📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের ক্ষেত্রে চুল কাটার বিধান

📄 নারীদের ক্ষেত্রে চুল কাটার বিধান


নারীদের চুলের ক্ষেত্রে শারী'আতের মৌলিক নীতিমালা হলো: ◆ নারীরা চুল লম্বা রাখবে। হাদীস থেকে জানা যায় যে, উম্মাহাতুল মু'মিনীন চুল লম্বা রাখতেন। ◆ এ পরিমাণ খাটো করবে না যে, পুরুষের চুলের মতো হয়ে যায়। হাদীসে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী নারীর প্রতি অভিসম্পাত করা হয়েছে। ◆ চুল কাটার উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে এই যে, রাস্তায় বের হলে মানুষেরা; বিশেষত: পুরুষেরা দেখে তাকে সুন্দর বলবে, তার দিক থেকে নজরই ফিরাতে পারবে না ইত্যাদি; তাহলে তার জন্য চুল কাটা হারাম। ◆ চুল কাটার ক্ষেত্রে বিজাতীয়দের অনুকরণ করবে না। কারণ হাদীসে বিজাতীয়দের অনুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

অতএব যে নারীর চুল এত লম্বা যে, কিছু অংশ কাটলে পুরুষের চুলের সাথে সাদৃশ্য হবে না তার জন্য ওই পরিমাণ কাটা জায়েয হবে। পক্ষান্তরে যার চুল তত লম্বা নয়; বরং অল্প কাটলেই কাঁধ সমান হয়ে যাবে এবং পুরুষের বাবরী চুলের মতো দেখা যাবে তার জন্য অল্প করেও কাটার অনুমতি নেই। তবে জটিল অসুস্থতার কারণে, চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শে চুল ছোট করা, এমনকি জরুরতবশত কামানোরও অনুমতি রয়েছে।

চুল বেশি বড় হলে, যেমন: কোমর সমান চুল থাকলে চার আঙুলের বেশি পিঠের মাঝামাঝি করে কাটা জায়েয। তবে সর্বাবস্থায় ফ্যাশনের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে নারীরা তাদের চুল খাটো করতে পারবে। এজন্য সময়েরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর কেউ নাজায়েয পরিমাণ কেটে ফেললে বা বিজাতীয় অনুকরণে চুল কেটে ফেললে তাওবা করতে হবে। [১৫]

টিকাঃ
[১৫] সহীহ বুখারী- ৩৪৫৬, ৭০৭৯; জামে তিরমিযী- ১/১০৩, হাদীস- ৩০১৩; সুনান আবি দাউদ- ৪০৩১; সহীহ মুসলিম- ১/১৪৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম- ১/৪৭২; আল মুফাসসাল ফী আহকামিল মারআতি ওয়াল বায়তিল মুসলিম- ৩/৪০০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ৪/৩৭৭; আদ্দুররুল মুখতার- ৬/৪০৭ থেকে ৪১৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর- ৪/২০৩; আল মাজমূ লিন নববী- ৪/৪৬৯; আল ফাতাওয়াল মারআহ, শায়খ বিন বায, পৃষ্ঠা- ১৬৫

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের চুল বিক্রির বিধান

📄 নারীদের চুল বিক্রির বিধান


অনেকেই দেখা যায় ফেরীওয়ালাদের নিকট চুল বিক্রি করে থাকে। আবার পার্লার-সেলুনে কেটে ফেলা চুলও বিক্রি হয় বলে শোনা যায়। এভাবে চুল বিক্রি জায়েয নেই, হোক তা নারীর চুল কিংবা অন্য কোনো মানুষের। এই ব্যাপারে সকল মাযহাবের সকল ফুক্বাহা একমত। [১৬]

"মানুষের চুল বিক্রি করা কিংবা ব্যবহার করা নাজায়েয হওয়ার ব্যাপারে ফুক্বাহাগণ একমত। কেননা মানুষ সম্মানিত প্রাণী... সুতরাং মানুষের কোনো অঙ্গকে অসম্মান করা কিছুতেই জায়েয হবে না।" [১৭] তাই তা থেকে নিজেকে পরহেজ করা উচিত। আল্লাহ মানব জাতিকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে যেমন আল্লাহ সম্মানিত করেছেন তেমনিভাবে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি চুল, নখ ইত্যাদিও সম্মানিত।

আল্লাহ বলেন, ﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا)

নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি। তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং অনেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। [১৮]

• হানাফী মত
ইমাম মুহাম্মাদ তাঁর রচিত গ্রন্থে বলেন-

ولا يجوز بيع شعر الانسان
মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নেই। [১৯]

জামেউস সগীরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাফেউল কাবীরে এর ব্যাখ্যা এসেছে,

ولا يجوز بيع شعر الإنسان إلخ لأن الإنسان مكرم فلا يجوز أن يكون منه شئ مبتذل
মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নেই। কেননা, মানুষ হলো সম্মানিত। সুতরাং মানুষের কোনো অঙ্গকে অসম্মানিত করা কিছুতেই জায়েয হবে না। [২০]

কানযুদ দাক্বায়েকের ব্যাখ্যা গ্রন্থ তাবঈনুল হাকায়েকে আছে,
মানুষের চুল বিক্রয় করা জায়েয নেই। কেননা, মানুষ হলো সম্মানিত। সুতরাং মানুষের কোনো অঙ্গকে অসম্মানিত করা কিছুতেই জায়েয হবে না। [২১]

