📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জানাযার সালাতের পদ্ধতি

📄 জানাযার সালাতের পদ্ধতি


জানাযা সলাতের শুরুতে তিনি আল্লাহু আকবার বলতেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করতেন। একদা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস একটি জানাযার সলাত পড়লেন। এতে তিনি প্রথম তাকবীরের পর স্বরবে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। আর বললেন- আমি এটি এ জন্য পাঠ করেছি, যাতে তোমরা জানতে পার যে, জানাযা সলাতে সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নাত।
শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমীয়া বলেন- জানাযা সলাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব নয়; বরং তা সুন্নাত। আবু উমামা বিন সাহল একদল সাহাবী থেকে জানাযা সলাতে দুরূদ শরীফ পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারী সাঈদ মাকবুরী থেকে বর্ণনা করেন, আর সাঈদ বর্ণনা করেন আবু হুরায়রা থেকে। আবু হুরায়রা উবাদাহ বিন সামেত কে জানাযা সলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- আমি তোমাদেরকে এ বিষয়ে সংবাদ দিব। প্রথমে তাকবীর বলবে। তারপর নাবী -এর উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। অতঃপর এই দু'আ পাঠ করবে- «اللَّهُمَّ إِنَّ عَبْدَكَ فُلَانًا كَانَ لَا يُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ إِنْ كَانَ مُحْسِنًا فَزِدْ فِي إِحْسَانِهِ وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا فَتَجَاوَزُ عَنْهُ اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ» “হে আল্লাহ্! তোমার উমুক বান্দা তোমার সাথে কাউকে শরীক করে নি। তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তুমিই অধিক অবগত আছ। সে যদি নেক আমল করে থাকে তাহলে তুমি তার নেক আমলে আরও বৃদ্ধি করে দাও। আর যদি খারাপ আমল করে থাকে তাহলে তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে তার বিনিময় (তার জানাযার সলাতের ছাওয়াব) থেকে বঞ্চিত করোনা এবং তার পরে আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করোনা"।
মৃত ব্যক্তির জানাযা সলাত পড়ার উদ্দেশ্য হল তার জন্য দু'আ করা। তাই নাবী থেকে দু'আর ব্যাপারে যত হাদীস বর্ণিত হয়েছে সূরা ফাতিহা ও তাঁর উপর দুরূদ পাঠের ব্যাপারে তত হাদীস বর্ণিত হয় নি। নাবী থেকে এই দু'আও বর্ণিত হয়েছে- «اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ» “হে আল্লাহ্! উমুকের পুত্র উমুক তোমার আশ্রয়ে ও হেফাজতে চলে গেছে। তুমি তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাঁচাও এবং জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর। তুমি ওয়াদা পূর্ণকারী ও সত্যবাদী। তাকে তুমি ক্ষমা কর এবং তার উপর রহম কর। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াময়"। নীচের দু'আটি সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
«اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا وأَنْتَ رَزَقْتَهَا وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا لِلإِسْلامِ وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَا وَعَلَانِيَتِهَا جِئْنَا شُفَعَاءَ فَاغْفِرْ لَهَا» “হে আল্লাহ! তুমিই এই মাইয়্যেতের প্রভু। তুমিই তাকে সৃষ্টি করেছ ও রিযিক দিয়েছ, তাকে ইসলাম কবুল করার তাওফীক দিয়েছ এবং তুমিই তার রূহ কবয করার হুকুম করেছ। তুমি তার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব কিছুই জান। আমরা তার জন্য শাফাআতকারী হিসাবে এখানে এসেছি। সুতরাং তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও।' আর তিনি মাইয়্যেতের জন্য ইখলাসের সাথে দু'আ করার আদেশ দিতেন।

টিকাঃ
৯৩. অনেক সাহাবী, তাবেয়ী এবং ইমামের নিকট তা পাঠ করা ফরয। তাদের দলীল বুখারীর সুপ্রসিদ্ধ হাদীছ, "যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করলনা, তার সলাত হলনা। যেহেতু জানাযা একটি সলাত এবং সকলে এটিকে সলাত বলেই জানেন, তাই উক্ত হাদীছ জানাযা সলাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
৯৪. সুনান ইবনে মাজাহ, তাও, হা/১৪৯৯, আহকামুল জানায়েয ১২৫ পৃষ্ঠা।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জানাযার সালাতের তাকবীর সংখ্যা

📄 জানাযার সালাতের তাকবীর সংখ্যা


তিনি চার তাকবীরে জানাযা সলাত পড়তেন। তাঁর থেকে পাঁচ তাকবীরের কথাও সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবীগণ চার, পাঁচ এবং ছয় তাকবীরেও জানাযা সলাত পড়তেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদের ছাত্র আলকামা বলেন- আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ কে বললাম- শাম থেকে মুআয বিন জাবালের কিছু সাথী আগমণ করেছে। তারা তাদের একজন মাইয়্যেতের জানাযা সলাতে পাঁচ তাকবীর দিয়েছে। তিনি বললেন- মাইয়্যেতের জানাযা সলাতে তাকবীরের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ইমাম যে কয়টি তাকবীর দেয় তুমিও সেই কয়টি তাকবীর দাও। আর ইমাম যখন সালাম ফেরাবে তখন তুমিও সালাম ফিরাও।

টিকাঃ
৯৫. মুসনাদে আহমাদ, ইমাম আলবানী এই হাদীছকে যঈফ বলেছেন।
৯৬. চার তাকবীরে জানাযার সলাত পড়ার পদ্ধতি হচ্ছেঃ প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা পড়ে কুরআন থেকে আরেকটি সূরা পাঠ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় তাকবীর দিবে। দ্বিতীয় তাকবীরের পর নাবী এর উপর তাশাহুদের দুরূদের ন্যায় দুরূদ পাঠ করবে। অতঃপর তৃতীয় তাকবীর দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে সালাম ফেরাবে।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জানাযার সালাতে তাকবীর বলার সময় রাফউল ইয়াদাইন করা

