অর্থ। এই শব্দগুলোর দ্বারা কোন ছেলে সন্তানের নাম রাখতে নিষেধ করার কারণ হল, উপরোক্ত নামে যদি কারও নাম রাখা হয় তাহলে সম্ভাবনা আছে যে, অচিরেই তাকে উক্ত নাম ধরে ডাকা হবে। বলা হবে এখানে আফলাহ (সফলতা) নাজিহ (সফলকাম) রাবাহ (লাভবান) আছে কি? সে যদি ঐ স্থানে উপস্থিত না থাকে তাহলে অবশ্যই উত্তর আসবে এখানে সে নাই।
১৪৭. বাব্রা বা এ জাতীয় যে সমস্ত নামের মধ্যে নামকরণকৃত ব্যক্তির পবিত্রতা ও প্রশংসার আভাস রয়েছে সে সমস্ত নাম রাখা ঠিক নয়। তিনি এমন নামে সন্তানের নাম করণ করতে বলেছেন, যাতে বিনয়-নম্রতা ও আল্লাহর আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। যেমন আব্দুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহর দাস-বান্দা।