📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 সফর অবস্থায় নবী (সাঃ) এর সালাত

📄 সফর অবস্থায় নবী (সাঃ) এর সালাত


সফরে চার রাকআত বিশিষ্ট সলাতগুলো তিনি কসর করে পড়তেন। উমাইয়া বিন খালেদ ইবনে উমার কে জিজ্ঞেস করলেন- আমরা তো কুরআনে নিজ দেশে বা বাড়ীতে অবস্থান করার সময় সলাত পড়ার বর্ণনা দেখতে পাচ্ছি এবং ভয়ের সময় সলাত পড়ার পদ্ধতির কথা জানতে পারছি। সফর অবস্থায় সলাত পড়ার বিষয়টি তো কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি। ইবনে উমার তখন বললেন- “হে ভাই! আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ কে আমাদের নিকট এমন সময় প্রেরণ করেছেন, যখন আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা মুহাম্মাদ কে যা করতে দেখেছি এখন আমরাও তাই করছি"।

সফর অবস্থায় তিনি কেবল ফরয সলাতগুলো পড়তেন। ফরযের পূর্বে বা পরে সুন্নাত পড়ার কথা বর্ণিত হয়নি। তবে ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত পড়তেন। কিন্তু ফরয সলাতের পূর্বে বা পরে সাধারণ নফল সলাত পড়তে নিষেধও করেন নি। আর সফর অবস্থায় তা পড়লে বাড়ীতে অবস্থান কালীন সময়ের ন্যায় সাধারণ নফল হিসেবেই গণ্য হবে। সুন্নাতে মুআক্কাদাহ হিসাবে নয়। অর্থাৎ সফর অবস্থায় আদায়কৃত নফল সুন্নাতের স্থলাভিষিক্ত হবেনা এবং তা সুন্নাতে রাতেবা হিসাবেও গণ্য হবেনা। বাড়ীতে থাকাকালে যেমন সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) পড়ার পর নফল ও তাহাজ্জুদ পড়া তার ইচ্ছাধীন ছিল, তেমনি সফর অবস্থায় সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) বাদ দেয়ার পরও নফল পড়াটি বান্দার ইচ্ছাধীনই থেকে গেল।

সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের সময় আট রাকআত সলাত পড়েছেন।

ভ্রমণকালে তিনি বাহনের উপর বসেই নফল সলাত পড়তেন। বাহন তাকে নিয়ে যেদিকেই যেত, তাতে কোন অসুবিধা মনে করতেন না। ইঙ্গিতের মাধ্যমে রুকু-সিজদা করতেন। তবে রুকুর তুলনায় সিজদাতে কম সময় অবস্থান করতেন।

তিনি যদি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পূর্বে যাত্রা শুরু করতেন তাহলে যোহরের সলাতকে বিলম্বে আসরের সলাতের সাথে আদায় করতেন। আর যদি সূর্য ঢলার পর যাত্রা শুরু করতেন তাহলে যোহর ও আসর একসাথে পড়েই যাত্রা শুরু করতেন। আর দ্রুত পথ চলার ইচ্ছা করলে মাগরিবের সলাতকে ইশার সময় পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন এবং উভয় সলাতকে একত্রিত করে পড়তেন। বাহনের উপর বসে চলন্ত অবস্থায় কিংবা কোন স্থানে নেমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে চাইলে তিনি সাধারণত দুই সলাত একত্রে আদায় করতেন না।

আর তিনি তাঁর উম্মাতের জন্য সলাত কসর করার ক্ষেত্রে এবং সিয়াম ভাঙ্গার অনুমতির বিষয়ে সফরের দূরত্ব নির্ধারণ করে যান নি। বরং তিনি শুধু সফর (ভ্রমণ) বা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সুতরাং পরিভাষায় যাকে সফর বলা হয় তাতেই সলাত কসর করা ও সিয়াম ভাঙ্গা জায়েয আছে। আর কোন স্থানে সফর করে নির্দিষ্টভাবে এক দিন বা দুই দিন অথবা তিন দিন অবস্থান করলে সালাত কসর করা যাবে বলে যে সমস্ত হাদীস বর্ণনা করা হয় তার কোনটিই সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।৭৭

টিকাঃ
৭৭. অন্যান্য মুহাদ্দিছদের নিকট সহীহভাবে তা সাব্যস্ত। ফলে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ঠিকানা তথা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত যত দিন অবস্থান করবে তা সফর হিসাবে গণ্য হবে এবং সলাত কসর করাও চলবে।

সফরে চার রাকআত বিশিষ্ট সলাতগুলো তিনি কসর করে পড়তেন। উমাইয়া বিন খালেদ ইবনে উমার কে জিজ্ঞেস করলেন- আমরা তো কুরআনে নিজ দেশে বা বাড়ীতে অবস্থান করার সময় সলাত পড়ার বর্ণনা দেখতে পাচ্ছি এবং ভয়ের সময় সলাত পড়ার পদ্ধতির কথা জানতে পারছি। সফর অবস্থায় সলাত পড়ার বিষয়টি তো কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি। ইবনে উমার তখন বললেন- “হে ভাই! আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ কে আমাদের নিকট এমন সময় প্রেরণ করেছেন, যখন আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা মুহাম্মাদ কে যা করতে দেখেছি এখন আমরাও তাই করছি"।

সফর অবস্থায় তিনি কেবল ফরয সলাতগুলো পড়তেন। ফরযের পূর্বে বা পরে সুন্নাত পড়ার কথা বর্ণিত হয়নি। তবে ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত পড়তেন। কিন্তু ফরয সলাতের পূর্বে বা পরে সাধারণ নফল সলাত পড়তে নিষেধও করেন নি। আর সফর অবস্থায় তা পড়লে বাড়ীতে অবস্থান কালীন সময়ের ন্যায় সাধারণ নফল হিসেবেই গণ্য হবে। সুন্নাতে মুআক্কাদাহ হিসাবে নয়। অর্থাৎ সফর অবস্থায় আদায়কৃত নফল সুন্নাতের স্থলাভিষিক্ত হবেনা এবং তা সুন্নাতে রাতেবা হিসাবেও গণ্য হবেনা। বাড়ীতে থাকাকালে যেমন সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) পড়ার পর নফল ও তাহাজ্জুদ পড়া তার ইচ্ছাধীন ছিল, তেমনি সফর অবস্থায় সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) বাদ দেয়ার পরও নফল পড়াটি বান্দার ইচ্ছাধীনই থেকে গেল।

সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের সময় আট রাকআত সলাত পড়েছেন।

ভ্রমণকালে তিনি বাহনের উপর বসেই নফল সলাত পড়তেন। বাহন তাকে নিয়ে যেদিকেই যেত, তাতে কোন অসুবিধা মনে করতেন না। ইঙ্গিতের মাধ্যমে রুকু-সিজদা করতেন। তবে রুকুর তুলনায় সিজদাতে কম সময় অবস্থান করতেন।

তিনি যদি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পূর্বে যাত্রা শুরু করতেন তাহলে যোহরের সলাতকে বিলম্বে আসরের সলাতের সাথে আদায় করতেন। আর যদি সূর্য ঢলার পর যাত্রা শুরু করতেন তাহলে যোহর ও আসর একসাথে পড়েই যাত্রা শুরু করতেন। আর দ্রুত পথ চলার ইচ্ছা করলে মাগরিবের সলাতকে ইশার সময় পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন এবং উভয় সলাতকে একত্রিত করে পড়তেন। বাহনের উপর বসে চলন্ত অবস্থায় কিংবা কোন স্থানে নেমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে চাইলে তিনি সাধারণত দুই সলাত একত্রে আদায় করতেন না।

