📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 সূর্য গ্রহণের সময় নবী (সাঃ) এর অবস্থা কেমন ছিল?

📄 সূর্য গ্রহণের সময় নবী (সাঃ) এর অবস্থা কেমন ছিল?


নাবী এর যুগে যখন সূর্যগ্রহণ লাগলো তখন তিনি ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় চাদর টানতে টানতে দ্রুত মাসজিদের দিকে বের হয়ে গেলেন। দিবসের প্রথম ভাগে যখন সূর্য উদিত হওয়ার পর দুই বা তিন বর্শা পরিমাণ উঁচু হলো তখন সূর্যগ্রহণটি লেগেছিল। তিনি অগ্রসর হয়ে দুই রাকআত সলাত পড়লেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সশব্দে লম্বা একটি সূরা পাঠ করলেন। কিরাআত শেষে তিনি দীর্ঘ রুকু করলেন। রুকু হতে উঠে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তবে এই দাঁড়িয়ে থাকা প্রথমবারের দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় তিনি এই দু'আ পাঠ করলেন- «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ»
অতঃপর তিনি সিজদায় না গিয়ে পুনরায় কিরাআত পাঠ করতে লাগলেন। কিরাআত পাঠ শেষে তিনি পুনরায় দীর্ঘ রুকু করলেন। তবে প্রথম রুকুর তুলনায় দ্বিতীয়বারের রুকু সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তিনি দীর্ঘ সিজদাহ করলেন। এরপর তিনি প্রথম রাকআতের মত করে দ্বিতীয় রাকআত পূর্ণ করলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে তিনি চারটি রুকু ও চারটি সিজদার মাধ্যমে দুই রাকআত সলাত সমাধা করলেন।
তিনি সেই সলাতে দাঁড়িয়ে অবস্থায় জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। সাহাবীদেরকে দেখানোর জন্য তিনি জান্নাতের এক গুচ্ছ আঙ্গুর ছেড়ার ইচ্ছা পোষণও করেছেন। তিনি জাহান্নাম ও জাহান্নামীদেরকে দেখেছেন। আরও দেখেছেন একজন মহিলাকে একটি বিড়াল খামছিয়ে আহত করছে। তিনি জাহান্নামে আমর বিন মালেক লুহাইকে দেখলেন যে, সে স্বীয় নাড়ী-ভূড়ি টেনে নিচ্ছে।
অতঃপর সলাত শেষে তিনি জ্ঞানপূর্ণ উচ্চাঙ্গের এক ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি বললেন- "আম্মা বাদ”। কিছু লোক ধারণা করে যে, এই সূর্য আলোকহীন হওয়া, এই চন্দ্রের আলো মিটে যাওয়া এবং এই নক্ষত্রগুলো উদয়াস্তাচল থেকে সরে যাওয়া পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিদের মৃত্যু বরণের কারণেই হয়ে থাকে। যারা এমনটি মনে করে থাকে তারা নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদী। বরং এগুলো হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার নিদর্শন সমূহের অন্যতম। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখান এবং শিক্ষা দিয়ে থাকেন। অচিরেই কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। ত্রিশজন মিথ্যুকের আগমণ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তাদের মধ্যে সর্বশেষ আগমণকারী মিথ্যুকের নাম হবে কানা দাজ্জাল।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 সলাতুল ইস্তেসকা তথা বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত

📄 সলাতুল ইস্তেসকা তথা বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত


আল্লাহর নিকটে বৃষ্টি প্রার্থনার বিষয়ে নাবী থেকে কয়েকটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম পদ্ধতি: জুমআর দিন খুতবা প্রদান করা অবস্থায় মিম্বারে দাঁড়িয়ে তিনি বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন। দ্বিতীয় পদ্ধতি: তিনি দিন নির্দিষ্ট করে ময়দানে বের হওয়ার ওয়াদা করেছেন। সূর্য উদয়ের পর ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হতেন। ময়দানে পৌঁছে মিম্বারে আরোহন করতেন। তিনি সেখানে এই দু'আ পাঠ করতেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ تَفْعَلُ مَا تُرِيدُ اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أُنْزِلُ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلاغًا إِلَى حِينٍ»
অতঃপর তিনি সলাত আদায় করতেন। তৃতীয় পদ্ধতি: তিনি মদীনার মিম্বারে দাঁড়িয়ে জুমআর দিন ছাড়াও অন্যান্য সময় বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন। চতুর্থ পদ্ধতি: তিনি মাসজিদে বসে উভয় হাত উঠিয়ে বৃষ্টির জন্য আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেছেন। পঞ্চম পদ্ধতি: তিনি মাসজিদে নববীর দরজার বাইরে 'যাওরা' নামক স্থানে অবস্থান করে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন। ষষ্ঠ পদ্ধতি: কোন এক যুদ্ধে মুশরিকরা যখন মুসলিমদের আগেই ময়দানে অবস্থিত পানীর স্থানকে দখল করে নিল তখন তিনি বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন এবং বৃষ্টি হতে থাকল।

টিকাঃ
৬৭. আবু দাউদ, আলএ. হা/১১৭৩, মিশকাত, হাএ. হা/১৫০৮
৬৮. প্রথমতঃ হাদীছ বিশুদ্ধ বলে শক্ত কোন প্রমাণ বিদ্যমান নেই। দ্বিতীয়তঃ যদি সাব্যস্ত হয়ও তবে আমার জানা মতে এটি একটি আরবদের বচন ভঙ্গি। দুআকে শক্তিশালী করার জন্য রসূল কথাটি বলেছেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দু‘আ করা

📄 বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দু‘আ করা


নাবী এর যামানায় যখন অবিরাম বৃষ্টিপাত হত তখন সাহাবীগণ তাঁর কাছে এসে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দু'আ করার আবেদন করতেন। তিনি দু'আয় বলতেন-
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللهُمَّ عَلَى الأَكَامِ وَالظَّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ»
'হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা পাহাড়, ময়দান, উপত্যকা এবং গাছপালা উৎপন্ন হওয়ার স্থানে বর্ষণ করুন'।
বৃষ্টির সময় তিনি শরীরে পরিহিত জামা-কাপড় খুলতেন। যাতে খালী শরীরে বৃষ্টির পানি লাগে। নাবী বলতেন- আমাদের সাথে এই পানির দিকে চল, যাকে আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানিয়েছেন। আমরা উহা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করব।

টিকাঃ
৬৯. মুসলিম, নাসায়ী, মাথ, হা/১৫১৮, মিশকাত, হাএ. হা/৫৯০২
৭০. মিশকাত, হাএ. হা/১৫০০, মুসনাদে আহমাদ, মাশা. হা. ৬/৪৬২৭

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 আকাশে মেঘ দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া

📄 আকাশে মেঘ দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া


নাবী যখন আকাশে মেঘ কিংবা অন্ধকার দেখতেন তখন তাঁর চেহারা মোবারকে ভয়ের লক্ষণ পরিলক্ষিত হত। তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতেন। আর যখন বৃষ্টি হয়ে যেত তখন তাঁর ভয় কেটে যেত। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, সম্ভবত এর মধ্যে আযাব রয়েছে।

নাবী যখন আকাশে মেঘ কিংবা অন্ধকার দেখতেন তখন তাঁর চেহারা মোবারকে ভয়ের লক্ষণ পরিলক্ষিত হত। তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতেন। আর যখন বৃষ্টি হয়ে যেত তখন তাঁর ভয় কেটে যেত। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, সম্ভবত এর মধ্যে আযাব রয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px