📄 জানাযার সালাতে তাকবীর বলার সময় রাফউল ইয়াদাইন করা


জানাযা সলাতে তাকবীর পাঠ করার সময় রাফউল ইয়াদাইন সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন- এ ব্যাপারে সাহাবী থেকে বর্ণিত একটি আছারের (হাদীস) উপর ভিত্তি করে এবং সলাতের সুন্নাতের উপর কিয়াস করে রাফউল ইয়াদাইন করা যাবে। ইবনে উমার ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা জানাযা সলাতে যখনই তাকবীর বলতেন তখনই রাফউল ইয়াদাইন করতেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 কারো জানাযার সালাত ছুটে গেলে কবরের উপর পড়তে পারে

📄 কারো জানাযার সালাত ছুটে গেলে কবরের উপর পড়তে পারে


রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন জানাযা সলাত ছুটে গেলে কবরের উপর সলাত পড়তেন। তিনি একবার এক রাত পরে একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার তিন রাত পর একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার একমাস পর। এ ব্যাপারে তিনি কোন সময় সীমা নির্ধারণ করে দেন নি। ইমাম মালেক (রহঃ) শুধু অলী তথা শাসকের জন্য কবরের উপর জানাযা সলাত পড়া জায়েয বলেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি জানাযায় উপস্থিত না থাকেন।

টিকাঃ
৯৭. তাই এ ব্যাপারে আলেমদের একটি সুন্দর সিদ্বান্ত হচ্ছে কোন মানুষের আপন কিংবা বিশেষ ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত না হতে পারলে কবরে তা পড়া যাবে। আল্লাহই ভাল জানেন। উহুদের শহীদদের জানাযা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আট বছর পর আদায় করেছেন।

রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন জানাযা সলাত ছুটে গেলে কবরের উপর সলাত পড়তেন। তিনি একবার এক রাত পরে একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার তিন রাত পর একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার একমাস পর। এ ব্যাপারে তিনি কোন সময় সীমা নির্ধারণ করে দেন নি। ইমাম মালেক (রহঃ) শুধু অলী তথা শাসকের জন্য কবরের উপর জানাযা সলাত পড়া জায়েয বলেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি জানাযায় উপস্থিত না থাকেন।

টিকাঃ
৯৭. তাই এ ব্যাপারে আলেমদের একটি সুন্দর সিদ্বান্ত হচ্ছে কোন মানুষের আপন কিংবা বিশেষ ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত না হতে পারলে কবরে তা পড়া যাবে। আল্লাহই ভাল জানেন। উহুদের শহীদদের জানাযা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আট বছর পর আদায় করেছেন।

রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন জানাযা সলাত ছুটে গেলে কবরের উপর সলাত পড়তেন। তিনি একবার এক রাত পরে একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার তিন রাত পর একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার একমাস পর। এ ব্যাপারে তিনি কোন সময় সীমা নির্ধারণ করে দেন নি। ইমাম মালেক (রহঃ) শুধু অলী তথা শাসকের জন্য কবরের উপর জানাযা সলাত পড়া জায়েয বলেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি জানাযায় উপস্থিত না থাকেন।

টিকাঃ
৯৭. তাই এ ব্যাপারে আলেমদের একটি সুন্দর সিদ্বান্ত হচ্ছে কোন মানুষের আপন কিংবা বিশেষ ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত না হতে পারলে কবরে তা পড়া যাবে। আল্লাহই ভাল জানেন। উহুদের শহীদদের জানাযা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আট বছর পর আদায় করেছেন।

রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন জানাযা সলাত ছুটে গেলে কবরের উপর সলাত পড়তেন। তিনি একবার এক রাত পরে একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার তিন রাত পর একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার একমাস পর। এ ব্যাপারে তিনি কোন সময় সীমা নির্ধারণ করে দেন নি। ইমাম মালেক (রহঃ) শুধু অলী তথা শাসকের জন্য কবরের উপর জানাযা সলাত পড়া জায়েয বলেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি জানাযায় উপস্থিত না থাকেন।

টিকাঃ
৯৭. তাই এ ব্যাপারে আলেমদের একটি সুন্দর সিদ্বান্ত হচ্ছে কোন মানুষের আপন কিংবা বিশেষ ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত না হতে পারলে কবরে তা পড়া যাবে। আল্লাহই ভাল জানেন। উহুদের শহীদদের জানাযা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আট বছর পর আদায় করেছেন।

রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন জানাযা সলাত ছুটে গেলে কবরের উপর সলাত পড়তেন। তিনি একবার এক রাত পরে একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার তিন রাত পর একটি কবরের উপর জানাযা সলাত পড়েছেন। আরেকবার একমাস পর। এ ব্যাপারে তিনি কোন সময় সীমা নির্ধারণ করে দেন নি। ইমাম মালেক (রহঃ) শুধু অলী তথা শাসকের জন্য কবরের উপর জানাযা সলাত পড়া জায়েয বলেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি জানাযায় উপস্থিত না থাকেন।

টিকাঃ
৯৭. তাই এ ব্যাপারে আলেমদের একটি সুন্দর সিদ্বান্ত হচ্ছে কোন মানুষের আপন কিংবা বিশেষ ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত না হতে পারলে কবরে তা পড়া যাবে। আল্লাহই ভাল জানেন। উহুদের শহীদদের জানাযা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আট বছর পর আদায় করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px