📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখে জামারায় পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর পবিত্র সুন্নাত

📄 ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখে জামারায় পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর পবিত্র সুন্নাত


অতঃপর তিনি সে দিনই মিনায় ফেরত গিয়ে তথায় রাত্রি যাপন করলেন। পরের দিন সকাল হলে তিনি সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেন। সূর্য ঢলে যাওয়ার সাথে সাথে তিনি জামারাতের দিকে হেটে গেলেন। এই সময় তিনি বাহনে আরোহন করেন নি। প্রথমে তিনি মাসজিদে খাইফের নিকটবর্তী জামারায়ে উলার (প্রথম জামারাতের) কাছে গেলেন এবং তাতে পরপর সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় তিনি আল্লাহু আকবার বললেন। সাতটি পাথর নিক্ষেপ শেষে তিনি জামারাকে পিছনে রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন এবং কিবলামুখী হয়ে দু'আ শুরু করলেন। এই দু'আয় তিনি তাঁর উভয় হাত উঠালেন। তারপর তিনি জামারায়ে উসতায় (মধ্যম জামারায়) আসলেন এবং তাতেও প্রথমটির ন্যায়ই সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন।
এখানে পাথর নিক্ষেপ করার পর তিনি বাম দিকে সরে আসলেন এবং কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে উভয় হাত তুলে প্রথম বারের ন্যায়ই দু'আ করলেন। অতঃপর তিনি জামারায়ে কুবরায় (বড় জামাড়ায়) গেলেন এবং উপত্যকার মাঝখানে দাঁড়ালেন। এ সময় তিনি কাবাকে বামে রেখে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। পাথর মারা শেষে তিনি সেখানে অবস্থান না করে সরসূরি পিছনে ফিরে আসলেন। সলাত শেষে দু'আ করার ব্যাপারে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি।

টিকাঃ
১৩৭. বর্তমান সময়ে পাক, ভারত, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বিরাট একটি অংশের মুসলিমগণ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের পরই হাত তুলে দলবদ্ধভাবে দুআ করে থাকে। এই ভাবে দুআ করার কথা কোন সহীহ হাদীছে বর্ণিত হয় নি। এটি সুন্নাত বা মুস্তাহাব নয়; বরং এটি সুস্পষ্ট বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 বিদায় হজ্জের বছর দু‘আ করার জন্য নবী (সাঃ) কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন?

📄 বিদায় হজ্জের বছর দু‘আ করার জন্য নবী (সাঃ) কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন?


আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেন- নাবী বিদায় হজ্জের বছর দু'আ করার জন্য ছয়টি স্থানে অবস্থান করেছেন। (১) 'সাফা'এর উপর (২) মারওয়ার উপর (৩) আরাফায় (৪) মুযদালিফায় (৫) জামারায়ে উলায় (ছোট জামারায়) এবং (৬) জামারায়ে উসতায় (মধ্যম জামারায়)।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 হাজীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে কিংবা অন্য কোন শরঈ ওযর থাকলে মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়

📄 হাজীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে কিংবা অন্য কোন শরঈ ওযর থাকলে মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়


আব্বাস হাজীদেরকে পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতসমূহ মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন। উটের রাখালগণ মিনার বাইরে উটের নিকট রাত্রি যাপনের অনুমতি চাইলে তিনি তাদেরকেও অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে কুরবানীর দিন এবং বাকী দুই দিনের পাথর এক সাথে দুই দিনের যে কোন এক দিন মারার অনুমতি দিয়েছেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন- কেউ যদি তার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে কিংবা অসুস্থ ব্যক্তির সেবায় নিয়োজিত থাকে অথবা নিজে অসুস্থ থাকার কারণে মিনায় রাত্রি যাপন করা অসম্ভব হয়, তাহলে রাখাল ও পানি সরবরাহ কারীদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছের উপর ভিত্তি করে উপরোক্ত লোকদের জন্যও মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 তানঈম থেকে আয়েশা (রাঃ) এর উমরাহ

📄 তানঈম থেকে আয়েশা (রাঃ) এর উমরাহ


সেই রাতে আয়িশা আকাঙ্খা করলেন যে, তিনি যেন তাঁকে আলাদাভাবে একটি উমরাহ করার সুযোগ দান করেন। তাই নাবী আয়িশা এর ভাই আব্দুর রহমান বিন আবু বকরকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁকে তানঈম থেকে উমরাহ করান। তিনি রাতেই উমরাহ সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মধ্যরাতে আয়িশা তাঁর ভাইয়ের সাথে মুহাস্সাবে পৌঁছলে রসূল কাফেলাকে যাত্রা করার হুকুম দিলেন।
মুহাসাবে অবস্থান করা কি সুন্নাত? না ঘটনাক্রমে এখানে রসূল অবস্থান করেছেন? এ সম্পর্কে দু'টি মত পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি হজ্জের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ বলেছেন, এখানে রসূল ঘটনাক্রমে অবস্থান করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px