📄 সালাত আদায়কারীর দৃষ্টি কোন দিকে থাকবে?
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বর্ণনা করেছেন যে, রসূল যখন সলাতে দাঁড়াতেন তখন মাথা নীচু করে (সিজদার দিকে) রাখতেন। আর তাশাহুদ পাঠ করার সময় তাঁর দৃষ্টি শাহাদাত আঙ্গুলের সীমা পার হত না। আল্লাহ্ তা'আলা সলাতের মাধ্যমেই তাঁর চক্ষু ও হৃদয়কে শীতল করতেন। তিনি বলতেন- হে বেলাল! সলাতের মাধ্যমে আমার মনকে শান্ত কর। ৪৭ সলাতের প্রতি তাঁর গভীর ভালবাসা ও আন্তরিকতা থাকা সত্বেও তিনি সবসময় মুক্তাদীদের প্রতি খেয়াল রাখতেন (সলাতকে অত্যন্ত দীর্ঘ করে তাদেরকে সংকটে ফেলতেন না)।
টিকাঃ
৪৭. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথার অর্থ হচ্ছে, হে বিলাল! সলাতের সময় হয়েছে, আযান দাও। আমি সলাত আদায় করব। সলাতের মাধ্যমেই আমার চোখ ও অন্তর শীতল হবে।
📄 দীর্ঘ করে সালাত পড়ার জন্য দাঁড়ানোর পরও কোন কারণে সালাত সংক্ষিপ্ত করা
নাবী কখনও দীর্ঘ করে সলাত আদায়ের উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন। অতঃপর শিশুর কান্না শুনে সলাত সংক্ষিপ্ত করে দিতেন। যাতে শিশুর মায়ের কোন কষ্ট না হয়।
📄 সালাতে সামান্য কাজ করা
তিনি কখনও তাঁর নাতনী উমামা বিনতে যাইনাবকে কাঁধে নিয়ে ফরজ সলাত পড়তেন। দাঁড়ানো অবস্থায় তিনি মেয়েটিকে কাঁধে বহন করে রাখতেন এবং রুকু-সিজদাহ অবস্থায় নামিয়ে রাখতেন। ৪৮
তিনি সলাতরত থাকতেন। এমন সময় হাসান ও হুসাইন এসে তাঁর পিঠে আরোহন করত। তাদেরকে পিঠ থেকে নামিয়ে দেয়া অপছন্দ করতেন বলেই তিনি সিজদাহ দীর্ঘ করতেন। তিনি নফল সলাতে থাকা অবস্থায় আয়িশা আগমন করলে তিনি অগ্রসর হয়ে তাঁর জন্য দরজা খুলে দিতেন। অতঃপর তিনি সলাতের মুসাল্লায় ফেরত যেতেন। সলাতে তিনি হাতের ইশারায় সালামের জবাব দিতেন। সলাত অবস্থায় ইশারা করলে দ্বিতীয়বার সলাত পড়তে হবে বলে যে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে তা বানোয়োট হাদীস। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালা বর্ণনা করেছেন যে, প্রয়োজন বশতঃ তিনি সলাতরত অবস্থায় ফুঁ দিয়ে সিজদার জায়গা পরিষ্কার করতেন এবং কাশি দিতেন। তিনি কখনও সলাতে ক্রন্দন করতেন।
টিকাঃ
৪৮. বুখারী, অধ্যায়ঃ সলাত অবস্থায় কোন ছোট মেয়েকে ঘাড়ে বহন করা বৈধ।
📄 জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত পড়া
তিনি কখনও খালী পায়ে আবার কখনও জুতা পরিহিত অবস্থায় সলাত পড়েছেন। ইহুদীদের বিরোধিতা করে তিনি জুতা পরিধান করে সলাত আদায়ের আদেশও দিয়েছেন। কখনও তিনি মাত্র একটি কাপড় পরে আবার কখনও দু'টি আবার কখনও তার বেশী কাপড় পরিধান করে সলাত আদায় করেছেন।