📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 কোন সাহাবী মদীনায় সর্বপ্রথম জুমআর সালাত চালু করেন?

📄 কোন সাহাবী মদীনায় সর্বপ্রথম জুমআর সালাত চালু করেন?


ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক আব্দুর রহমান বিন কাব বিন মালেক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন- আমার পিতা অন্ধ হয়ে গেলে আমিই তাঁকে নিয়ে সলাতে যেতাম। আমি যখন তাঁকে নিয়ে জুমআর সলাতে যেতাম তখন তিনি আযান শুনে আবু উমামাহ আসআদ বিন যুরারার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। আমি যখন তার কাছ থেকে আসআদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কথা শুনতাম তখন মনে মনে বলতাম- অবশ্যই এ ব্যাপারে আমি তাকে জিজ্ঞেস করবোঃ কেন তিনি তা করেন। সুতরাং একদা জুমআর দিন এমনটি করার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আমার পিতা! প্রত্যেকবার জুমআর আযান শুনেই আপনি আসআদ বিন যুরারার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন কেন? তিনি বললেন- হে বৎস! শুন, আল্লাহর রসূল এর মদীনায় আগমণের পূর্বে আসআদ আমাদেরকে সর্বপ্রথম বনী বায়াযার 'হাযমুন নাবিত' নামক স্থানে জুমআর সলাতে একত্রিত করেছিলেন। এই স্থানটিকে 'নাকীউল খাযমাত' বলা হয়। আব্দুর রহমান বিন কাব বলেন- আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা সেদিন সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বললেন- চল্লিশজন পুরুষ।
ইমাম বায়হাকী বলেন- এই হাদীসটি হাসান। এর সনদ সহীহ। অতঃপর রসূল মদীনায় আসলেন। কুবায় এসে সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই চার দিন অবস্থান করলেন। কুব্বার অধিবাসীদের জন্য তাদের মাসজিদ নির্মাণ করলেন। জুমআর দিন তিনি কুবা থেকে বের হলেন। বনী সালেম বিন আওফ গোত্রের নিকট আসতেই জুমআর সলাতের সময় হয়ে গেল। সেখানের উপত্যকায় অবস্থিত মাসজিদেই তিনি জুমআর সলাত পড়লেন। এটি ছিল মাসজিদে নববী নির্মাণ করার পূর্বে।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) এর জুমআর খুতবা

📄 নবী (সাঃ) এর জুমআর খুতবা


প্রথম খুতবাঃ ইবনে ইসহাক বলেন- রসূল সর্বপ্রথম যেই খুতবাটি দিয়েছিলেন তা আমার নিকট আবু সালামা বিন আব্দুর রাহমানের সূত্রে পৌঁছেছে। রসূল যা বলেন নি, আমরা তাঁর দিকে ঐ সমস্ত কথা সম্পৃক্ত করা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
তিনি মুসলমানদের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন- "আম্মা বাদ। হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের মুক্তির জন্য আমল কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা তখন অবশ্যই (পরকালের উদ্দেশ্যে আমল করার গুরুত্ব সম্পর্কে) জানতে পারবে যখন তোমাদের কেউ (শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আওয়াজ শুনে) বেহুঁশ হয়ে যাবে। সে তার ছাগলের পালকে রাখাল বিহীন অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে, অতঃপর তার প্রভু তার সাথে কথা বলবেন, তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না (সরসূরি কথা হবে) এবং তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোন পর্দা থাকবে না। তিনি বলবেনঃ তোমার কাছে কি আমার রসূল এসে আমার হুকুম-আহকাম পৌঁছে দেয় নি? আমি তোমাকে দুনিয়ার সম্পদ দিয়েছিলাম এবং তোমার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম। সুতরাং তুমি নিজের জন্য কি প্রেরণ করেছ? তখন সে ডান দিকে তাকাবে, বাম দিকে তাকাবে। কিন্তু সে কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সামনে তাকাবে। কিন্তু সে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এক টুকরা খেজুর দান করার বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার সামর্থ রাখে সে যেন জাহান্নাম থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি তারও ক্ষমতা না রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলার মাধ্যমে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। কেননা এর বিনিময়েও নেকীর সংখ্যা এক থেকে দশ গুণ আর দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্”।