আর তিনি তাঁর উম্মাতের জন্য সলাত কসর করার ক্ষেত্রে এবং সিয়াম ভাঙ্গার অনুমতির বিষয়ে সফরের দূরত্ব নির্ধারণ করে যান নি। বরং তিনি শুধু সফর (ভ্রমণ) বা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সুতরাং পরিভাষায় যাকে সফর বলা হয় তাতেই সলাত কসর করা ও সিয়াম ভাঙ্গা জায়েয আছে। আর কোন স্থানে সফর করে নির্দিষ্টভাবে এক দিন বা দুই দিন অথবা তিন দিন অবস্থান করলে সালাত কসর করা যাবে বলে যে সমস্ত হাদীস বর্ণনা করা হয় তার কোনটিই সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।৭৭

টিকাঃ
৭৭. অন্যান্য মুহাদ্দিছদের নিকট সহীহভাবে তা সাব্যস্ত। ফলে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ঠিকানা তথা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত যত দিন অবস্থান করবে তা সফর হিসাবে গণ্য হবে এবং সলাত কসর করাও চলবে।

সফরে চার রাকআত বিশিষ্ট সলাতগুলো তিনি কসর করে পড়তেন। উমাইয়া বিন খালেদ ইবনে উমার কে জিজ্ঞেস করলেন- আমরা তো কুরআনে নিজ দেশে বা বাড়ীতে অবস্থান করার সময় সলাত পড়ার বর্ণনা দেখতে পাচ্ছি এবং ভয়ের সময় সলাত পড়ার পদ্ধতির কথা জানতে পারছি। সফর অবস্থায় সলাত পড়ার বিষয়টি তো কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি। ইবনে উমার তখন বললেন- “হে ভাই! আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ কে আমাদের নিকট এমন সময় প্রেরণ করেছেন, যখন আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা মুহাম্মাদ কে যা করতে দেখেছি এখন আমরাও তাই করছি"।

সফর অবস্থায় তিনি কেবল ফরয সলাতগুলো পড়তেন। ফরযের পূর্বে বা পরে সুন্নাত পড়ার কথা বর্ণিত হয়নি। তবে ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত পড়তেন। কিন্তু ফরয সলাতের পূর্বে বা পরে সাধারণ নফল সলাত পড়তে নিষেধও করেন নি। আর সফর অবস্থায় তা পড়লে বাড়ীতে অবস্থান কালীন সময়ের ন্যায় সাধারণ নফল হিসেবেই গণ্য হবে। সুন্নাতে মুআক্কাদাহ হিসাবে নয়। অর্থাৎ সফর অবস্থায় আদায়কৃত নফল সুন্নাতের স্থলাভিষিক্ত হবেনা এবং তা সুন্নাতে রাতেবা হিসাবেও গণ্য হবেনা। বাড়ীতে থাকাকালে যেমন সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) পড়ার পর নফল ও তাহাজ্জুদ পড়া তার ইচ্ছাধীন ছিল, তেমনি সফর অবস্থায় সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) বাদ দেয়ার পরও নফল পড়াটি বান্দার ইচ্ছাধীনই থেকে গেল।

সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের সময় আট রাকআত সলাত পড়েছেন।

ভ্রমণকালে তিনি বাহনের উপর বসেই নফল সলাত পড়তেন। বাহন তাকে নিয়ে যেদিকেই যেত, তাতে কোন অসুবিধা মনে করতেন না। ইঙ্গিতের মাধ্যমে রুকু-সিজদা করতেন। তবে রুকুর তুলনায় সিজদাতে কম সময় অবস্থান করতেন।

তিনি যদি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পূর্বে যাত্রা শুরু করতেন তাহলে যোহরের সলাতকে বিলম্বে আসরের সলাতের সাথে আদায় করতেন। আর যদি সূর্য ঢলার পর যাত্রা শুরু করতেন তাহলে যোহর ও আসর একসাথে পড়েই যাত্রা শুরু করতেন। আর দ্রুত পথ চলার ইচ্ছা করলে মাগরিবের সলাতকে ইশার সময় পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন এবং উভয় সলাতকে একত্রিত করে পড়তেন। বাহনের উপর বসে চলন্ত অবস্থায় কিংবা কোন স্থানে নেমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে চাইলে তিনি সাধারণত দুই সলাত একত্রে আদায় করতেন না।

আর তিনি তাঁর উম্মাতের জন্য সলাত কসর করার ক্ষেত্রে এবং সিয়াম ভাঙ্গার অনুমতির বিষয়ে সফরের দূরত্ব নির্ধারণ করে যান নি। বরং তিনি শুধু সফর (ভ্রমণ) বা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সুতরাং পরিভাষায় যাকে সফর বলা হয় তাতেই সলাত কসর করা ও সিয়াম ভাঙ্গা জায়েয আছে। আর কোন স্থানে সফর করে নির্দিষ্টভাবে এক দিন বা দুই দিন অথবা তিন দিন অবস্থান করলে সালাত কসর করা যাবে বলে যে সমস্ত হাদীস বর্ণনা করা হয় তার কোনটিই সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।৭৭

টিকাঃ
৭৭. অন্যান্য মুহাদ্দিছদের নিকট সহীহভাবে তা সাব্যস্ত। ফলে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ঠিকানা তথা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত যত দিন অবস্থান করবে তা সফর হিসাবে গণ্য হবে এবং সলাত কসর করাও চলবে।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর হিদায়াত

📄 কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী (সাঃ) এর হিদায়াত


নাবী প্রতিদিন কুরআন থেকে নির্ধারিত একটি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। কখনই তিনি এর ব্যতিক্রম করেন নি। তিনি তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করতেন। প্রত্যেকটি অক্ষর তার নিজস্ব মাখরাজ (উচ্চারণের স্থান) থেকে সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি আয়াত পাঠ শেষে ওয়াক্ফ করতেন (বিরতি গ্রহণ করতেন)। তিলাওয়াতের সময় হরফে মদ্ আসলে লম্বা করে পড়তেন। উদাহরণ স্বরূপ তিনি আর রাহমানির রাহীম পাঠ করার সময় মদ-এর সাথে পড়তেন। তিলাওয়াতের শুরুতে আঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম পাঠ করতেন। কখনও তিনি এই দু'আটি পাঠ করতেন-

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ» “আমি বিতারিত শয়তান, তার ধোঁকা, ফুঁক ও তার যাদু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি”।৭৮ তিনি অন্যের কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে রসূল কুরআন তিলাওয়াত করার আদেশ দিতেন। তিনি তাঁর সামনে কুরআন পড়তেন। নাবী তা শুনতেন। এ সময় তাঁর অন্তরের অবস্থা ও একাগ্রতা এমন হত যে, তাঁর উভয় চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হত।৭৯ তিনি দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ওযু ছাড়াও তিনি কুরআন পাঠ করতেন। তবে স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে পবিত্রতা অর্জন না করে কুরআন পড়তেন না। তিনি আওয়াজ উঁচু করে সুন্দর সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল লম্বা আওয়াজে তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার ধরণটি আ-আ-আ (তিনবার) বলার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এরূপই বর্ণনা করেছেন।৮০ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল থেকে বর্ণিত ধরণটি যদি রসূল এর বাণী-

زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» “তোমাদের আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কর। অর্থাৎ তোমরা সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআন পড়”।৮১ এবং তাঁর বাণীঃ

مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيَّ حَسَنِ الصَّوْتِ يتغنى بِالْقُرْآنِ»

"আল্লাহ্ তা'আলা সুন্দর কন্ঠের অধিকারী নাবীর কাছ থেকে সুন্দর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত যেমনভাবে শুনেন অন্য কোন বস্তুকে সে রকমভাবে শ্রবণ করেন না"৮২ এই দুইটি হাদীসকে একত্রিত করলে বুঝা যায় যে, তিনি ইচ্ছা করেই কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজকে উঁচু ও সুন্দর করতেন। নিছক উট চালানোর জন্য স্বীয় আওয়াজ উঁচু করেন নি। বরং কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর অনুসরণ করার জন্যই তা করেছেন। অন্যথায় আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফাফাল কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করার ধরণ বর্ণনা করে দেখাতেন না। কুরআন তিলাওয়াতে আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করা দু'ভাবে হতে পারে।

১. কোন প্রকার কৃত্রিম প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে যা হয়ে থাকে এবং স্বাভাবিক আওয়াজের সাথে যদি অতিরিক্ত সৌন্দর্য্য যোগ করা হয় তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আবু মুসা আশআরী নাবী কে লক্ষ্য করে বলেছেন- লও আলিমতু আন্নাকা তাসতামিউ লাহাব্বারতুহু লাকা তাহবীরা "হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি জানতাম যে আপনি আমার কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করছেন, তাহলে আমি আরও সুন্দর কন্ঠে তা পাঠ করতাম। সালাফগণ এভাবেই কুরআনকে সুন্দর সুরে পাঠ করতেন। এ ব্যাপারে বর্ণিত দলীলগুলো উপরোক্ত অর্থেই প্রয়োগ করতে হবে।

২. সুন্দর সুরে কুরআন পাঠ করার দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে যা শিল্পীদের তৈরী। যেমন বর্তমানে গানের বিভিন্ন সুর দ্বারা কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেয়া হয়। সালাফগণ এই পদ্ধতিকে অপছন্দ করেছেন। যে সমস্ত হাদীছে সুর দিয়ে কুরআন পড়াকে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে, তা দ্বারা এই শেষোক্ত পদ্ধতিটিই উদ্দেশ্য; প্রথমটি নয়।

টিকাঃ
৭৮. মুসনাদে আহমাদ, (৪/৮০) আবু দাউদ, হা/৭৬৪, ইবনে মাজাহ, হা/৮০৭। ইমাম ইবনে হিব্বান ও হাকেম সহীহ বলেছেন। আর ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
৭৯. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কুরআনের ফজীলত।
৮০. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কুরআনের ফজীলত।
৮১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৪৬৪, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলায়ে সহীহা, হা/ ৭৭৭।
৮২. বুখারী, অধ্যায়ঃ ফাজায়েলুল কুরআন তাও. হা/৭৫৪৪, মিশকাত, হাএ. হা/২১৯৩

নাবী প্রতিদিন কুরআন থেকে নির্ধারিত একটি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। কখনই তিনি এর ব্যতিক্রম করেন নি। তিনি তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করতেন। প্রত্যেকটি অক্ষর তার নিজস্ব মাখরাজ (উচ্চারণের স্থান) থেকে সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি আয়াত পাঠ শেষে ওয়াক্ফ করতেন (বিরতি গ্রহণ করতেন)। তিলাওয়াতের সময় হরফে মদ্ আসলে লম্বা করে পড়তেন। উদাহরণ স্বরূপ তিনি আর রাহমানির রাহীম পাঠ করার সময় মদ-এর সাথে পড়তেন। তিলাওয়াতের শুরুতে আঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম পাঠ করতেন। কখনও তিনি এই দু'আটি পাঠ করতেন-

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ» “আমি বিতারিত শয়তান, তার ধোঁকা, ফুঁক ও তার যাদু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি”।৭৮ তিনি অন্যের কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে রসূল কুরআন তিলাওয়াত করার আদেশ দিতেন। তিনি তাঁর সামনে কুরআন পড়তেন। নাবী তা শুনতেন। এ সময় তাঁর অন্তরের অবস্থা ও একাগ্রতা এমন হত যে, তাঁর উভয় চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হত।৭৯ তিনি দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ওযু ছাড়াও তিনি কুরআন পাঠ করতেন। তবে স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে পবিত্রতা অর্জন না করে কুরআন পড়তেন না। তিনি আওয়াজ উঁচু করে সুন্দর সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল লম্বা আওয়াজে তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার ধরণটি আ-আ-আ (তিনবার) বলার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এরূপই বর্ণনা করেছেন।৮০ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল থেকে বর্ণিত ধরণটি যদি রসূল এর বাণী-

زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» “তোমাদের আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কর। অর্থাৎ তোমরা সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআন পড়”।৮১ এবং তাঁর বাণীঃ

مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيَّ حَسَنِ الصَّوْتِ يتغنى بِالْقُرْآنِ»

"আল্লাহ্ তা'আলা সুন্দর কন্ঠের অধিকারী নাবীর কাছ থেকে সুন্দর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত যেমনভাবে শুনেন অন্য কোন বস্তুকে সে রকমভাবে শ্রবণ করেন না"৮২ এই দুইটি হাদীসকে একত্রিত করলে বুঝা যায় যে, তিনি ইচ্ছা করেই কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজকে উঁচু ও সুন্দর করতেন। নিছক উট চালানোর জন্য স্বীয় আওয়াজ উঁচু করেন নি। বরং কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর অনুসরণ করার জন্যই তা করেছেন। অন্যথায় আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফাফাল কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করার ধরণ বর্ণনা করে দেখাতেন না। কুরআন তিলাওয়াতে আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করা দু'ভাবে হতে পারে।

১. কোন প্রকার কৃত্রিম প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে যা হয়ে থাকে এবং স্বাভাবিক আওয়াজের সাথে যদি অতিরিক্ত সৌন্দর্য্য যোগ করা হয় তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আবু মুসা আশআরী নাবী কে লক্ষ্য করে বলেছেন- লও আলিমতু আন্নাকা তাসতামিউ লাহাব্বারতুহু লাকা তাহবীরা "হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি জানতাম যে আপনি আমার কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করছেন, তাহলে আমি আরও সুন্দর কন্ঠে তা পাঠ করতাম। সালাফগণ এভাবেই কুরআনকে সুন্দর সুরে পাঠ করতেন। এ ব্যাপারে বর্ণিত দলীলগুলো উপরোক্ত অর্থেই প্রয়োগ করতে হবে।

২. সুন্দর সুরে কুরআন পাঠ করার দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে যা শিল্পীদের তৈরী। যেমন বর্তমানে গানের বিভিন্ন সুর দ্বারা কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেয়া হয়। সালাফগণ এই পদ্ধতিকে অপছন্দ করেছেন। যে সমস্ত হাদীছে সুর দিয়ে কুরআন পড়াকে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে, তা দ্বারা এই শেষোক্ত পদ্ধতিটিই উদ্দেশ্য; প্রথমটি নয়।