• শাফে'য়ী মত
ইমাম নববী বলেন,

مالا يجوز بيعه متصلاً لا يجوز بيعه منفصلاً، كشعر الآدمي،

যা সংযুক্ত থাকা অবস্থায় বিক্রি করা নাজায়েয, তা পৃথক হওয়ার পর বিক্রিও নাজায়েয। যেমন: মানুষের চুল তার অন্যতম।[২২]

• মালেকী মত
ইমাম ইবনু আব্দিল বার আল মালেকী এবং আল্লামা আ'দাউই আল মালেকী তার 'হাশিয়া আলা শারহি মুখতাসারি খলিল লিল খিরাশি'-তে লিখেন,

سئل مالك عن بيع الشعر الذي يحلق من رؤوس الناس. فكرهه،

ইমাম মালিককে মানুষের মাথামুণ্ডনের পর উচ্ছিষ্ট চুল বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি এটিকে নাজায়েয আখ্যায়িত করলেন।[২৩]

• হাম্বলী মত
আল্লামা বুহুতী বলেন,

ولا يجوز استعمال شعر الآدمي، مع الحكم بطهارته لحرمته، أي احترامه

মানুষের পবিত্রতা, মর্যাদার কারণে তাদের চুল ব্যবহার করা জায়েয নেই।[২৪]

টিকাঃ
[১৬] সহীহ বুখারী- ৫৯৩১; মুসলিম- ২১২২; রদ্দুল মুহতার- ৫/৫৮; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ৩/১১৫; মাজমাউল আনহুর- ৩/৮৫; ফাতাওয়া আল হিদায়া- ৩/৫৫
[১৭] আল মাওসূয়াতুল ফিক্বহিয়্যাহ ২৬/১০২
[১৮] সুরা বনী-ইসরাঈল- ৭০
[১৯] জামেউস সগীর মায়া নাফেউল কাবীর- ১/৩২৮
[২০] নাফেউল কবীর শরহে জামেয়িস সগীর- ১/৩২৮
[২১] তাবঈনুল হাকায়েক- ১০/৪৬৩, শরহে বেকায়া- ৪/১২৩, ফতহুল কাদীর শহরে হেদায়া- ১৫/৭; বাহরুর রায়েক- ৬/৮; ফাতাওয়াতুল হিন্দীয়্যাহ- ৩/১১৪
[২২] আল-মাজমূ'- ১/২৫৪
[২৩] আল কাফী ফী ফিকহি আহলিল মাদীনাতিল মালেকী, পৃষ্ঠা- ২২৮
[২৪] কাশশাফুল কিনা- ১/৭০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ভ্রু প্লাক, শরীরে নকশা আঁকা ও দাঁতের মাঝে ফাঁকা সৃষ্টি করা

📄 ভ্রু প্লাক, শরীরে নকশা আঁকা ও দাঁতের মাঝে ফাঁকা সৃষ্টি করা


স্বামী চাইলেও ভ্রু প্লাক করা জায়েয নেই। কেননা এর দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করা হয়, যার অনুমতি ইসলামে নেই। একইভাবে মুখে বা হাতে সুঁই ফুটিয়ে নকশা আঁকা বা ট্যাটু করা বৈধ নয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, "আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ওই নারীদের ওপর, যারা দেহে উল্কি উৎকীর্ণ করে ও যারা করায়, যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে, যারা সৌন্দর্য বৃদ্ধির মানসে দাঁতের মধ্যে ফাঁকা সৃষ্টি করে এবং যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।[২৫] তবে পুরুষের দাড়ি-গোঁফের মতো নারীর গালে বা ঠোঁটের ওপর-নিচে পশম থাকলে তা তুলতে দোষ নেই এবং নারীদের জন্য চেহারার অতিরিক্ত পশম তুলে ফেলা জায়েয। কোনো কোনো ইমামদের মতে এটি মুস্তাহাব।[২৬]

উপরোক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কৃত্রিমভাবে দাঁতের মধ্যে ফাঁকা তৈরি করা জায়েয নেই। তবে কোনো দাঁত অস্বাভাবিক বাঁকা বা অতিরিক্ত থাকলে তা সোজা করা অথবা উপড়ে ফেলা বৈধ। [২৭]

টিকাঃ
[২৫] সহীহ বুখারি- ৪৮৮৬, ৫৯৪৩, ৫৫৯৯; সহীহ মুসলিম- ২১২৫ মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস- ১৪৬৭
[২৬] আপকে মাসায়েল আওর উনকা হাল্ল- ৭/১৩৫; আলমাজমু- ১/৩৪৯
[২৭] সহীহ মুসলিম বি শরহীন নাবাবি- ১৪/১০৭

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নখ বড় রাখার বিধান

📄 নখ বড় রাখার বিধান


আজকাল অনেক নারীকেই দেখা যায় নখ বড় রাখতে। অথচ হাত-পায়ের নখ বড় রাখা বিজাতীয়দের স্বভাব এবং একটি ঘৃণিত কাজ। অনেক সময় নখের ভেতর ময়লা জমে খাবারের সাথে পেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রতি সপ্তাহে হাত-পায়ের নখ কাটা সুন্নাহ। অন্তত দুই সপ্তাহে একবার কাটলেও চলবে। তবে ৪০ দিনের বেশি না কাটা অবস্থায় অতিবাহিত হলে গুনাহ হবে। [২৮]

টিকাঃ
[২৮] সহীহ মুসলিম- ২৫৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00