দ্বিতীয় খুতবায় তিনি বলেছেন-
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাচ্ছি, আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং খারাপ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যাকে হিদায়াত করেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারেনা। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন কেউ তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারেনা। আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া সঠিক কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।
নিশ্চয়ই ঐ ব্যক্তি সফল হবে, যার অন্তরকে আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনের মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন এবং কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার পর তাকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছেন। আল্লাহর কালামকে পাঠ করতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে তোমরা ক্লান্তিবোধ করো না। তোমাদের অন্তর যেন কুরআন থেকে পাষাণ না হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সকল সৃষ্টি থেকে উত্তমটিই বাছাই করেন এবং তা নিজের জন্য নির্বাচন করেন।
সুতরাং তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করোনা এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় কর। তোমরা মুখ দিয়ে যে সমস্ত কথা উচ্চারণ করে থাকো, তা থেকে সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহ্ সত্যতার ঘোষণা প্রদান কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গকারীকে মোটেই পছন্দ করেননা। ওয়াস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্”।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 দ্বিতীয় খুতবা

📄 দ্বিতীয় খুতবা


দ্বিতীয় খুতবায় তিনি বলেছেন-

ইন্নাল হামদা লিল্লা-হি আহমাদুহূ ওয়া আসতাইনুহূ নাঊযুবিল্লা-হি মিন শুরূরি আনফুসিনা ওয়া সাইয়িআতি আমা-লিনা মান ইয়াহদিহিল্লা-হু ফালা মুদিল্লা লাহূ ওয়া মান ইয়ুদলিল ফালা হা-দিয়া লাহূ ওয়া আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ ইন্না আহসানাল হাদীছি কিতা-বুল্লা-হি কাদ আফলাহা মান যাইয়্যানাহুল্লা-হু ফী কলবিহী ওয়া আদখালাহূ ফিল ইসলা-মি বাদাল কুফরি ফাখতা-রাহূ আলা মা সিওয়া-হু মিন আহাদীছিন না-সি ইন্নাহূ আহসানুল হাদীছি ওয়া আবলাগুহূ আহিব্বূ মা আহাব্বাল্লা-হু আহিব্বুল্লা-হা মিন কুল্লি কুলূবিকুম ওয়া লা তামাল্লূ কালা-মাল্লা-হি ওয়া যিকরাহূ ওয়া লা তাকসূ আনহু কুলূবুকুম ফাইন্নাহূ মিন কুল্লি মা ইয়াহলুকুল্লা-হু ইয়াসতাফী কাদ সাম্মা-হুল্লা-হু খিয়ারা-তাহূ মিনাল আমা-লি ওয়া মুসতাফা-হু মিনাল ইবা-দি ওয়া সালিহা মিনাল হাদীছি ওয়া মিন কুল্লি মা ঊতিয়ান না-সু মিনাল হালা-লি ওয়াল হারা-মি ফাবুদুল্লা-হা ওয়া লা তুশরিকূ বিহী শাইআঁ ওয়াত্তাকূহু হাক্কা তুক্বা-তিহী ওয়াসদুকুল্লা-হা সালিহা মা তাকুলূনা বিআফওয়া-হিকুম ওয়া তাহা-ব্বূ বিরূহিল্লা-হি বাইনাকুম ইন্নাল্লা-হা ইয়াগদাবু আন ইয়ানকুছা আহদাহূ ওয়াস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাচ্ছি, আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং খারাপ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যাকে হিদায়াত করেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারেনা। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন কেউ তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারেনা। আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া সঠিক কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।

নিশ্চয়ই ঐ ব্যক্তি সফল হবে, যার অন্তরকে আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনের মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন এবং কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার পর তাকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছেন। সুতরাং মানুষের কথাগুলো বাদ দিয়ে সে আল্লাহর কালামকে বেছে নিয়েছে। কেননা আল্লাহর কথাই হচ্ছে সর্বোত্তম কথা ও তাঁর বাণীই হচ্ছে সর্বোচ্চ বাণী। আল্লাহ্ যা ভালাবাসেন তোমরা তাই ভালবাস এবং তোমাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহর ভালবাসা দিয়ে ভরে দাও। আল্লাহর কালামকে পাঠ করতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে তোমরা ক্লান্তিবোধ করো না। তোমাদের অন্তর যেন কুরআন থেকে (কুরআন ছেড়ে দিয়ে) পাষাণ না হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সকল সৃষ্টি থেকে উত্তমটিই বাছাই করেন এবং তা নিজের জন্য নির্বাচন করেন। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের আমলসমূহ থেকে কুরআন তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বান্দাদের আমল থেকে তা পছন্দ করেছেন, তাকে সর্বোত্তম বাণী বলে ঘোষণা করেছেন এবং তার মাঝে মানুষের জন্য সকল হালাল ও হারাম বিষয় বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করোনা এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় কর। তোমরা মুখ দিয়ে যে সমস্ত কথা উচ্চারণ করে থাকো, তা থেকে সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহ্ সত্যতার ঘোষণা প্রদান কর। আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে পরস্পর ভালবাসার বন্ধন রচনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গকারীকে মোটেই পছন্দ করেননা। ওয়াস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।”

