📄 সন্তান প্রসব
সি-সেকশন বা সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারির অনেকগুলো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই সিজারে ডেলিভারি হলে ডেলিভারির পর অনেক সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। সে কারণে প্রত্যেকের উচিত নরমাল ডেলিভারির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। তবে কিছু অবস্থা ভিন্ন যেগুলোতে সি-সেকশন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। যেমন: লেবার پین অনেক ঘণ্টা ধরে কিন্তু বাচ্চা উল্টো পজিশনে আছে, অক্সিজেন কমে গেছে, পানি ভাঙার অনেক পরেও پین না উঠা ও পজিশন উল্টো ইত্যাদি। এমন অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে সি-সেকশন করা লাগতে পারে।
তবে নরমাল ডেলিভারির জন্য নিজেকে আগে থেকেই কাউন্সিলিং করা উচিত। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দু'আ। আল্লাহর কাছে খুব দু'আ করা উচিত। নিজেকে বোঝাতে হবে যে- আল্লাহ মেয়েদেরকে সামর্থ্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, তিনি সাধ্যের চেয়ে অধিক বোঝা চাপান না, তাই আমিও পারবো ইন শা আল্লাহ। প্রথমেই 'পারব না' ভেবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটা একটা সাধারণ প্রক্রিয়া। শতাব্দী ধরে কোটি কোটি মানুষ এভাবেই জন্মেছে। বরং সি-সেকশনই অস্বাভাবিক যদিও তা বর্তমানে ব্যাপক হারে গ্রহণযোগ্য। সি-সেকশন অনেক বড় একটা সার্জারি, নরমাল ডেলিভারির চেয়ে সি-সেকশনই বরং কঠিন। তাই অস্বাভাবিক কোনো কিছুতে যাওয়ার চিন্তা মাথায় আনা যাবে না। আমাদের সার্বক্ষণিক দু'আ করা ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা উচিত। আল্লাহর উপর ভরসা করলে তিনি এমনভাবে সহজ করে দেবেন যেটা আমরা চিন্তাও করতে পারব না।
• নরমাল ডেলিভারির জন্য কিছু বিষয় লক্ষণীয়
• গর্ভধারণ কোনো রোগ নয়। এটা স্বাভাবিক, তাই স্বাভাবিক থাকতে হবে;
◆ সহজ কাজগুলোকে ব্যায়াম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। হাই কমোড বাদ দিয়ে নরমাল কমোড/লো প্যান ব্যবহার করা উচিত। দিনে কমপক্ষে ২/৩ বার নরমাল কমোড ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে নরমাল ডেলিভারির জন্য পেলভিক এরিয়ার মাংসপেশির ব্যায়ামও হয়ে যায় যা নরমাল ডেলিভারির জন্য খুব দরকারি। ভারী কাজ বাদে ঘরের অন্যান্য স্বাভাবিক কাজ করা যাবে;
◇ হাসিখুশি থাকা, মেজাজ ঠিক রাখা;
• খাবারের দিকে নজর দেওয়া ও নিজের যত্ন নেওয়া;
◇ চতুর্থ মাস হতে বাচ্চার নড়াচড়া খেয়াল করা দরকার। শেষ সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা, বাচ্চার নড়াচড়া না থাকলে ডাক্তার দেখানো জরুরি;
• ডেলিভারির পর যত দ্রুত সম্ভব বাচ্চাকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যা পূর্বেও একাধিক বার উল্লেখ হয়েছে;
• যেসব মায়েদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্য হাসপাতালে ডেলিভারি করানো আবশ্যক;
• এছাড়া সর্বাবস্থাতেই বাসায় ডেলিভারি না করে হাসপাতালে করানোই উত্তম, বাসায় করালে পেরিনিয়াল টেয়ার (যোনিপথ ও পায়ুপথের মধ্যবর্তী স্থান ছিঁড়ে যাওয়া) হওয়ার সম্ভবনা থাকে। পেরিনিয়াল টেয়ার যাতে না হয় এ জন্য হাসপাতালে এপিশিওটমি (Episiotomy) করে থাকে।
