📄 বিদায় হজ্জের বছর দু‘আ করার জন্য নবী (সাঃ) কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন?
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেন- নাবী বিদায় হজ্জের বছর দু'আ করার জন্য ছয়টি স্থানে অবস্থান করেছেন। (১) 'সাফা'এর উপর (২) মারওয়ার উপর (৩) আরাফায় (৪) মুযদালিফায় (৫) জামারায়ে উলায় (ছোট জামারায়) এবং (৬) জামারায়ে উসতায় (মধ্যম জামারায়)।
📄 হাজীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে কিংবা অন্য কোন শরঈ ওযর থাকলে মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়
আব্বাস হাজীদেরকে পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতসমূহ মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন। উটের রাখালগণ মিনার বাইরে উটের নিকট রাত্রি যাপনের অনুমতি চাইলে তিনি তাদেরকেও অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে কুরবানীর দিন এবং বাকী দুই দিনের পাথর এক সাথে দুই দিনের যে কোন এক দিন মারার অনুমতি দিয়েছেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন- কেউ যদি তার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে কিংবা অসুস্থ ব্যক্তির সেবায় নিয়োজিত থাকে অথবা নিজে অসুস্থ থাকার কারণে মিনায় রাত্রি যাপন করা অসম্ভব হয়, তাহলে রাখাল ও পানি সরবরাহ কারীদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছের উপর ভিত্তি করে উপরোক্ত লোকদের জন্যও মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়।
📄 তানঈম থেকে আয়েশা (রাঃ) এর উমরাহ
সেই রাতে আয়িশা আকাঙ্খা করলেন যে, তিনি যেন তাঁকে আলাদাভাবে একটি উমরাহ করার সুযোগ দান করেন। তাই নাবী আয়িশা এর ভাই আব্দুর রহমান বিন আবু বকরকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁকে তানঈম থেকে উমরাহ করান। তিনি রাতেই উমরাহ সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মধ্যরাতে আয়িশা তাঁর ভাইয়ের সাথে মুহাস্সাবে পৌঁছলে রসূল কাফেলাকে যাত্রা করার হুকুম দিলেন।
মুহাসাবে অবস্থান করা কি সুন্নাত? না ঘটনাক্রমে এখানে রসূল অবস্থান করেছেন? এ সম্পর্কে দু'টি মত পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি হজ্জের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ বলেছেন, এখানে রসূল ঘটনাক্রমে অবস্থান করেছেন।
📄 কাবা ঘরে প্রবেশ করা কি হজ্জের সুন্নাত
অনেকেই মনে করেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা হজ্জের সুন্নাত এবং নাবী-এর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ ব্যাপারে বর্ণিত সকল হাদীস একত্রিত করলে বুঝা যায়, হাজ্জ বা উমরাহ করার সময় কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন নি; বরং তিনি মক্কা বিজয়ের দিন তাতে প্রবেশ করেছেন। মুলতাযামে অবস্থানের ব্যাপারেও একই কথা। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি এখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ আমর বিন শুআইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর বুক, চেহারা, তাঁর উভয় বাহু এবং হাত প্রসারিত করে মুলতাযামে রেখে দু'আ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন- আমি রসূল কে এরূপ করতে দেখেছি। ১৩৮ এটি হতে পারে বিদায়ী তাওয়াফের সময়, হতে পারে অন্য সময়ের ঘটনা। কিন্তু মুজাহিদ এবং অন্যান্যগণ বলেন- বিদায়ী তাওয়াফের পর মুলতাযামে সামান্য সময় দাঁড়িয়ে দু'আ করা মুস্তাহাব।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করতেন।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী যখন মক্কা হতে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন তখনও উম্মে সালামা তাওয়াফ করেন নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনিও যাত্রা করতে চাইলেন। নাবী তখন তাকে বললেন- যখন ফজরের সলাতের ইকামত দেয়া হবে এবং লোকেরা সলাত আদায় করবে তখন তুমি উটের উপর আরোহন করে তাওয়াফ করবে। তিনি তাই করলেন এবং বের হওয়ার পূর্বে ফজরের সলাত আদায় করেন নি।
এই ঘটনাটি ছিল মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফের সময়কার। এটি কুরবানীর দিনের ঘটনা নয়। এ থেকে আরও বুঝা গেল যে, রসূল সে দিন মক্কায় ফজরের সলাত পড়েছেন। উম্মে সালামা সেদিন ফজরের সলাতে রসূল কে সূরা তুর পড়তে শুনেছেন। অতঃপর তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
টিকাঃ
১৩৮. ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৮৯৯।
অনেকেই মনে করেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা হজ্জের সুন্নাত এবং নাবী -এর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ ব্যাপারে বর্ণিত সকল হাদীস একত্রিত করলে বুঝা যায়, হাজ্জ বা উমরাহ করার সময় কাবা ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন নি; বরং তিনি মক্কা বিজয়ের দিন তাতে প্রবেশ করেছেন। মুলতাযামে অবস্থানের ব্যাপারেও একই কথা। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি এখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ আমর বিন শুআইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর বুক, চেহারা, তাঁর উভয় বাহু এবং হাত প্রসারিত করে মুলতাযামে রেখে দু'আ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন- আমি রসূল কে এরূপ করতে দেখেছি। ১৩৮ এটি হতে পারে বিদায়ী তাওয়াফের সময়, হতে পারে অন্য সময়ের ঘটনা। কিন্তু মুজাহিদ এবং অন্যান্যগণ বলেন- বিদায়ী তাওয়াফের পর মুলতাযামে সামান্য সময় দাঁড়িয়ে দু'আ করা মুস্তাহাব।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু'আ করতেন।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী যখন মক্কা হতে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন তখনও উম্মে সালামা তাওয়াফ করেন নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনিও যাত্রা করতে চাইলেন। নাবী তখন তাকে বললেন- যখন ফজরের সলাতের ইকামত দেয়া হবে এবং লোকেরা সলাত আদায় করবে তখন তুমি উটের উপর আরোহন করে তাওয়াফ করবে। তিনি তাই করলেন এবং বের হওয়ার পূর্বে ফজরের সলাত আদায় করেন নি।
এই ঘটনাটি ছিল মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফের সময়কার। এটি কুরবানীর দিনের ঘটনা নয়। এ থেকে আরও বুঝা গেল যে, রসূল সে দিন মক্কায় ফজরের সলাত পড়েছেন। উম্মে সালামা সেদিন ফজরের সলাতে রসূল কে সূরা তুর পড়তে শুনেছেন। অতঃপর তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
টিকাঃ
১৩৮. ইমাম আলবানী হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৮৯৯।