📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 মু‘তাদ্দাহ নারীর করণীয় ও বর্জনীয়

📄 মু‘তাদ্দাহ নারীর করণীয় ও বর্জনীয়


স্বামীর মৃত্যু, তিন তালাক বা তালাকে বায়েন এবং তালাকে রজঈর ক্ষেত্রে ইদ্দত পালন করা অবস্থায় নিম্নোক্ত বিষয়াবলি লক্ষণীয়:

◇ ইদ্দত পালনকারী নারী সকল প্রকার সৌন্দর্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে。

◇ আতর, পারফিউম তথা সুগন্ধি জাতীয় কোনো কিছু ব্যবহার করবে না। তবে তেল, সাবান, রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের জন্য ওষুধ ইত্যাদি ব্যবহারে অসুবিধা নেই; যদিও তাতে সুগন্ধি থাকে। কারণ, এগুলো মূলত সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না。

◇ সুরমা, কাজল ইত্যাদি ব্যবহার না করা。

• মেহেদী, খেজাব বা আলাদা রং ব্যবহার করা যাবে না。

• সৌন্দর্য বর্ধনকারী পোশাক পরিধান করবে না。

• কোনো ধরনের অলংকার যেমন: দুল, চুড়ি, নাকফুল, আংটি, নূপুর ইত্যাদি ব্যবহার না করা。

◇ নারী যদি গর্ভবতী হয়ে থাকে তাহলে উপর্যুক্ত নিষেধাজ্ঞাসমূহ সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে。

• রজঈ, বায়েন ও তিন তালাক প্রাপ্তা নারী এ অবস্থায় দিন ও রাতে কোথাও বের হতে পারবে না। তবে যার স্বামী মারা গিয়েছে সে দিনে ও রাতের প্রাথমিক কিছু অংশে ভরণপোষণের তাগিদে বের হতে পারবে। [২৯]

টিকাঃ
[২৯] সূরা বাকারা- ২৩৪-২৩৫; বাদায়েউস সানায়ে- ৪/৫২৩ থেকে ৫২৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/৫৫৮ থেকে ৫৫৯; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/২৪১ থেকে ২৪৫; আদ দুররুল মুখতার- ১০/৩৬১ থেকে ৩৬৮; হিদায়া-২/৪২৩, ৩/৪২৭

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 বিধবা নারীর ইদ্দতের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু বিষয়

📄 বিধবা নারীর ইদ্দতের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু বিষয়


বিধবার ইদ্দতের সময় কী কী বিষয়ের ওপর শরী'আতের দিকনির্দেশনা রয়েছে তা নিয়ে বহু ভুল বোঝাবুঝি জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সমাজে এসব মনগড়া নিষেধাজ্ঞাকে শরী'আহর বিধানের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এমনই কিছু বিধান জেনে নেয়া যাক যেগুলো সমাজে অবহেলিত-

• বিধবা তার স্বামীর মৃত্যুর পর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালনের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,

وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرً)

[৩০] আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো, নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখা।

স্বাধীন নারীর স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দত হচ্ছে ৪ মাস ১০ দিন। এ ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যু চাঁদের প্রথম তারিখে হলে সেদিন থেকে চাঁদের মাসের হিসেবে (মাস ৩০ দিনে হোক কিংবা ২৯ দিনে) চার মাস দশ দিন ধরা হবে。

পক্ষান্তরে যদি মৃত্যু মাসের মাঝখানে হয়, সে ক্ষেত্রে সেই নারী প্রথম মাসের বাকি দিনগুলো ইদ্দত পালন করবে এবং চন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী আরও তিন মাস (দিনের সংখ্যা ৩০ হোক কিংবা কম হোক) দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। আর প্রথম মাসের যে দিনগুলো ছুটে গেছে সে দিনগুলো হিসাব করার দুটো পদ্ধতি রয়েছে-

• ওই মাসকে হিসাবে ৩০ দিন ধরা, বাস্তবিকপক্ষে মাস ৩০ দিনবিশিষ্ট হোক কিংবা ২৯ দিনবিশিষ্ট। সুতরাং বিধবা নারী যদি ২০ দিন ইদ্দত পালন করে থাকে, তাহলে পঞ্চম মাসে তিনি বাকি দশ দিন পূর্ণ করবে。

