📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে মেয়েদের মেকাপ ও প্রসাধনী ব্যবহারের বিধান

📄 সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে মেয়েদের মেকাপ ও প্রসাধনী ব্যবহারের বিধান


ইসলাম সাজসজ্জা ও পরিপাটিভাবে চলাফেরার ব্যাপারে সর্বদাই উৎসাহ দিয়ে থাকে। তবে অবশ্যই তা শরী'আতের গণ্ডির মধ্যে থেকে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে নারীদের বিভিন্ন হালাল কসমেটিকস, প্রসাধনী, ক্রিম, স্নো, পাউডার, মেকাপ ইত্যাদি ব্যবহার করা দোষণীয় নয়। এর মাধ্যমে যদি চেহারা দাগমুক্ত হয় অথবা চেহারায় পরিবর্তন আসে তাতেও কোনোসমস্যা নেই। তবে শর্ত হচ্ছে, সেসব বস্তুতে কোনো নাপাক উপাদান মিশ্রিত থাকতে পারবে না। [১১]

আল্লাহ বলেন,

قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِي لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ)

বলুন কে হারাম করেছে আল্লাহর সাজসজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্যবস্তুসমূহকে? আপনি বলুন, এসব নিয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মু'মিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্য যারা বুঝে। [১২]

সাহাবীয়াতগণও আপন স্বামীকে সন্তুষ্ট করার জন্য সাজসজ্জা করতেন।

وقَدِمَ علي من اليمن ببدنِ النبي صلى الله عليه وسلم، فوجد فاطمة رضي الله عنها ممَّن حَلَّ؛ وَلَبِسَت ثيابًا صَبِيعًا

বিদায়ী হজ্জে আলী ইয়ামান থেকে নবীজি -এর কুরবানীর পশু মক্কায় নিয়ে আসেন, সে সময় তিনি দেখলেন ফাতিমা ইহরাম খুলে হালাল হয়ে গিয়েছেন এবং তিনি (সাজসজ্জা করে) রঙিন কাপড় পরিধান করেছেন এবং চেহারায় সুরমা লাগিয়েছেন। [১৩]

এরূপ সাজগোজের ক্ষেত্রেও শর্ত হচ্ছে নারীরা গাইরে মাহরামদের সামনে তা প্রকাশ করবে না। যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিকাঃ
[১১] আউনুল মাবুদ- ৫/২৭৬
[১২] সূরা আ'রাফ- ৩২
[১৩] সহীহ মুসলিম- ১২১৮; কাশফুল মুশকিল মিন হাদীসিস সহীহাইন, ইবনুল জাওযী- ৩/৬৪

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 চুলে খিজাব বা হেয়ার কালার ব্যবহারের বিধান

📄 চুলে খিজাব বা হেয়ার কালার ব্যবহারের বিধান


সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নারীরা কালো খিজাব ব্যতীত অন্যান্য রঙের খিজাব দিয়ে চুল রাঙাতে পারে। এক্ষেত্রে ফাসিক ও কাফির নারীদের অনুকরণ করে চুল রাঙানো যাবে না। কারণ ফাসিক ও কাফিরদের সাদৃশ্যতা গ্রহণ জায়েয নয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন-"যে ব্যক্তি যাদের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।”[১৪]

টিকাঃ
[১৪] সুনানে আবু দাউদ- ৪০৩৩; মুসনাদুল বাজ্জার- ২৯৬৬; মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক- ২০৯০৮৬

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের ক্ষেত্রে চুল কাটার বিধান

📄 নারীদের ক্ষেত্রে চুল কাটার বিধান


নারীদের চুলের ক্ষেত্রে শারী'আতের মৌলিক নীতিমালা হলো: ◆ নারীরা চুল লম্বা রাখবে। হাদীস থেকে জানা যায় যে, উম্মাহাতুল মু'মিনীন চুল লম্বা রাখতেন। ◆ এ পরিমাণ খাটো করবে না যে, পুরুষের চুলের মতো হয়ে যায়। হাদীসে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী নারীর প্রতি অভিসম্পাত করা হয়েছে। ◆ চুল কাটার উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে এই যে, রাস্তায় বের হলে মানুষেরা; বিশেষত: পুরুষেরা দেখে তাকে সুন্দর বলবে, তার দিক থেকে নজরই ফিরাতে পারবে না ইত্যাদি; তাহলে তার জন্য চুল কাটা হারাম। ◆ চুল কাটার ক্ষেত্রে বিজাতীয়দের অনুকরণ করবে না। কারণ হাদীসে বিজাতীয়দের অনুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

অতএব যে নারীর চুল এত লম্বা যে, কিছু অংশ কাটলে পুরুষের চুলের সাথে সাদৃশ্য হবে না তার জন্য ওই পরিমাণ কাটা জায়েয হবে। পক্ষান্তরে যার চুল তত লম্বা নয়; বরং অল্প কাটলেই কাঁধ সমান হয়ে যাবে এবং পুরুষের বাবরী চুলের মতো দেখা যাবে তার জন্য অল্প করেও কাটার অনুমতি নেই। তবে জটিল অসুস্থতার কারণে, চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শে চুল ছোট করা, এমনকি জরুরতবশত কামানোরও অনুমতি রয়েছে।

চুল বেশি বড় হলে, যেমন: কোমর সমান চুল থাকলে চার আঙুলের বেশি পিঠের মাঝামাঝি করে কাটা জায়েয। তবে সর্বাবস্থায় ফ্যাশনের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে নারীরা তাদের চুল খাটো করতে পারবে। এজন্য সময়েরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর কেউ নাজায়েয পরিমাণ কেটে ফেললে বা বিজাতীয় অনুকরণে চুল কেটে ফেললে তাওবা করতে হবে। [১৫]

