📄 তানঈম থেকে আয়েশা (রাঃ) এর উমরাহ
সেই রাতে আয়িশা আকাঙ্খা করলেন যে, তিনি যেন তাঁকে আলাদাভাবে একটি উমরাহ করার সুযোগ দান করেন। তাই নাবী আয়িশা এর ভাই আব্দুর রহমান বিন আবু বকরকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁকে তানঈম থেকে উমরাহ করান। তিনি রাতেই উমরাহ সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মধ্যরাতে আয়িশা তাঁর ভাইয়ের সাথে মুহাস্সাবে পৌঁছলে রসূল কাফেলাকে যাত্রা করার হুকুম দিলেন।
মুহাসাবে অবস্থান করা কি সুন্নাত? না ঘটনাক্রমে এখানে রসূল অবস্থান করেছেন? এ সম্পর্কে দু'টি মত পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি হজ্জের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ বলেছেন, এখানে রসূল ঘটনাক্রমে অবস্থান করেছেন।
📄 কাবা ঘরে প্রবেশ করা কি হজ্জের সুন্নাত
অনেকেই মনে করেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা হজ্জের সুন্নাত এবং নাবী-এর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ ব্যাপারে বর্ণিত সকল হাদীস একত্রিত করলে বুঝা যায়, হাজ্জ বা উমরাহ করার সময় কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন নি; বরং তিনি মক্কা বিজয়ের দিন তাতে প্রবেশ করেছেন। মুলতাযামে অবস্থানের ব্যাপারেও একই কথা। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি এখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ আমর বিন শুআইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর বুক, চেহারা, তাঁর উভয় বাহু এবং হাত প্রসারিত করে মুলতাযামে রেখে দু'আ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন- আমি রসূল কে এরূপ করতে দেখেছি। ১৩৮ এটি হতে পারে বিদায়ী তাওয়াফের সময়, হতে পারে অন্য সময়ের ঘটনা। কিন্তু মুজাহিদ এবং অন্যান্যগণ বলেন- বিদায়ী তাওয়াফের পর মুলতাযামে সামান্য সময় দাঁড়িয়ে দু'আ করা মুস্তাহাব।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করতেন।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী যখন মক্কা হতে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন তখনও উম্মে সালামা তাওয়াফ করেন নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনিও যাত্রা করতে চাইলেন। নাবী তখন তাকে বললেন- যখন ফজরের সলাতের ইকামত দেয়া হবে এবং লোকেরা সলাত আদায় করবে তখন তুমি উটের উপর আরোহন করে তাওয়াফ করবে। তিনি তাই করলেন এবং বের হওয়ার পূর্বে ফজরের সলাত আদায় করেন নি।
এই ঘটনাটি ছিল মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফের সময়কার। এটি কুরবানীর দিনের ঘটনা নয়। এ থেকে আরও বুঝা গেল যে, রসূল সে দিন মক্কায় ফজরের সলাত পড়েছেন। উম্মে সালামা সেদিন ফজরের সলাতে রসূল কে সূরা তুর পড়তে শুনেছেন। অতঃপর তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
টিকাঃ
১৩৮. ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৮৯৯।
অনেকেই মনে করেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা হজ্জের সুন্নাত এবং নাবী -এর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ ব্যাপারে বর্ণিত সকল হাদীস একত্রিত করলে বুঝা যায়, হাজ্জ বা উমরাহ করার সময় কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন নি; বরং তিনি মক্কা বিজয়ের দিন তাতে প্রবেশ করেছেন। মুলতাযামে অবস্থানের ব্যাপারেও একই কথা। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি এখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ আমর বিন শুআইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর বুক, চেহারা, তাঁর উভয় বাহু এবং হাত প্রসারিত করে মুলতাযামে রেখে দু'আ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন- আমি রসূল কে এরূপ করতে দেখেছি। ১৩৮ এটি হতে পারে বিদায়ী তাওয়াফের সময়, হতে পারে অন্য সময়ের ঘটনা। কিন্তু মুজাহিদ এবং অন্যান্যগণ বলেন- বিদায়ী তাওয়াফের পর মুলতাযামে সামান্য সময় দাঁড়িয়ে দু'আ করা মুস্তাহাব।