📄 যে সমস্ত মালের যাকাত দিতে হয়
তিনি চার প্রকার মালের মধ্যে যাকাত ফরয করেছেন। কেননা এগুলোই মানুষের মাঝে সর্বাধিক আদান-প্রদান ও হস্তান্তরিত হয় এবং এগুলোর প্রতিই মানুষের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী। > ক. যমীন থেকে উৎপন্ন ফসল ও ফল। > খ. চতুষ্পদ জন্তু যেমন উট, গরু ও ছাগল। > গ. স্বর্ণ-রোপ্য, যার উপর অর্থনৈতিক লেনদেনের মূল ভিত্তি। > ঘ. ব্যবসায়িক বিভিন্ন পণ্য।
📄 বিভিন্ন প্রকার সম্পদে যাকাতের বিভিন্ন নিসাব
তিনি প্রত্যেক বছর মাত্র একবার যাকাত দেয়া আবশ্যক করেছেন। প্রত্যেক বছর ফল ও ফসল পরিপূর্ণরূপে পাকা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছেন। সম্পদ উপার্জনে কষ্ট করা বা বিনা কষ্টে তা অর্জিত হওয়ার প্রতি দৃষ্টি রেখে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণে কমবেশী করেছেন। সুতরাং কোন পরিশ্রম ছাড়াই মানুষ যমীনের নীচে যে সমস্ত সম্পদ পেয়ে যায় তাতে তিনি পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফরয করেছেন। আর যা এর চেয়ে একটু বেশী কষ্ট করে উপার্জন করতে হয় তাতে তিনি দশভাগের এক ভাগ ফরয করেছেন। আর বান্দা কষ্ট করে নিজ খরচে পানি সেচ দিয়ে এবং অন্যান্য খরচ করে চাষাবাদের মাধ্যমে যে ফসল উৎপাদন করে তাতে তিনি ২০ ভাগের এক ভাগ ফরয করেছেন।
আর মালিকের বিরামহীন পরিশ্রম ছাড়া যে সম্পদ বৃদ্ধি হয়না তাতে ৪০ ভাগের এক ভাগ ফরয করেছেন। যেমন স্বর্ণ-রোপ্য, নগদ টাকা ও ব্যবসায়িক পণ্যদ্রব্য।
রূপার নিসাব হচ্ছে দুইশত দিরহাম (৫৯০ গ্রাম)। স্বর্ণের নিসাব হচ্ছে বিশ মিছকাল (৮৫ গ্রাম)। শস্যদানা ও ফলের নিসাব হচ্ছে পাঁচ ওয়াসাক। ছাগলের নিসাব হচ্ছে ৪০টি। গরুর নিসাব হচ্ছে ৩০টি। উটের পাঁচটি (তবে এতে একটি ছাগল দিতে হয়)। উটের সংখ্যা ১২০ এর বেশী হলে প্রত্যেক চল্লিশটিতে দুই বছরের একটি করে বাছুর উটনী দিতে হবে।
📄 নবী (সাঃ) এর যাকাত বণ্টন করার পদ্ধতি
তিনি যদি কোন লোকের অবস্থা থেকে জানতে পারতেন যে সে যাকাতের হকদার তাহলে তিনি তাকে যাকাত থেকে দান করতেন। আর এমন কোন লোক যদি যাকাতের মাল চাইত যার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় নি যে সে যাকাতের হকদার কি না, তাহলে তাকেও তিনি দিতেন। তবে এরূপ ক্ষেত্রে তিনি বলে দিতেন যে, ধনী এবং উপার্জন সক্ষম শক্তিশালী যুবকের জন্য যাকাতের কোন অংশ নেই। তাঁর পবিত্র সুন্নাত এই ছিল যে, যেই এলাকার ধনীদের থেকে যাকাত আদায় করা হত সেই এলাকার হকদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হত। বন্টনের পর যা অতিরিক্ত হত তা তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেয়া হত। তিনি তা বণ্টন করতেন। তিনি চতুষ্পদ জন্তু, শস্যদানা এবং ফলের মধ্য থেকে কেবল প্রকাশ্য মালের মালিকদের নিকটেই কর্মচারীদেরকে পাঠাতেন। তিনি খেজুর ও আঙ্গুরের মালিকদের কাছে কেবল অনুমানে পারদর্শী লোকদেরকেই পাঠাতেন।
ঘোড়ার যাকাত আদায় করা তাঁর পবিত্র সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিলনা। এমনিভাবে ক্রীতদাস, খচ্চর, গাধা, শাক-সব্জি, তরমুজ এবং ঐ সমস্ত ফলের উপরও যাকাত নির্ধারণ করেন নি। কোন লোক যাকাতের মাল নিয়ে আসলে রসূল তার জন্য দু'আ করতেন। তিনি যাকাতের জন্য মধ্যম মানের সম্পদগুলো গ্রহণ করতেন। নাবী অগ্রীম যাকাতও আদায় করতেন।
📄 নফল সাদকার ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর সুন্নাত
তিনি লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। সাদকাহ ও দানের ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল যে, তাঁর কাছে কোন সম্পদ আসলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন, নিজের কাছে রেখে দিতেন না। কেউ তাঁর কাছে কোন কিছু চাইলে তা যদি তাঁর কাছে থাকত, তাহলে তিনি তা দান করতেন। কম হোক বা বেশী হোক। তাঁর কাছ থেকে দান গ্রহণকারী কিছু পেয়ে যতটা খুশী না হতেন দান করতে পেরে তিনি তার চেয়ে অধিক খুশী হতেন। কোন অভাবী লোক তাঁর কাছে আসলে তিনি সেই অভাবীকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি বিভিন্ন প্রকারের দান করতেন। কখনও তিনি হাদীয়া স্বরূপ দান করতেন, কখনও সাদকাহ করতেন আবার কখনও হিবাহ (দান) করতেন।
