📄 বিতর সালাতের সময়
তিনি রাতের প্রথমাংশে, মাঝখানে এবং শেষাংশে বিতর পড়েছেন। তিনি কোন এক রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি আয়াত পাঠ করেছেন। আয়াতটি ছিল এই-
(إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ)
“হে আল্লাহ! তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও, তাহলে তারা তো তোমারই বান্দা। আর যদি তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি তো পরাক্রমশালী ও মহা প্রজ্ঞাময়”। (সূরা মায়েদাঃ ১১৮)
রাতে তাঁর সলাতগুলো তিন ধরণের ছিল। ১. অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়ে সলাত পড়তেন। ২. তিনি বসেও সলাত পড়তেন। ৩. তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। কিরাআতের সামান্য বাকী থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিতরের পরে কখনও বসে দুই রাকআত সলাত পড়তেন। কখনও তিনি তাতে বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং রুকু করতেন।
টিকাঃ
৬০. তবে অধিকাংশ আলেমের মতে বিতরেরও কাযা আছে। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বিতর না পড়েই ঘুমায়ে পড়বে অথবা বিতর পড়তে ভুলে যাবে, সে যেন স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই তা পড়ে নেয়। শাইখ আলবানী এই হাদীছকে সহীহ বলেছেন।
📄 বিতর সালাতে দু‘আ কুনুত পড়া
বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়ার কথা নাবী থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। শুধু ইবনে মাজাহ শরীফের একটি হাদীছে তাতে দু'আ কুনুত পড়ার কথা উল্লেখ আছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন- নাবী থেকে এ বিষয়ে সহীহ সূত্রে কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে উমার পূর্ণ এক বছর বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়েছেন।
সুনান গ্রন্থসমূহের লেখকগণ দু'আয়ে কুনুতের ব্যাপারে হাসান বিন আলী থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়ার কথা উমার, উবাই বিন কা'ব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ ও নাসাঈ উবাই বিন কা'ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল বিতর সলাতের প্রথম রাকআতে সূরাতুল আ'লা, দ্বিতীয় রাকআতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। বিতর সলাত শেষে সালাম ফেরানোর পর তিনি তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পাঠ করতেন। তৃতীয়বার আওয়াজ লম্বা ও উঁচু করতেন।
📄 তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করা
তিনি তারতীলের সাথে (থেমে থেমে) কুরআনের সূরা পাঠ করতেন। যাতে সূরাটি মূলত যতটুকু লম্বা তার চেয়ে অধিক লম্বা মনে হত। তিলাওয়াত ও মুখস্থ করা কুরআনের অর্থ বুঝার সর্বোত্তম একটি মাধ্যম।
আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ আরও বলেন- কবিতা আবৃত্তির মত করে কুরআন পড়ো না এবং সাধারণ কথা-বার্তার ন্যায়ও তা চালিয়ে যেয়োনা; বরং তা পড়ার সময় বিস্ময়কর বিষয়গুলোর নিকট একটু থামো এবং তার দ্বারা অন্তরে সাড়া জাগাও। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ আরও বলেন- যখন তুমি শুনবে যে আল্লাহ তা'আলা বলছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তখন তোমার কানকেও এই বাণীটি শুনাও। কারণ এটি হয়ত তোমাকে কোন কল্যাণের আদেশ দিচ্ছে না হয় তোমাকে কোন অকল্যাণ হতে বারণ করছে।
নাবী কখনও রাতের সলাতে নীচু আওয়াজে কুরআন পড়তেন। আবার কখনও স্বরবে পড়তেন। তিনি সফর অবস্থায় দিনে ও রাতে বাহনের উপর বসে নফল সলাত পড়তেন।
📄 নবী (সাঃ) এর চাশতের সালাত
সহীহ বুখারীতে আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- আমি কখনও নাবী কে চাশতের সলাত পড়তে দেখিনি। তবে আমি তা পড়ি। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন- আমার বন্ধু রসূল আমাকে প্রত্যেক মাসে তিন দিন সিয়াম রাখার, দুই রাকআত চাশতের সলাত পড়ার এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সলাত পড়ার আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিমে যায়েদ বিন আরকাম হতে মারফু হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, দিবসের উত্তাপ বেড়ে গেলে সালাতুল আওয়াবীন (চাশতের) সলাতের সময় হয়। তিনি তা পড়ার উৎসাহ দিয়েছেন।