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করতেন।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী যখন মক্কা হতে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন তখনও উম্মে সালামা তাওয়াফ করেন নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনিও যাত্রা করতে চাইলেন। নাবী তখন তাকে বললেন- যখন ফজরের সলাতের ইকামত দেয়া হবে এবং লোকেরা সলাত আদায় করবে তখন তুমি উটের উপর আরোহন করে তাওয়াফ করবে। তিনি তাই করলেন এবং বের হওয়ার পূর্বে ফজরের সলাত আদায় করেন নি।
এই ঘটনাটি ছিল মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফের সময়কার। এটি কুরবানীর দিনের ঘটনা নয়। এ থেকে আরও বুঝা গেল যে, রসূল সে দিন মক্কায় ফজরের সলাত পড়েছেন। উম্মে সালামা সেদিন ফজরের সলাতে রসূল কে সূরা তুর পড়তে শুনেছেন। অতঃপর তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
টিকাঃ
১৩৮. ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৮৯৯।
📄 কুরবানী ও আকীকার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর আদর্শ
কুরবানী ও আকীকাহ সেই আট প্রকার পশুর দ্বারাই করতে হবে, যা সূরা আনআমে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য জন্তু দিয়ে কুরবানী করার কথা প্রমাণিত নেই। এই আট প্রকার জন্তুর কথা কুরআনের চারটি আয়াতের মধ্যে উল্লেখ আছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- (أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ) "তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে"। (সূরা মায়েদা-৫:১) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন- (لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ) "যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু যবেহ করার সময়”। (সূরা হাজ্জ-২২:২৮) আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- (وَمِنَ الأَنْعَامِ حَمُولَةً وَفَرْشًا كُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ) "তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে (ছোট আকৃতির জানোয়ার)। আল্লাহ্ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে অবশ্যই তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা আনআম-৬:১৪২) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন- (ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجِ مِنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ قُلْ الذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ قُلْ الذَّকَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ وَصَّاكُمُ اللَّهُ بِهَذَا) অর্থাৎ (নর-মাদী চার) জোড়ায় আট প্রকার, মেষের দু'টি, ছাগলের দু'টি। বল, তিনি কি নর দু'টি হারাম করেছেন, না মাদী দু'টি কিংবা মাদী দু'টির গর্ভে যা আছে তা? এ সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তিতে জবাব দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। আর উটের দু'টি, আর গরুর দু'টি। বল, এদের নর দু'টি কি তিনি হারাম করেছেন, না মাদী দু'টি অথবা মাদী দু'টির গর্ভে যা আছে তা? তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন আল্লাহ এ রকম নির্দেশ দিয়েছিলেন? (সূরা আনআম-৬:১৪৩-১৪৪) (وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُতَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْمُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ) "তোমাদের মধ্যে যে জেনে শুনে শিকার হত্যা করবে, তার উপর বিনিময় ওয়াজিব হবে, যা সমান হবে ঐ জন্তুর, যাকে সে বধ করেছে। দু'জন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এর ফয়সালা করবে- বিনিময়ের জন্তুটি উৎসর্গ হিসেবে কাবায় পৌছাতে হবে"। ১৪১ এ থেকে জানা গেল যে, এই আট প্রকার জন্তুই কাবা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই আয়াত থেকে আলী বিন আবু তালেব এভাবেই দলীল গ্রহণ করেছেন।