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 জুমআর দিনের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য

📄 জুমআর দিনের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য


নাবী জুমআর দিনকে খুব সম্মান করতেন। তিনি এই দিনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে-
১. জুমআর দিনের ফজরের সলাতে তিনি সূরা আলিফ-লাম-মীম সিজদাহ ও ইনসান পাঠ করতেন। কেননা এই সূরা দু'টিতে জুমআর দিনে যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা সংঘটিত হবে তা বর্ণিত হয়েছে।
২. জুমআর দিনে ও রাতে নাবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেশী দুরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা তাঁর মাধ্যমেই উম্মাত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে ধন্য হয়েছে। জুমআর দিনেই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জিত হবে। কেননা এদিনেই তাদেরকে জান্নাতে তাদের ঘরসমূহে স্থান দেয়া হবে।
৩. জুমআর দিন গোসল করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ দিনে গোসল করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।
৪. জুমআর দিন মিসওয়াক করা ও শরীরে খুশবো লাগানো মুস্তাহাব। এ দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা অন্যান্য দিনে তা ব্যবহারের চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ কাজ। জুমআর উদ্দেশ্যে সকাল সকাল বের হওয়া, আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকা এবং ইমাম উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সলাতরত থাকাও জুমআর দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. খুতবার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শুনা জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম যখন খুতবা দিবেন তখন চুপ থাকা ওয়াজিব।
৬. জুমআর দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।
৭. জুমআর দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পায়ে হেঁটে জুমআর সলাতে গমণকারীর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর দিনের বেলা নফল সিয়াম রাখা ও রাতের বেলা তাহাজ্জুদ সলাতের ছাওয়াব রয়েছে।
৮. জুমআর দিনে বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়।
৯. এই দিনে রয়েছে দু'আ কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

টিকাঃ
৬৪. জুমআর দিনের আরও কতিপয় বৈশিষ্ট হচ্ছে, (ক) জুমআর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করলে পরবর্তি জুমআ পর্যন্ত নূর দ্বারা তাকে আলোকিত করা হয়। (খ) জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই দিন দুপুর বেলায় মাকরুহ সময়ে সলাত পড়তে কোন বাধা নেই।

নাবী জুমআর দিনকে খুব সম্মান করতেন। তিনি এই দিনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে-
১. জুমআর দিনের ফজরের সলাতে তিনি সূরা আলিফ-লাম-মীম সিজদাহ ও ইনসান পাঠ করতেন। কেননা এই সূরা দু'টিতে জুমআর দিনে যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা সংঘটিত হবে তা বর্ণিত হয়েছে।
২. জুমআর দিনে ও রাতে নাবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেশী দুরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা তাঁর মাধ্যমেই উম্মাত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে ধন্য হয়েছে। জুমআর দিনেই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জিত হবে। কেননা এদিনেই তাদেরকে জান্নাতে তাদের ঘরসমূহে স্থান দেয়া হবে।
৩. জুমআর দিন গোসল করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ দিনে গোসল করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।
৪. জুমআর দিন মিসওয়াক করা ও শরীরে খুশবো লাগানো মুস্তাহাব। এ দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা অন্যান্য দিনে তা ব্যবহারের চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ কাজ। জুমআর উদ্দেশ্যে সকাল সকাল বের হওয়া, আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকা এবং ইমাম উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সলাতরত থাকাও জুমআর দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. খুতবার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শুনা জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম যখন খুতবা দিবেন তখন চুপ থাকা ওয়াজিব।
৬. জুমআর দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।
৭. জুমআর দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পায়ে হেঁটে জুমআর সলাতে গমণকারীর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর দিনের বেলা নফল সিয়াম রাখা ও রাতের বেলা তাহাজ্জুদ সলাতের ছাওয়াব রয়েছে।
৮. জুমআর দিনে বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়।
৯. এই দিনে রয়েছে দু'আ কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