সন্তান বের হয়ে আসার রাস্তা সংকীর্ণ হলে তা একপাশ থেকে কেটে বড় করে নেওয়া হচ্ছে- এপিশিওটমি। এতে ভয় করার দরকার নেই, এটা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ইনফেকশনেরও ভয় থাকে না।
• এপিসিওটমি সম্পর্কে কিছু কথা
ডেলিভারির পর নিয়মিত হিপ বাথ নেওয়া - কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ পভিসেপ আয়োডিন মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট পানিতে বসে থাকতে হবে। দিনে ২ বার করে টানা ১ মাস এভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
এতে সহবাস ও মলমূত্র ত্যাগে কোনো সমস্যা হয় না।
• কখন সি-সেকশন বা সিজার করতে হবে
বাচ্চার মাথা কোনমতেই নিচে না নামলে;
পানি ভেঙে গেলে ও বাচ্চার পজিশন ঠিক না থাকলে;
বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে ও বাচ্চার পজিশন ঠিক না থাকলে;
ইমার্জেন্সি ছাড়া সি-সেকশন করা যাবে না। প্রথম সিজারের পর নরমাল ডেলিভারি করা যাবে তবে সেলাইয়ের পুরুত্ব খেয়াল করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সিজারে প্রথম বাচ্চা হওয়ার অন্তত ২ বছর পর পরবর্তী বাচ্চা নেওয়া যেতে পারে;
📄 পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন
পোস্ট-পার্টাম অর্থাৎ প্রসব-পরবর্তী মুহূর্তে হতাশা অনুভূত হওয়া গর্ভকালীন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় বিষয়। প্রসব-পরবর্তী সময়টাতে সাধারণত শিশুর দিকেই সবাই অধিক মনোযোগী হয়ে ওঠে এবং তাকে ঘিরেই এক আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি হয়।
প্রেগন্যান্সির একটা বড় চাপের পর হঠাৎ হরমোনাল পরিবর্তনের জন্য মায়ের মধ্যে এক ধরণের হতাশা কাজ করে। এটি একটি সাধারণ ফিজিওলজি। এ সময়ে মায়ের মনে এই ভেবে হতাশা জন্মায় যে, তার দিকে কেউ ততোটা মনোযোগ দিচ্ছে না, সকলে বাচ্চাকে নিয়ে মেতে আছে। তাই এই সময়টাতে মায়েরও অনেক পরিচর্যা করা দরকার। সবার উচিত তাকে সহযোগিতা করা ও সঙ্গ দেওয়া। পরিবারের সদস্যদেরকে; বিশেষ করে নিজের স্বামীকে ভালো করে প্রসবের পূর্বেই এই বিষয়ে বুঝিয়ে দেয়া উচিত। স্বামীর দায়িত্ব হবে পরিবারের বাকী সকলকে বিষয়টা বুঝানো। এ সম্পর্কে যখন সবাই মোটামুটি একটা ধারণা পাবে তখন তারা সবাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবে বলে আশা করা যায়।
পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের কোনো প্রকার ধারণা না থাকার কারণে অনেক সময় মায়েদেরকে বহু পারিবারিক সমস্যা ও ভুল বোঝাবুঝির সম্মুখীন হতে দেখা যায়।
◇ পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশনের কিছু লক্ষণ
◇ দ্রুত মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়া, মন খারাপ থাকা;
◇ হতাশগ্রস্ত ও বিষণ্ণ থাকা;
◇ মানসিক অবসাদ বোধ করা;
◇ কেউ মায়ের খেয়াল নিচ্ছে না, সবাই শুধু বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত, মায়ের কাছে এমন মনে হওয়া;
◇ ঠিকমতো ঘুম না হওয়া;
◇ আগে যেসব কাজ করতে ভালো লাগত এখন তা করতে ভালো না লাগা;
◇ বাচ্চা বা স্বামীর প্রতি অনীহাও জন্ম নিতে পারে।