টিকাঃ
৭৮. মুসনাদে আহমাদ, (৪/৮০) আবু দাউদ, হা/৭৬৪, ইবনে মাজাহ, হা/৮০৭। ইমাম ইবনে হিব্বান ও হাকেম সহীহ বলেছেন। আর ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
৭৯. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কুরআনের ফজীলত।
৮০. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কুরআনের ফজীলত।
৮১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৪৬৪, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলায়ে সহীহা, হা/ ৭৭৭।
৮২. বুখারী, অধ্যায়ঃ ফাজায়েলুল কুরআন তাও. হা/৭৫৪৪, মিশকাত, হাএ. হা/২১৯৩

নাবী প্রতিদিন কুরআন থেকে নির্ধারিত একটি পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। কখনই তিনি এর ব্যতিক্রম করেন নি। তিনি তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করতেন। প্রত্যেকটি অক্ষর তার নিজস্ব মাখরাজ (উচ্চারণের স্থান) থেকে সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি আয়াত পাঠ শেষে ওয়াক্ফ করতেন (বিরতি গ্রহণ করতেন)। তিলাওয়াতের সময় হরফে মদ্ আসলে লম্বা করে পড়তেন। উদাহরণ স্বরূপ তিনি আর রাহমানির রাহীম পাঠ করার সময় মদ-এর সাথে পড়তেন। তিলাওয়াতের শুরুতে আঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম পাঠ করতেন। কখনও তিনি এই দু'আটি পাঠ করতেন-

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ» “আমি বিতারিত শয়তান, তার ধোঁকা, ফুঁক ও তার যাদু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি”।৭৮ তিনি অন্যের কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে রসূল কুরআন তিলাওয়াত করার আদেশ দিতেন। তিনি তাঁর সামনে কুরআন পড়তেন। নাবী তা শুনতেন। এ সময় তাঁর অন্তরের অবস্থা ও একাগ্রতা এমন হত যে, তাঁর উভয় চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হত।৭৯ তিনি দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ওযু ছাড়াও তিনি কুরআন পাঠ করতেন। তবে স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে পবিত্রতা অর্জন না করে কুরআন পড়তেন না। তিনি আওয়াজ উঁচু করে সুন্দর সুর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল লম্বা আওয়াজে তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার ধরণটি আ-আ-আ (তিনবার) বলার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এরূপই বর্ণনা করেছেন।৮০ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল থেকে বর্ণিত ধরণটি যদি রসূল এর বাণী-

زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ» “তোমাদের আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কর। অর্থাৎ তোমরা সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআন পড়”।৮১ এবং তাঁর বাণীঃ

مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيَّ حَسَنِ الصَّوْتِ يتغنى بِالْقُرْآنِ»

"আল্লাহ্ তা'আলা সুন্দর কন্ঠের অধিকারী নাবীর কাছ থেকে সুন্দর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত যেমনভাবে শুনেন অন্য কোন বস্তুকে সে রকমভাবে শ্রবণ করেন না"৮২ এই দুইটি হাদীসকে একত্রিত করলে বুঝা যায় যে, তিনি ইচ্ছা করেই কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজকে উঁচু ও সুন্দর করতেন। নিছক উট চালানোর জন্য স্বীয় আওয়াজ উঁচু করেন নি। বরং কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর অনুসরণ করার জন্যই তা করেছেন। অন্যথায় আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফাফাল কুরআন তিলাওয়াতে তাঁর আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করার ধরণ বর্ণনা করে দেখাতেন না। কুরআন তিলাওয়াতে আওয়াজ উঁচু ও সুন্দর করা দু'ভাবে হতে পারে।

১. কোন প্রকার কৃত্রিম প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে যা হয়ে থাকে এবং স্বাভাবিক আওয়াজের সাথে যদি অতিরিক্ত সৌন্দর্য্য যোগ করা হয় তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আবু মুসা আশআরী নাবী কে লক্ষ্য করে বলেছেন- লও আলিমতু আন্নাকা তাসতামিউ লাহাব্বারতুহু লাকা তাহবীরা "হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি জানতাম যে আপনি আমার কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করছেন, তাহলে আমি আরও সুন্দর কন্ঠে তা পাঠ করতাম। সালাফগণ এভাবেই কুরআনকে সুন্দর সুরে পাঠ করতেন। এ ব্যাপারে বর্ণিত দলীলগুলো উপরোক্ত অর্থেই প্রয়োগ করতে হবে।

২. সুন্দর সুরে কুরআন পাঠ করার দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে যা শিল্পীদের তৈরী। যেমন বর্তমানে গানের বিভিন্ন সুর দ্বারা কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেয়া হয়। সালাফগণ এই পদ্ধতিকে অপছন্দ করেছেন। যে সমস্ত হাদীছে সুর দিয়ে কুরআন পড়াকে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে, তা দ্বারা এই শেষোক্ত পদ্ধতিটিই উদ্দেশ্য; প্রথমটি নয়।

টিকাঃ
৭৮. মুসনাদে আহমাদ, (৪/৮০) আবু দাউদ, হা/৭৬৪, ইবনে মাজাহ, হা/৮০৭। ইমাম ইবনে হিব্বান ও হাকেম সহীহ বলেছেন। আর ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
৭৯. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কুরআনের ফজীলত।
৮০. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কুরআনের ফজীলত।
৮১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত। আবু দাউদ, আলএ. হা/১৪৬৪, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলায়ে সহীহা, হা/ ৭৭৭।
৮২. বুখারী, অধ্যায়ঃ ফাজায়েলুল কুরআন তাও. হা/৭৫৪৪, মিশকাত, হাএ. হা/২১৯৩

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 রোগী দেখতে যাওয়া ও রোগীর সেবায় নবী (সাঃ) এর সুন্নাত

📄 রোগী দেখতে যাওয়া ও রোগীর সেবায় নবী (সাঃ) এর সুন্নাত


নাবী এর পবিত্র অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, সাহাবীদের মধ্যে যারা অসুস্থ হতেন তিনি তাদেরকে দেখতে যেতেন। এক ইহুদী ছেলে তাঁর খেদমত করত। সে অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখতে গিয়েছিলেন।৮৩ তাঁর মুশরিক চাচা অসুস্থ হলে তার পাশেও তিনি উপস্থিত হয়েছেন।৮৪ অসুস্থ অবস্থায় উভয়ের কাছেই তিনি ইসলাম পেশ করেছেন। বালকটি ইসলাম কবুল করেছে। কিন্তু তাঁর মুশরিক চাচা তা কবুল করে নি।

তিনি রোগীর খুব কাছাকাছি যেতেন এবং মাথার পাশে বসে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন। এ সময় তিনি বলতেন- «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا»

"কষ্ট দূর করে দাও হে মানুষের প্রভু! নিরাময় দান কর। তুমিই নিরাময় দানকারী। তোমার নিরাময় দানই আসল নিরাময়। তুমি এমন নিরাময় দান কর, যা কোন রোগই অবশিষ্ট রাখবে না"।৮৫ রোগীর জন্য তিনি তিনবার দু'আ করতেন। তিনি সা'দ (রাঃ)-কে দেখতে গিয়ে তিনবার বলেছেন। আল্লাহুম্মাশফি সা'দান হে আল্লাহ! তুমি সাদকে সুস্থতা দান কর। রোগীর কাছে প্রবেশ করার সময় তিনি বলতেন-

