📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের জন্য অলংকার পরিধানের বিধান

📄 নারীদের জন্য অলংকার পরিধানের বিধান


নারীরা কাঁচ, সোনা, রুপা, পিতল, তামাসহ সব রকমের ধাতুর অলংকার পরিধান করতে পারবে। নারীদের জন্য কান ও নাক ফোঁড়ানো এবং তাতে অলংকার পরিধানেও ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সমস্যা নেই। [৩০]

তবে নুপুর বা পায়েলের ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষণীয়, নারীগণ সেসকল নুপুরই কেবল পরিধান করতে পারবে যেই নুপুরে ঝুনঝুন শব্দ হয় না। আল্লাহ বলেন,

وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ)

তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে [৩১]।

এই আয়াতটিতে মূলত নুপুরের ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে যেমনটি বিভিন্ন তাফসীরের কিতাবে উল্লেখ আছে। সুতরাং এতে বোঝা যাচ্ছে পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য না হলে মেয়েদের 'যীনাত' তথা সাজসজ্জা হিসেবে নারীরা তা পরিধান করতে পারবে।

টিকাঃ
[৩০] আপকে মাসায়েল আওর উনকা হাল্ল- ৭/১৩৮; আল মাজমূ', নববী- ৪/৪৪৪; আসনাল মাত্বা-লিব- ১/৩৭৯; আল ফাতাওয়া আল ফিকহিয়্যাহ আল কুবরা- ১/২৬১
[৩১] সূরা নূর- ৩১

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 কৃত্রিম চুল, কৃত্রিম পলক, কৃত্রিম নখ এবং রঙিন আইলেন্স ব্যবহার

📄 কৃত্রিম চুল, কৃত্রিম পলক, কৃত্রিম নখ এবং রঙিন আইলেন্স ব্যবহার


মানুষের বা শুকরের চুল অথবা লোম থেকে তৈরি চুল ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় নাজায়েয। এ ছাড়া শরী'আতে কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুতকৃত পরচুলা ব্যবহারেরও বৈধতা নেই, এমনকি স্বামীর সন্তুষ্টির জন্যেও তা পরিধান জায়েয নয়। একে সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহারকারী ও প্রস্তুতকারীকে আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর পবিত্র যবানে লা'নত দিয়েছেন। কৃত্রিম পলক যা চোখের পাতায় লাগানোর জন্যে ব্যবহৃত হয় তার বিধানও পরচুলার বিধানের মতো। কেননা তা পরচুলার সাদৃশ্য বহন করে।

তবে যদি গাইরে মাহরামকে দেখানো, ফ্যাশন বা কাউকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার না করা হয় বরং স্বামীকে সন্তুষ্ট করার জন্যে বা স্বামীর সামনে যীনাত বৃদ্ধির জন্যে সেই কৃত্রিম পলক ব্যবহার করা হয়, তাতে শরঈ কোনো সমস্যা নেই। তবে এক্ষেত্রেও লক্ষণীয়, সেটি মানুষ কিংবা শুকরের চুল বা লোম ব্যতীত অন্য কোনো পশু-পাখির লোম অথবা আর্টিফিশিয়াল তথা কৃত্রিম উপায়ে তৈরিকৃত পলক হতে হবে। তবে কতিপয় চিকিৎসক চোখে কৃত্রিম পলক পরিধানকে চোখের জন্যে ক্ষতিকর বলে থাকেন, তাই এসব প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

অনুরূপ বিধান কৃত্রিম নখের ও আইলেন্সের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ, গাইরে মাহরামকে আকর্ষণ কিংবা মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে না হয়ে যদি স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য তা পরিধান করা হয় এবং সেটি যদি মানুষ বা শুকরের অঙ্গের কোনো অংশ হতে তৈরিকৃত না হয়ে থাকে তাহলে তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, উল্লিখিত মাসআলার ক্ষেত্রে ওযু ও ফরয গোসল করার সময় এসব খুলে ফেলতে হবে, যাতে করে ওযু ও ফরয গোসলের অঙ্গসমূহে বিনা বাধায় পরিপূর্ণভাবে পানি প্রবেশ করতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ওযুর ক্ষেত্রে চোখের মধ্যখানে পানি পৌঁছানো জরুরি নয় তাই ওযুর সময় আইলেন্স খোলাও জরুরি নয়, বিশেষ করে তাদের জন্য যারা চোখের সমস্যার কারণে লেজার সার্জারির মাধ্যমে আইলেন্স স্থাপন করে থাকে। [৩২]

টিকাঃ
[৩২] সহীহ বুখারী- ৫২০৫, ৫৯৪১; সহীহ মুসলিম- ২১২২-২১২৩; সুনানে আবু দাউদ- ৪১৭০; সুনানে নাসাঈ- ৫২৫০; সুনানে ইবনু মাজাহ- ১৯৮৮; মুসনাদে আহমাদ- ৩৯৪৫; উমদাতুল ক্বারী- ২০/২০৪; তাবঈনুল হাকায়েক- ১০/৪৬৩, শরহে বেকায়া- ৪/১২৩, ফতহুল কাদীর শহরে হেদায়া- ১৫/৭; বাহরুর রায়েক- ৬/৮; ফাতাওয়াতুল হিন্দীয়্যাহ- ৩/১১৪;

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 কপালে টিপ পরিধানের বিধান

📄 কপালে টিপ পরিধানের বিধান


টিপ পরিধান মূলত হিন্দুয়ানী প্রথা। হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস মোতাবেক স্বামীর মঙ্গল ও সংসারের সুখ স্থায়ী রাখার জন্য (লাল) টিপ, সিথিতে সিঁদুর ও হাতে শাখা পরিধান করতে হয়! এ ছাড়াও এটি পুজার তিলক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তাই সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে এসব পরিহার করা মুসলিম নারীদের জন্য একান্ত কর্তব্য। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوْقٍ فِيْ مَّعْصِيَةِ اللهِ
আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা জায়েয নয়। [৩৩]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন,
اَلْمَرْءُ مَعَ مَنْ اَحَبَّ
প্রত্যেক ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) তার সাথে থাকবে যাকে সে মোহাব্বত করে। [৩৪]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
যে ব্যক্তি যাদের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। [৩৫]

অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, টিপ হিন্দুদের মতো লাল না হয়ে ভিন্ন রঙের হলে স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য পরিধান করতে পারবে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এটি পরিহার করাই উত্তম। উল্লেখ্য যে, কপালের টিপ পরিধানের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত ইবরাহীম আ. -এর একটি ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, যা নিতান্তই বানোয়াট।

টিকাঃ
[৩৩] মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৫; সুনানে তিরমিযী: ১৭০৭
[৩৪] মুসনাদে আহমাদ- ৩৭১৮; সহীহ বুখারী- ৬১৬৮, ৫৮১৬
[৩৫] সুনানে আবু দাউদ- ৪০৩১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00