ইবাদতের জন্য যে সমস্ত যবেহ করা হয়, তা তিন প্রকার। (১) হাজীগণের কুরবানী (হাদী)। (২) ঈদুল আযহার কুরবানী এবং (৩) আকীকাহ।
টিকাঃ
১৪১. সূরা মায়েদা-৫:৯৫
কুরবানী ও আকীকাহ সেই আট প্রকার পশুর দ্বারাই করতে হবে, যা সূরা আনআমে বর্ণিত হয়েছে। ১৪০ এ ছাড়া অন্যান্য জন্তু দিয়ে কুরবানী করার কথা প্রমাণিত নেই। এই আট প্রকার জন্তুর কথা কুরআনের চারটি আয়াতের মধ্যে উল্লেখ আছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
(أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ)
"তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে"। (সূরা মায়েদা-৫:১) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন-
(لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ)
"যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু যবেহ করার সময়”। (সূরা হাজ্জ-২২:২৮) আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
(وَمِنَ الأَنْعَامِ حَمُولَةً وَفَرْشًا كُلُوا مِمَّا رَতাকُمُ اللهُ وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ)
"তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে (ছোট আকৃতির জানোয়ার)। আল্লাহ্ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে অবশ্যই তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা আনআম-৬:১৪২) আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন-
(ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجِ مِنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ قُلْ الذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ قُلْ الذَّكَرَيْنِ حَرَّমَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ وَصَّاكُمُ اللَّهُ بِهَذَا)
অর্থাৎ (নর-মাদী চার) জোড়ায় আট প্রকার, মেষের দু'টি, ছাগলের দু'টি। বল, তিনি কি নর দু'টি হারাম করেছেন, না মাদী দু'টি কিংবা মাদী দু'টির গর্ভে যা আছে তা? এ সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তিতে জবাব দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। আর উটের দু'টি, আর গরুর দু'টি। বল, এদের নর দু'টি কি তিনি হারাম করেছেন, না মাদী দু'টি অথবা মাদী দু'টির গর্ভে যা আছে তা? তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন আল্লাহ এ রকম নির্দেশ দিয়েছিলেন? (সূরা আনআম-৬:১৪৩-১৪৪) (وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْمُمُ بِهِ ذَোা عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ)
"তোমাদের মধ্যে যে জেনে শুনে শিকার হত্যা করবে, তার উপর বিনিময় ওয়াজিব হবে, যা সমান হবে ঐ জন্তুর, যাকে সে বধ করেছে। দু'জন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এর ফয়সালা করবে- বিনিময়ের জন্তুটি উৎসর্গ হিসেবে কাবায় পৌছাতে হবে"। ১৪১ এ থেকে জানা গেল যে, এই আট প্রকার জন্তুই কাবা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই আয়াত থেকে আলী বিন আবু তালেব এভাবেই দলীল গ্রহণ করেছেন।
ইবাদতের জন্য যে সমস্ত যবেহ করা হয়, তা তিন প্রকার। (১) হাজীগণের কুরবানী (হাদী)। (২) ঈদুল আযহার কুরবানী এবং (৩) আকীকাহ।
টিকাঃ
১৪০. (নর-মাদী চার) জোড়ায় আট প্রকার, মেষের দু'টি, ছাগলের দু'টি। বল, তিনি কি নর দু'টি হারাম করেছেন, না মাদী দু'টি কিংবা মাদী দু'টির গর্ভে যা আছে তা? এ সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তিতে জবাব দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। আর উটের দু'টি, আর গরুর দু'টি। বল, এদের নর দু'টি কি তিনি হারাম করেছেন, না মাদী দু'টি অথবা মাদী দু'টির গর্ভে যা আছে তা? তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন আল্লাহ এ রকম নির্দেশ দিয়েছিলেন? (সূরা আনআম-৬:১৪৩-১৪৪)
১৪১. সূরা মায়েদা-৫:৯৫
