📄 মোজার উপর মাসাহ করা ও তার সময়সীমা
সফর ও নিজ বাড়ীতে অবস্থান করার সময় মোজার উপর মাসাহ করার হাদীস সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত সময় নির্ধারণ করতেন। তিনি মোজা'র উপরের অংশ মাসাহ করতেন। কাপড়ের মোজার উপরও তিনি মাসাহ করতেন। এমনকি জুতার উপর মাসাহ করার হাদীসও সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি শুধু পা'গুলির উপর মাসাহ করেছেন এবং মাথার প্রথমেশ মাসাহ করে বাকী অংশের উপর পরিহিত পাগড়ির উপর দিয়েও মাসাহ করেছেন। তবে সম্ভবত: বিশেষ প্রয়োজনে তা করেছেন। তাঁর পা দুটি যখন মোজা দ্বারা ঢাকা থাকত তখন তিনি তার উপর মাসাহ করতেন এবং খালি থাকলে তা ধৌত করতেন।
📄 তায়াম্মুম করার বিধান ও পদ্ধতি
তায়াম্মুম করার সময় তিনি মাটিতে একবার হাত লাগিয়েই মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত মাসাহ করতেন। যেই যমীনের উপর তিনি সালাত পড়তেন তাতেই তিনি তায়াম্মুম করতেন। শুকনো মাটি, বা বেলে মাটি এবং কাঁদাসহ সকল শ্রেণীর মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা বৈধ। সহীহ সূত্রে নবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন- আমার উম্মতের কোন ব্যক্তির নিকট যখনই সালাতের সময় উপস্থিত হবে তখন তার সাথেই রয়েছে মাসজিদ ও সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ তথা তায়াম্মুমের জন্য মাটি বা মাটি জাতীয় বস্তু। রাসূল এবং তাঁর সাথীগণ যখন তাবুক যুদ্ধে বের হলেন তখন মরুভূমির বালুময় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। তাঁদের সাথে অতি সামান্য পরিমাণ পানি ছিল। তিনি এই সফরে সাথে মাটি নিয়েছিলেন বা মাটি সাথে রাখার আদেশ দিয়েছিলেন বলে কোন কিছুই বর্ণিত হয়নি। তাঁর কোন সাহাবীও এমনটি করেন নি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে চিন্তা করবে সে নিশ্চিতভাবে বুঝতে সক্ষম হবে যে, নবী বালি দিয়েই তায়াম্মুম করতেন।
প্রত্যেক সালাতের জন্য নতুনভাবে তায়াম্মুম করেন নি বা তা করার আদেশ দেন নি। বরং তিনি সাধারণত: তায়াম্মুম করেছেন এবং তাকে ওযুর স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এতে বুঝা যাচ্ছে ওযুর হুকুম-আহকাম তায়াম্মুমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ব্যতিক্রম কিছু থাকলে অবশ্যই তা বর্ণিত হত।