টিকাঃ
[১৫] সহীহ বুখারী- ৩৪৫৬, ৭০৭৯; জামে তিরমিযী- ১/১০৩, হাদীস- ৩০১৩; সুনান আবি দাউদ- ৪০৩১; সহীহ মুসলিম- ১/১৪৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম- ১/৪৭২; আল মুফাসসাল ফী আহকামিল মারআতি ওয়াল বায়তিল মুসলিম- ৩/৪০০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ৪/৩৭৭; আদ্দুররুল মুখতার- ৬/৪০৭ থেকে ৪১৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর- ৪/২০৩; আল মাজমূ লিন নববী- ৪/৪৬৯; আল ফাতাওয়াল মারআহ, শায়খ বিন বায, পৃষ্ঠা- ১৬৫

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের চুল বিক্রির বিধান

📄 নারীদের চুল বিক্রির বিধান


অনেকেই দেখা যায় ফেরীওয়ালাদের নিকট চুল বিক্রি করে থাকে। আবার পার্লার-সেলুনে কেটে ফেলা চুলও বিক্রি হয় বলে শোনা যায়। এভাবে চুল বিক্রি জায়েয নেই, হোক তা নারীর চুল কিংবা অন্য কোনো মানুষের। এই ব্যাপারে সকল মাযহাবের সকল ফুক্বাহা একমত। [১৬]

"মানুষের চুল বিক্রি করা কিংবা ব্যবহার করা নাজায়েয হওয়ার ব্যাপারে ফুক্বাহাগণ একমত। কেননা মানুষ সম্মানিত প্রাণী... সুতরাং মানুষের কোনো অঙ্গকে অসম্মান করা কিছুতেই জায়েয হবে না।" [১৭] তাই তা থেকে নিজেকে পরহেজ করা উচিত। আল্লাহ মানব জাতিকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে যেমন আল্লাহ সম্মানিত করেছেন তেমনিভাবে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি চুল, নখ ইত্যাদিও সম্মানিত।

আল্লাহ বলেন, ﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا)

নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি। তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং অনেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। [১৮]

• হানাফী মত
ইমাম মুহাম্মাদ তাঁর রচিত গ্রন্থে বলেন-

ولا يجوز بيع شعر الانسان
মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নেই। [১৯]

জামেউস সগীরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাফেউল কাবীরে এর ব্যাখ্যা এসেছে,

ولا يجوز بيع شعر الإنسان إلخ لأن الإنسان مكرم فلا يجوز أن يكون منه شئ مبتذل
মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নেই। কেননা, মানুষ হলো সম্মানিত। সুতরাং মানুষের কোনো অঙ্গকে অসম্মানিত করা কিছুতেই জায়েয হবে না। [২০]

কানযুদ দাক্বায়েকের ব্যাখ্যা গ্রন্থ তাবঈনুল হাকায়েকে আছে,
মানুষের চুল বিক্রয় করা জায়েয নেই। কেননা, মানুষ হলো সম্মানিত। সুতরাং মানুষের কোনো অঙ্গকে অসম্মানিত করা কিছুতেই জায়েয হবে না। [২১]

• শাফে'য়ী মত
ইমাম নববী বলেন,

مالا يجوز بيعه متصلاً لا يجوز بيعه منفصلاً، كشعر الآدمي،

যা সংযুক্ত থাকা অবস্থায় বিক্রি করা নাজায়েয, তা পৃথক হওয়ার পর বিক্রিও নাজায়েয। যেমন: মানুষের চুল তার অন্যতম।[২২]

• মালেকী মত
ইমাম ইবনু আব্দিল বার আল মালেকী এবং আল্লামা আ'দাউই আল মালেকী তার 'হাশিয়া আলা শারহি মুখতাসারি খলিল লিল খিরাশি'-তে লিখেন,

سئل مالك عن بيع الشعر الذي يحلق من رؤوس الناس. فكرهه،

ইমাম মালিককে মানুষের মাথামুণ্ডনের পর উচ্ছিষ্ট চুল বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি এটিকে নাজায়েয আখ্যায়িত করলেন।[২৩]

• হাম্বলী মত
আল্লামা বুহুতী বলেন,

ولا يجوز استعمال شعر الآدمي، مع الحكم بطهارته لحرمته، أي احترامه

মানুষের পবিত্রতা, মর্যাদার কারণে তাদের চুল ব্যবহার করা জায়েয নেই।[২৪]

টিকাঃ
[১৬] সহীহ বুখারী- ৫৯৩১; মুসলিম- ২১২২; রদ্দুল মুহতার- ৫/৫৮; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ৩/১১৫; মাজমাউল আনহুর- ৩/৮৫; ফাতাওয়া আল হিদায়া- ৩/৫৫
[১৭] আল মাওসূয়াতুল ফিক্বহিয়্যাহ ২৬/১০২
[১৮] সুরা বনী-ইসরাঈল- ৭০
[১৯] জামেউস সগীর মায়া নাফেউল কাবীর- ১/৩২৮
[২০] নাফেউল কবীর শরহে জামেয়িস সগীর- ১/৩২৮
[২১] তাবঈনুল হাকায়েক- ১০/৪৬৩, শরহে বেকায়া- ৪/১২৩, ফতহুল কাদীর শহরে হেদায়া- ১৫/৭; বাহরুর রায়েক- ৬/৮; ফাতাওয়াতুল হিন্দীয়্যাহ- ৩/১১৪
[২২] আল-মাজমূ'- ১/২৫৪
[২৩] আল কাফী ফী ফিকহি আহলিল মাদীনাতিল মালেকী, পৃষ্ঠা- ২২৮
[২৪] কাশশাফুল কিনা- ১/৭০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00