• প্রথম মাসের যে কয়দিন ছুটে গেছে পঞ্চম মাসে কেবল সে কয়দিন পূর্ণ করবে; সেই মাস ৩০ দিনবিশিষ্ট হোক কিংবা ২৯ দিনবিশিষ্ট। [৩১]

• বিধবা নারী স্বামীর মৃত্যুর শোক পালনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের বাড়িতে থাকবে। এমনকি এ সময় যদি সে তার পিতার বাড়িতে অবস্থান করে আর স্বামীর মৃত্যুর খবর পায় তাহলে নিজ বাড়িতে ফিরে আসবে। তবে একান্ত প্রয়োজনে (যেমন: বিপদের আশঙ্কা, প্রয়োজনবশত বাড়ি পরিবর্তন, চিকিৎসা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ইত্যাদি জরুরি কাজে) অন্যত্র যেতে পারবে। এছাড়া গরিব হলে এবং বাইরে গিয়ে কাজকর্ম ব্যতীত খাওয়া-পরার ব্যবস্থা না থাকলে দিনের বেলায় কাজের জন্য বাইরে যেতে পারবে, কিন্তু রাতের বেলায় তাকে বাড়িতেই থাকতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন হলে দিনে ও রাতের প্রাথমিক অংশে বাইরে যেতে পারবে। বাড়িতে নিজেদের একাধিক ঘর বা একাধিক কামরা থাকলে যেকোনো ঘর বা কামরায় থাকতে পারবে। নির্দিষ্ট একটি স্থানেই আবদ্ধ থাকা জরুরি নয়। বাড়ির বারান্দা বা উঠানেও বের হতে পারবে। [৩২]

• স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেতে দেরি হলে সংবাদ পাওয়ার পূর্বে যে সময় অতিবাহিত হয়েছে সেটাও ইদ্দতের ভেতর অতিবাহিত হয়েছে বলে ধরা হবে; আর ইদ্দতের পূর্ণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সংবাদ পেলে আর তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে না। তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে বলেই ধরা হবে。

◇ ইদ্দতের সময় তার সাধারণ পোশাক পরা এবং সাজসজ্জা এড়ানো উচিত। সে মেকাপ-গহনা, আড়ম্বর, জাঁকজমকপূর্ণ ও জৌলুসপূর্ণ পোশাক পরিধান করবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সে অপরিচ্ছন্ন থাকবে। স্বামী মারা যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবে যে পোশাক পরিধান করত তা-ই পরিধান করবে। তবে শুধু সাদা বা শুধু কালো পোশাক পরিধান করতে হবে এমন ধারণা সঠিক নয়。

◇ ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় সুস্পষ্ট শব্দে ও বাক্যে বিয়ের প্রস্তাব প্রদান বা সরাসরি বিয়ে থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে স্বামী মারা গিয়েছে এমন নারীর ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় বিবাহের প্রস্তাবনার ইঙ্গিতমূলক কাজ ও বাক্য ব্যবহার করা যাবে। যেমন: তাকে হাদিয়া পাঠানো, তার কাছে কোনো মাধ্যমে নিজের গুণ ও বৈশিষ্ট্য এভাবে ব্যক্ত করা যাতে বোঝা যায় যে, সেই নারী বিয়ে করতে ইচ্ছুক。

সকল আলেমের ইজমা মতে, তালাকে রজঈ প্রাপ্তা মু'তাদ্দাহ নারীর ক্ষেত্রে কোনো পুরুষকে ওপরে উল্লেখিত অনুরূপ বাক্য বলে বা কাজ করে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া জায়েয নেই। এমনকি হানাফী মাযহাবে বায়েন তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ক্ষেত্রেও একই মাসআলা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কেবল ওই মু'তাদ্দাহ নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যার স্বামী মারা গিয়েছে。