«لَا بَأْسَ طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ»

অর্থ: ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবাণীতে আরোগ্য লাভ করবে ইনশা-আল্লাহ।৮৬ কখনও বলতেন- কাফ্ফারা তুন ওয়া তহুরুন উভয় বাক্যের অর্থ হচ্ছে, চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশা-আল্লাহ্ তোমার এই অসুখ ভাল হয়ে যাবে এবং গুনাহসমূহর কাফ্ফারা বদলা হয়ে যাবে।

কাউকে সাপ-বিচ্ছু কামড় দিলে বা অন্য কোন কারণে আহত হলে কিংবা ব্যথা অনুভব হলে তিনি এই বলে ঝাড়-ফুঁক করতেন-

«بِسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا»

"আল্লাহর নামের বরকতে আমাদের যমীনের মাটি কারও থুথুর সাথে মিশানো হচ্ছে, আমাদের রবের হুকুমে আমাদের রোগী ভাল হয়ে যাবে"।৮৭ এটি হচ্ছে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা। এই বর্ণনার মাধ্যমে সত্তর হাজারের হাদীছে ولا يرقون শব্দটি তথা ঝাড়-ফুঁক না করার যে কথা বর্ণিত হয়েছে তা ভুল প্রমাণিত হল। এখানে রাবী ভুল করেছেন।৮৮

রোগী দেখতে যাওয়ার জন্য তিনি কোন সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেন নি। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী দিনের বা রাতের যে কোন সময় রোগীর কাছে যাওয়া বৈধ।

কারও চোখে বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গে সামান্য সমস্যা হলেও তিনি তাকে দেখতে যেতেন। কখনও তিনি রোগীর কপালে হাত রাখতেন। অতঃপর তার বক্ষদেশ ও পেট মাসাহ করতেন আর বলতেন- আল্লাহুম্মাশফিহি “হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সুস্থ কর”।৮৯ তিনি রোগীর চেহারাতেও হাত বুলাতেন। কোন রোগীর ব্যাপারে তিনি যদি নিশ্চিত হতেন যে, সে আর বাঁচবে না, তাহলে কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করতেন-

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ)

"নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহ্ জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো”। (সূরা বাকারা-২: ১৫৬)

টিকাঃ
৮৩. বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জানায়েয।
৮৪. বুখারী ও মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
৮৫. বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তিব্ব, বুখারী, তাও. হা/৫৬৭৫, ইফা. হা/৫১৬০, আপ্র. হা/৫২৬৪, মুসলিম, হাএ. হা/৫৬০০, ইফা. হা/৫৫১৯, ইসে. হা/৫৫৪৪, মিশকাত, মাশা. হা/১৫৩০
৮৬. বুখারী, তাও. হা/৫৬৬২ ইফা. হা/৫১৪৭, আপ্র. হা/৫২৫১, মিশকাত, মাশা. হা/১৫২৯।
৮৭. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব, বুখারী, তাও. হা/৫৭৪৫, ইফা. হা/৫২২১, আপ্র. হা/৫৩২৫, মুসলিম, হাএ. হা/৫৬১২, ইফা. হা/৫৫৩১, সহীহ ইবনে মাজাহ, মাশা. হা/৩৫১২, মিশকাত, হাএ. হা/১৫৩১
৮৮. ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এর এই কথাটি এক বাক্যে সঠিক নয়। কারণ প্রথমতঃ হাদীসের রাবী ভুল করেন নি। বরং যে ধরণের ঝাড়-ফুঁকের মধ্যে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে বা যার অর্থ বোধগম্য নয় এখানে সেই প্রকার ঝাড়-ফুঁক উদ্দেশ্য। অন্যথায় শিরকমুক্ত বাক্য এবং কুরআন ও সুন্নায় বর্ণিত বাক্য দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। নাবী ﷺ ও তা করেছেন এবং করতে বলেছেন। সত্তর হাজারের হাদীসের পূর্ণ বিবরণ হল, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল ﷺ বলেনঃ "(মিরাজের সময়) পূর্ববর্তী সমস্ত উম্মত আমার সামনে পেশ করা হল। দেখলাম, কোন নাবীর সাথে রয়েছে একজন লোক, কোন নাবীর সাথে রয়েছে মাত্র দু'এক জন লোক, কোন নাবীর সাথে কোন লোকই নাই। এমতবস্থায় বিশাল একটা জনসমাবেশের প্রতিচছবি আমার সামনে উপস্থাপন করা হল। ভাবলাম, এরা হয়ত আমার উম্মত হবে। কিন্তু বলা হল, এটা মূসা (আঃ) এবং তার উম্মত। এরপর আরো একটা বিশাল জনসমষ্টি দেখতে পেলাম। এদের সম্পর্কে বলা হল, এরাই আপনার উম্মত। এদের মধ্যে এমন সত্তর হাজার মানুষ রয়েছে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ তাদেরকে হিসাব-নিকাশ বা শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। একথা বলে রসূলুল্লাহ ﷺ উঠে গিয়ে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলে সাহাবীগণ পরস্পরে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে লাগলেন যে, এই (সৌভাগ্যবান) ব্যক্তিগণ কারা? কেউ বললেন, তারা হয়ত আল্লাহর রসূল ﷺ এর সাহাবীগণ। কেউ বললেন, তারা হয়ত ঐ সমস্ত লোক যারা ইসলাম আসার পর জন্মগ্রহন করেছে এবং কোন দিন শিক্ করেনি। এভাবে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বললেন। ইত্যবসরে রসূলুল্লাহ ﷺ ঘর থেকে বের হয়ে এসে বললেন, "তারা ঐসব লোক যারা কোনদিন ঝাড়-ফুঁক বা লোহা পুড়িয়ে ছ্যাঁক দিয়ে রোগ নিরাময়ের আশ্রয় নিতনা, অশুভ বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করত না এবং তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের উপর পরিপূর্ণভাবে ভরসা করত।" উকাশা বিন মিহসান বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার জন্য দুআ করুন তিনি যেন আমাকে তাঁদের অর্ন্তভূক্ত করেন। রসূল বললেন, "তুমি তাঁদের অর্ন্তভূক্ত”। এ কথা শুনে আরেকজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাকেও তাদের অর্ন্তভূক্ত করেন। নাবী করীম বললেনঃ “উকাশা তোমার আগে এই সৌভাগ্য অর্জন করে নিয়েছে"। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, নাবী এই সত্তর হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার মানুষকে যোগ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর নিকট আবেদন জানালে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করেন। উক্ত হাদীসে শিরকী তন্ত্র-মন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার কথা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঐ সমস্ত মহা সৌভাগ্যবান ব্যক্তিগণ জাহেলী যুগের দেব-দেবী, ভুত-প্রেত ইত্যাদির নামে, কিংবা কোন শিক মিশ্রিত তন্ত্র-মন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁক থেকে বিরত থাকায় আল্লাহ তা'য়ালা তাদেরকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। কুরআন-হাদীছে বর্ণিত দু'আর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার কথা প্রমাণিত এবং বৈধ। দ্বিতীয়তঃ উক্ত হাদীছ মোটের উপর বৈধ বা অবৈধ বিষয়ের বর্ণনা দেয়ার জন্য বর্ণিত হয়নি। বরং তাতে দৃঢ়তর ঈমানের ভিত্তিতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে মাত্র। তৃতীয়তঃ এখানে যে নিজ উদ্যোগে ঝাড়-ফুঁক করে, তার কথা বলা উদ্দেশ্য। ফলে কেউ চাইলে যে ঝাড়-ফুঁক দেয় সে উল্লেখিত পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে- এ কথা ঘোষণা করা উদ্দেশ্য নয়। চতুর্থতঃ কিছু আলেম বাহ্যিক বৈপরীত্যের অবসান কল্পে সমীকরণের পথ অবলম্বন করেন। ইবনুল কাইয়্যিমও তাই করেছেন। তবে কাবাঘর অভিমুখী দূর পাল্লার কষ্টসাধ্য সফরে নাবী জীবনীর মহা সমূদ্রকে গ্লাসে করে সাজানো যে কি পরিমাণ কঠিন কাজ তা বুঝানো অসম্ভব। তাই তিনি এক গুলিতে শিকারের পথ বেছে নেন বলে মনে হয়। ফলে এক বাক্যে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত দিয়ে দেন। নচেৎ তাঁর পদ্ধতি মূলত এর বিপরীত। কেননা তাঁর সম্পর্কে কথা আছে যে, ইবনে তাইমীয়া যেখানে এক আঘাতে বাতিলের প্রাচীর ভাংতেন সেখানে ইবনুল কাইয়্যিম একটি করে ইট খসাতেন।
৮৯. মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১০৫৭, সিলসিলাতু আহাদীসুস সহীহা, মাশা. ৯/২৭৭৫

