📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 বিতর সালাতে দু‘আ কুনুত পড়া

📄 বিতর সালাতে দু‘আ কুনুত পড়া


বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়ার কথা নাবী থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। শুধু ইবনে মাজাহ শরীফের একটি হাদীছে তাতে দু'আ কুনুত পড়ার কথা উল্লেখ আছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন- নাবী থেকে এ বিষয়ে সহীহ সূত্রে কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে উমার পূর্ণ এক বছর বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়েছেন।
সুনান গ্রন্থসমূহের লেখকগণ দু'আয়ে কুনুতের ব্যাপারে হাসান বিন আলী থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়ার কথা উমার, উবাই বিন কা'ব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ ও নাসাঈ উবাই বিন কা'ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল বিতর সলাতের প্রথম রাকআতে সূরাতুল আ'লা, দ্বিতীয় রাকআতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। বিতর সলাত শেষে সালাম ফেরানোর পর তিনি তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পাঠ করতেন। তৃতীয়বার আওয়াজ লম্বা ও উঁচু করতেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করা

📄 তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করা


তিনি তারতীলের সাথে (থেমে থেমে) কুরআনের সূরা পাঠ করতেন। যাতে সূরাটি মূলত যতটুকু লম্বা তার চেয়ে অধিক লম্বা মনে হত। তিলাওয়াত ও মুখস্থ করা কুরআনের অর্থ বুঝার সর্বোত্তম একটি মাধ্যম।
আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ আরও বলেন- কবিতা আবৃত্তির মত করে কুরআন পড়ো না এবং সাধারণ কথা-বার্তার ন্যায়ও তা চালিয়ে যেয়োনা; বরং তা পড়ার সময় বিস্ময়কর বিষয়গুলোর নিকট একটু থামো এবং তার দ্বারা অন্তরে সাড়া জাগাও। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ আরও বলেন- যখন তুমি শুনবে যে আল্লাহ তা'আলা বলছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তখন তোমার কানকেও এই বাণীটি শুনাও। কারণ এটি হয়ত তোমাকে কোন কল্যাণের আদেশ দিচ্ছে না হয় তোমাকে কোন অকল্যাণ হতে বারণ করছে।
নাবী কখনও রাতের সলাতে নীচু আওয়াজে কুরআন পড়তেন। আবার কখনও স্বরবে পড়তেন। তিনি সফর অবস্থায় দিনে ও রাতে বাহনের উপর বসে নফল সলাত পড়তেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) এর চাশতের সালাত

📄 নবী (সাঃ) এর চাশতের সালাত


সহীহ বুখারীতে আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- আমি কখনও নাবী কে চাশতের সলাত পড়তে দেখিনি। তবে আমি তা পড়ি। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন- আমার বন্ধু রসূল আমাকে প্রত্যেক মাসে তিন দিন সিয়াম রাখার, দুই রাকআত চাশতের সলাত পড়ার এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সলাত পড়ার আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিমে যায়েদ বিন আরকাম হতে মারফু হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, দিবসের উত্তাপ বেড়ে গেলে সালাতুল আওয়াবীন (চাশতের) সলাতের সময় হয়। তিনি তা পড়ার উৎসাহ দিয়েছেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 সিজদায়ে শোকর আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাত

📄 সিজদায়ে শোকর আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাত


নাবী ও তাঁর সাহাবীদের পবিত্র সুন্নাতের অংশ ছিল যে, নতুন কোন খুশীর খবর আসলে অথবা মসীবত চলে যাওয়ার সংবাদ আসলে তারা আল্লাহর দরবারে সিজদায়ে শোকর আদায় করতেন। কুরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদাহ বিশিষ্ট কোন আয়াত আসলে আল্লাহু আকবার বলে তিনি সিজদাহ করতেন। তিলাওয়াতের সিজদায় তিনি এই দু'আ পাঠ করতেন-

«سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ»

"আমার মুখমন্ডল সেই আল্লাহর জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়েছে, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, উহার সুন্দর আকৃতি দিয়েছেন এবং স্বীয় ক্ষমতা বলে উহাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন’। এই সিজদাহ হতে মাথা উঠানোর সময় আল্লাহু আকবার বলেছেন কি না, এ মর্মে তাঁর থেকে কিছুই বর্ণিত হয়নি। এতে তাশাহুদ পাঠ করা ও সালাম ফিরানোর কথাও বর্ণিত হয়নি।

টিকাঃ
১. আবু দাউদ, আলএ, হা/১৪১৪, সহীহ আত-তিরমিযী, মাএ. হা/৩৪২৫, নাসায়ী, মএ. হা/১১২৯, মিশকাত, মাশা. হা/১০৩৫, সহীহ

ফন্ট সাইজ
15px
17px