• স্ত্রী ব্যতীত এ সকল বিধান মৃতের অন্য কোনো নিকটাত্মীয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। [৩৩] আবু সালামার মেয়ে যয়নব বলেন, শাম থেকে আবু সুফিয়ান -এর মৃত্যু-সংবাদ আসার পর তৃতীয় দিন (তাঁর মেয়ে উম্মুল মুমিনীন) উম্মে হাবিবা কিছু হলুদ বা জাফরান (অন্য বর্ণনায় সুগন্ধি) আনতে বললেন। অতঃপর তা আনা হলে তিনি তা তার চেহারার দুপাশে, দুগালে এবং দুবাহুতে মাখলেন। অতঃপর বলেন, এটা করার আমার কোনো দরকার ছিল না। কিন্তু আমি এজন্যই এমনটি করলাম কারণ রাসূল বলেছেন,
لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ، إِلَّا عَلَى زَوْجٍ ، فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا
যে নারী আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে, তার জন্য স্বামী ছাড়া কারও মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। আর স্বামীর মৃত্যুতে সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। [৩৪]

টিকাঃ
[৩০] সূরা বাকারা- ২৩৪
[৩১] হাশিয়ায়ে ইবনু আবেদীন- ১০/২৮; দারুস সাক্কাফাহ, আল মুগনী- ৮/৮৫; গুরারুল আযকার ফী শারহি দুরারিল বিহার, পৃষ্ঠা- ২২৩; ফাতহুল কাদীর- ৪/১৪১; বাহরুর রায়েক- ৪/১৪৩; কাশাফুল কিনা- ৫/৪১৮; আল মাওসূয়াতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ২৯/৩১৫; আল জাওহারাতুন নায়্যিরাহ- ২/১৫৪
[৩২] ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/৫৫৯; বাহরুর রায়েক- ৪/২৫৮; আল ইনায়াহ শারহুল হিদায়া- ২/৬০০; আল বিনায়াহ শারহুল হিদায়া- ৫/৫৮৩
[৩৩] তাবঈনুল হাকায়েক, যাইলাঈ- ৩/৩৫; আল বিনায়া, আইনী- ৫/৬২২; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ইবনু রুশদ- ৩/১৪২; আয যাখীরাহ, করাফী- ৪/২৬০; রওযাতুত ত্বলেবীন, নববী- ৮/৪০৮; হাশিয়ায়ে কলইউবী ওয়া উমাইরাহ- ৪/৫৪; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, বুহুতী- ৩/২০৩; মাতালিবু উলিন নুহা, রহিবানী- ৫/৫৭৯
[৩৪] সহীহ বুখারী- ১২৮১, ১২৮২, ৫৩৩৪, ৫৩৩৪; সহীহ মুসলিম- ১৪৮৬, ১৪৮৭

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 যে নারীর ইদ্দত নেই

📄 যে নারীর ইদ্দত নেই


ছোট বা বড় সকল স্ত্রীর ওপরই তালাকের পর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব, তবে চার শ্রেণির নারী ব্যতীত-

(১) সহবাস বা খালওয়াতের (তথা স্বামী-স্ত্রী নির্জনে বসবাস করার) পূর্বে তালাক দিলে;

(২) এমন হারবিয়্যাহ নারী যে দারুল ইসলামে নিরাপত্তা নিয়ে এসেছে এবং তার স্বামীকে দারুল হারবে রেখে এসেছে। দারুল ইসলামে এসে যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে নেয় তাহলে তার জন্য ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব নয়।

(৩) দুই বোনকে এক মজলিসে বিয়ে করার পর উভয়ের মধ্যে বিয়ে ভেঙে ফেললে।

(৪) চারের অধিক বিয়ে করার পর পঞ্চমজনের বিয়ে ভেঙে দিলে। [৩৫]

টিকাঃ
[৩৫] সূরা আহযাব- ৪৯; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/৫৫২; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/২৩৭; আল ফিকহু আলা মাযাহিবিল আরবাআ- ৪/১০০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ইসলামে হিলা/হিল্লার হুকুম

📄 ইসলামে হিলা/হিল্লার হুকুম


হিলা )حيلة( আরবী একটি শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ হলো- কৌশল অবলম্বন করা, কোনো উপায় গ্রহণ করা, জটিল কোনো স্থানে ছল-চাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করা।