নাবী এর পবিত্র অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, সাহাবীদের মধ্যে যারা অসুস্থ হতেন তিনি তাদেরকে দেখতে যেতেন। এক ইহুদী ছেলে তাঁর খেদমত করত। সে অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখতে গিয়েছিলেন।৮৩ তাঁর মুশরিক চাচা অসুস্থ হলে তার পাশেও তিনি উপস্থিত হয়েছেন।৮৪ অসুস্থ অবস্থায় উভয়ের কাছেই তিনি ইসলাম পেশ করেছেন। বালকটি ইসলাম কবুল করেছে। কিন্তু তাঁর মুশরিক চাচা তা কবুল করে নি।

তিনি রোগীর খুব কাছাকাছি যেতেন এবং মাথার পাশে বসে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন। এ সময় তিনি বলতেন- «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لا شِফَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِফَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا»

"কষ্ট দূর করে দাও হে মানুষের প্রভু! নিরাময় দান কর। তুমিই নিরাময় দানকারী। তোমার নিরাময় দানই আসল নিরাময়। তুমি এমন নিরাময় দান কর, যা কোন রোগই অবশিষ্ট রাখবে না"।৮৫ রোগীর জন্য তিনি তিনবার দু'আ করতেন। তিনি সা'দ (রাঃ)-কে দেখতে গিয়ে তিনবার বলেছেন। আল্লাহুম্মাশফি সা'দান হে আল্লাহ! তুমি সাদকে সুস্থতা দান কর। রোগীর কাছে প্রবেশ করার সময় তিনি বলতেন-

«لَا بَأْسَ طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ»

অর্থ: ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবাণীতে আরোগ্য লাভ করবে ইনশা-আল্লাহ।৮৬ কখনও বলতেন- কাফ্ফারা তুন ওয়া তহুরুন উভয় বাক্যের অর্থ হচ্ছে, চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশা-আল্লাহ্ তোমার এই অসুখ ভাল হয়ে যাবে এবং গুনাহসমূহর কাফ্ফারা বদলা হয়ে যাবে।

কাউকে সাপ-বিচ্ছু কামড় দিলে বা অন্য কোন কারণে আহত হলে কিংবা ব্যথা অনুভব হলে তিনি এই বলে ঝাড়-ফুঁক করতেন-

«بِسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِরִيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا»

"আল্লাহর নামের বরকতে আমাদের যমীনের মাটি কারও থুথুর সাথে মিশানো হচ্ছে, আমাদের রবের হুকুমে আমাদের রোগী ভাল হয়ে যাবে"।৮৭ এটি হচ্ছে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা। এই বর্ণনার মাধ্যমে সত্তর হাজারের হাদীছে ولا يرقون শব্দটি তথা ঝাড়-ফুঁক না করার যে কথা বর্ণিত হয়েছে তা ভুল প্রমাণিত হল। এখানে রাবী ভুল করেছেন।৮৮

রোগী দেখতে যাওয়ার জন্য তিনি কোন সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেন নি। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী দিনের বা রাতের যে কোন সময় রোগীর কাছে যাওয়া বৈধ।

কারও চোখে বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গে সামান্য সমস্যা হলেও তিনি তাকে দেখতে যেতেন। কখনও তিনি রোগীর কপালে হাত রাখতেন। অতঃপর তার বক্ষদেশ ও পেট মাসাহ করতেন আর বলতেন- আল্লাহুম্মাশফিহি “হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সুস্থ কর”।৮৯ তিনি রোগীর চেহারাতেও হাত বুলাতেন। কোন রোগীর ব্যাপারে তিনি যদি নিশ্চিত হতেন যে, সে আর বাঁচবে না, তাহলে কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করতেন-

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ)

"নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহ্ জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো”। (সূরা বাকারা-২: ১৫৬)

