📄 জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত পড়া
তিনি কখনও খালী পায়ে আবার কখনও জুতা পরিহিত অবস্থায় সলাত পড়েছেন। ইহুদীদের বিরোধিতা করে তিনি জুতা পরিধান করে সলাত আদায়ের আদেশও দিয়েছেন। কখনও তিনি মাত্র একটি কাপড় পরে আবার কখনও দু'টি আবার কখনও তার বেশী কাপড় পরিধান করে সলাত আদায় করেছেন।
📄 ফরয সালাতে কুনুত পড়া
তিনি একমাস পর্যন্ত ফজরের সলাতে রুকুর পর দু’আয়ে কুনুত পাঠ করেছেন। অতঃপর তা বাদ দিয়েছেন। তিনি মসীবতের সময়ও দু’আয়ে কুনুত পড়তেন। মসীবত চলে গেলে তা আর পাঠ করতেন না। সুতরাং তাঁর সুন্নাত ছিল শুধু বিপদাপদ আসার সময়ই দু’আয়ে কুনুত পাঠ করা এবং তার অবসান হলে বর্জন করা। তিনি শুধু ফজরের সলাতেই দু’আয়ে কুনুত পড়েন নি; বরং তাতে তিনি অধিকাংশ দু’আ কুনুত পড়েছেন। কারণ ফজরের সলাতে কিরাআত দীর্ঘ হয়ে থাকে। এ ছাড়া ফজরের সলাত তাহাজ্জুদ সলাতের অধিক নিকটবর্তী, দু’আ কবুলের সময়ের অতি নিকটে এবং দুনিয়ার আসমানে আল্লাহর নেমে আসার সময়ের খুব কাছাকাছি।
তিনি একমাস পর্যন্ত ফজরের সলাতে রুকুর পর দু’আয়ে কুনুত পাঠ করেছেন। অতঃপর তা বাদ দিয়েছেন। তিনি মসীবতের সময়ও দু’আয়ে কুনুত পড়তেন। মসীবত চলে গেলে তা আর পাঠ করতেন না। সুতরাং তাঁর সুন্নাত ছিল শুধু বিপদাপদ আসার সময়ই দু’আয়ে কুনুত পাঠ করা এবং তার অবসান হলে বর্জন করা। তিনি শুধু ফজরের সলাতেই দু’আয়ে কুনুত পড়েন নি; বরং তাতে তিনি অধিকাংশ দু’আ কুনুত পড়েছেন। কারণ ফজরের সলাতে কিরাআত দীর্ঘ হয়ে থাকে। এ ছাড়া ফজরের সলাত তাহাজ্জুদ সলাতের অধিক নিকটবর্তী, দু’আ কবুলের সময়ের অতি নিকটে এবং দুনিয়ার আসমানে আল্লাহর নেমে আসার সময়ের খুব কাছাকাছি।
📄 সাহু সিজদার বিবরণ
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكَّرُونِي» "আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুল করি। আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ো"। সলাতে নাবী কর্তৃক একাধিক বার ভুল করা উম্মাতের জন্য নেয়ামত স্বরূপ এবং দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়ার প্রমাণ।
তিনি একবার চার রাকআত বিশিষ্ট সলাত পড়তে গিয়ে দুই রাকআত পড়ে দাঁড়িয়ে গেছেন। সলাত শেষে করে সালামের পূর্বে তিনি দু’টি সাহু সিজদাহ করেছেন। সুতরাং এ থেকে একটি মাসআলা পাওয়া গেল যে, কোন ব্যক্তি সলাতের রুকন ব্যতীত অন্য কোন অংশ ভুল বশতঃ ছেড়ে দিলে তার জন্য সালামের পূর্বে দু’টি সাহু সিজদাহ করতে হবে। তিনি একবার যোহর কিংবা আসরের সলাত দুই রাকআত পড়েই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বাকী সলাত পূর্ণ করে সালাম ফিরিয়েছেন। অতঃপর সাহু সিজদাহ করার পর পুনরায় সালাম ফিরিয়েছেন। একবার তিনি যোহরের সলাত পাঁচ রাকআত পড়ে সালাম ফিরালেন। তখন তিনি সালাম ফিরানোর পরে দু’টি সাহু সিজদা প্রদান করলেন। একবার আসরের সলাত তিন রাকআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে বাড়িতে চলে গেলে পুনরায় ফিরে এসে বাকি এক রাকআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা প্রদান করেন।
