📄 ভ্রু প্লাক, শরীরে নকশা আঁকা ও দাঁতের মাঝে ফাঁকা সৃষ্টি করা
স্বামী চাইলেও ভ্রু প্লাক করা জায়েয নেই। কেননা এর দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করা হয়, যার অনুমতি ইসলামে নেই। একইভাবে মুখে বা হাতে সুঁই ফুটিয়ে নকশা আঁকা বা ট্যাটু করা বৈধ নয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, "আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ওই নারীদের ওপর, যারা দেহে উল্কি উৎকীর্ণ করে ও যারা করায়, যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে, যারা সৌন্দর্য বৃদ্ধির মানসে দাঁতের মধ্যে ফাঁকা সৃষ্টি করে এবং যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।[২৫] তবে পুরুষের দাড়ি-গোঁফের মতো নারীর গালে বা ঠোঁটের ওপর-নিচে পশম থাকলে তা তুলতে দোষ নেই এবং নারীদের জন্য চেহারার অতিরিক্ত পশম তুলে ফেলা জায়েয। কোনো কোনো ইমামদের মতে এটি মুস্তাহাব।[২৬]
উপরোক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কৃত্রিমভাবে দাঁতের মধ্যে ফাঁকা তৈরি করা জায়েয নেই। তবে কোনো দাঁত অস্বাভাবিক বাঁকা বা অতিরিক্ত থাকলে তা সোজা করা অথবা উপড়ে ফেলা বৈধ। [২৭]
টিকাঃ
[২৫] সহীহ বুখারি- ৪৮৮৬, ৫৯৪৩, ৫৫৯৯; সহীহ মুসলিম- ২১২৫ মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস- ১৪৬৭
[২৬] আপকে মাসায়েল আওর উনকা হাল্ল- ৭/১৩৫; আলমাজমু- ১/৩৪৯
[২৭] সহীহ মুসলিম বি শরহীন নাবাবি- ১৪/১০৭
📄 নখ বড় রাখার বিধান
আজকাল অনেক নারীকেই দেখা যায় নখ বড় রাখতে। অথচ হাত-পায়ের নখ বড় রাখা বিজাতীয়দের স্বভাব এবং একটি ঘৃণিত কাজ। অনেক সময় নখের ভেতর ময়লা জমে খাবারের সাথে পেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রতি সপ্তাহে হাত-পায়ের নখ কাটা সুন্নাহ। অন্তত দুই সপ্তাহে একবার কাটলেও চলবে। তবে ৪০ দিনের বেশি না কাটা অবস্থায় অতিবাহিত হলে গুনাহ হবে। [২৮]
টিকাঃ
[২৮] সহীহ মুসলিম- ২৫৮
📄 নেইলপলিশ পরিধানের বিধান
নেইলপলিশ যদি পবিত্র বস্তু দ্বারা প্রস্তুত করা হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েয। তবে নেইলপলিশ যেহেতু পানি প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, তাই তা নখে থাকা অবস্থায় ওযু ও ফরয গোসল সম্পন্ন হবে না। নখ থেকে তা তুলে তারপর ওযু ও ফরয গোসল করতে হবে। বারবার ওযুর সুবিধার্থে নেইলপলিশ ব্যবহার না করাই অধিক নিরাপদ। [২৯] তবে নারীরা তাদের হায়েযের সময় এটি পরিধান করতে পারে যেহেতু সে সময়ে ওযুর তেমন প্রয়োজন হয় না।
টিকাঃ
[২৯] ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/৪; আপকে মাসায়েল- ৭/১৩৭; হাশিয়াতুত ত্বহত্ববী আলা মারাক্কিল ফালাহ- ১/৯৮
📄 নারীদের জন্য অলংকার পরিধানের বিধান
নারীরা কাঁচ, সোনা, রুপা, পিতল, তামাসহ সব রকমের ধাতুর অলংকার পরিধান করতে পারবে। নারীদের জন্য কান ও নাক ফোঁড়ানো এবং তাতে অলংকার পরিধানেও ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সমস্যা নেই। [৩০]
তবে নুপুর বা পায়েলের ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষণীয়, নারীগণ সেসকল নুপুরই কেবল পরিধান করতে পারবে যেই নুপুরে ঝুনঝুন শব্দ হয় না। আল্লাহ বলেন,
وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ)
তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে [৩১]।
এই আয়াতটিতে মূলত নুপুরের ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে যেমনটি বিভিন্ন তাফসীরের কিতাবে উল্লেখ আছে। সুতরাং এতে বোঝা যাচ্ছে পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য না হলে মেয়েদের 'যীনাত' তথা সাজসজ্জা হিসেবে নারীরা তা পরিধান করতে পারবে।
টিকাঃ
[৩০] আপকে মাসায়েল আওর উনকা হাল্ল- ৭/১৩৮; আল মাজমূ', নববী- ৪/৪৪৪; আসনাল মাত্বা-লিব- ১/৩৭৯; আল ফাতাওয়া আল ফিকহিয়্যাহ আল কুবরা- ১/২৬১
[৩১] সূরা নূর- ৩১