টিকাঃ
৮৩. বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জানায়েয।
৮৪. বুখারী ও মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
৮৫. বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তিব্ব, বুখারী, তাও. হা/৫৬৭৫, ইফা. হা/৫১৬০, আপ্র. হা/৫২৬৪, মুসলিম, হাএ. হা/৫৬০০, ইফা. হা/৫৫১৯, ইসে. হা/৫৫৪৪, মিশকাত, মাশা. হা/১৫৩০
৮৬. বুখারী, তাও. হা/৫৬৬২ ইফা. হা/৫১৪৭, আপ্র. হা/৫২৫১, মিশকাত, মাশা. হা/১৫২৯।
৮৭. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব, বুখারী, তাও. হা/৫৭৪৫, ইফা. হা/৫২২১, আপ্র. হা/৫৩২৫, মুসলিম, হাএ. হা/৫৬১২, ইফা. হা/৫৫৩১, সহীহ ইবনে মাজাহ, মাশা. হা/৩৫১২, মিশকাত, হাএ. হা/১৫৩১
৮৮. ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এর এই কথাটি এক বাক্যে সঠিক নয়। কারণ প্রথমতঃ হাদীসের রাবী ভুল করেন নি। বরং যে ধরণের ঝাড়-ফুঁকের মধ্যে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে বা যার অর্থ বোধগম্য নয় এখানে সেই প্রকার ঝাড়-ফুঁক উদ্দেশ্য। অন্যথায় শিরকমুক্ত বাক্য এবং কুরআন ও সুন্নায় বর্ণিত বাক্য দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। নাবী ﷺ ও তা করেছেন এবং করতে বলেছেন। সত্তর হাজারের হাদীসের পূর্ণ বিবরণ হল, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল ﷺ বলেনঃ "(মিরাজের সময়) পূর্ববর্তী সমস্ত উম্মত আমার সামনে পেশ করা হল। দেখলাম, কোন নাবীর সাথে রয়েছে একজন লোক, কোন নাবীর সাথে রয়েছে মাত্র দু'এক জন লোক, কোন নাবীর সাথে কোন লোকই নাই। এমতবস্থায় বিশাল একটা জনসমাবেশের প্রতিচছবি আমার সামনে উপস্থাপন করা হল। ভাবলাম, এরা হয়ত আমার উম্মত হবে। কিন্তু বলা হল, এটা মূসা (আঃ) এবং তার উম্মত। এরপর আরো একটা বিশাল জনসমষ্টি দেখতে পেলাম। এদের সম্পর্কে বলা হল, এরাই আপনার উম্মত। এদের মধ্যে এমন সত্তর হাজার মানুষ রয়েছে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ তাদেরকে হিসাব-নিকাশ বা শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। একথা বলে রসূলুল্লাহ ﷺ উঠে গিয়ে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলে সাহাবীগণ পরস্পরে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে লাগলেন যে, এই (সৌভাগ্যবান) ব্যক্তিগণ কারা? কেউ বললেন, তারা হয়ত ঐ সমস্ত লোক যারা ইসলাম আসার পর জন্মগ্রহন করেছে এবং কোন দিন শিক্ করেনি। এভাবে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বললেন। ইত্যবসরে রসূলুল্লাহ ﷺ ঘর থেকে বের হয়ে এসে বললেন, "তারা ঐসব লোক যারা কোনদিন ঝাড়-ফুঁক বা লোহা পুড়িয়ে ছ্যাঁক দিয়ে রোগ নিরাময়ের আশ্রয় নিতনা, অশুভ বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করত না এবং তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের উপর পরিপূর্ণভাবে ভরসা করত।" উকাশা বিন মিহসান বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার জন্য দুআ করুন তিনি যেন আমাকে তাঁদের অর্ন্তভূক্ত করেন। রসূল বললেন, "তুমি তাঁদের অর্ন্তভূক্ত”। এ কথা শুনে আরেকজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাকেও তাদের অর্ন্তভূক্ত করেন। নাবী করীম বললেনঃ “উকাশা তোমার আগে এই সৌভাগ্য অর্জন করে নিয়েছে"। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, নাবী এই সত্তর হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার মানুষকে যোগ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর নিকট আবেদন জানালে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করেন। উক্ত হাদীসে শিরকী তন্ত্র-মন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার কথা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঐ সমস্ত মহা সৌভাগ্যবান ব্যক্তিগণ জাহেলী যুগের দেব-দেবী, ভুত-প্রেত ইত্যাদির নামে, কিংবা কোন শিক মিশ্রিত তন্ত্র-মন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁক থেকে বিরত থাকায় আল্লাহ তা'য়ালা তাদেরকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। কুরআন-হাদীছে বর্ণিত দু'আর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার কথা প্রমাণিত এবং বৈধ। দ্বিতীয়তঃ উক্ত হাদীছ মোটের উপর বৈধ বা অবৈধ বিষয়ের বর্ণনা দেয়ার জন্য বর্ণিত হয়নি। বরং তাতে দৃঢ়তর ঈমানের ভিত্তিতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে মাত্র। তৃতীয়তঃ এখানে যে নিজ উদ্যোগে ঝাড়-ফুঁক করে, তার কথা বলা উদ্দেশ্য। ফলে কেউ চাইলে যে ঝাড়-ফুঁক দেয় সে উল্লেখিত পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে- এ কথা ঘোষণা করা উদ্দেশ্য নয়। চতুর্থতঃ কিছু আলেম বাহ্যিক বৈপরীত্যের অবসান কল্পে সমীকরণের পথ অবলম্বন করেন। ইবনুল কাইয়্যিমও তাই করেছেন। তবে কাবাঘর অভিমুখী দূর পাল্লার কষ্টসাধ্য সফরে নাবী জীবনীর মহা সমূদ্রকে গ্লাসে করে সাজানো যে কি পরিমাণ কঠিন কাজ তা বুঝানো অসম্ভব। তাই তিনি এক গুলিতে শিকারের পথ বেছে নেন বলে মনে হয়। ফলে এক বাক্যে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত দিয়ে দেন। নচেৎ তাঁর পদ্ধতি মূলত এর বিপরীত। কেননা তাঁর সম্পর্কে কথা আছে যে, ইবনে তাইমীয়া যেখানে এক আঘাতে বাতিলের প্রাচীর ভাংতেন সেখানে ইবনুল কাইয়্যিম একটি করে ইট খসাতেন।
৮৯. মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১০৫৭, সিলসিলাতু আহাদীসুস সহীহা, মাশা. ৯/২৭৭৫

নাবী এর পবিত্র অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, সাহাবীদের মধ্যে যারা অসুস্থ হতেন তিনি তাদেরকে দেখতে যেতেন। এক ইহুদী ছেলে তাঁর খেদমত করত। সে অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখতে গিয়েছিলেন।৮৩ তাঁর মুশরিক চাচা অসুস্থ হলে তার পাশেও তিনি উপস্থিত হয়েছেন।৮৪ অসুস্থ অবস্থায় উভয়ের কাছেই তিনি ইসলাম পেশ করেছেন। বালকটি ইসলাম কবুল করেছে। কিন্তু তাঁর মুশরিক চাচা তা কবুল করে নি।

তিনি রোগীর খুব কাছাকাছি যেতেন এবং মাথার পাশে বসে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন। এ সময় তিনি বলতেন- «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لا شِফَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِফَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا»

"কষ্ট দূর করে দাও হে মানুষের প্রভু! নিরাময় দান কর। তুমিই নিরাময় দানকারী। তোমার নিরাময় দানই আসল নিরাময়। তুমি এমন নিরাময় দান কর, যা কোন রোগই অবশিষ্ট রাখবে না"।৮৫ রোগীর জন্য তিনি তিনবার দু'আ করতেন। তিনি সা'দ (রাঃ)-কে দেখতে গিয়ে তিনবার বলেছেন। আল্লাহুম্মাশফি সা'দান হে আল্লাহ! তুমি সাদকে সুস্থতা দান কর। রোগীর কাছে প্রবেশ করার সময় তিনি বলতেন-

«لَا بَأْسَ طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ»

অর্থ: ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবাণীতে আরোগ্য লাভ করবে ইনশা-আল্লাহ।৮৬ কখনও বলতেন- কাফ্ফারা তুন ওয়া তহুরুন উভয় বাক্যের অর্থ হচ্ছে, চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশা-আল্লাহ্ তোমার এই অসুখ ভাল হয়ে যাবে এবং গুনাহসমূহর কাফ্ফারা বদলা হয়ে যাবে।

কাউকে সাপ-বিচ্ছু কামড় দিলে বা অন্য কোন কারণে আহত হলে কিংবা ব্যথা অনুভব হলে তিনি এই বলে ঝাড়-ফুঁক করতেন-

«بِسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِরִيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا»

"আল্লাহর নামের বরকতে আমাদের যমীনের মাটি কারও থুথুর সাথে মিশানো হচ্ছে, আমাদের রবের হুকুমে আমাদের রোগী ভাল হয়ে যাবে"।৮৭ এটি হচ্ছে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা। এই বর্ণনার মাধ্যমে সত্তর হাজারের হাদীছে ولا يرقون শব্দটি তথা ঝাড়-ফুঁক না করার যে কথা বর্ণিত হয়েছে তা ভুল প্রমাণিত হল। এখানে রাবী ভুল করেছেন।৮৮

