📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জানাযা দেখে দাঁড়ানো

📄 জানাযা দেখে দাঁড়ানো


সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর পাশ দিয়ে জানাযা বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাহাবীদেরকে দাঁড়াতে বলেছেন। সহীহ সূত্রে এও বর্ণিত হয়েছে যে, পাশ দিয়ে জানাযা অতিক্রম করার সময় তিনি বসেই ছিলেন। বলা হয়েছে যে, দাঁড়ানোর হুকুম রহিত হয়ে গেছে। আবার বলা হয় যে, দাঁড়ানো মুস্তাহাব আর বসে থাকা জায়েয।

টিকাঃ
১০২. এই দাঁড়ানো মৃতকে সম্মানের জন্য নয়। মূলতঃ যিনি মৃত্যু ঘটিয়েছেন তাঁর তথা আল্লাহ্ তা'আলার সম্মানের জন্য এবং মৃত্যুর ভয়ের কারণেই।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 কবর যিয়ারত ও তার পদ্ধতি

📄 কবর যিয়ারত ও তার পদ্ধতি


তিনি দু'আ ও ইস্তেগফার করার জন্য তাঁর সাহাবীদের কবর যিয়ারত করতে যেতেন। এটিই হচ্ছে সেই যিয়ারত, যা রসূল সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। কবর যিয়ারতের সময় তিনি তাদেরকে এই দু'আ পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন- السَّلامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ শَاءَ اللهُ لَلاحِقُونَ أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ» "সকল মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীর উপর সালাম (শান্তি)। আল্লাহ্ চাহে তো আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের এবং আপনাদের ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। "
জানাযা সলাতে তিনি যে সমস্ত দু'আ পাঠ করতেন কবর যিয়ারতের সময়ও অনুরূপ দু'আ পাঠ করতেন। তবে মুশরিকদের অবস্থা হচ্ছে তারা নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য মৃতদেরকে আহবান করছে, আল্লাহর সাথে মৃতদেরকে শরীক করছে। আর এটি রসূল এর সুন্নাতের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে এককভাবে আল্লাহর ইবাদতের উপর।
মৃতের আত্মীয় স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা তাঁর সুন্নাতে তায়্যেবার অন্তর্ভূক্ত ছিল। দিন বা তারিখ নির্দিষ্ট করে মৃত ব্যক্তির জন্য একত্রিত হওয়া এবং কুরআন পাঠ করা তাঁর সুন্নাত ছিল না। মূলতঃ কুরআন পড়ার জন্য কবরের পাশে বা অন্য কোন স্থানে একত্রিত হওয়া ইসলামে বৈধ নয়।

টিকাঃ
১০৯. মুসলিম, হাএ. হা/২১৪৭, ইফা. হা/২১২৬, ইসে, হা/২১২৯, সহীহ ইবনে মাযাহ, মাশাা. হা/১২৫৭, মিশকাত, মাশাা. হা/১৭৬৪

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 ভয়কালীন সালাতে নবী (সাঃ) এর আদর্শ

📄 ভয়কালীন সালাতে নবী (সাঃ) এর আদর্শ


আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নাবীর জন্য সফর ও ভয়ের সময় সলাতের রাকআত সংখ্যা ও রুকনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে বিশেষ রহমত করেছেন। ভয়ের সলাতের একাধিক পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে-
১. শত্রুরা যদি নাবী ও কিবলার মাঝখানে থাকতো তাহলে সমস্ত সাহাবী তাঁর পিছনে দুই কাতারে বিভক্ত হয়ে দাঁড়াতেন। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকেরা সিজদায় যেত আর পরের কাতারের লোকেরা শত্রুর দিকে লক্ষ্য রেখে দাঁড়িয়ে থাকত। তারা দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ালে পিছনের সারির লোকেরা দু'টি সিজদাহ করত। অতঃপর তারা সামনে-পিছনে স্থান বদল করত।
২. শত্রুরা কিবলার দিকে না থাকলে তিনি মুজাহিদদেরকে দুইভাগে বিভক্ত করতেন। এক দল দাঁড়িয়ে থাকত এবং অন্য দল তাঁর সাথে সলাত আদায় করত। অতঃপর তারা স্থান বিনিময় করত এবং পরে ইমামের সালামের পরে বাকি এক রাকআত পড়ে নিত।
৩. কখনও তিনি দুই দলের এক দলকে সাথে নিয়ে দুই রাকআত সলাত আদায় করে তাদেরকে সাথে নিয়ে সালাম ফেরাতেন। এরপর অন্য দলকে নিয়েও আবার দুই রাকআত সলাত পড়ে তাদের সাথে সালাম ফেরাতেন।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন- ভয়ের সলাতের ক্ষেত্রে ছয়টি বা সাতটি পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়। প্রত্যেকটিই জায়েয।

ফন্ট সাইজ
15px
17px