📄 নবী (সাঃ) এর চাশতের সালাত
সহীহ বুখারীতে আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- আমি কখনও নাবী কে চাশতের সলাত পড়তে দেখিনি। তবে আমি তা পড়ি। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন- আমার বন্ধু রসূল আমাকে প্রত্যেক মাসে তিন দিন সিয়াম রাখার, দুই রাকআত চাশতের সলাত পড়ার এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সলাত পড়ার আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিমে যায়েদ বিন আরকাম হতে মারফু হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, দিবসের উত্তাপ বেড়ে গেলে সালাতুল আওয়াবীন (চাশতের) সলাতের সময় হয়। তিনি তা পড়ার উৎসাহ দিয়েছেন।
📄 সিজদায়ে শোকর আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাত
নাবী ও তাঁর সাহাবীদের পবিত্র সুন্নাতের অংশ ছিল যে, নতুন কোন খুশীর খবর আসলে অথবা মসীবত চলে যাওয়ার সংবাদ আসলে তারা আল্লাহর দরবারে সিজদায়ে শোকর আদায় করতেন। কুরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদাহ বিশিষ্ট কোন আয়াত আসলে আল্লাহু আকবার বলে তিনি সিজদাহ করতেন। তিলাওয়াতের সিজদায় তিনি এই দু'আ পাঠ করতেন-
«سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ»
"আমার মুখমন্ডল সেই আল্লাহর জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়েছে, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, উহার সুন্দর আকৃতি দিয়েছেন এবং স্বীয় ক্ষমতা বলে উহাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন’। এই সিজদাহ হতে মাথা উঠানোর সময় আল্লাহু আকবার বলেছেন কি না, এ মর্মে তাঁর থেকে কিছুই বর্ণিত হয়নি। এতে তাশাহুদ পাঠ করা ও সালাম ফিরানোর কথাও বর্ণিত হয়নি।
টিকাঃ
১. আবু দাউদ, আলএ, হা/১৪১৪, সহীহ আত-তিরমিযী, মাএ. হা/৩৪২৫, নাসায়ী, মএ. হা/১১২৯, মিশকাত, মাশা. হা/১০৩৫, সহীহ
📄 কুরআন তিলাওয়াতের সিজদাহ
রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সূরা আলিফ লাম তানযীল, সূরা সোয়াদ, সূরা আলাক, সূরা নাজম এবং সূরা ইযাস সামাউন শাক্কাতে সিজদাহ করেছেন। আবু দাউদ শরীফে আমর বিন আস হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল তাঁকে পনেরটি সিজদাহ শিক্ষা দিয়েছেন। তার মধ্যে মুফাস্সালে তিনটি এবং সূরা হজ্জে দুইটি। মদীনায় হিজরতের পরে মুফাস্সালে কোন সিজদা দেন নি বলে ইবনে আব্বাস থেকে যেই হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ। তার সনদে রয়েছে আবু কুদামাহ হারিছ বিন উবাইদ। তার বর্ণিত হাদীস দলীল হতে পারেনা। তা ছাড়া এর সনদে মাতার আল-ওয়াররাক নামক একজন রাবী থাকার কারণেও ইবনুল কাত্তান হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। তিনি বলেন- মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লার মতই তার স্মরণ শক্তি দুর্বল ছিল। ইমাম মুসলিম কর্তৃক তার থেকে হাদীস বর্ণনা করাতে দোষের কিছু নেই। কেননা তিনি কেবল তার ঐ সমস্ত হাদীসই বর্ণনা করেছেন, যা তিনি স্মরণ রাখতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন। যেমন তিনি নির্ভরযোগ্য রাবীদের ঐ সমস্ত হাদীসও বর্জন করতেন, যাতে তারা ভুল করেছেন।
কিছু মুহাদ্দিছ সকল ছিকাহ তথা নির্ভরযোগ্য রাবীর সব হাদীসকেই সহীহ বলেছেন। আবার কতিপয় আলেম দুর্বল স্মরণ শক্তি সম্পন্ন সকল রাবীর সকল হাদীসকে যঈফ বলেছেন। এ ক্ষেত্রে ইমাম হাকেম এবং অন্যান্যদের পদ্ধতিটিই উত্তম। অতঃপর ইবনে হাযম এর অভিমত। আর ইমাম মুসলিম যেই পন্থা অবলম্বন করেছেন তাই উসূলে হাদীছের ইমামদের মত। অর্থাৎ যে সমস্ত রাবীর মধ্যে সকল শর্তই বিদ্যমান, কিন্তু তাদের স্মরণ শক্তি তেমন প্রখর নয়, তাদের হাদীসগুলো যদি অন্যান্য রাবীদের বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত হয় বা যে সমস্ত হাদীসকে তারা স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা যাবে মুহাদ্দিছগণ তাদের সেই হাদীসগুলোকে গ্রহণ করেছেন।