📄 হজ্জের কুরবানী (হাদী) যবেহ করার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর আদর্শ
নাবী হজ্জের কুরবানীতে ছাগল ও উট যবেহ করেছেন। তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন। তিনি মদীনাতে থাকা অবস্থায়, হজ্জের সফরে এবং উমরার সফরে হাদী (কুরবানী) প্রেরণ করেছেন। তিনি ছাগলের গলায় কেলাদা (কুরবানীর নিদর্শন হিসেবে মালা) পরাতেন। দাগ দিয়ে নিশানা লাগাতেন না। তিনি যদি কাবায় হাদী (কুরবানীর জানোয়ার) পাঠাতেন তাহলে তিনি নিজের উপর কোন হালাল বস্তুকেই হারাম মনে করতেন না।
আর তিনি যখন কুরবানীর জন্য মক্কায় উট পাঠাতেন তখন উটের গলায় মালা পরাতেন এবং উটের গায়ে নিশানাও লাগাতেন। তিনি উটের কুঁজের ডান পাশে সামান্য চিরে রক্ত প্রবাহিত করতেন। তিনি যখন হাদী (কুরবানীর জন্তু) পাঠাতেন তখন প্রেরিত ব্যক্তিকে বলে দিতেন, জন্তুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হলে সেটিকে যেন যবেহ করে দেয়া হয়। অতঃপর স্বীয় জুতায় জন্তুটির রক্ত মাখিয়ে যেন জন্তুর পৃষ্ঠদেশে রেখে দেয়া হয়। প্রেরিত ব্যক্তিকে আদেশ দিতেন যে, সে এবং তার সাথীগণ সেখান থেকে যেন কিছু না খায়। বরং অন্যদের মাঝে যেন তা বিতরণ করে দেয়া হয়। তাকে খেতে এই জন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, যাতে পশুটির যত্ন নিতে সে যেন কোন প্রকার অলসতা না করে। অর্থাৎ এই সন্দেহ যাতে না হয় যে, অযত্ন ও অবহেলার কারণে পশুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সে যবেহ করে নিজে এবং তার সাথীগণ গোশত খেয়ে নিয়েছে।
নাবী একটি উট ও একটি গরুর মধ্যে সাতজনের অংশ গ্রহণকে বৈধ বলেছেন। কুরবানীর জন্তু মক্কার উদ্দেশ্যে চালিয়ে নেয়ার সময় চালককে তার উপর আরোহন করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে শর্ত হচ্ছে, যদি আরোহনের জন্য অন্য কোন বাহন না পাওয়া যায় এবং যাতে পশুর কষ্ট না হয়। আলী বলেন- উটনীর যদি বাচ্চা থাকে, তাহলে বাচ্চা পান করার পর অবশিষ্ট দুধ পান করা চালকের জন্য জায়েয আছে।
নাবী হজ্জের কুরবানীতে ছাগল ও উট যবেহ করেছেন। তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন। তিনি মদীনাতে থাকা অবস্থায়, হজ্জের সফরে এবং উমরার সফরে হাদী (কুরবানী) প্রেরণ করেছেন। তিনি ছাগলের গলায় কেলাদা (কুরবানীর নিদর্শন হিসেবে মালা) পরাতেন। দাগ দিয়ে নিশানা লাগাতেন না। তিনি যদি কাবায় হাদী (কুরবানীর জানোয়ার) পাঠাতেন তাহলে তিনি নিজের উপর কোন হালাল বস্তুকেই হারাম মনে করতেন না।
আর তিনি যখন কুরবানীর জন্য মক্কায় উট পাঠাতেন তখন উটের গলায় মালা পরাতেন এবং উটের গায়ে নিশানাও লাগাতেন। তিনি উটের কুঁজের ডান পাশে সামান্য চিরে রক্ত প্রবাহিত করতেন। তিনি যখন হাদী (কুরবানীর জন্তু) পাঠাতেন তখন প্রেরিত ব্যক্তিকে বলে দিতেন, জন্তুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হলে সেটিকে যেন যবেহ করে দেয়া হয়। অতঃপর স্বীয় জুতায় জন্তুটির রক্ত মাখিয়ে যেন জন্তুর পৃষ্ঠদেশে রেখে দেয়া হয়। প্রেরিত ব্যক্তিকে আদেশ দিতেন যে, সে এবং তার সাথীগণ সেখান থেকে যেন কিছু না খায়। বরং অন্যদের মাঝে যেন তা বিতরণ করে দেয়া হয়। তাকে খেতে এই জন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, যাতে পশুটির যত্ন নিতে সে যেন কোন প্রকার অলসতা না করে। অর্থাৎ এই সন্দেহ যাতে না হয় যে, অযত্ন ও অবহেলার কারণে পশুটি মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সে যবেহ করে নিজে এবং তার সাথীগণ গোশত খেয়ে নিয়েছে।
নাবী একটি উট ও একটি গরুর মধ্যে সাতজনের অংশ গ্রহণকে বৈধ বলেছেন। কুরবানীর জন্তু মক্কার উদ্দেশ্যে চালিয়ে নেয়ার সময় চালককে তার উপর আরোহন করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে শর্ত হচ্ছে, যদি আরোহনের জন্য অন্য কোন বাহন না পাওয়া যায় এবং যাতে পশুর কষ্ট না হয়। আলী বলেন- উটনীর যদি বাচ্চা থাকে, তাহলে বাচ্চা পান করার পর অবশিষ্ট দুধ পান করা চালকের জন্য জায়েয আছে।