📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 নবী (সাঃ) কয়েক পদ্ধতিতে বিতর সালাত পড়তেন

📄 নবী (সাঃ) কয়েক পদ্ধতিতে বিতর সালাত পড়তেন


রাতের সলাত তিনি আট রাকআত পড়তেন। প্রত্যেক দুই রাকআতের পর সালাম ফেরাতেন। অতঃপর একটানে পাঁচ রাকআত বিতর পড়তেন। শেষ রাকআতের আগে তিনি তাশাহুদের জন্য বসতেন না।

তিনি কখনও একাধারে নয় রাকআত সলাত পড়তেন। শুধু অষ্টম রাকআতে বসতেন। বসে তিনি আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং দু'আ করতেন। অতঃপর সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর নবম রাকআত পড়ে বসতেন, তাশাহুদ পাঠ করতেন এবং সালাম ফিরাতেন। সালাম ফিরানোর পর আরও দুই রাকআত সলাত পড়তেন।

উপরোক্ত নয় রাকআতের নিয়মে তিনি সাত রাকআতও পড়তেন। অতঃপর বসে দুই রাকআত সলাত আদায় করতেন।

তিনি দু'দু রাকআত করে সলাত পড়তেন। অতঃপর তিন রাকআত বিতর পড়তেন। এতে তাশাহুদ পাঠ বা বসার মাধ্যমে পার্থক্য করতেন না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল আয়িশা থেকে এটিই বর্ণনা করেছেন। আয়িশা বলেন- নাবী তিন রাকআত বিতর পড়তেন। মাঝখানে কোন বিরতি নেন নি। তবে এই বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। কেননা সহীহ ইবনে হিব্বানে আবু হুরায়রা হতে মারফু হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নাবী বলেছেন- তোমরা তিন রাকআত বিতর পড়বেনা। পাঁচ অথবা সাত রাকআত পড়। আর ولا تشبهوا بصلاة المغرب অর্থাৎ বিতরকে মাগরিবের মত করে আদায় করোনা। ইমাম দারকুতনী বলেন- এই হাদীছের সকল বর্ণনাকারীই সিকাহ তথা নির্ভরযোগ্য। হারব বলেন- ইমাম আহমাদকে বিতর সলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন- দুই রাকআত পড়ে সালাম ফিরাবে। সালাম না ফিরালেও আমার মতে কোন অসুবিধা নেই। তবে নাবী থেকে সালাম ফিরানোর বর্ণনাই অধিক বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত। আবু তালেব থেকে এক বর্ণনায় এসেছে, এক রাকআত বিতর পড়ার ব্যাপারেই অধিকাংশ এবং অধিক শক্তিশালী হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন- আমিও এই মতের পক্ষপাতী।

বিতর সলাতের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে যা ইমাম নাসাঈ হুযায়ফা থেকে বর্ণনা করেছেন। হুযায়ফা বলেন যে, তিনি নাবী এর সাথে রামাযানের সলাত পড়েছেন। তিনি রুকুতে ঠিক সেই পরিমাণ সময় অবস্থান করেছেন, যে পরিমাণ সময় তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাতে এই দু'আ পড়েছেনঃ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ । এই হাদীছে রয়েছে যে, তিনি চার রাকআত সলাত পড়ে শেষ করতেই বিলাল তাঁকে ফজরের সলাত পড়ার জন্য ডাকতে আসলেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 বিতর সালাতের সময়

📄 বিতর সালাতের সময়


তিনি রাতের প্রথমাংশে, মাঝখানে এবং শেষাংশে বিতর পড়েছেন। তিনি কোন এক রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি আয়াত পাঠ করেছেন। আয়াতটি ছিল এই-
(إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ)
“হে আল্লাহ! তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও, তাহলে তারা তো তোমারই বান্দা। আর যদি তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি তো পরাক্রমশালী ও মহা প্রজ্ঞাময়”। (সূরা মায়েদাঃ ১১৮)
রাতে তাঁর সলাতগুলো তিন ধরণের ছিল। ১. অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়ে সলাত পড়তেন। ২. তিনি বসেও সলাত পড়তেন। ৩. তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। কিরাআতের সামান্য বাকী থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। রসূল থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিতরের পরে কখনও বসে দুই রাকআত সলাত পড়তেন। কখনও তিনি তাতে বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং রুকু করতেন।

টিকাঃ
৬০. তবে অধিকাংশ আলেমের মতে বিতরেরও কাযা আছে। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বিতর না পড়েই ঘুমায়ে পড়বে অথবা বিতর পড়তে ভুলে যাবে, সে যেন স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই তা পড়ে নেয়। শাইখ আলবানী এই হাদীছকে সহীহ বলেছেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 বিতর সালাতে দু‘আ কুনুত পড়া

📄 বিতর সালাতে দু‘আ কুনুত পড়া


বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়ার কথা নাবী থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। শুধু ইবনে মাজাহ শরীফের একটি হাদীছে তাতে দু'আ কুনুত পড়ার কথা উল্লেখ আছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন- নাবী থেকে এ বিষয়ে সহীহ সূত্রে কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে উমার পূর্ণ এক বছর বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়েছেন।
সুনান গ্রন্থসমূহের লেখকগণ দু'আয়ে কুনুতের ব্যাপারে হাসান বিন আলী থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিতর সলাতে দু'আয়ে কুনুত পড়ার কথা উমার, উবাই বিন কা'ব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ ও নাসাঈ উবাই বিন কা'ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল বিতর সলাতের প্রথম রাকআতে সূরাতুল আ'লা, দ্বিতীয় রাকআতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। বিতর সলাত শেষে সালাম ফেরানোর পর তিনি তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পাঠ করতেন। তৃতীয়বার আওয়াজ লম্বা ও উঁচু করতেন।

📘 মুখতাসার যাদুল মায়াদ 📄 তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করা

📄 তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ করা


তিনি তারতীলের সাথে (থেমে থেমে) কুরআনের সূরা পাঠ করতেন। যাতে সূরাটি মূলত যতটুকু লম্বা তার চেয়ে অধিক লম্বা মনে হত। তিলাওয়াত ও মুখস্থ করা কুরআনের অর্থ বুঝার সর্বোত্তম একটি মাধ্যম।
আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ আরও বলেন- কবিতা আবৃত্তির মত করে কুরআন পড়ো না এবং সাধারণ কথা-বার্তার ন্যায়ও তা চালিয়ে যেয়োনা; বরং তা পড়ার সময় বিস্ময়কর বিষয়গুলোর নিকট একটু থামো এবং তার দ্বারা অন্তরে সাড়া জাগাও। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ আরও বলেন- যখন তুমি শুনবে যে আল্লাহ তা'আলা বলছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তখন তোমার কানকেও এই বাণীটি শুনাও। কারণ এটি হয়ত তোমাকে কোন কল্যাণের আদেশ দিচ্ছে না হয় তোমাকে কোন অকল্যাণ হতে বারণ করছে।
নাবী কখনও রাতের সলাতে নীচু আওয়াজে কুরআন পড়তেন। আবার কখনও স্বরবে পড়তেন। তিনি সফর অবস্থায় দিনে ও রাতে বাহনের উপর বসে নফল সলাত পড়তেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px