📄 দেয়ালের কাছাকাছি দাঁড়ানো এবং সামনে সুতরাহ স্থাপন করে সালাতে দাঁড়ানো
তিনি যখন দেয়াল সামনে রেখে সলাত পড়তেন তখন দেয়াল ও তাঁর মাঝখানে এতটুকু জায়গা ফাঁকা রাখতেন যাতে একটি ছাগল চলাচল করতে পারে। দেয়ালের অনেক দূরে দাঁড়াতেন না; বরং তিনি সুতরার নিকটবর্তী হওয়ার আদেশ দিতেন। তিনি যখন কাঠি বা খুঁটি কিংবা গাছ সামনে নিয়ে সলাত পড়তেন তখন তিনি সেগুলো ডানে অথবা বামে রেখে দাঁড়াতেন; সরসূরি সামনে রাখতেন না। সফর অবস্থায় এবং মরুভূমিতে অবস্থানকালে তিনি স্বীয় বর্শা পুঁতে সেই দিকে ফিরে সলাত পড়তেন। এটিকে তিনি সুতরা বানাতেন। কখনও তিনি স্বীয় বাহনকে সামনে রেখে সলাত পড়তেন। কখনও তিনি হাওদার কাঠকে সোজাভাবে সামনে স্থাপন করে সে দিকে ফিরে সলাত পড়তেন। তিনি একটি তীর বা লাঠি দিয়ে হলেও মুসল্লীকে সুতরা স্থাপন করার আদেশ দিয়েছেন। আর তাও যদি না পাওয়া যায় তাহলে মাটিতে একটি রেখা টেনে রেখাটিকেই সুতরা হিসাবে মনে করে সলাত আদায় করতে বলেছেন। সামনে সুতরা না রেখে যদি সলাত পড়া হয়, তাহলে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, মহিলা, গাধা এবং কালো কুকুর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে সলাত বাতিল হয়ে যায়। এই বর্ণনার বিপরীতে যা বর্ণিত হয়েছে তা সহীহ হলেও সুস্পষ্ট নয়। আর যে সমস্ত সুষ্পষ্ট বর্ণনায় আছে যে মহিলা, গাধা এবং কালো কুকুর বা অন্য যে কোন প্রাণী সামনে দিয়ে অতিক্রম করুক তাতে সলাত বাতিল হবে না, তা সহীহ নয়। নাবী কখনও সলাত পড়তেন। তখন আয়িশা তাঁর সামনে কিবলার দিকে ঘুমিয়ে থাকতেন। তবে এই অবস্থা সলাতীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার মত নয়। কেননা সলাতীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা হারাম। কিন্তু সলাতীর সামনে অবস্থান করা (ঘুমিয়ে থাকা) দোষণীয় নয়।
টিকাঃ
৫৬. অশ্বপৃষ্ঠে বসার জন্য অশ্বারোহী যেমন জিন (গদি) স্থাপন করে থাকে তেমনি উটের পিঠে উষ্ট্রারোহীর বসার জন্য যে আসন স্থাপন করা হয় তাকে হাওদাজ বলা হয়। এই হাওদাজের পিছনের দিকে প্রায় এক হাত লম্বা একটি কাঠ স্থাপন করা হয়। এর সাথে আরোহী প্রয়োজনের সময় হেলান দিয়ে থাকে। সফর অবস্থায় সুতরার জন্য কোন কিছু পাওয়া না গেলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাওদাজের এই কাঠটিকেই সুতরাহ হিসেবে ব্যবহার করতেন।
📄 নবী (সাঃ) এর সুন্নাত সালাতগুলো কেমন ছিল?