তিনি লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। সাদকাহ ও দানের ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল যে, তাঁর কাছে কোন সম্পদ আসলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন, নিজের কাছে রেখে দিতেন না। কেউ তাঁর কাছে কোন কিছু চাইলে তা যদি তাঁর কাছে থাকত, তাহলে তিনি তা দান করতেন। কম হোক বা বেশী হোক। তাঁর কাছ থেকে দান গ্রহণকারী কিছু পেয়ে যতটা খুশী না হতেন দান করতে পেরে তিনি তার চেয়ে অধিক খুশী হতেন। কোন অভাবী লোক তাঁর কাছে আসলে তিনি সেই অভাবীকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি বিভিন্ন প্রকারের দান করতেন। কখনও তিনি হাদীয়া স্বরূপ দান করতেন, কখনও সাদকাহ করতেন আবার কখনও হিবাহ (দান) করতেন।
তিনি লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। সাদকাহ ও দানের ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল যে, তাঁর কাছে কোন সম্পদ আসলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন, নিজের কাছে রেখে দিতেন না। কেউ তাঁর কাছে কোন কিছু চাইলে তা যদি তাঁর কাছে থাকত, তাহলে তিনি তা দান করতেন। কম হোক বা বেশী হোক। তাঁর কাছ থেকে দান গ্রহণকারী কিছু পেয়ে যতটা খুশী না হতেন দান করতে পেরে তিনি তার চেয়ে অধিক খুশী হতেন। কোন অভাবী লোক তাঁর কাছে আসলে তিনি সেই অভাবীকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি বিভিন্ন প্রকারের দান করতেন। কখনও তিনি হাদীয়া স্বরূপ দান করতেন, কখনও সাদকাহ করতেন আবার কখনও হিবাহ (দান) করতেন। কখনও তিনি কোন জিনিষ ক্রয় করতেন। অতঃপর বিক্রেতাকে ক্রয়কৃত দ্রব্য ও মূল্য উভয়ই দিয়ে দিতেন। কখনও তিনি ঋণ নিতেন এবং পরিশোধের সময় তার চেয়ে বেশী দান করতেন। তিনি যখন হাদীয়া গ্রহণ করতেন তখন কোন না কোনভাবে তার বদলা দিতেন। তিনি কথার মাধ্যমে, কাজের মাধ্যমে, দানের মাধ্যমে এবং সকল প্রকার লেনদেন ও আচরণের মাধ্যমে অপরের প্রতি অনুগ্রহ করতেন। কখনও তিনি নিজ থেকে দান করতেন। আবার কখনও অপরকে সাদকাহ করার আদেশ দিতেন এবং উৎসাহ দিতেন। কৃপণ লোকেরা দানের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা দেখে দান করার প্রতি উৎসাহ পেত। তাঁর সাথে যারা মিশতেন তারাও বদান্যতার গুণে গুণান্বিত হতেন। তাঁর বক্ষ খুব প্রশস্ত ছিল, স্বভাব-চরিত্র খুব পবিত্র ছিল।
তিনি লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। সাদকাহ ও দানের ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল যে, তাঁর কাছে কোন সম্পদ আসলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন, নিজের কাছে রেখে দিতেন না। কেউ তাঁর কাছে কোন কিছু চাইলে তা যদি তাঁর কাছে থাকত, তাহলে তিনি তা দান করতেন। কম হোক বা বেশী হোক। তাঁর কাছ থেকে দান গ্রহণকারী কিছু পেয়ে যতটা খুশী না হতেন দান করতে পেরে তিনি তার চেয়ে অধিক খুশী হতেন। কোন অভাবী লোক তাঁর কাছে আসলে তিনি সেই অভাবীকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি বিভিন্ন প্রকারের দান করতেন। কখনও তিনি হাদীয়া স্বরূপ দান করতেন, কখনও সাদকাহ করতেন আবার কখনও হিবাহ (দান) করতেন।
তিনি লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। সাদকাহ ও দানের ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্র সুন্নাত ছিল যে, তাঁর কাছে কোন সম্পদ আসলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন, নিজের কাছে রেখে দিতেন না। কেউ তাঁর কাছে কোন কিছু চাইলে তা যদি তাঁর কাছে থাকত, তাহলে তিনি তা দান করতেন। কম হোক বা বেশী হোক। তাঁর কাছ থেকে দান গ্রহণকারী কিছু পেয়ে যতটা খুশী না হতেন দান করতে পেরে তিনি তার চেয়ে অধিক খুশী হতেন। কোন অভাবী লোক তাঁর কাছে আসলে তিনি সেই অভাবীকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি বিভিন্ন প্রকারের দান করতেন। কখনও তিনি হাদীয়া স্বরূপ দান করতেন, কখনও সাদকাহ করতেন আবার কখনও হিবাহ (দান) করতেন।