পরিভাষায় হিলা বলা হয়, যখন শরী'আতের কোনো বিষয়ে মানবজীবনে জটিলতা দেখা দেয় তখন শরী'আতসম্মত এমন কোনো উপায় অবলম্বন করা, যার দ্বারা শরী'আতের বিধান ঠিক থাকার সাথে সাথে মানুষ ওই জটিলতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। আরবী ভাষায় একে 'হিলা' বা 'হিল্লা' বলে।

তালাকের ক্ষেত্রে হিলা/হিল্লা বলা হয়, যখন কোনো স্বামী ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় অথবা রাগান্বিত হয়ে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অতঃপর পরবর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় সে তার তালাক দেয়া স্ত্রীকে নিজ অধীনে রাখতে চায়, অথচ ইসলামী আইনের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠে না বিধায় তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে তার নিকট ফিরিয়ে নেওয়ার যে উপায় রয়েছে, তাকে হিলা/হিল্লা বলা হয়। স্বামী স্ত্রীকে পূর্ণ তালাকের পর কেবল তখনই ফিরিয়ে নিতে পারবে যখন নিম্নের পাঁচটি কাজ সম্পাদিত হবে: (১) তিন মাস ইদ্দত অতিবাহিত করতে হবে; (২) অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ হতে হবে; (৩) দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শুধু নামেমাত্র বিবাহ হলে চলবে না; বরং তার সাথে যথারীতি সংসার ও সহবাস করতে হবে; (৪) দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তাকে তালাক প্রদান করবে এবং এ তালাকের জন্য পুনরায় তিন মাস ইদ্দত পালন করতে হবে; (৫) পুনরায় প্রথম স্বামীর সাথে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

এমনটি হলে তা শরী'আত সমর্থন করে। যেমন আল্লাহ বলেন,

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

যদি সে (প্রথম স্বামী) তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তার জন্য এ স্ত্রী আর জায়েয নয় যতক্ষণ না সে নারী অন্য কোনো স্বামীর সাথে বিবাহ করে (এরপর বিচ্ছেদ হয়)। [৩৬]

কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরী'আতের এই বিধানে অনেকেই ফাঁকফোকর খোঁজে। দেখা যায়, তিন তালাকের পরই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নানাভাবে হিলা নামের বাহানার আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। সেটা যেমন অশালীন, তেমনি শরী'আতের দৃষ্টিতে অবৈধ ও লা'নতযোগ্য কাজ।

হিলা বলতে মানুষের মাঝে একটা কুসংস্কার রয়েছে। আর তা হলো, হিলা/হিল্লা বলা হয় কোনো পুরুষ তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে এ শর্তে চুক্তি করা যে, বিয়ের পর সহবাস শেষে সেই নারীকে তালাক দিয়ে দেবে যাতে সে পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায় এবং সে তাকে পুনরায় বিবাহ করতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো পাগলের সাথেও বিয়ে করিয়ে বিনা সহবাসে তালাক দেওয়ার জন্যেও বাধ্য করা হয়ে থাকে। এ বিবাহ বাতিল ও অশুদ্ধ। এভাবে নারী তিন তালাক প্রদানকারী স্বামীর জন্য হালাল হয় না। বরং এমন গর্হিত কাজ করার কারণে হিলার সাথে যুক্ত সকলের ওপর আল্লাহর লা'নত পতিত হয়। রাসূলুল্লাহ বলেন,

لَعَنَ اللَّهُ الْمُحِلَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَالْمُحَلَّلَةَ

(হিলা-বাহানার মাধ্যমে অন্যজনের জন্য স্ত্রী) হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহকারী, যার জন্য হালাল করা হয়েছে এবং যে হালাল হচ্ছে প্রত্যেকের ওপরই আল্লাহর লা'নত [৩৭]

টিকাঃ
[৩৬] সূরা বাক্বারাহ- ২৩০
[৩৭] সুনানে আবু দাউদ- ২০৭৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ১৭৩৬৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00