টিকাঃ
৬৪. জুমআর দিনের আরও কতিপয় বৈশিষ্ট হচ্ছে, (ক) জুমআর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করলে পরবর্তি জুমআ পর্যন্ত নূর দ্বারা তাকে আলোকিত করা হয়। (খ) জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই দিন দুপুর বেলায় মাকরুহ সময়ে সলাত পড়তে কোন বাধা নেই।

নাবী জুমআর দিনকে খুব সম্মান করতেন। তিনি এই দিনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে-
১. জুমআর দিনের ফজরের সলাতে তিনি সূরা আলিফ-লাম-মীম সিজদাহ ও ইনসান পাঠ করতেন। কেননা এই সূরা দু'টিতে জুমআর দিনে যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা সংঘটিত হবে তা বর্ণিত হয়েছে।
২. জুমআর দিনে ও রাতে নাবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেশী দুরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা তাঁর মাধ্যমেই উম্মাত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে ধন্য হয়েছে। জুমআর দিনেই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জিত হবে। কেননা এদিনেই তাদেরকে জান্নাতে তাদের ঘরসমূহে স্থান দেয়া হবে। তাতে প্রবেশের পর এ দিনেই তাদেরকে অতিরিক্ত নিয়ামাতটি (আল্লাহর দর্শন) দান করা হবে। অতিরিক্ত পুরস্কারটি পাওয়ার সময় তারা তাদের প্রভুর নিকটবর্তী হবে। আল্লাহর বান্দাগণের মধ্য হতে যারা জুমআর দিন দ্রুত জুমআয় উপস্থিত হবে ও ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করবে সে অনুপাতেই তারা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হবে এবং অতিরিক্ত নিয়ামত প্রাপ্ত হবে।
৩. জুমআর দিন গোসল করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ দিনে গোসল করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলগুলো গোপ্তাঙ্গ স্পর্শ করলে, নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, বমি করলে ওযূ আবশ্যক হওয়ার দলীলসমূহের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। এমনকি সলাতের শেষ বৈঠকে নাবী এর উপর দুরূদ পাঠ করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলগুলোর চেয়েও অধিক মজবুত।
৪. জুমআর দিন মিসওয়াক করা ও শরীরে খুশবো লাগানো মুস্তাহাব। এ দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা অন্যান্য দিনে তা ব্যবহারের চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ কাজ। জুমআর উদ্দেশ্যে সকাল সকাল বের হওয়া, আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকা এবং ইমাম উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সলাতরত থাকাও জুমআর দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. খুতবার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শুনা জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম যখন খুতবা দিবেন তখন চুপ থাকা ওয়াজিব। সূরা জুমআ, মুনাফিকুন, সূরা আ'লা এবং সূরা গাশীয়া দিয়ে জুমআর সলাত পড়াও জুমআর দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৬. জুমআর দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।
৭. জুমআর দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পায়ে হেঁটে জুমআর সলাতে গমণকারীর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর দিনের বেলা নফল সিয়াম রাখা ও রাতের বেলা তাহাজ্জুদ সলাতের ছাওয়াব রয়েছে।
৮. জুমআর দিনে বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়।
৯. এই দিনে রয়েছে দু'আ কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

টিকাঃ
৬৪. জুমআর দিনের আরও কতিপয় বৈশিষ্ট হচ্ছে, (ক) জুমআর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করলে পরবর্তি জুমআ পর্যন্ত (অপর বর্ণনায় রয়েছে কাবাঘর পর্যন্ত) নূর দ্বারা তাকে আলোকিত করা হয়। (খ) জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই দিন দুপুর বেলায় মাকরুহ সময়ে সলাত পড়তে কোন বাধা নেই।

