📄 সালাতুল ঈদাঈন তথা দুই ঈদের সালাতে নবী (সাঃ) এর হিদায়াত
পূর্ব দিক দিয়ে মদীনার প্রবেশ পথে অবস্থিত ঈদগাহে (মুসাল্লায়) তিনি দুই ঈদের সলাত আদায় করতেন। ঈদের দিন তিনি সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। ঈদুল ফিতরের দিন বের হওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খেয়ে বের হতেন। আর ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহ থেকে ফেরত আসার আগে কিছুই খেতেন না। রসূল পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন।
ঈদগাহে পৌঁছে তিনি আযান, ইকামত ও সলাতের জন্য ডাকাডাকি ছাড়াই সলাত শুরু করে দিতেন। তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ ঈদের মাঠে গিয়ে সলাতের পূর্বে বা পরে কোন সুন্নাত বা নফল সলাত পড়তেন না। তিনি খুতবার পূর্বে সলাত পড়তেন। প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমাসহ মোট সাতটি তাকবীর পাঠ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচটি অতিরিক্ত তাকবীর পাঠ করতেন। তিনি প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা অতঃপর সূরা ক্ব-ফ অথবা সূরা আ’লা পাঠ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা কামার অথবা সূরা গা-শীয়া পাঠ করতেন। সলাত শেষে মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উপদেশ দিতেন।
📄 ঈদের সালাতে কে সর্বপ্রথম মিম্বার স্থাপন করেন?
সে সময় ঈদগাহে কোন মিম্বার ছিলনা। মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিতেন। বুখারী ও মুসলিম শরীফের যে হাদীছে বলা হয়েছে অতঃপর তিনি নামলেন এবং মহিলাদের কাছে গেলেন সেই হাদীছের মর্মার্থ হচ্ছে সম্ভবতঃ তিনি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা থেকে তিনি নেমেছেন। মদীনার ঈদগাহে উমাইয়া শাসক মারওয়ান ইবনুল হাকামই সর্বপ্রথম মিম্বার স্থাপন করেন। লোকেরা তার এই কাজের প্রতিবাদ করেছে। আর কাছীর ইবনুস সালতই সর্বপ্রথম মারওয়ানের শাসনামলে পাকা মিম্বার তৈরী করেন। ঈদের সলাতে উপস্থিত লোকদেরকে সলাত শেষ হলে বসে খুতবা শুনা এবং তা না শুনে চলে যাওয়া উভয়টির অনুমতি দিয়েছেন।
📄 জুমআর দিন ঈদ হলে
জুমআর দিন ঈদ হলে তিনি লোকদের জন্য ঐ দিনের জুমআর সলাতে না আসার অনুমতি দিয়েছেন এবং ঈদের সলাতকেই যথেষ্ট বলে ঘোষণা দিয়েছেন। (তবে যোহরের সলাত আদায় করতে হবে এবং মাসজিদে জুমআর সলাত অবশ্যই পড়ানো হবে)। ঈদের দিন তিনি এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরত আসতেন।
টিকাঃ
৬৬. ইরওয়াউল গালীল, মাশা.৩/১২৮, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, মাশা. হা/৫৬৯৭, সহীহ।
📄 সূর্য গ্রহণের সময় নবী (সাঃ) এর অবস্থা কেমন ছিল?
নাবী এর যুগে যখন সূর্যগ্রহণ লাগলো তখন তিনি ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় চাদর টানতে টানতে দ্রুত মাসজিদের দিকে বের হয়ে গেলেন। দিবসের প্রথম ভাগে যখন সূর্য উদিত হওয়ার পর দুই বা তিন বর্শা পরিমাণ উঁচু হলো তখন সূর্যগ্রহণটি লেগেছিল। তিনি অগ্রসর হয়ে দুই রাকআত সলাত পড়লেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সশব্দে লম্বা একটি সূরা পাঠ করলেন। কিরাআত শেষে তিনি দীর্ঘ রুকু করলেন। রুকু হতে উঠে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তবে এই দাঁড়িয়ে থাকা প্রথমবারের দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় তিনি এই দু'আ পাঠ করলেন- «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ»
অতঃপর তিনি সিজদায় না গিয়ে পুনরায় কিরাআত পাঠ করতে লাগলেন। কিরাআত পাঠ শেষে তিনি পুনরায় দীর্ঘ রুকু করলেন। তবে প্রথম রুকুর তুলনায় দ্বিতীয়বারের রুকু সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তিনি দীর্ঘ সিজদাহ করলেন। এরপর তিনি প্রথম রাকআতের মত করে দ্বিতীয় রাকআত পূর্ণ করলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে তিনি চারটি রুকু ও চারটি সিজদার মাধ্যমে দুই রাকআত সলাত সমাধা করলেন।
তিনি সেই সলাতে দাঁড়িয়ে অবস্থায় জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। সাহাবীদেরকে দেখানোর জন্য তিনি জান্নাতের এক গুচ্ছ আঙ্গুর ছেড়ার ইচ্ছা পোষণও করেছেন। তিনি জাহান্নাম ও জাহান্নামীদেরকে দেখেছেন। আরও দেখেছেন একজন মহিলাকে একটি বিড়াল খামছিয়ে আহত করছে। তিনি জাহান্নামে আমর বিন মালেক লুহাইকে দেখলেন যে, সে স্বীয় নাড়ী-ভূড়ি টেনে নিচ্ছে।
অতঃপর সলাত শেষে তিনি জ্ঞানপূর্ণ উচ্চাঙ্গের এক ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি বললেন- "আম্মা বাদ”। কিছু লোক ধারণা করে যে, এই সূর্য আলোকহীন হওয়া, এই চন্দ্রের আলো মিটে যাওয়া এবং এই নক্ষত্রগুলো উদয়াস্তাচল থেকে সরে যাওয়া পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিদের মৃত্যু বরণের কারণেই হয়ে থাকে। যারা এমনটি মনে করে থাকে তারা নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদী। বরং এগুলো হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার নিদর্শন সমূহের অন্যতম। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখান এবং শিক্ষা দিয়ে থাকেন। অচিরেই কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। ত্রিশজন মিথ্যুকের আগমণ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তাদের মধ্যে সর্বশেষ আগমণকারী মিথ্যুকের নাম হবে কানা দাজ্জাল।