টিকাঃ
৪৯. বুখারী, অধ্যাঃ কিতাবুস্ সালাত, তাও. হা/৪০১, মিশকাত, হাএ. হা/১০১৬
৫০. মুসনাদে ইমাম আহমাদ, ৬/৪০১, আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত। ইমাম আলবানী এই হাদীছকে সহীহ বলেছেন।
নাবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكَّرُونِي» "আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুল করি। আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ো"। সলাতে নাবী কর্তৃক একাধিক বার ভুল করা উম্মাতের জন্য নেয়ামত স্বরূপ এবং দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়ার প্রমাণ।
তিনি একবার চার রাকআত বিশিষ্ট সলাত পড়তে গিয়ে দুই রাকআত পড়ে দাঁড়িয়ে গেছেন। সলাত শেষে করে সালামের পূর্বে তিনি দু’টি সাহু সিজদাহ করেছেন। সুতরাং এ থেকে একটি মাসআলা পাওয়া গেল যে, কোন ব্যক্তি সলাতের রুকন ব্যতীত অন্য কোন অংশ ভুল বশতঃ ছেড়ে দিলে তার জন্য সালামের পূর্বে দু’টি সাহু সিজদাহ করতে হবে। তিনি একবার যোহর কিংবা আসরের সলাত দুই রাকআত পড়েই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বাকী সলাত পূর্ণ করে সালাম ফিরিয়েছেন। অতঃপর সাহু সিজদাহ করার পর পুনরায় সালাম ফিরিয়েছেন। একবার তিনি যোহরের সলাত পাঁচ রাকআত পড়ে সালাম ফিরালেন। তখন তিনি সালাম ফিরানোর পরে দু’টি সাহু সিজদা প্রদান করলেন। একবার আসরের সলাত তিন রাকআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে বাড়িতে চলে গেলে পুনরায় ফিরে এসে বাকি এক রাকআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা প্রদান করেন।
টিকাঃ
৪৯. বুখারী, অধ্যাঃ কিতাবুস্ সালাত, তাও. হা/৪০১, মিশকাত, হাএ. হা/১০১৬
৫০. মুসনাদে ইমাম আহমাদ, ৬/৪০১, আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত। ইমাম আলবানী এই হাদীছকে সহীহ বলেছেন।
📄 সালাতে চোখ বন্ধ রাখা
সলাতে চোখ বন্ধ রাখা নাবী এর সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল এবং অন্যান্য ইমামগণ সলাতে চোখ বন্ধ রাখাকে মাকরুহ বলেছেন। তারা বলেন- এটি হচ্ছে ইহুদীদের অভ্যাস। সঠিক কথা হচ্ছে চোখ খুললে যদি সলাতে খুশু-খুযুর কোন ক্ষতি না হয় তাহলে চোখ খুলে রাখাই উত্তম। তবে কিবলার দিকে যদি চাকচিক্যময় বস্তু থাকে এবং চোখ খোলা রাখার কারণে দৃষ্টি ঐ সব বস্তুর দিকে চলে যাওয়ার কারণে সলাতে একাগ্রতার ক্ষতি হয় তাহলে চোখ বন্ধ রাখাতে কোন দোষ নেই।
সলাতে চোখ বন্ধ রাখা নাবী এর সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল এবং অন্যান্য ইমামগণ সলাতে চোখ বন্ধ রাখাকে মাকরুহ বলেছেন। তারা বলেন- এটি হচ্ছে ইহুদীদের অভ্যাস। সঠিক কথা হচ্ছে চোখ খুললে যদি সলাতে খুশু-খুযুর কোন ক্ষতি না হয় তাহলে চোখ খুলে রাখাই উত্তম। তবে কিবলার দিকে যদি চাকচিক্যময় বস্তু থাকে এবং চোখ খোলা রাখার কারণে দৃষ্টি ঐ সব বস্তুর দিকে চলে যাওয়ার কারণে সলাতে একাগ্রতার ক্ষতি হয় তাহলে চোখ বন্ধ রাখাতে কোন দোষ নেই।