নাবী জুমআর দিনকে খুব সম্মান করতেন। তিনি এই দিনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে-
১. জুমআর দিনের ফজরের সলাতে তিনি সূরা আলিফ-লাম-মীম সিজদাহ ও ইনসান পাঠ করতেন। কেননা এই সূরা দু'টিতে জুমআর দিনে যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা সংঘটিত হবে তা বর্ণিত হয়েছে।
২. জুমআর দিনে ও রাতে নাবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেশী দুরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা তাঁর মাধ্যমেই উম্মাত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে ধন্য হয়েছে। জুমআর দিনেই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জিত হবে। কেননা এদিনেই তাদেরকে জান্নাতে তাদের ঘরসমূহে স্থান দেয়া হবে। তাতে প্রবেশের পর এ দিনেই তাদেরকে অতিরিক্ত নিয়ামাতটি (আল্লাহর দর্শন) দান করা হবে। অতিরিক্ত পুরস্কারটি পাওয়ার সময় তারা তাদের প্রভুর নিকটবর্তী হবে। আল্লাহর বান্দাগণের মধ্য হতে যারা জুমআর দিন দ্রুত জুমআয় উপস্থিত হবে ও ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করবে সে অনুপাতেই তারা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হবে এবং অতিরিক্ত নিয়ামত প্রাপ্ত হবে।
৩. জুমআর দিন গোসল করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ দিনে গোসল করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলগুলো গোপ্তাঙ্গ স্পর্শ করলে, নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, বমি করলে ওযূ আবশ্যক হওয়ার দলীলসমূহের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।
৪. জুমআর দিন মিসওয়াক করা ও শরীরে খুশবো লাগানো মুস্তাহাব। এ দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা অন্যান্য দিনে তা ব্যবহারের চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ কাজ। জুমআর উদ্দেশ্যে সকাল সকাল বের হওয়া, আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকা এবং ইমাম উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সলাতরত থাকাও জুমআর দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. খুতবার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শুনা জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম যখন খুতবা দিবেন তখন চুপ থাকা ওয়াজিব।
৬. জুমআর দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।
৭. জুমআর দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পায়ে হেঁটে জুমআর সলাতে গমণকারীর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর দিনের বেলা নফল সিয়াম রাখা ও রাতের বেলা তাহাজ্জুদ সলাতের ছাওয়াব রয়েছে।
৮. জুমআর দিনে বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়।
৯. এই দিনে রয়েছে দু'আ কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

টিকাঃ
৬৪. জুমআর দিনের আরও কতিপয় বৈশিষ্ট হচ্ছে, (ক) জুমআর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করলে পরবর্তি জুমআ পর্যন্ত নূর দ্বারা তাকে আলোকিত করা হয়। (খ) জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই দিন দুপুর বেলায় মাকরুহ সময়ে সলাত পড়তে কোন বাধা নেই।

নাবী জুমআর দিনকে খুব সম্মান করতেন। তিনি এই দিনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে-
১. জুমআর দিনের ফজরের সলাতে তিনি সূরা আলিফ-লাম-মীম সিজদাহ ও ইনসান পাঠ করতেন। কেননা এই সূরা দু'টিতে জুমআর দিনে যা সংঘটিত হয়েছে এবং যা সংঘটিত হবে তা বর্ণিত হয়েছে।
২. জুমআর দিনে ও রাতে নাবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেশী দুরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা তাঁর মাধ্যমেই উম্মাত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে ধন্য হয়েছে। জুমআর দিনেই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জিত হবে। এদিনেই তাদেরকে জান্নাতে তাদের ঘরসমূহে স্থান দেয়া হবে।
৩. জুমআর দিন গোসল করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ দিনে গোসল করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।
৪. জুমআর দিন মিসওয়াক করা ও শরীরে খুশবো লাগানো মুস্তাহাব। এ দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা অন্যান্য দিনে তা ব্যবহারের চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ কাজ। জুমআর উদ্দেশ্যে সকাল সকাল বের হওয়া, আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকা এবং ইমাম উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সলাতরত থাকাও জুমআর দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫. খুতবার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে তা শুনা জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম যখন খুতবা দিবেন তখন চুপ থাকা ওয়াজিব।
৬. জুমআর দিন সুন্দর পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।
৭. জুমআর দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পায়ে হেঁটে জুমআর সলাতে গমণকারীর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর দিনের বেলা নফল সিয়াম রাখা ও রাতের বেলা তাহাজ্জুদ সলাতের ছাওয়াব রয়েছে।
৮. জুমআর দিনে বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়।
৯. এই দিনে রয়েছে দু'আ কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

টিকাঃ
৬৪. জুমআর দিনের আরও কতিপয় বৈশিষ্ট হচ্ছে, (ক) জুমআর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করলে পরবর্তি জুমআ পর্যন্ত নূর দ্বারা তাকে আলোকিত করা হয়। (খ) জুমআর দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই দিন দুপুর বেলায় মাকরুহ সময়ে সলাত পড়তে কোন বাধা নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px