📄 জুমআর সালাতের কিরাআত
জুমআর সলাতের প্রথম রাকআতে তিনি কখনও সূরা জুমআ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা মুনাফিকুন পড়তেন। আবার কখনও প্রথম রাকআতে সূরা আ’লা এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরাতুল গাশিয়া পাঠ করতেন। কিন্তু নাবী সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম সূরা জুমআ ও মুনাফিকুনের শুধু শেষ আয়াতগুলো দিয়ে কখনও জুমআর সলাত পড়েননি।
📄 দুই ঈদের সালাতের কিরাআত
ঈদের সলাতে কখনও তিনি সূরা কাফ ও কামারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করতেন। কখনও তিনি সূরা আলা ও সূরাতুল গাশিয়া পাঠ করতেন।
এই ছিল সলাতে কিরাআত পাঠের ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত রসূল এর সুন্নাত। তিনি একেক সময় একেক সূরা দিয়ে সলাত পড়েছেন এবং তাতে কখনও ছোট সূরা আবার কখনও বড় সূরা পাঠ করেছেন। তাঁর পরে খোলাফায়ে রাশেদীনও এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। আবু বকর একবার ফজরের সলাতে সূরা বাকারা পাঠ করেছেন। এতে তিনি সূর্যোদয়ের একটু পূর্বে সালাম ফিরিয়েছেন। আবু বকরের পরে উমার ফজরের সলাতে সূরা ইউসুফ, সূরা নাহল, সূরা হুদ, সূরা বানী ইসরাঈল এবং অনুরূপ সূরা পড়েছেন।
রসূল এর বাণী- “তোমাদের কেউ যখন সলাতে মানুষের ইমামতি করবে তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত সলাত পড়ে”। এ ব্যাপারে জেনে রাখা দরকার যে, রসূল কর্তৃক সলাত সংক্ষিপ্ত করার বিষয়টি ছিল আপেক্ষিক। অর্থাৎ তিনি সংক্ষিপ্ত করে যে সমস্ত সলাত পড়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে, সে ব্যাপারে কথা হচ্ছে, তাঁর সংক্ষিপ্ত সলাতসমূহ তাঁর দীর্ঘ সলাতগুলোর তুলনায় অধিক সংক্ষিপ্ত ছিল।
এমনটি নয় যে তিনি সব সময় সংক্ষিপ্ত করে সলাত পড়েছেন। দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত করার সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রসূল এর আমলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে, মুক্তাদীগণের দাবী অনুযায়ী কিরাআত ও সলাত দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত করা যাবেনা। রসূল তাঁর যে সুন্নাত ও তরীকা সব সময় অবলম্বন করেছেন, মতভেদপূর্ণ প্রত্যেক বিষয়ে তাই হবে ফয়সালাকারী। জুমআ ও দুই ঈদের সলাত ব্যতীত অন্যান্য সকল সলাতে তিনি এভাবে সূরা নির্দিষ্ট করে দেন নি যে, তা ছাড়া অন্যটি পড়া যাবে না।
📄 একই সালাতের দুই রাকআতে একই সূরা পাঠ করা এবং দ্বিতীয় রাকআতের প্রথম লম্বা করা
তাঁর সুন্নাত এই ছিল যে, কোন সলাতের এক রাকআতে তিনি পূর্ণ একটি সূরা পাঠ করতেন। কখনও তিনি একই সূরা উভয় রাকআতে পড়েছেন। নাবী থেকে সূরার শেষাংশ বা মাঝখান থেকে পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়নি। নফল সলাতের এক রাকআতে কখনও দুইটি সূরা পাঠ করতেন। ফরজ সলাতে তিনি কখনও এমনটি করেন নি। একই সূরা একই সলাতের দুই রাকআতে খুব কমই পাঠ করতেন। তিনি প্রত্যেক সলাতের প্রথম রাকআত দ্বিতীয় রাকআতের তুলনায় অধিক লম্বা করতেন। তাঁর পবিত্র সুন্নাতের মধ্যে এটিও ছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত জামাআতে শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে আগত মানুষের পায়ের আওয়াজ শুনতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সলাতের প্রথম রাকআতের কিরাআত লম্বা করতেন।
📄 সালাতে নবী (সাঃ) এর রুকুর পদ্ধতি
কিরাআত পাঠ শেষ করে তিনি রাফউল ইয়াদাইন করতেন এবং 'আল্লাহু আকবার' বলে রুকূতে যেতেন। উভয় হাতের তালু তাঁর উভয় হাঁটুর উপর রাখতেন। বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ হতে পৃথক করে রাখতেন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখতেন। মাথা উপরের দিকে বেশী উঠিয়েও রাখতেন না এবং নীচু করেও রাখতেন না; বরং পিঠ বরাবর সোজা করে রাখতেন। রুকূতে তিনি বলতেন- سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ “আমি প্রশংসার সাথে মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ননা করছি।”
তিনি সাধারণতঃ রুকুতে এতটুক সময় অবস্থান করতেন যে, তাতে স্বাভাবিকভাবে দশবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম পড়া যেত। রুকুতে তিনি এই দু'আও পড়তেন- سُبُّوحٌ قُدُّوسُ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ» "ফিরিস্তাকূল এবং জিবরীলের প্রতিপালক অতি পবিত্র"। অতঃপর তিনি বলতেন- سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ “যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ্ তা শুনে থাকেন।" পাঠ করতে করতে রুকু হতে মাথা উঠাতেন এবং রাফউল ইয়াদাইন করতেন। তিনি সব সময় রুকু হতে উঠে পিঠ সোজা করে দাঁড়াতেন। রুকু হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি বলতেন- رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْدُ "হে আমাদের প্রভু! তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা"। রুকু হতে উঠে দাঁড়িয়ে এই দীর্ঘ দু'আটিও পড়তেনঃ
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدِ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدُ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدَّ مِنْكَ الْجُدُّ
টিকাঃ
২৪. মুসলিম, হাএ. হা/১৬৯৯, আবু দাউদ, আলএ. হা/৮৭১, তিরমিযী, মাথ, হা/২৬২, মিশকাত, হাএ. হা/৮৮০
২৫. বুখারী, তাও. হা/৮১৭, ইফা. হা/৭৮০, মিশকাত, হাএ. হা/৮৭১
২৬. মুসলিম, হাএ. হা/৯৭৮, আবু দাউদ, আলএ. হা/৮৭২, মিশকাত, হাএ. হা৭৮২
২৭. বুখারী, তাও. হা/৭৩২, মুসলিম, হাএ. হা/৭৫৪, তিরমিযী, মাথ. হা/২৬৭, মিশকাত, হা/১১৩৯