📄 একই সফরে একাধিক উমরাহ করা এবং তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধা
তিনি যত উমরাহ করেছেন, তার সবগুলোই আপন স্থান থেকে মক্কায় প্রবেশ করেই আদায় করেছেন। এমনটি প্রমাণিত নেই যে, তিনি মক্কাতে ছিলেন এবং উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য বাইরে গিয়েছেন অতঃপর উমরাহ আদায় করেছেন। যেমনটি বর্তমান সময়ের অনেক মানুষ করে থাকে। বরং তিনি সব উমরাহ আপন স্থান থেকে মক্কায় গিয়েই করেছেন। নবুওয়াত পাওয়ার পর ১৩ বছর মক্কায় ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একবারও হারামের বাইরে গিয়ে এহরাম বেঁধে মক্কায় এসে উমরাহ করেছেন বলে প্রমাণিত নেই।
নাবী জীবিত থাকতে তাঁর কোন সাহাবী কখনও এমন কাজ করেন নি। শুধু আয়িশা কে একবার তানঈম থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। কারণ তিনি বিদায় হজ্জের বছর প্রথমে উমরার এহরাম বেঁধেছিলেন।
অতঃপর তাঁর মাসিকের রক্তস্রাব শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে সাথের লোকদের সাথে উমরাহ করতে পারেন নি। তাই তিনি নাবী এর আদেশে কিরান হজ্জের নিয়ত করে ফেললেন। নাবী তাকে বললেন যে, তিনি যেহেতু কাবা ঘরের তাওয়াফ করেছেন এবং সাফা-মারওয়ায় সাঈ করেছেন তাই তাঁর হাজ্জ ও উমরাহ উভয়টিই হয়েছে। তাঁর সাথীগণ যেহেতু তামাত্তুকারী ছিলেন এবং তাদের কারও হায়েয শুরু হয় নি বলে কিরান হজ্জেও প্রবেশ করেন নি, তাই তারা আলাদাভাবে হাজ্জ ও উমরাহসহ ফেরত যাচ্ছেন দেখে আয়িশা মনে কষ্ট পেলেন। কারণ তিনি পৃথক উমরাহ করতে পারেন নি। বরং হজ্জের সাথে মিলিয়ে যে উমরাটি করেছিলেন তিনি কেবল তা নিয়েই ফেরত যাচ্ছেন। তাই রসূল আয়িশা এর মনকে খুশী করার জন্য তাঁর ভাই আব্দুর রহমান বিন আবু বকরকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তাকে তানঈম থেকে একটি উমরা করান।
হজ্জের মাসগুলোতেতেই তিনি সবগুলো উমরাহ করেছেন। এটি ছিল মুশরিকদের সাধারণ অভ্যাসের বিপরীত। কেননা তারা হজ্জের মাসগুলোতে উমরাহ করাকে অপছন্দ করত। এতে প্রমাণিত হয় যে নিঃসন্দেহে হজ্জের মাসগুলোতে উমরাহ করা রজব মাসে উমরাহ করার চেয়ে অনেক উত্তম।
📄 রামাযান মাসে উমরাহ করা
বাকী থাকল রমযান মাসে উমরা করার বিষয়টি। নাবী থেকে সহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, রমযান মাসের উমরাহ ছাওয়াবের দিক দিয়ে হজ্জের সমান। রমযান মাসে উমরাহ করার এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও রসূল তাতে উমরাহ না করার কারণ সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি রমযান মাসে উমরা করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তা ছাড়া তাতে উমরাহ করা ছেড়ে দিয়ে উম্মাতের উপর রহমত ও সহজ করেছেন। সুতরাং তিনি যদি রমযান মাসে উমরা করতেন তাহলে সমস্ত উম্মাত এই মাসে উমরাহ করার জন্য তৎপর হয়ে উঠত।
এক বছরের মধ্যে তিনি একটির বেশী উমরাহ করেছেন বলে প্রমাণিত নেই। এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই যে, তিনি হিজরতের পরে দশম হিজরীতে কেবল একবারই হাজ্জ করেছেন।
📄 কাবা ঘরের তাওয়াফের ক্ষেত্রে রসূল (সাঃ) এর হিদায়াত
মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে তিনি কাবা ঘরের দিকে চলে গেলেন। তাহিয়াতুল মাসজিদ তথা মাসজিদে প্রবেশের দুই রাকআত সলাত পড়েন নি। কেননা মাসজিদুল হারামের তাহিয়াতুল মাসজিদই হচ্ছে কাবা ঘরের তাওয়াফ। হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী হয়ে তিনি তাতে চুমু দিলেন। হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত কাবা ঘরের অন্য কোন স্থান স্পর্শ বা চুম্বন করেন নি। তাওয়াফ শেষ করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের পিছনে এসে দুই রাকআত সলাত পড়লেন। প্রথম রাকআতে সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পাঠ করলেন। সলাত শেষে তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে ফেরত আসলেন এবং তাতে চুম্বন করে সামনের দরজা দিয়ে 'সাফা'এর দিকে অগ্রসর হলেন।
টিকাঃ
১২৬. তাকবীরের মাধ্যমে তাওয়াফ শুরু করা হাদীছ দ্বারা সুসাব্যস্ত। এমন কি বিসমিল্লাহ সহ তাকবীর বলা সাহাবী থেকে সুসাব্যস্ত।
📄 আরাফার দিনে নবী (সাঃ) এর পবিত্র হিদায়াত
মিনায় গিয়ে তিনি যোহর ও আসর সলাত পড়েছেন এবং তথায় রাত্রি যাপন করেছেন। পরের দিন সূর্য উঠার পর আরাফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। আরাফার পূর্ব প্রান্তে নামেরায় পৌঁছে দেখেন তাঁর আদেশ মোতাবেক তাঁর জন্য তাঁবু টানানো হয়েছে। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়ার পর উরানার নিম্নভূমিতে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি উটের উপর আরোহী অবস্থায় এক মহান ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করলেন। এই ভাষনে তিনি ইসলামের মূল বুনিয়াদগুলো পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করলেন এবং শিরক ও অন্ধকার যুগের সকল প্রথা বাতিল করলেন।
খুতবা শেষে তিনি বিলালকে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। তিনি সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষে তিনি বাহনে আরোহন করে আরাফার সীমানায় ঢুকলেন এবং কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সেখানে থেকেই তিনি দু'আ শুরু করলেন। তিনি সূর্য ডুবা পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে দু'আয় কাকুতি-মিনতি করতে থাকলেন।
টিকাঃ
১২৯. তিরমিযী ও ইবনে খুযায়মা। তবে ইমাম আলবানী এই হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।
১৩০. ইমাম তাবারানী আল-মু'জামুল কাবীরে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলবানী এই হাদীসটিকেও যঈফ বলেছেন।
১৩১. কিন্তু সর্বশেষ দুআর হাদীছ বিশুদ্ধ।
১৩২. সূরা মায়েদা-৫:৩