📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জানাযার (লাশের) আগে ও পিছনে গমন করা

📄 জানাযার (লাশের) আগে ও পিছনে গমন করা


নাবী এর পবিত্র সুন্নাত ছিল যে, কারও জানাযা সলাত পড়ার পর তিনি লাশের আগে আগে পায়ে হেঁটে কবর পর্যন্ত যেতেন। আর যারা আরোহন করে যাবে তাদের জন্য লাশের পিছনে যাওয়াকে সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। আর যারা পায়ে হেঁটে যাবে তাদের উচিত হবে লাশের খুব কাছাকাছি থাকা। চাই সামনে হোক বা পিছনে, ডানে হোক বা বামে। তিনি জানাযা নিয়ে দ্রুত চলতে আদেশ করতেন। সাহাবীগণ লাশ নিয়ে দৌড়িয়ে চলতেন। আর তিনিও পায়ে হেঁটে চলতেন এবং বলতেন- ফিরিস্তারা যেহেতু হেঁটে চলছে, তাই আমি আরোহন করতে পারি না। ফেরত আসার সময় তিনি কখনও কখনও আরোহন করেছেন। লাশ কবরে না রাখা পর্যন্ত তিনি বসতেন না।

টিকাঃ
৯৯. আবু দাউদ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। দেখুনঃ সহীহ আবু দাউদ হা/ ২৭২০।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 গায়েবানা জানাযা

📄 গায়েবানা জানাযা


তিনি প্রত্যেক মৃতের গায়েবানা জানাযা পড়তেন না। সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি উপস্থিত মাইয়্যেতের জানাযা সলাতের মতই নাজাশীর গায়েবানা জানাযা পড়েছেন। গায়েবানা জানাযা পড়া এবং না পড়া উভয়টিই সুন্নাত। কোন ব্যক্তি যদি এমন দেশে মারা যায় যেখানে জানাযা সলাত পড়া সম্ভব হয় নি, তার জানাযা সলাত পড়তে হবে।

টিকাঃ
১০১. যার উপর জানাযা সলাত পড়া হয়ে গেছে, তার জন্য গায়েবানা জানাযা পড়ার কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জানাযা দেখে দাঁড়ানো

📄 জানাযা দেখে দাঁড়ানো


সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর পাশ দিয়ে জানাযা বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাহাবীদেরকে দাঁড়াতে বলেছেন। সহীহ সূত্রে এও বর্ণিত হয়েছে যে, পাশ দিয়ে জানাযা অতিক্রম করার সময় তিনি বসেই ছিলেন। বলা হয়েছে যে, দাঁড়ানোর হুকুম রহিত হয়ে গেছে। আবার বলা হয় যে, দাঁড়ানো মুস্তাহাব আর বসে থাকা জায়েয।

টিকাঃ
১০২. এই দাঁড়ানো মৃতকে সম্মানের জন্য নয়। মূলতঃ যিনি মৃত্যু ঘটিয়েছেন তাঁর তথা আল্লাহ্ তা'আলার সম্মানের জন্য এবং মৃত্যুর ভয়ের কারণেই।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 কবর যিয়ারত ও তার পদ্ধতি

📄 কবর যিয়ারত ও তার পদ্ধতি


তিনি দু'আ ও ইস্তেগফার করার জন্য তাঁর সাহাবীদের কবর যিয়ারত করতে যেতেন। এটিই হচ্ছে সেই যিয়ারত, যা রসূল সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। কবর যিয়ারতের সময় তিনি তাদেরকে এই দু'আ পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন- السَّلامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ শَاءَ اللهُ لَلاحِقُونَ أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ» "সকল মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীর উপর সালাম (শান্তি)। আল্লাহ্ চাহে তো আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের এবং আপনাদের ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। "
জানাযা সলাতে তিনি যে সমস্ত দু'আ পাঠ করতেন কবর যিয়ারতের সময়ও অনুরূপ দু'আ পাঠ করতেন। তবে মুশরিকদের অবস্থা হচ্ছে তারা নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য মৃতদেরকে আহবান করছে, আল্লাহর সাথে মৃতদেরকে শরীক করছে। আর এটি রসূল এর সুন্নাতের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে এককভাবে আল্লাহর ইবাদতের উপর।
মৃতের আত্মীয় স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা তাঁর সুন্নাতে তায়্যেবার অন্তর্ভূক্ত ছিল। দিন বা তারিখ নির্দিষ্ট করে মৃত ব্যক্তির জন্য একত্রিত হওয়া এবং কুরআন পাঠ করা তাঁর সুন্নাত ছিল না। মূলতঃ কুরআন পড়ার জন্য কবরের পাশে বা অন্য কোন স্থানে একত্রিত হওয়া ইসলামে বৈধ নয়।

টিকাঃ
১০৯. মুসলিম, হাএ. হা/২১৪৭, ইফা. হা/২১২৬, ইসে, হা/২১২৯, সহীহ ইবনে মাযাহ, মাশাা. হা/১২৫৭, মিশকাত, মাশাা. হা/১৭৬৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px