নিজ দেশে (মদীনায়) থাকা অবস্থায় তিনি সর্বদা দশ রাকআত সলাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন। এই দশ রাকআতের ব্যাপারে ইবনে উমার বলেছেন- আমি রসূল হতে দশ রাকআত সলাত স্মরণ রেখেছি। যোহরের পূর্বে দুই রাকআত, তার পরে দুই রাকআত, মাগরিবের পরে দুই রাকআত, ইশার পরে দুই রাকআত, যা তিনি বাড়িতে পড়তেন এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকআত। যোহরের পরের দুই রাকআত সলাত একবার ছুটে গেল তিনি তা আসরের পরে নিষিদ্ধ সময়ে আদায় করেছেন। তিনি কখনও যোহরের পূর্বে চার রাকআত আদায় করতেন।
📄 মাগারিবের পূর্বেও সুন্নাত রয়েছে
মাগরিবের পূর্বের দুই রাকআত সম্পর্কে নাবী হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- "তোমরা মাগরিবের পূর্বে সলাত আদায় কর। তৃতীয়বার তিনি বললেন- তবে যে ব্যক্তি তা পড়তে চায়। যাতে করে লোকেরা এটিকে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ হিসেবে গ্রহণ না করে"। এটিই সঠিক কথা। মাগরিবের পূর্বে দুই রাকআত পড়া মুস্তাহাব, সুন্নাতে রাতেবা (মুআক্কাদাহ) নয়।
টিকাঃ
৫৭. বুখারী তাও. হা/১১৮৩, মিশকাত, হাএ. হা/১১৬৫
📄 নফল ও সুন্নাত সালাত বাড়ীতে পড়া
নাবী সকল সুন্নাত ও যাবতীয় নফল সলাত বিশেষ কোন কারণ না থাকলে বাড়িতেই পড়তেন। বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নাত তিনি বাড়িতেই আদায় করতেন। কখনও তিনি তা মাসজিদে পড়েছেন বলে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নেই। তবে মাসজিদে পড়লেও কোন অসুবিধা নেই। সমস্ত নফল সলাতের মধ্য হতে তিনি ফজরের সুন্নাতের প্রতি অধিক গুরত্ব প্রদান করতেন। ফজরের সুন্নাত এবং বিতর সলাত তিনি সফরে বা নিজ বাসস্থানে থাকা অবস্থায় কখনও ছাড়েন নি। সফর অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাত পড়েছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না।
নাবী সকল সুন্নাত ও যাবতীয় নফল সলাত বিশেষ কোন কারণ না থাকলে বাড়িতেই পড়তেন। বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নাত তিনি বাড়িতেই আদায় করতেন। কখনও তিনি তা মাসজিদে পড়েছেন বলে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নেই। তবে মাসজিদে পড়লেও কোন অসুবিধা নেই। সমস্ত নফল সলাতের মধ্য হতে তিনি ফজরের সুন্নাতের প্রতি অধিক গুরত্ব প্রদান করতেন। ফজরের সুন্নাত এবং বিতর সলাত তিনি সফরে বা নিজ বাসস্থানে থাকা অবস্থায় কখনও ছাড়েন নি। সফর অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাত পড়েছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না।
নাবী সকল সুন্নাত ও যাবতীয় নফল সলাত বিশেষ কোন কারণ না থাকলে বাড়িতেই পড়তেন। বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নাত তিনি বাড়িতেই আদায় করতেন। কখনও তিনি তা মাসজিদে পড়েছেন বলে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নেই। তবে মাসজিদে পড়লেও কোন অসুবিধা নেই। সমস্ত নফল সলাতের মধ্য হতে তিনি ফজরের সুন্নাতের প্রতি অধিক গুরত্ব প্রদান করতেন। ফজরের সুন্নাত এবং বিতর সলাত তিনি সফরে বা নিজ বাসস্থানে থাকা অবস্থায় কখনও ছাড়েন নি। সফর অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাত পড়েছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না।
নাবী সকল সুন্নাত ও যাবতীয় নফল সলাত বিশেষ কোন কারণ না থাকলে বাড়িতেই পড়তেন। বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নাত তিনি বাড়িতেই আদায় করতেন। কখনও তিনি তা মাসজিদে পড়েছেন বলে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নেই। তবে মাসজিদে পড়লেও কোন অসুবিধা নেই। সমস্ত নফল সলাতের মধ্য হতে তিনি ফজরের সুন্নাতের প্রতি অধিক গুরত্ব প্রদান করতেন। ফজরের সুন্নাত এবং বিতর সলাত তিনি সফরে বা নিজ বাসস্থানে থাকা অবস্থায় কখনও ছাড়েন নি। সফর অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাত পড়েছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না।
নাবী সকল সুন্নাত ও যাবতীয় নফল সলাত বিশেষ কোন কারণ না থাকলে বাড়িতেই পড়তেন। বিশেষ করে মাগরিবের সুন্নাত তিনি বাড়িতেই আদায় করতেন। কখনও তিনি তা মাসজিদে পড়েছেন বলে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নেই। তবে মাসজিদে পড়লেও কোন অসুবিধা নেই। সমস্ত নফল সলাতের মধ্য হতে তিনি ফজরের সুন্নাতের প্রতি অধিক গুরত্ব প্রদান করতেন। ফজরের সুন্নাত এবং বিতর সলাত তিনি সফরে বা নিজ বাসস্থানে থাকা অবস্থায় কখনও ছাড়েন নি। সফর অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও বিতর সলাত ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাত পড়েছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না।