রোগী দেখতে যাওয়ার জন্য তিনি কোন সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেন নি। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী দিনের বা রাতের যে কোন সময় রোগীর কাছে যাওয়া বৈধ।

কারও চোখে বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গে সামান্য সমস্যা হলেও তিনি তাকে দেখতে যেতেন। কখনও তিনি রোগীর কপালে হাত রাখতেন। অতঃপর তার বক্ষদেশ ও পেট মাসাহ করতেন আর বলতেন- আল্লাহুম্মাশফিহি “হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সুস্থ কর”।৮৯ তিনি রোগীর চেহারাতেও হাত বুলাতেন। কোন রোগীর ব্যাপারে তিনি যদি নিশ্চিত হতেন যে, সে আর বাঁচবে না, তাহলে কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করতেন-

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ)

"নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহ্ জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো”। (সূরা বাকারা-২: ১৫৬)

টিকাঃ
৮৩. বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জানায়েয।
৮৪. বুখারী ও মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
৮৫. বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তিব্ব, বুখারী, তাও. হা/৫৬৭৫, ইফা. হা/৫১৬০, আপ্র. হা/৫২৬৪, মুসলিম, হাএ. হা/৫৬০০, ইফা. হা/৫৫১৯, ইসে. হা/৫৫৪৪, মিশকাত, মাশা. হা/১৫৩০
৮৬. বুখারী, তাও. হা/৫৬৬২ ইফা. হা/৫১৪৭, আপ্র. হা/৫২৫১, মিশকাত, মাশা. হা/১৫২৯।
৮৭. সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব, বুখারী, তাও. হা/৫৭৪৫, ইফা. হা/৫২২১, আপ্র. হা/৫৩২৫, মুসলিম, হাএ. হা/৫৬১২, ইফা. হা/৫৫৩১, সহীহ ইবনে মাজাহ, মাশা. হা/৩৫১২, মিশকাত, হাএ. হা/১৫৩১
৮৮. ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এর এই কথাটি এক বাক্যে সঠিক নয়। কারণ প্রথমতঃ হাদীসের রাবী ভুল করেন নি। বরং যে ধরণের ঝাড়-ফুঁকের মধ্যে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে বা যার অর্থ বোধগম্য নয় এখানে সেই প্রকার ঝাড়-ফুঁক উদ্দেশ্য। অন্যথায় শিরকমুক্ত বাক্য এবং কুরআন ও সুন্নায় বর্ণিত বাক্য দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ। নাবী ﷺ ও তা করেছেন এবং করতে বলেছেন। সত্তর হাজারের হাদীসের পূর্ণ বিবরণ হল, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল ﷺ বলেনঃ "(মিরাজের সময়) পূর্ববর্তী সমস্ত উম্মত আমার সামনে পেশ করা হল। দেখলাম, কোন নাবীর সাথে রয়েছে একজন লোক, কোন নাবীর সাথে রয়েছে মাত্র দু'এক জন লোক, কোন নাবীর সাথে কোন লোকই নাই। এমতবস্থায় বিশাল একটা জনসমাবেশের প্রতিচছবি আমার সামনে উপস্থাপন করা হল। ভাবলাম, এরা হয়ত আমার উম্মত হবে। কিন্তু বলা হল, এটা মূসা (আঃ) এবং তার উম্মত। এরপর আরো একটা বিশাল জনসমষ্টি দেখতে পেলাম। এদের সম্পর্কে বলা হল, এরাই আপনার উম্মত। এদের মধ্যে এমন সত্তর হাজার মানুষ রয়েছে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ তাদেরকে হিসাব-নিকাশ বা শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। একথা বলে রসূলুল্লাহ ﷺ উঠে গিয়ে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলে সাহাবীগণ পরস্পরে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে লাগলেন যে, এই (সৌভাগ্যবান) ব্যক্তিগণ কারা? কেউ বললেন, তারা হয়ত ঐ সমস্ত লোক যারা ইসলাম আসার পর জন্মগ্রহন করেছে এবং কোন দিন শিক্ করেনি। এভাবে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বললেন। ইত্যবসরে রসূলুল্লাহ ﷺ ঘর থেকে বের হয়ে এসে বললেন, "তারা ঐসব লোক যারা কোনদিন ঝাড়-ফুঁক বা লোহা পুড়িয়ে ছ্যাঁক দিয়ে রোগ নিরাময়ের আশ্রয় নিতনা, অশুভ বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করত না এবং তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের উপর পরিপূর্ণভাবে ভরসা করত।" উকাশা বিন মিহসান বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার জন্য দুআ করুন তিনি যেন আমাকে তাঁদের অর্ন্তভূক্ত করেন। রসূল বললেন, "তুমি তাঁদের অর্ন্তভূক্ত”। এ কথা শুনে আরেকজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাকেও তাদের অর্ন্তভূক্ত করেন। নাবী করীম বললেনঃ “উকাশা তোমার আগে এই সৌভাগ্য অর্জন করে নিয়েছে"। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, নাবী এই সত্তর হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার মানুষকে যোগ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর নিকট আবেদন জানালে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করেন। উক্ত হাদীসে শিরকী তন্ত্র-মন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার কথা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঐ সমস্ত মহা সৌভাগ্যবান ব্যক্তিগণ জাহেলী যুগের দেব-দেবী, ভুত-প্রেত ইত্যাদির নামে, কিংবা কোন শিক মিশ্রিত তন্ত্র-মন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁক থেকে বিরত থাকায় আল্লাহ তা'য়ালা তাদেরকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। কুরআন-হাদীছে বর্ণিত দু'আর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার কথা প্রমাণিত এবং বৈধ। দ্বিতীয়তঃ উক্ত হাদীছ মোটের উপর বৈধ বা অবৈধ বিষয়ের বর্ণনা দেয়ার জন্য বর্ণিত হয়নি। বরং তাতে দৃঢ়তর ঈমানের ভিত্তিতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে মাত্র। তৃতীয়তঃ এখানে যে নিজ উদ্যোগে ঝাড়-ফুঁক করে, তার কথা বলা উদ্দেশ্য। ফলে কেউ চাইলে যে ঝাড়-ফুঁক দেয় সে উল্লেখিত পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে- এ কথা ঘোষণা করা উদ্দেশ্য নয়। চতুর্থতঃ কিছু আলেম বাহ্যিক বৈপরীত্যের অবসান কল্পে সমীকরণের পথ অবলম্বন করেন। ইবনুল কাইয়্যিমও তাই করেছেন। তবে কাবাঘর অভিমুখী দূর পাল্লার কষ্টসাধ্য সফরে নাবী জীবনীর মহা সমূদ্রকে গ্লাসে করে সাজানো যে কি পরিমাণ কঠিন কাজ তা বুঝানো অসম্ভব। তাই তিনি এক গুলিতে শিকারের পথ বেছে নেন বলে মনে হয়। ফলে এক বাক্যে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত দিয়ে দেন। নচেৎ তাঁর পদ্ধতি মূলত এর বিপরীত। কেননা তাঁর সম্পর্কে কথা আছে যে, ইবনে তাইমীয়া যেখানে এক আঘাতে বাতিলের প্রাচীর ভাংতেন সেখানে ইবনুল কাইয়্যিম একটি করে ইট খসাতেন।
৮৯. মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা/১০৫৭, সিলসিলাতু আহাদীসুস সহীহা, মাশা. ৯/২৭৭৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px