📄 নফল সিয়াম রাখার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
তিনি একাধারে এত বেশী নফল সিয়াম রাখতেন, যাতে বলা হত, তিনি আর কখনও সিয়াম ছাড়বেন না। আর যখন সিয়াম রাখা ছেড়ে দিতেন, তখন এমন বলা হত যে তিনি আর নফল সিয়াম রাখবেনই না। রমযান মাস ব্যতীত তিনি আর কোন পূর্ণমাস সিয়াম রাখেন নি। তিনি শাবান মাসের চেয়ে অধিক নফল সিয়াম অন্য কোন মাসে রাখেন নি। এ ছাড়া এমন কোন মাস তিনি পার করেন নি, যাতে তিনি নফল সিয়াম রাখেন নি। তিনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন নফল সিয়ামর প্রতি খুবই যত্নশীল ছিলেন। তিনি আইয়্যামে বীযের (প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের) সিয়াম কখনই ছাড়েন নি। শাওয়াল মাসের ছয় সিয়াম সম্পর্কে সহীহ সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- শাওয়ালের ছয় সিয়াম রামাযানের সিয়ামর সাথে এক বছরের সিয়ামর সমান।
আশুরার সিয়াম সম্পর্কে তিনি সিয়াম রেখেছেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও সিয়াম রাখার আদেশ দিয়েছেন। আরাফার দিন আরাফায় অবস্থান কালে রোযা রাখা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সারা বছর একটানা সিয়াম রাখা নাবী এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত ছিলনা। তিনি কখনও নফল সিয়ামর নিয়ত করতেন, অতঃপর তা ছেড়ে দিতেন। নাবী সিয়াম অবস্থায় কোন কোন গোত্রের কাছে গেলে তিনি সিয়াম পূর্ণ করতেন। জুমআর দিন এককভাবে সিয়াম রাখাকে তিনি মাকরূহ বলেছেন।
📄 ই‘তেকাফের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
ই’তেকাফ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে মাখলুক (সৃষ্টি) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তরকে আল্লাহর আনুগত্যের উপর আটকিয়ে রাখা এবং একমাত্র তাঁর দিকেই একাকী মনোনিবেশ করা। এই একাকিত্বের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সাথে একান্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলবে। নাবী (সাঃ) মৃত্যু পর্যন্ত রামাযানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন। তাঁর আদেশক্রমে মাসজিদে ছোট একটি তাঁবু টানানো হত। তিনি ইতেকাফের ইচ্ছা করলে ফজরের সলাতের পর ইতেকাফের স্থলে প্রবেশ করতেন।
তিনি একাকী ইতেকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন এবং বিনা প্রয়োজনে নিজ ঘরে প্রবেশ করতেন না। ইতেকাফে থাকা অবস্থায় তিনি স্ত্রীদের সাথে সহবাস করতেন না। তাঁর ইতেকাফের স্থলে চাদর ও খাট-চৌকি স্থাপন করা হত। কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তায় কোনো রোগীর দেখা মিললে রোগীর হাল-হাকীকতও জিজ্ঞেস করতেন।